এই বাড়িতে আজকের রাতটাই আমার শেষ রাত। কাল থেকে এ শহরেরই অন্য গলিতে অন্য এক এগারোশো স্কয়ার ফিটের টু বিএইচকে আমার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠবে। না, কেবল আমার তো নয়— আমার আর অহনের। সেই কবে থেকে অহন আর আমি, আমি আর অহন—একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বাঁচি; এই ভূভারতে আমাদের দুজনের আর অন্য কেউ নেই।
এখন পর্যন্ত যে ঘরটা এ বাড়িতে আমার ঘর, সে ঘরের আরাম আলো আমার গা ধুইয়ে দিচ্ছে অনেক যত্নে। সেই মাখন আদরে আমি গলে যাই, গলে যেতে যেতে মিশে যাই এ ঘরের সুবাসিত মোমবাতির মধ্যে। আমার অস্তিত্ব পুরোটা গিলে ফেলে সেই মোম উথালপাথাল ঘ্রাণ ছড়ায় এ ঘরের দেয়াল থেকে দেয়ালে, জানালার কাচ ভেদ করে তারপর সেই সুঘ্রাণ পৌঁছে যায় এ পাড়ার আনাচে কানাচে, গাছে বাতাসে, হাওয়ায় হাওয়ায়। আমি অবাক বিস্ময়ে আমার বিপন্ন অস্তিত্বের এভাবে ছড়িয়ে পড়া দেখতে থাকি। এক পশলা বেখেয়ালি বেপথু হাওয়া জানালা ভেদ করে ঢুকে পড়ে এই ঘরের ভেতর, আর আমার কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলে যায়— এ বাড়ি ছেড়ে যাস না কোথাও, তিতির। কোথায় যাবি এই সবকিছু ছেড়ে, বল?
সে হাওয়ার উত্তর আমি দিতে পারি না। আমার কাছে সত্যিই তো এ বাড়ি, এই পাড়া ছাড়া এ শহরেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। সেই কোন উনিশশো তিপ্পান্ন সালে শ্রাবণের সঙ্গে আমি এসে পড়েছিলাম এ শহরে, সেখান থেকে একটু একটু করে এই এতখানি পথ পাড়ি দেয়া। এই অনন্তনাথ লেনের পশ্চিমপ্রান্তের দোতলা বাড়িটার দোতলার সর্বদক্ষিণের ঘরটা হয়ে উঠেছিল আমার ঠিকানা। এ ঘরের পশ্চিমের বড় জানালাটার ধারে চোখ রেখে আমি গুনগুনিয়ে গাইতাম ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ আর শ্রাবণ হেসে কুটিকুটি হতো, আমার হাত চেপে বলত— এই অসময়ে শ্রাবণের গান গেয়ো না, পরে তখন শ্রাবণ মাসে খরায় পুড়তে হবে।
শ্রাবণের কথা শুনে আমি হা হা করে হাসতাম। আমাদের হাসির আওয়াজে ভেঙে যেত কাচ, ঘরটার ঠিক পাশেই শিরিষের ডালে বসা কোকিলগুলো অবাক হয়ে চোখ চাওয়াচাওয়ি করত। সে হাসির পর্ব শেষে আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম, আমাদের এই দোতলা বাড়িটা ভরে যেত প্রেম আর প্রার্থনায়, আদরে আর আহ্লাদে। তারপর সেই প্রেমের রেশ ধরেই একদিন এ সংসারে আরেকজন বাড়ল—আমরা অহনকে পেলাম। অহনকে ঘিরে শ্রাবণের সে কী উল্লাস, সে কী ছেলেমানুষের মতো হুল্লোড়!
