১০ মার্চ ২০১৯
প্রচ্ছদ :
রাজিব রায়
মোশতাক আহমদ
কবি ও কথক
2691

মোশতাক আহমদ
কবি ও কথক

2691

হুমায়ূন আহমেদের চিঠি

লেখার সময় কারো কথাই মনে থাকে না

[ ’৮৪র শেষ দিকে প্রিয় লেখককে একটা চিঠি লিখেছিলাম। সে চিঠির মুন্সিয়ানাপূর্ণ ভাষ্যে আমি যে ’৭৮ সাল থেকে তাঁর ‘তোমাদের জন্য ভালোবাসা’ দিয়ে শুরু করে সর্বশেষ বইটাও পড়েছি, এই তথ্য জানাতে ভুলিনি। ’৪৮-এ তার জন্মসালের সঙ্গে সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট চিলড্রেন’ মিলিয়ে কী একটা পাণ্ডিত্যও জাহির করেছিলাম। উদ্দেশ্য একটাই— লেখক আমার বৈদগ্ধ্যে মুগ্ধ হয়ে চিঠির জবাবটা যেন অবশ্যই দেন। চিঠি এল দ্রুতই। চিঠিটা আজও যত্ন করে রেখেছি। চিঠি পড়ে বুঝলাম তাঁর সবই যে আমার পড়া সেটা ঠিকই ধরেছেন, তিনি ‘অভিভূত’ হয়েছেন আর ডিপার্টমেন্টে গিয়ে গল্প করার দাওয়াতও পেলাম; কিন্তু আমি যা মুখচোরা! পুনশ্চ: দিয়ে লিখলেন, ‘চিঠির ভেতর ঠিকানা লেখা খাম দেওয়াটা কি এক ধরনের অভদ্রতা নয়, যেন ভাবা—এক টাকার জন্যে আমি চিঠি লিখব না!’ চিঠি পেয়ে খুশি হলেও একটু অফ হয়েও গেলাম। আর লিখিনি তাঁকে। ]

তিন টুকরো হুমায়ূন । মোশতাক আহমদ

ড. হুমায়ূন আহমেদ
সহকারী অধ্যাপক
রসায়ন বিভাগ
ঢা. বি.

মোশতাক/
কল্যাণীয়াষু, তোমার চিঠি পড়ে একটি জিনিস পরিষ্কার বুঝলাম- আমার লেখা সবই পড়েছ। তোমার মন্তব্যগুলি সেকারণেই মন দিয়ে পড়তে হয়েছে।

আমি তোমার উপদেশ (?) বা আদেশ (!) যাই হোক মনে রাখতে চেষ্টা করব। তবে মুশকিল কি জানো, লেখার সময় কারো কথাই মনে থাকে না। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো লিখি।

কিছু অনুবাদ করার আমার শখ আছে। তোমার চিঠিতে উৎসাহ পেলাম।
একদিন সময় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে চলে এসো, কথা বলব। আমি তিন তলায় বসি।

হুমায়ূন আহমেদ
১১.১১.৮৫

পুনশ্চ: ঠিকানা লেখা খাম পাঠানোটা কি এক ধরণের অভদ্রতা নয়? যেন ভাবা, একটি টাকার জন্যে আমি চিঠির উত্তর দেব না।

হুমায়ূন আহমেদকে লেখা মোশতাক আহমদ-এর চিঠির জবাব।

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত