:
Days
:
Hours
:
Minutes
Seconds
Author Picture
সেলিম মোরশেদ

কথাসাহিত্যিক

দি পার্ভার্টেড ম্যান
শিল্পকর্ম: রাজীব দত্ত

দি পার্ভার্টেড ম্যান

‘মরিবার হলো তার সাধ’

ক্যাফে ডিডাচকে উত্তরে রেখে বুকের ছাতি বাড়িয়ে চার রাস্তা চারদিকে। জায়গাটা ভিড়বহুল বিবিধ কারণে। পথচারী-রিকশা-ভ্যান-চার স্ট্রোকের অটো রিকশা-ভাড়াখাটা মিশুক, হলুদ ও কালো রঙের ট্যাক্সি-ট্রাক-আন্তঃযোগাযোগের একাধিক দোতলা—একতলা বাস—এইসব যাবতীয়, নিত্য, প্রতিমুহূর্তে। সব মিলিয়ে এক এলাহী কাণ্ড। রাস্তার দক্ষিণ-পশ্চিম জুড়ে অগণিত আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট (দেশি, থাই, চাইনিজ), মনোহারি দোকান, ভ্রাম্যমাণ ফুল ও ফলের বাজার। লক্ষণীয় : ওভারব্রিজ হবার সূচনা। রাহুল দাঁড়িয়ে আছে এ-সময় গোলাকৃতি একটা ভিড়ের ভেতর। দুটো বাসের পাল্লাপাল্লিতে (পাশাপাশি গা ঘেঁষেঘেঁষে যাচ্ছিলো) হুট করে গিয়ার পাল্টিয়ে স্পিড দিয়ে এগিয়ে আকস্মিক ব্রেক কষে একটা, ছাদের ওপর থেকে, রাজনৈতিক মিছিলের অংশগ্রহণকারী একজন ছিটকে পড়ে নিচে, এরপর পেছনের চাকায় বাড়ি খেয়ে অন্যটার জোড়া চাকার তলে চাপা পড়ে রক্তাক্ত লাশ হয়ে থাকে শুয়ে। এ-তো আর ছায়াছবি নয় যে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের ভ্যান হাজির। তাদের উপস্থিতি দেরিতে হওয়ায় কী ভূমিকা নেয়া প্রয়োজনীয় ভেবে ততোক্ষণে নীরব উত্তেজনায় জনতার মানবিক সিদ্ধান্তগুলো স্বতঃস্ফূর্ত বিকশিত হলেও সকলে বোঝে প্রয়োগে অক্ষম হওয়াটা এখন এই মুহূর্তের বাস্তবতা। তো পুলিশ ভ্যান আসে আধাঘণ্টা পরে। লাশটাকে নিয়ে হাসপাতালমুখী। ওই সময় পাশ দিয়ে চলমান স্ত্রীরা স্বামীর হাত জড়িয়ে ধরে মৃদু কম্পনে আর সতর্কতায়। বাচ্চাগুলোকে দ্রুত কোলে তুলে কেউ কেউ ভাবতে থাকে মৃত্যু আশ্চর্য স্বাধীন, স্বেচ্ছাচারীও। কিন্তু সমষ্টির সামনে যে পাঁয়তারা, বেঁচে থাকাটা সেখানে আশ্চর্য। মৃত্যু কি নির্ধারিত— চিন্তাটা চাপযুক্ত? রাহুল উত্তরের অতলে। এক-একটা গাড়ি চাপচাপ রক্তের ওপর দিয়ে চলে-ভিজে দায়ভারে যুক্ত হয়ে এগিয়ে যায় আপন গন্তব্য পথে। স্থানীয় জনগণ বালতি বালতি পানি ঢেলে রাস্তা থেকে রক্তের রঙ মুছিয়ে দিতে উদগ্রীব। রাহুল ভাবে, দেহযন্ত্রের এই ভেঙে যাওয়া উন্মুক্ত রূপ লক্ষ করার ভেতর মানুষ নিজেকে আবার স্মরণ করিয়ে দেয়— সে ভঙ্গুর। যেখান থেকে রক্ত মোছার জন্য পানি ঢালা হয় সেই দোকানের গায়ে একজন রাজনৈতিক নেতার পোস্টার লাগানো। নির্লোভ, নিঃস্বার্থ, নির্ভীক এই তিনটে কথা লেখা। রাহুল দেখে নেতার গলায় টাইয়ের নটটা নির্ভুলভাবে বাঁধা। রাত আটটা। বার থেকে বেরিয়েছে ঘণ্টাখানেক। হয়তো-বা তার সমবয়সী একজনের সঙ্গে মৃদু বচসা হলে রাহুল নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে বার থেকে বেরিয়ে আসে। নাহলে আরও কিছুক্ষণ থাকতো। রাস্তা পার হয়ে সে ক্যাফে ডিডাচে ঢোকে। ঢোকার মুহূর্তে রাহুল আশ্চর্য হয়। লক্ষ করে লোকটা ক্যাফে ডিডাচের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে। তার আসার পরপরই লোকটা বার থেকে বেরিয়েছে। লোকটার মুখোমুখি হবার ইচ্ছা ছিলো না রাহুলের, কিন্তু লোকটা দাঁড়িয়ে রয়েছে ক্যাফে ডিডাচের সদর দরোজার দিকে মুখ রেখে। তাকে দেখতে পেয়ে লোকটা এগিয়ে আসে মৃদু পায়ে। রাহুল কাউন্টার পার করে সামনের দিকে এগোচ্ছে। রাহুলের দিকে একভাবে তাকিয়ে থাকে। রাহুল জেদি হয়ে উঠে পরোক্ষণে লোকটার