শুধু শ্রাবণই বা কেন, অহনের জন্ম ঘিরে এ বাড়ির সবার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। আমার শ্বশুর-শাশুড়িও ভীষণ খুশি হয়েছিলেন তাদের একমাত্র ছেলের সন্তানের জন্মে। আহ্লাদ করতে ছুটে এসেছিল অহনের পিসি। অন্তত তেমনটাই তখন জানতাম আমরা সকলে।
অহন এখনও ওর আবৃত্তির ক্লাস থেকে ফেরেনি। ওর ব্যাগ গোছানো হয়ে গেছে আগেই, ছেলেটা আমার এইটুকু বয়সেই কী করে সবকিছু বুঝে যায়। আজ ক্লাসে যাবার আগে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে গেল— চিন্তা কোরো না, মা। আমাদের নতুন বাসাটাতেও আমরা খুব ভালো থাকব।
কিন্তু আমি তো জানি— ও বাসায় ভালো থাকা সম্ভব নয়। ও বাসায় শ্রাবণের স্পর্শ নেই, ওর কণ্ঠস্বর লেগে নেই ভেন্টিলেটরের ফাঁকে। ও বাসার প্রতিটি ঘরে শ্রাবণ তার সমস্ত অস্তিত্ব সঙ্গে করে হেঁটে বেড়ায়নি কোনোদিন। আমাদের ছোট্ট অহন বুঝতে পারে না এই বাড়িটা আমার এত প্রিয় কারণ এ বাড়ির প্রত্যেক কোনায় শ্রাবণ তার সমস্ত অস্তিত্ব নিয়ে প্রবলভাবে বেঁচে আছে!
বটতলা শ্মশানঘাটে শ্রাবণের শরীরের সমস্ত ছাই ভাসিয়ে যেদিন ফিরে এসেছিলাম, সেদিনও আমি নিশ্চিত করে জানতাম, আমার পিছু পিছু শ্রাবণ এসে ঢুকেছিল এই ঘরে। ওর নিঃশ্বাসের মতো প্রবল গাঢ় শব্দ আমি এখনও রোজ পাই। শ্রাবণের শ্বাসপ্রশ্বাস আজও মিশে আছে এ বাড়ির ইট-কাঠ-কাচের আদরে, ওর স্পর্শ লেগে আছে এ বাড়ির ছাদে ল্যাভেন্ডার রঙের বাগানবিলাস আর ঘিয়ে সাদা কাঠগোলাপের মায়ায়। আমাদের বুকশেলফের প্রতিটি বইয়ের কালো অক্ষর আর বারান্দার প্রতিটি ক্যাকটাসের সবুজে শ্রাবণ মিশে আছে, বেঁচে আছে আজও। এ বাড়ির বাইরে আমি ওকে কোথায় খুঁজব, কোথায় খুঁজে পাব?
বাবা অবাক হয়ে গিয়েছিল যেদিন আমার কাছে সবটা শুনেছিল। শ্রাবণ নেই বলে এ বাড়িতে আমার আর অহনের কোনো জায়গা নেই এ কথা শুনে বাবা পাথর হতে হতেও হয়ে যায়নি তবে তার বুকের ভেতর যে সুকোমল ঝরনাধারা ছিল আজীবন, সেটা সেই মুহূর্তেই শুকিয়ে খাক হয়ে গেছে তা আমি টের পেয়েছি। বাবার বুকের ভেতর তখন নিদারুণ ধুলোবালির ঝড়। সে ঝড় পাশে ঠেলে ফোনের ওপাশ থেকে বাবা বলেছিল— কেন এত চিন্তা করছিস, তিতির? তুই আমার মেয়ে, আমার কাছে চলে আয়। কবে আসবি বল তো? এ বাড়িতে আমরা দুটো মানুষ কোনোরকমে আছি, তুই আর অহন চলে এলে আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।
বাবা আমাকে কোনোকালেই দূরে ঠেলে দেবে না জানি। আমি বাবার বড় আদরের তিতির, শুধু আমি কেন, টুবাই বুবাইও বাবার ভীষণ প্রিয়। আমরা তিন ভাইবোনে বাবা আর মায়ের ভালোবাসাতেই বড় হয়েছি। তাই শ্রাবণের মায়ের মুখে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার প্রস্তাব পেয়ে বাবার মতো অবাক আমিও হয়েছিলাম। অবাক হয়ে ভেবেছিলাম টুবাই বা বুবাইয়ের কিছু হয়ে গেলে নিশ্চয়ই স্নিগ্ধা আর রুষা আমাদের পর হয়ে যাবে না!
