১.
আব্বু,
আজ ১৫ই জুন বিশ্ব বাবা দিবস।
এই দিনটি অন্তত বাবাকে কিছু দিতে হয়। কী দেব তোমাকে? অগণিত ভালোবাসা আর পরিতাপ আমার ভেতরে কাজ করে। রাত-দিন-মাস-বছর সেগুলো কিভাবে ট্রান্সফার করি?
অন্তত এইদিনে কিছু ভালো কথা তো তোমাকে দিতে পারি বাবা, আমাদের মাঝে কোনো প্রবঞ্চনা কখনো আশ্রয় পাবে না। তুমি, তুমি আমার বিশাল আশ্রয়। কখনো এসকল বিষয় নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা করো না।
বাবা দিবসে আমার প্রতিজ্ঞা, সন্তানকে নিয়ে আমার বাবাকে সবচে’ সুখি দেখতে চাই,সর্বদা – সবসময়।
একটি কবিতা পাঠালাম, আমার নতুন লেখা। এতটুকুই দিতে পারলাম তোমাকে,
ভালো থেকো এই কামনায়—
তোমার ছেলে
সঞ্চয়
২.
আব্বু
কেমন আছ? এইমাত্র তোমার দ্বিতীয় চিঠি পেলাম। কিছুক্ষণ আগে একটা চিঠি পোস্ট করেছি। কিন্তু আবার লিখতে হচ্ছে। খামে কোন টাকা ছিল না, কিন্তু তুমি লিখেছ টাকা রয়েছে, সম্ভবত ওরা টাকাটা নিয়ে নিয়েছে। কুরিয়ারের উপরে লেখা ছিল, নগদ অর্থ নেই। যাই হোক জ্বর কমেছে, এখন আমি সুস্থ। ফুপুর চিঠি পেয়েছি, তাকে ধন্যবাদ জানিও। এখানের টেলিফোন নষ্ট হয়ে গ্যাছে। আমি ভালো আছি। সিগারেট ছাড়া অন্য কিছুর কষ্ট-ই হচ্ছে না। আমি এখন সুস্থ। তোমার ডাক্তার কী বলে জানিও। আমার আর টাকা নেই সুতরাং চিঠি দিতে পারব না। তুমি অবশ্যই চিঠি দিও এবং চিঠির সাথে ‘রেহেনা হ্যা তেরে দিলমে’ ক্যাসেটটি পাঠিয়ো। সময়ের ব্যবধানে পর পর দুটো চিঠি পেয়ে বিরক্ত হয়ো না। ভালো আছি, আম্মুকে ভালোবাসা দিও—
ইতি
সঞ্চয়
১/৬/০৩
বি. দ্র. আদিত্য শাহীনের কাজটা কতদূর চিঠিতে জানিও।
৩.
আব্বু
লেখা দুটি পাঠালাম। তোমার বইয়ের প্রথম কপিটি যেন আমি পাই। আমি মোটামুটি ভালো আছি। এখানে একটাও রোগী নেই। চারদিকটা কেমন নিঃসঙ্গ। তোমার বইটা বের করে আম্মুকে নিয়ে চলে এসো। আমার পড়ালেখা ভালো হচ্ছে, দোয়া কর।
ইতি
সঞ্চয়