চোখের দিকে সরাসরি চোখ রাখে। এরকম অবস্থা চলতে থাকে কয়েক মিনিট। হঠাৎ লোকটা পকেট থেকে দ্রুত পিস্তল বের করে। পিস্তলটা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে না। মুখের কাঠিন্যটা শুধু বেড়ে ওঠে। সে অবস্থায় সে হাসির একটা রেখা যা সারা মুখে ছড়িয়ে পড়েছে সেটাকে সে ম্লান হতে দেয় না। রাহুল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এইভাবে, ‘হিম্মত থাকলে ফায়ার করো’, লোকটা শোনে, কোনো উত্তর দেয় না, আরও এগিয়ে আসে। রাহুল কয়েক সেকেন্ড পরপরই কথাটা বলতে থাকে। লোকটা এগিয়ে আসার কারণে রাহুল আর এগোয় না। লোকটা ট্রিগারে হাত রাখে। ক্যাফে ডিডাচের খরিদ্দারসহ বয়-বেয়ারা ও কাউন্টারের চেয়ারে বসা মালিকপক্ষ বিস্ফারিত চোখে ঘটনাটা দেখতে থাকে। তাদের চেহারা এমন থাকে যে পরিণতি কেমন হবে তার কোনো আগাম ধারণা তাদের মাথায় যেন নেই। বাধা দেবার মতো কেউ এগিয়েও আসে না। রাহুল বলতে থাকে, ‘গুলি করো।’ লোকটা আরও কিছুদূর সামনে এগিয়ে থেমে যায়। মুখের হাসিটুকু এখন অতোটা ক্রূর মনে হয় না। বরং এক ধরনের ভব্যতা এবং চিন্তাযুক্ত কোনো একটা সূত্রের জটিল সমীকরণে ব্যাপৃত রাখে নিজেকে। লোকটা সামান্য টলে—যদিও তাকে মাতাল বলে মনে হয় না। এই পরিস্থিতিতে রাহুল সতর্ক হয়ে ওঠে। বাঁয়ে সে ঘুরে দাঁড়ায় অর্থাৎ কাউন্টারের গা ঘেঁষে। লোকটা আরও দ্রুত এগিয়ে আসে। রাহুল এবার দ্রুত সামনের দিকে এগোয়। লোকটা হঠাৎ চঞ্চল হয়ে তাড়াহুড়ো করে রাহুলের দিকে আসতেই চেয়ারে পা বেধে গেলে সে মেঝের ওপর পড়ে, তার পিস্তলটা হাত থেকে ছিটকে সরে যায়। রাহুল নিজেও অবাক হয়। প্রকৃতি কি তার পক্ষে? সে লোকটাকে হাত ধরে তোলে। পিস্তলটা কুড়িয়ে তার হাতে ধরিয়ে দেয়ার আগে লোকটার হাতে লাগা ময়লা ধোয়ার জন্য রাহুল বয়কে একগ্লাস পানি দিতে বলে। লোকটা আনুগত্যের প্রকাশ দেখিয়ে দ্রুত ক্যাফে ডিডাচ থেকে বেরিয়ে একটা অটো রিকশায় ওঠে। রাহুল মাথা ঘুরিয়ে ডিডাচের ভেতরে এগিয়ে গেলে মুহূর্তের ভেতর লোকটা অটো রিকশার ভেতর থেকে গুলি করে। রাহুলের ঘাড়ের পাশ দিয়ে গুলিটা ছুটে যায় কাউন্টারে বসা লোকটার মাথার ওপর দিয়ে। রাহুল অবাক হয় না। তবে লোকটা যে পালিয়ে যাবার শেষসময় গুলি করবে এটা সে ভাবেনি। রাহুল কফির অর্ডার দেয়। আরেকটু হলে সে মারা যেতো। অবশ্য লোকটাকে যথেষ্ট অপমানিত হবার ভাবনা সেই জুগিয়েছে। বাসায় ফোন করে রাহুল আফসানাকে গাড়ি পাঠাতে বলে। কিছুক্ষণ পর থেকে অনেক ধরনের কাজ করতে থাকে রাহুল। শেষে পিকিউএস থেকে কিছু কেনাকাটাসহ মহাখালী পেট্রোল পাম্প থেকে (যেখানে ভ্যানিক ক্রেডিট-কার্ড গ্রহণ করে) তেল নেয় সে। ফেরার পথে রাহুলের গাড়িতে একটা মটরসাইকেল ঘা দেয়। হলো কী আজ রাহুল ভাবে! গাড়ির একটা হেডলাইট ও ডিফার ভেঙে যায়। আরও কয়েক জায়গায় যে ক্ষতিগুলো হয় তা রাহুলের ড্রাইভার শনাক্ত করে। মটরসাইকেলে আরোহী তরুণ দম্পতি। রাহুলের ড্রাইভার চিৎকার করে তিন হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ চায়। দোষটা স্বীকার করে তরুণ ছেলেটা। ড্রাইভার বলে তিন হাজার টাকা ফেলেন। ছেলেটার মুখ শুকিয়ে যায়। নানা বাকবিতণ্ডা। অবশেষে রফা হয় দেড় হাজার। রাহুল বলে, এখন পকেটে টাকা আছে? তরুণ বলে, নেই। তাকে গিয়ে জোগাড় করে আনতে হবে। পাশের মেয়েটার মুখও শুকনো। আরেকটু হলে পাশের ড্রেনে পড়ে তাদের বিপদজনক অবস্থা হতো। রাহুল বলে টাকাটা যখন দিতে পারছেন না, ফরগেট।

 

ল অ্যাট বার

মোহাম্মদ আমীর খসরু আবগারির লাইসেন্সপ্রাপ্ত আব্দুর রবের দোকানে বাংলা খেতে নিয়ে যান। মেথরপট্টিসহ প্রায় গোটা দশেক বাংলা মদের দোকানে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমীর খসরু মদ খাওয়ান রাহুল আর তার বন্ধুদের। মদ হাতে তুলে দিয়ে খসরুর মুখে উঠে আসে বাঁশের বাঁশি। অপূর্ব সুরমূর্ছনায় নেশা ধরিয়ে দেয়। আমীর খসরু বলেন, মদ খেতে খেতে মারা গেলো প্রেসের হেলাল। মেথরপট্টিতে সেই বিখ্যাত কথা লেগে থাকে সবার মুখে: দিন যায়, কথা থাকে ফাঁকে ফাঁকে। বাঁশি থামলে চলচ্চিত্রের কথা ওঠে। যেখানে আমীর খসরুর আত্মত্যাগ আর সাধনার কথা মূল বিষয়। রাহুল জানতে চায় সেতারের সাত তার না তিন তার। অবশ্য শোনা যায় সাত তার। কে যেন বলে, সে মানে তিন। এইসব হাবিজাবি। সাকুরা, পীকক, গোল্ডেন ড্রাগন আর এরামে আমীর খসরুর গতিশীল নেতৃত্বে রাহুলরা মদ খায়। বিচিত্র অভিজ্ঞতা খসরুর, তিনি একের-পর-এক গল্প বলতে থাকেন। তার নিজের ফিল্মস্ক্রিপ্ট যা সুন্দরভাবে বাঁধানো সেটা পোড়াতে চান মদের পার্টি দিয়ে। গাজী মাহতাব চলচ্চিত্র আন্দোলনে যুক্ত একজন। আমীর খসরুর অভিমানটা আত্মস্থ করে অনুদান কমিটিকে খিস্তি-খেউড় দেয়। খসরু বলেন, ব্যক্তিজীবনে সে কিনা তেত্রিশটা গোলাপ দিয়েছে তেত্রিশ জনকে। দুর্ভাগ্য ওই নারীদের একজনের সঙ্গেও খসরুর সম্পর্ক তৈরি হয়নি। তিনি বিষয়টা নিয়ে যতো না বিচলিত তার চেয়ে বেশি অনুসন্ধিৎসুমনস্ক। অনেকে বলেন, পুরো এফডিসি খসরুর হাতে তুলে দিলেও খসরু ছবি তৈরি করতে পারবেন না। রাহুল মনে করে এটা ভুল। গাজী মাহতাব মনে করে, আসলে খসরু কী চেয়েছিলেন, তার নিজের হাতের তৈরি কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে তিনি ছবিটা করবেন। তো গলা পর্যন্ত খায় রাহুল। সঙ্গে গরুর বট, ছোলা, চানাচুর-বাদাম। খসরু বলেন, যখন মদ কম থাকবে তখন পানি মিশিয়ে ধীরে-ধীরে খাবে দেখবে নেশা কেমন ধরে। বারে গেলে কেরুর গোল্ড রিবন জিনটা পাওয়া মুশকিল। বিদেশে এক্সপোর্ট হয়। বারগুলোতে এটা দেয় না। কেননা ফরেন লিকার মার খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমীর খসরু একটা ছবি বের করে বলেন, ‘এই মেয়েটা আমার পছন্দ। কালো কিন্তু ভালো।’ গাজী মাহতাব ছবিটাতে মনোসংযোগ করে। এই নিজেদের ভেতর ভাব বিনিময় আর রাজা-উজির মারা ছাড়া আর কী-বা আছে? আমীর খসরুর দুইঘর বই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। আলমারি নেই। তার যন্ত্রণাগুলো সরাসরি। আক্রমণাত্মক। গাজী মাহতাব মাছরাঙার মতো, সময় অসচেতন অথচ লক্ষ আছে। বিস্মিত হয় কিন্তু স্বপ্ন পোষে না। মুখোমুখি হতে গিয়েও পিছলে যায়। টাকা-পয়সা সরবরাহ করে সাগর নীল দীপ। ওর দোকানটা প্রায় লালবাতি জ্বলার মতো। তবু এ-সুদর্শন সাধক বন্ধুবাৎসল্যে উদারচিত্তে উন্মুখ। রাত দশটার পরে বারে ঢোকে উচ্চবংশীয়, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তার সন্তান—সদ্য লন্ডনফেরত আকর্ষণীয় চেহারা এবং সুন্দর পোশাকের অধিকারী নাদিম ওয়াহিদ। এক লাইন পরপর ইংরেজিতে ইউ নো, ইউ নো বলে। এক নিশ্বাসে পানি খাওয়ার মতো পরপর তিন পেগ একসঙ্গে পান করে নির্জলা। চমকে ওঠে অনেকে। রাজসিক ভঙ্গিতে ওয়েটারদের প্রাপ্য বকশিশের চেয়ে বেশি টাকা দেয়। কখনও কখনও জামা-কাপড়ও গিফ্ট করে। একি এক-দুইদিনের ঘটনা? টানা দশ বছর ধরে তারা এগুলো করছে। নাদিম ওয়াহিদ এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঢুঁ দেয়। সেখানে গিয়ে স্মল পেগ অফার করে এবং সেটা বাড়তে থাকে ধীরে-ধীরে। রাহুল বলে, ‘ওই টেবিল থেকে কিছু সন্ত্রাসী আমাদের লক্ষ করছে। এসো টেবিলটা উল্টে দিই।’ গাজী মাহতাব লাফ দিয়ে শূন্যে কিক্ ওঠাতে সক্ষম। আমীর খসরু বলেন, ‘পুলিশ ম্যানেজ করার ক্ষমতা তোমার সাংঘাতিক।’ ‘কেন’— রাহুল জিজ্ঞেস করে। ‘ওই যে, সেদিন বলেছিলে টাকা থাকলে তো ইন্টারকন্টিনেন্টালে যেতাম। কই সেখানে তো পুলিশ যায় না। সুন্দর বলেছিলে।’ আজ আর সেইসব দিনরাতের মধ্যে কোনো তফাৎ দেখে না রাহুল, শুধু তার মনে হয়, এখন তাদের লড়তে হচ্ছে ক্যাশবুকের সাথে। আগে তাদের শুধু ধর্মগ্রন্থের সাথে লড়তে হয়েছে।