আমার ভীষণ কান্না পায়, শ্রাবণের কথা, এ বাড়িতে জড়ানো সব স্মৃতি মনে করে আমি হঠাৎ কেঁদে উঠি হু হু করে। সে কান্না বাড়ির নিচতলায় থাকা শ্রীযুক্তবাবু অসীমকুমার কুণ্ডু আর তৎস্য স্ত্রী শ্রীমতি রাধারানী কুণ্ডুর কানে পৌঁছায় না ঠিকই কিন্তু সে কান্নার ভেতর আমি আচমকাই খুঁজে পাই মধুমঞ্জরির ঘ্রাণ
কিন্তু শ্রাবণ মারা যাবার পর থেকেই আসলে আমি আর অহন পর হয়ে গিয়েছিলাম এ বাড়ির। এ বাড়িতে আমার বারো বছরের জীবন কেমন এক মুহূর্তেই পোড়া ছাইয়ের মতো হাওয়ায় উড়ে গেছে তারপর থেকে! আচমকা একটা স্ট্রোক করে যেই না শ্রাবণ এ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল, অমনি অহন আর আমি এই দোতলা সুন্দর বাড়িটায় একলা হয়ে গেলাম। বারো বছর একসঙ্গে কাটানোর পরও মানুষ আপন হয় না, এ আমি জানতাম না। তবে তারচেয়েও অবাক হয়ে দেখেছি মানুষ কী করে নিজেদের উত্তরাধিকার অস্বীকার করতে পারে! আমার কথা বাদ, শ্রাবণেরই সন্তান এক পলকে অবাঞ্ছিত হয়ে উঠল এ ঘরে, এ সংসারে। এই বাড়িটা আমার শ্বশুরের তৈরি, ব্যাংকে জমানো কিছু টাকা আর চাকুরিটা ছাড়া শ্রাবণের নিজের সম্পদ বলতে ছিল না কিছুই। এই বাড়ি, এই সংসার, এই সমস্তকিছুতে অহন তাই অনাহূত হয়ে উঠল দিনে দিনে। বাড়ি আর সম্পত্তি যেহেতু আমার শ্বশুরের, এ বাড়িতে কে থাকবে না থাকবে, নিজের সম্পত্তির কতটুকু কাকে দেয়া হবে কিংবা আদৌ হবে না— এ তিনি ঠিক করবেন।
আমার এ সবের জন্য খারাপ লাগে না। আমার চাকুরি আছে, শ্রাবণের ব্যাংকের নমিনি আমি, তার থেকে যা টাকা পয়সা পেয়েছি তাতে অহন আর আমার চলে যাবে, আটকাবে না কিছু। আমার শুধু খারাপ লাগে এই বাড়িটার জন্য, এ বাড়ির চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকা শ্রাবণ নামের মায়ার জন্য। অহন আর আমার জীবনে তো ও ছাড়া আর কিছু ছিল না, কেউ ছিল না।
সেদিন যখন রাধাবল্লভে আমাদের জন্য বাসাটা দেখতে গেলাম, অহন খুব স্বাভাবিক ছিল। দিব্যি বাড়িঅলা ভদ্রলোকের সঙ্গে কথাটথা বলে নিল, পুরোটা সময় আমি বোবা হয়ে ছিলাম। কেবল ফেরার পথে বাসাভাড়ার অ্যাডভান্সটা দিয়ে চলে এলাম। এ বাড়ি, এই ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া আমার জন্য সহজ নয়। এই ঘরের আলমারিতে এখনও শ্রাবণের কাপড় ভাঁজ করে রাখা, এখনও অফিসে যাবার পথে বা সন্ধ্যার অন্ধকারে হারাতে হারাতে আমি ওর প্রিয় ডিওর সোভাজের ঘ্রাণে নাক ডুবিয়ে বসে থাকি। সেই ঘ্রাণ আমাকে নিয়ে যায় বহু বছর আগের দিনে যখন আকাশে মেঘ জমলেই আমি গাইতাম ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ আর ও আমার দিকে তাকিয়ে খোলা গলায় গেয়ে উঠত ‘ঝিন্টি, তুই বুষ্টি হলে পারতিস’।
