এখন মার্চ মাস চলছে। মার্চের শুরু হতে নরম সূর্যকিরণ আর পাখির গানে হৃদয় প্রশস্ত হলে মনে রাখা যায়, আরে আমাদের তো আছে একটা পঁচিশ মাইল। সেখানে পাখপাখালিরা উড়ে আসে কতদূরের দেশ থেকে। আচ্ছা তাদের ভিতর কি থাকে কোনো পাখি, যারা যাযাবর। গৃহে আর প্রত্যাবর্তন করে না। এখানে কোনো পুকুর নাই, যেখানে কয়েকটি হাঁস ভেসে বেড়াতে পারবে। রোদ পড়ে জলে চিকচিক করবে লাল রঙের কোন কার্প মাছ। একবার কার্প মাছের নিরাভরণ বর্ণনা কোথায় যেন পড়েছিলাম, মনে নাই। তবে একটি প্রচলিত ধারণা হলো কার্প মাছ জলের বাইরে থেকে মানুষকে দেখতে পায়। জেলেপাড়ার জমা হয় ঋতুভার। একেকটা ঋতু হতে মানুষ আর কার্প মাছ দেখার জন্য নিয়তি নির্ধারণ করে। যখন লাল রঙের জলপাই পাতা ঝরে পড়ে। তখন সূর্যের রঙিন ফুলের রঙিনে সারা দুপুর দূরের মনে করে বিকেলকে। খুব শান্ত হতে বনের দিকে হেঁটে যাওয়ার কথা ভাবলাম — যেখানে পাতার সাহেব ঘুমিয়ে আছে ক্লান্ত, কোন গান নাই। এদিকে একটু একটু বাতাস আসছে, যেন ছোট ছোট হাহাকারের মতো।
২.
কত রকম স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নের মধ্যে একটা বেদনাও আছে, যা অ আ ক খ-র মতো ঝুলে থাকে। বিস্ময়ের কিছু নেই যখন আমি দেখি যে অনেক স্বপ্নাহত চরণকে কতগুলো ইকোয়েশনে প্রকাশ করা সম্ভব।
জমা অন্ধকারের ভিতর ধুলাবালি ঝুরঝুর করে পড়ছে একটা ঘর। ঘরটাকে দেখে মনে হচ্ছে পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণে তাকানো। সেখানে একটি বিকেল দুলছে পরম্পরার ধারায়। আহা! একই জগতের ভিতর কত কত জগত। মনে হয় কথা কই, দেখা করি, মিশি পরস্পরের সাথে। হঠাৎ কোনো মানুষ দেখলে এও ভাবনা জাগে— এই মানুষটাকে আমি জানি।
৩.
নগ্নসূর্যের নিচে সকালের নিস্তরঙ্গ ভাব নেই। পঁচিশ মাইলের আগে যে বাজার, সেই বাজারের নাম জলছত্র। অথচ দূরত্ব সামান্য। পাশাপাশি প্রকৃতি আর মানুষের নিবিড় বন্ধন। হানি কুইন আনারস নিয়ে বসে আছে অনেকে। তারা মূলত খুচরা বিক্রেতা। আনারসের চোখগুলো তীক্ষ্ণ ও প্রগাঢ়। যেন একটা সম্পর্ক আছে চোখেদের সাথে বিষাদের। কথিত আছে— ১৯৪২ সালে মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামের গারো সম্প্রদায়ের মিজি দয়াময়ী সাংমা মেঘালয় থেকে চারা এনে প্রথম বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছিলেন।
আনারসের বাগান থেকে বাজার তার পেছনে একজন চাষী সযতনে ধারণ করে এক দৃশ্যগল্পের। সেখানে বনগন্ধের ঘাসের নরমে চাঁদের সেই আগুন কেউ দেখেনি। গাছেদের শুকনো পাতা ঝরে পড়ছে। গাছ শিখিয়েছে ঝরে পড়ার শিল্প।
৪.
পঁচিশ মাইল থেকে ডান দিকে যে রাস্তাটা চলে গেছে, সেই পথ ধরে যাওয়া যায় ঘুঘুর বাজার, দোখলা, পীরগাছা, শোলাকুড়ি আরও আরও দূর। তবে পঁচিশ মাইলে মাঝে মাঝে একটা দোকানে গিয়ে আমি রোজেলা চা খাই। দোকানটার নাম সুন্দর ‘দ্য ডি জোন’। দোকানের মালিকের নাম দীপক দা। দীপক দা যেন তার দোকানের মতো এক আয়না। সেখানে বসে প্রায়ই আমার দীপক দাকে বলতে ইচ্ছে করে— শিশুরা যেমন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পরে তেমনি করে আমিও কবিতা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। কিন্তু বলা হয় না, তবে কে আমাকে বলে দিচ্ছে এখন কি বলতে হবে?








































































































































1 Comment. Leave new
খুব ভালো লাগলো।