‘হে মোহাম্মদ, তাহারা সুরাপান ও দ্যূতক্রীড়া বিষয়ক তোমাকে প্রশ্ন করিতেছে। এই দুই বিষয় গুরুতর অপরাধ। এতে লাভও আছে কিন্তু এই দু’য়ে লাভ অপেক্ষা অপরাধ গুরুতর।’ (সুরা: বাকারা)

‘সুরা সেবন এবং অন্য কোনো মাদকদ্রব্য সেবনে মত্ত হইয়া কেবল নামাজের নিকটে মসজিদে যাওয়া নিষেধ তাহা নয়। তদাবস্থায় সকল প্রকার সাধনায় প্রবৃত্ত হওয়ায় নিষেধ।’ (সুরা: নেসা)

‘সুরা ও দ্যূতক্রীড়া তোমাদের মধ্যে ঈর্ষা ও শত্রুতা স্থাপন করে এবং তোমাদেরকে ঈশ্বরস্মরণ হইতে ও প্রার্থনা হইতে নিবৃত্ত রাখে। শয়তান ইহা ভিন্ন অন্যকিছু ইচ্ছা করে না অনন্তর। তোমরা কি নিবৃত্ত হইবে?’ (সুরা: মায়দা)

‘সোমোনা মোষধিরাজঃ পঞ্চদশপর্ণঃ

ম সোম ইব হীয়তে বর্ন্বতে চ।’ (চরক সংহিতা)

‘ঋষিরা মর্তের এক ঔষধি সংগ্রহ করে ছেটেকুটে ঘটা করে রস বের করলেন। সোম—চাঁদ—অমৃত বা চাঁদের মাধুরির বিকল্পে আশীর মিশ্রিত অভিযুক্ত সোমরস ঋষিগণ দেবতাদের যজ্ঞের চমশে পূর্ণ করে নিবেদন করতে লাগলেন। এই কল্পনা অনুসারে সোমরসকে সিদ্ধির শরবত বা ওই জাতীয় কোনো পদার্থ মনে করলে অন্যায় করা হবে না। এই কারণেই সোম ও চন্দ্রের (একই) উপস্থিতি হলো।’