আমাদের গান, কবিতা আর হাসিতে ভরা সেইসব দিন কোথায় চলে গেল এক ফুঁয়ে আমি তার কোনো থই পাই না। আজকাল কেবল মনে হয়, এ বাড়িটায় আমি আমৃত্যুকাল থাকতে পারতাম যদি! তাহলে শ্রাবণ আমার সঙ্গে থাকত, অহনের সঙ্গে থাকত। তাহলে রাতের অন্ধকার গাঢ়তর হলে আমি ফিসফিসিয়ে বলতে পারতাম— কেন চলে গেলে, শ্রাবণ? তোমাকে যে আমি ভীষণ মিস করছি!
শ্রাবণ ঠিকই পশ্চিমের জানালার ফাঁক গলে আমাকে পাঠাত মধুমঞ্জরির ঘ্রাণ, সে ঘ্রাণ গায়ে মেখে আমি হয়ে উঠতাম পরী। আমার দু’হাতের নিচে গজিয়ে উঠত দুটো ডানা আর আমি শ্রাবণের সঙ্গে সঙ্গে উড়ে বেড়াতাম মেঘের দেশে, পাতা আর ফুলের দেশে। দূর পাহাড়ের গায়ে বসে শ্রাবণ আমাকে কবিতা শোনাত— ‘অর্থ নয়, বিত্ত নয়, স্বচ্ছলতা নয় / আরও এক বিপন্ন বিস্ময় / আমাদের অন্তর্গত রক্তের গভীরে খেলা করে…’
সেই বিপন্ন বিস্ময়ের হাত ধরে সেই অচেনা পাহাড়ের হিমসবুজে রাত পার করে আমরা ঘরে ফিরতাম, দেখতাম অহন কেমন আদুরে মুখে ঘুমিয়ে পড়েছে। শ্রাবণ অহনের কপালে লেপটে থাকা চুল আদরে সরিয়ে দিত, আমি এ বাড়ির সবার জন্য ব্ল্যাক কফি বানাতাম, সঙ্গে আগের রাতে বানানো লেমন কুকিজ!
কিন্তু না, শ্রাবণ ফেরে না এই ঘরে আর, মধুমঞ্জরির অবাক ঘ্রাণও উড়ে আসে না অচেনা বাতাসের সঙ্গে। রাত গভীর থেকে গভীরতর হতে হতে অহন ফিরে আসে। আবৃত্তির ক্লাস শেষে সে রাধাবল্লভে গিয়েছিল, ও বাড়ির সব জিনিসপত্রগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে। কী আর এমন জিনিস ওখানে , বহু তর্কের পর এ বাড়ি থেকে আমি কেবল আমাদের খাট আর আলমারিটা নিয়ে যাচ্ছি। এই দুটো জিনিস আমি প্রাণে ধরে রেখে যেতে পারব না। এই খাটের প্রতিটি ইঞ্চিতে শ্রাবণের স্পর্শ লেগে আছে, এই আলমারির ভেতরে আছে শ্রাবণের রেখে যাওয়া শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট, ওয়ালেট, ছোট ছোট হাজার জিনিস। এগুলো আমি কাউকে দিয়ে যেতে পারব না। ও বাড়িতে অহনের ঘরের জন্য ছোট্ট একটা খাট কিনেছি অটবি থেকে, একটা ড্রেসিং টেবিল আর একটা তিন সিটের সোফা, চার সিটের ছোট ডাইনিং টেবিল। এতেই আমাদের মা-ছেলের চলে যাবে আপাতত।
অহন আজ আমার কাছে ঘুমাবে বলে শুয়ে পড়ে। ঘরের বাতি নিভিয়ে আমি একা জেগে থাকি এই নিঃসীম অন্ধকারে। আমার স্মৃতিপটে একের পর এক ছবি উল্টে যায়। এক মাথা চুলের শ্রাবণ আমার সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠছে এ বাড়ির ছাদে, আমরা দুজনে ভিজে যাচ্ছি ঝুম বৃষ্টির ধারায়, ছোট্ট অহন বাবার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে পড়ে গিয়ে খিলখিল করে হাসছে, বিকেলে কফিমগ সামনে রেখে আমরা জাভেদ হুসেনের কণ্ঠে শুনছি গালিবের শের, দরাজ গলায় শ্রাবণ আবৃত্তি করছে— ‘বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায় / বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে / বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো…’
এত এত স্মৃতিভার নিয়ে আমি কোথায় যাব এ বাড়ি ছেড়ে? দক্ষিণের বিশাল বড় বারান্দাটায় রেলিংয়ে হেলান দিয়ে আমি আকাশ দেখি। আজকের আকাশ ভরা হাজার তারা, শ্রাবণ এখন এখানে থাকলে নিশ্চয়ই গাইত— ‘আজি যত তারা তব আকাশে, সবই মোর প্রাণভরি প্রকাশে…’
আমার ভীষণ কান্না পায়, শ্রাবণের কথা, এ বাড়িতে জড়ানো সব স্মৃতি মনে করে আমি হঠাৎ কেঁদে উঠি হু হু করে। সে কান্না বাড়ির নিচতলায় থাকা শ্রীযুক্তবাবু অসীমকুমার কুণ্ডু আর তৎস্য স্ত্রী শ্রীমতি রাধারানী কুণ্ডুর কানে পৌঁছায় না ঠিকই কিন্তু সে কান্নার ভেতর আমি আচমকাই খুঁজে পাই মধুমঞ্জরির ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণের পথ ধরে আমার চুল উড়িয়ে দিয়ে এক পশলা বাতাস বলে ওঠে— ছিঃ, কাঁদে না তিতি। তুমি আর অহন যেখানে থাকবে, সেখানেই আমাদের ঘর হবে। কোনো মানুষের সাধ্য কী কেবল এই একটা বাড়িতে আমাকে আটকে ফেলে, তোমাদের থেকে আলাদা করে দেয়?
আমি তিতির সেই কান্নায় দুলতে দুলতে ফুলতে ফুলতে শ্রাবণের তিতি হয়ে যাই। সেই হাওয়া কিংবা শ্রাবণকে গায়ে জড়িয়ে নিতে নিতে আমি ফিসফিসিয়ে বলি— আর আমাদের ছেড়ে যেও না, শ্রাবণ। তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা ভীষণ কঠিন।
আমাকে জড়িয়ে ধরে সেই হাওয়া অথবা শ্রাবণ আমার জন্য শিস দিয়ে গেয়ে ওঠে— ‘ঝিন্টি তুই হয়ে যা মিঠে রোদ্দুর, ঝিন্টি তুই হয়ে যা ঝোড়ো হাওয়া’। আর ঠিক তখনই আকাশ থেকে নেমে আসে স্বর্গীয় স্রোতধারার মতো অঝোর বৃষ্টি। সেই অমৃতবারিতে ভিজে যেতে যেতে আমি এই প্রথমবার বুঝতে পারি আমার শ্রাবণের মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে, ও কেবল এ বাড়ির ইট কাঠ নোনা দেয়ালের নয়।




























