‘ঠিক আছে চিয়র্স শুরু করো তোমার প্রভুর নামে’— গাজী মাহতাবের এই কথায় পরিবেশটা আরো সাবলীল হয়ে ওঠে। কী এক প্রসঙ্গে হঠাৎ খিস্তি-খেউড় আওড়ান আমীর খসরু। বাঁশি বাজিয়ে অনেকক্ষণ পর খসরু ক্ষান্ত হয়েছেন। ছবি না বানাতে পারলে কোমর সোজা হয় না। গাজী মাহতাব উচ্চকণ্ঠে আমীর খসরুর আন্তঃবিপর্যয়গুলো আত্যন্তিক অর্থে নেয়। এক অমানুষি নিঃসঙ্গতা প্রত্যেকের ভেতর দিয়ে গেলাসের ঝাঁঝের মধ্যে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তগুলো বরফ টুকরোর মতো ভাঙে, ভেসে ওঠে সমন্বয়ে। সাগর নীল দীপ আস্তে আস্তে টলে। নাদিম ওয়াহিদ জিনিসপত্র হারাতে শুরু করে। আমীর খসরু পুরোটাই যেন বেহালার তার: স্নিগ্ধ-কোমল-করুণ। গাজী মাহতাবের নেশা হয় না। নিজেকে সামাল রাখে আশ্চর্যভাবে। রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সমাজ ভাঙার সূচনালগ্নে সে তখন ওখানে থাকায় নিজেদের ভেতর দায়-দায়িত্বের মানবিক দিকগুলো ততোটা যৌথভাবে সে দেখে না। একটা পর্যায় পর্যন্ত অবদমন করতে জানে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে তার ধর্মীয় নৈতিকতা রয়েছে। নাদিম ওয়াহিদ দু’একবার বাইরে গিয়ে যুক্ত হলে পরে দু’একজনকে বলে ভারমুক্ত হয়। আমীর খসরুও ভীত কিন্তু সে অভ্যস্ত এটা প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করে। রাহুল ভাবে, ভালোবাসা ছাড়া কার জন্যে এই মানামানি? নীতি আসবে প্রীতি থেকে, ভয় থেকে কেন? বারে ভিড় বাড়তে থাকে। দস্তয়েভস্কি, তারকাভস্কি, কাফকা, মার্কোয়েজ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। আর সেইসব অর্ধমানুষদের কথা যারা কথিত সংস্কৃতকর্মী সেজে জীবনটাকে গুছিয়েছে বুর্জোয়াদের মতোই। তাদের গাল-মন্দ করা আদৌ অর্থযুক্ত কিনা সে প্রশ্নটা ওঠে। অনেকের দু-একবার বমি হয়। বমি হলে অন্তত সে ব্লাক আউট হবে না। ব্লাক আউট হলে বমি সচরাচর আসে না। গোলাপি হবার ধাপটায় সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেখানে থাকলে আনন্দ অনুভূতিটা কাজ করে। গোলাপি ধাপটা শনাক্ত করা কঠিন। বহু বছরের অভিজ্ঞ মদ্যপের জন্যেও। কারণ ওই দিনের খাদ্য-খাবার তালিকা কিম্বা না-খাওয়া পেট কিম্বা শরীর ও মনের দুর্বলতা সব মিলিয়ে গোলাপি ধাপটা কখন হবে সেটা বোঝা দুষ্কর। আগে শেষ হলে আন্ডার ড্রিঙ্ক; রাতে ঘুম হবে না। বেশি হলে ব্লাক আউট। মাপজোক করেও গোলাপি হওয়া যায় না। হঠাৎ হঠাৎ কখনও-বা গোলাপিটা হয়ে যায়। আর সেই মুহূর্তটা বোঝার অবকাশ দেয় না। ফলে আরেকটু হলেই বেশি। রাহুলতো পারেই না ঠিক রাখতে। অধিকাংশ সময় সে আন্ডার ড্রিঙ্ক ক্রস করে ব্লাক আউটে চলে যায়। এক থার্টিফার্স্ট নাইটে রাহুলকে জ্যাকেট উপহার দিয়েছিলেন হাসান তারিক নামে তার একজন বন্ধু। মাতাল হয়ে গিয়েছিলো। কাকরাইল মসজিদের সামনে এক পিলারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলো রাহুল। ভোরবেলা ঘুম ভাঙলে দেখে রাহুলের গায়ের জ্যাকেট আর দুই পায়ের জুতো কারা যেন নিয়ে গিয়েছে। হাসান তারিক আর একটা জ্যাকেট দেন। জুতোজোড়া কিনতে অনেক টাকা লাগে। এরকম হরহামেশাই হতে থাকে। আর একবার রাহুল গাজী মাহতাবকে নিয়ে রিকশায় ফেরার পথে ধর্মমন্ত্রীর বাড়ির গেটের সামনে গিয়ে বলে, ‘আমাদের ঢুকতে দাও, ধর্মমন্ত্রীকে কিছু কথা বলতে হবে। কী কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের জন্য সেটা তার জানা দরকার।’ গাজী মাহতাব এক নোয়াখালীর গল্প বলে : আঁই লন্ডন গেছি, আঁই ব্যাংকক গেছি, সেখানে সুন্দর সুন্দর ম্যায়াদের শাদা শাদা বুক, দুধ দেখে আমার সোনা খাড়া হইয়ি গ্যাছে। আফসানা রাহুলকে দুবার অটোরিকশার সামনের গ্লাস ভাঙার অপরাধে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছে। কারা যেন রক্তাক্ত করেছিলো খসরুকে। খসরুর মুখে রক্ত দেখে একটা ভাঙা ছোটো একটা চৌকি ছুড়ে পাল্টা আক্রমণ করেছিলো রাহুল। ‘উলুখড়’ বইয়ের দোকান সাগর নীল দীপের, সারা দিন ধরে যা বিক্রি হতো সন্ধ্যায় সেই টাকা নিয়ে বারে গিয়ে মদ খাওয়া। এটাই একটা নিয়ম যেন আইন। এটাই ল। হাসান তারিক গাজী মাহতাবের দাড়িকাটা উপলক্ষে হাজির বিরিয়ানি এবং কেরুর জেরিনা দিয়ে একটা পার্টি দেন। একজন মটর ব্যবসায়ী বারে রাহুলকে টিস্যু পেপার দিতেন। রাহুল ওখানে কিছু লিখতো। বিনিময়ে বিয়ার পাঠাতেন। কখনও কখনও বারে পুলিশি রেড হয়। কাউন্টার থেকে বলে দেয় ‘এই কার্ডটা রাখেন। পুলিশ আসলে বলবেন আপনার লাইসেন্স আছে। আপনার নাম করুণাময় গোস্বামী। আপনার বাবার নাম হিমাংশু গোস্বামী। আপনি মুসলমান এটা জানাবেন না। পুলিশ আপনাকে কিছু বলবে না। বারে এটাই ল।’ রাহুল এটাকে আত্মস্থ করে ফলে সে বার এ্যাট ল। রেডসিল নির্ভেজাল বাংলা এবং দোচোয়ানিও খারাপ না। খেতে খেতে ভুল হয়ে যায় রাহুলের। কতোটা পেগ সে নিয়েছে মনে রাখতে পারে না। ভারসাম্যটা হারানো রাহুলের নিত্যকার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। বারে বোর্ডে লেখা:

.           He who drinks
          gets drunk
          he who gets drunk
.           gets as asleep
.           He who gets asleep
.           does not sin
.           He who does not sin
          goes to heaven
.           So let us all drink and
.           go to heaven.

 

ট্রিপল এক্স

রাহুলের এখন একচল্লিশ। বিশ বছর আগে রাহুলের একটা প্রেম হয়। মেয়েটার নাম সাবরিনা। রাহুল আজ ভাবে মেয়েটার ভেতর সংস্কৃতি ছিলো তাই নিজেকে সবসময় প্রতিরক্ষায় রাখলেও একদিন বলেছিলো, শ্যামল মিত্র অসাধারণ গায়ক! ওঁর গান আমার এতো ভালো লাগে যদি একরাত আমার সঙ্গে থাকতে চায় আমার আপত্তি নেই। রাহুল আজও ভাবে, আশ্চর্য, সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা। ভাবতে ভাবতে রাহুল ট্রিপল এক্সের কয়েকটা সিডি চালায়। প্রথমটা বেশ সুন্দর। পনেরো ষোলো বছরের মেয়ে, জানালার কাছে বসা। কয়েক তলা ওপরের ফ্ল্যাট। নিচের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে অনুমান করা যায় ওপর থেকে তোলা। মেয়েটা শান্ত রুচিস্নিগ্ধ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েদের মতো। সম্ভ্রান্ত স্কুলের ছুটি হওয়ার পর বেরিয়ে আসা মেয়েদের যেমন নিষ্পাপ মুখ থাকে, তেমনি। এরপর দেখা যায় সে শাওয়ারে গোসল করছে। সাউন্ড শোনা যায় না। কোনো মিউজিকও নেই। মেয়েটাকে নগ্ন করে সুঠাম স্বাস্থ্যের একজন যুবক। বুকদুটোর ওপর যুবকটা হাত চালায়। রাহুল দেখেছে ইউরোপ-আমেরিকার পর্ণো ফিল্মে স্তনের প্রাধান্য একেবারেই থাকে না। ওখানে স্তন নিয়ে নাড়াচাড়ার বিষয়গুলো নেই। কিন্তু ভারতীয় যৌনতায় স্তনকেন্দ্রিক প্রবল বাসনা-আকাক্সক্ষা কিছুটা স্বর্গীয় পর্যায়ের। ভারতীয় পুরুষদের ভেতর নারীপূজা আশ্রয়বৃত্তিক মনন অনেক ক্ষেত্রে বাসনার দিকগুলোকে স্নিগ্ধ করে তোলে। আঙুল দিয়ে ভগাঙ্কুর দেখতে থাকে। চুমু খায় মেয়েটাকে। বুকদুটো বৃত্তে বড়ো, ব্যাসার্ধেও বড়ো; ঔদ্ধত্য নেই। পুরুষাঙ্গটা প্রবেশ করিয়ে দিলে মেয়েটা উত্তেজনায় থাকে। অভিব্যক্তিতে একপর্যায়ে শীৎকারের ছাপ লক্ষ করা যায়। এটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কয়েকবার দেখানো হয়। আফসানা এই সময় উঠে চলে যায়, ‘ধুর মেয়েটা এতো নিষ্পাপ, নিজের মেয়ের মতো মনে হচ্ছে।’ রাহুল বলে, ‘হলে হোক।’ ‘অমানুষ কাহাকে বলে তার আস্ত প্রমাণ হলো তুমি’— আফসানা বলে। গুজরাটি মেয়েকে দিয়ে করানো। সম্ভবত ফিল্মটা ভারতে করা। বাংলাদেশ পর্ব : বাংলাদেশের প্রথমটার নাম জোয়ার ভাটা। একটা হোটেলে কিংবা কারোর বাসা কিনা তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। দুটো মেয়ে পরস্পর দুজনকে জড়িয়ে ধরেছে, তারা দুজন দুজনের কাপড় খুলছে। দুটো মেয়ের দেহেই মেদ রয়েছে। তাদের চেহারায় কোনো বিশেষত্ব নেই। এ-সময় বাংলা মদের বোতল নিয়ে রুগ্ণ কিন্তু লম্বা মোচওয়ালা একজন এসে মেয়ে দুটোকে দুইহাতে জড়িয়ে তারপর তিনজন মিলে যতোরকম প্রক্রিয়া আছে পারস্পরিক কর্মে সাহায্য করার জন্যে করে। পরের সিডিটার নাম হলো রূপবতী। এখানে শাওয়ারের নিচে পাতলা কাপড় পরিয়ে শরীরটাকে ভেজায় একটা মেয়ে। শুরু হচ্ছে এখান থেকে। এখানে আবার শিল্পের চেষ্টা আছে—রাহুল ভাবে। এরপর বিছানায় নিয়ে যায় একজন যুবক। প্রথমে সামনে কিছুক্ষণ নেয় তারপর ডগি আসনে ব্যস্ত। আরেকটা সিডি আসে। চিত্রা। এখানে মেয়েটা সুন্দর আর আকর্ষণীয়। বিশেষত্ব নায়ক রুমাল দিয়ে মুখটাকে নাক পর্যন্ত ঢাকা রেখেছে। নায়িকার চোখে সে বিষয়ে কোনো কৌতুক নেই। তারা দুজন প্রচুর সময় নিয়ে জড়াজড়ি করে। স্তন নিয়ে নাড়াচাড়া চলে নায়কের আরো কিছুক্ষণ। এখানে বিবস্ত্র হওয়ার বিষয়টা পরিশীলিত। এরপর শুরু হয়-ট্রেনের গতির মতো। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এটাও শেষ হয়। নতুন তিনটে সিডি লাগায় রাহুল। এর প্রথমটা মেয়েটার অজান্তে তোলা। এক ডাক্তারের সঙ্গে আরেকজন মহিলা ডাক্তারের। বলা হয় ঘটনাটা ঢাকার আশেপাশের। একেবারে পেসেন্ট বেডে শুইয়ে দিয়েই শুরু। এখানে যোনি ও পুরুষাঙ্গের কাছাকাছি ক্যামেরা যেতে পারেনি শুধু সঙ্গমদৃশ্যটাই দেখা যায়। কাপড়-চোপড়ও পুরো খুলে ফেলার অবকাশ পায়নি। এরপরেরটা সুমন আর মিলির, বহুল আলোচিত। মিলি সুন্দরী আর বাঙালি মেয়ের পুরোপুরি আদর্শ। গোপন অঙ্গগুলো খুলতে গিয়ে সে যে কাঁচুমাচু মুখের ভঙ্গি করে তা শুধু অকৃত্রিম নয়, সে লাজনম্র মুখটা দেখতেও ভালো। আমেরিকাফেরত সুমনের ধৈর্যও আছে। অনেকক্ষণ ধরে পারচু করে। ক্যামেরা ক্লোজ শট-এ আনতে পারে না। তবুও মিলির অভিব্যক্তি চমৎকার। সুমনকেও ভালোভাবে দেখা যায় না। মিলির বডি ল্যাঙ্গুয়েজ স্মার্ট। নিখাদ প্রেমিকা। কখনও কখনও কোনো কোনো শটে, সিকোয়েন্সে, আর্ট ফিল্ম মনে হয়। রাহুল ভিসিডি অফ করে। নিজের খাটে শুয়ে মোজার ভেতর ঢুকিয়ে স্ব-মেহনে প্রবৃত্ত হয়। তারপর, আহার নিদ্রা মৈথুন, শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানুষ যখন ভিন্ন, বিশ বছর আবার পিছায়। সাবরিনা ওই সেই সাবরিনা—শ্যামল মিত্রের সঙ্গে রাতে ঘুমোতে চেয়েছিলো—দেবদাস পার্বতীর মতো তখন ওরা প্রায় সবদিকে এক। ‘এই আমার চুলের ক্লিপটা কোথায় যে পড়লো খুঁজে পাচ্ছি না, কিছুক্ষণ আগেও তো চুলে ছিলো।’—সাবরিনা বলে, ‘রাহুল, একটা মেয়ের পেটে বাচ্চা এসেছে। মেয়েটা বলছে সে কারো সঙ্গে কিছু করেনি, ভায়ের হাফপ্যান্টটা পরেছিলো। হাফপ্যান্ট থেকেই গেছে।’ ‘হ্যাঁ ওর তো হাত-পা আছে যে হেঁটে হেঁটে ওর ভেতরে ঢুকে যাবে।’— রাহুল বলে, ‘কারো সঙ্গে করলে কি আর তোমাকে জানাবে?’ ‘বিশ্বাস করতে শেখো রাহুল, বিশ্বাসী মানুষ নৈতিক হয়। বিশ্বাসী হয়েও আমাদের সংশয় কতো?’ আশ্চর্য হয় রাহুল, সাবরিনা ভূত-প্রেত নাকি? এধরনের কথা বয়স অনুপাতে, অভিজ্ঞতা অনুপাতে, পাঠ অনুপাতে, এতো গুরুত্বপূর্ণভাবে বলা সম্ভব? যার সামান্য অসতর্ক ওড়নার ফাঁক দিয়ে ভি-কাট কামিজের ভেতর দিয়ে স্তনের খাঁজ দেখে রাহুল সুখ পায়। শিহরিত হয়। সে কিনা এসব বলে? সাবরিনার কথা যৌন উদ্দীপক না। ‘রাহুল, স্বপন যা করলো তা কি ঠিক? তুমিও অমন করবে? স্বপন আমাকে নিয়ে গেলো বাসা থেকে, সোজা কাজী অফিসে গিয়ে নামলাম। ফর্ম ফিলআপ করার পর হঠাৎ স্বপন বললো, ‘একজন মুরুব্বী দরকার, আমি বরং আমার মামাকে বলি।’ স্বপন ফোন করে মামাকে ডেকে আনে। কেন জানি মনে হচ্ছিলো আজ আমাকে একা যেতে হবে। ওর মামা এসে বললো, ‘এভাবে বিয়ে উচিত না।’ হলো না। আমি স্বপনকে কাপুরুষ বলিনি।’

মেয়েদের কষ্ট পাওয়া সিদ্ধ হওয়া পেঁপের মতো। রাহুল ভেবে বিব্রত হয়। সাবরিনার ধর্ম তাকে বিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে। সংস্কৃতি তাকে সমাজের বিপক্ষে গিয়ে শ্যামল মিত্রের সঙ্গে শুতে চাওয়া শিখিয়েছে। এই আকাশ বৃষ্টি উদরে নিয়ে চোখ ছলছল করে তাকায়। এই পাহাড় নিজের ঋজুতা নিয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে। এই সাগর সাবরিনার চুলের মতো লম্বা ঢেউ নিয়ে জীবনের গতিকে শনাক্ত করে। আর এই সকাল সামুদ্রিক ঝিনুকের পেটে সতেজ সুপুষ্ট করে রোদের মুক্তা। রাহুল নিজের চোখে নিজে বালি দেয়। চোখ ধোয়। সাগরের লবণ, ঘর্মাক্ত স্তনের মতো, স্তন মানুষের প্রথম পিপাসা আর দাবি, রাহুল তার দাবি নিয়ে ঘুমুতে চায়। সাবরিনার চুলগুলো রাহুলের মুখের ওপর উড়ে আসে। ক্লিপটা কোথায় পড়লো? অনেকক্ষণ রাহুলের স্যান্ডেল সু’র তলে ছিলো ক্লিপটা। রাহুল ওটা সাবরিনার হাতে দেয়।

সাবরিনা চুলের ভেতর ঢোকায়। ক্লিপটা এঁটে থাকে।

 

পত্রিকা: জঙশন □ স্পেকটাকল্ (ত্রিপুরা)। গ্রন্থভূক্ত: রাতে অপরাজিতা গাছে ফুল

Meghchil   is the leading literary portal in the Bengali readers. It uses cookies. Please refer to the Terms & Privacy Policy for details.