গবেষণা
মোগলনামা—দুই খণ্ড
প্রথম খণ্ড [প্রথম প্রকাশ: ২০১৯, প্রকাশক: আহমদ পাবলিশিং হাউজ]
বইটিতে উঠে এসেছে মোগল রাজবংশের প্রথম পর্যায়ের ইতিহাস। জহির-উদ-দ্বীন মুহম্মদ বাবুর দিল্লিতে মোগল শাসন শুরু করার সময় থেকে আওরঙ্গজেবের মৃত্যু পর্যন্ত সময়ের ভারতের কথা। কালক্রমিক ইতিহাস কথনের পাশাপাশি আছে বর্ণনা ও বিশ্লেষণ।
দ্বিতীয় খণ্ড [২০২০, আহমদ পাবলিশিং হাউজ]
আওরঙ্গজেবের মৃত্যু পরবর্তী সময় থেকে সিপাহী বিদ্রোহ ও বাহাদুর শাহ জাফরের নির্বাসনে শেষ হয়েছে মোগলনামা দ্বিতীয় খণ্ড।
ইতিহাসের পথে পথে [প্রথম প্রকাশ: ২০২৫, প্রকাশক: জ্ঞানকোষ]
ইতিহাসের নানা চমকপ্রদ ঘটনা নিয়ে ‘ইতিহাসের পথে পথে’। কেবল ঘটনা নয়, আছে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ব্যক্তির কথা। গভীর থেকে বিশ্লেষণ, ব্যবচ্ছেদের চেষ্টা দেখা যাবে প্রতিটি লেখায়।
কুবলাই খান, ইস্তানবুল, জ্ঞানের শহর বাগদাদ, ইদি আমিন, সুফি আবুল খায়ের, ফরাসি পারফিউম ইত্যাদি নানা বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। আছে জারদের কথা, বিপ্লবের কথা। বলশেভিক বিপ্লব থেকে শুরু করে নিজামের রাজ্যের বিয়ে, ইন্দিরা গান্ধীর ঘরের খবর, কাওয়ালির ইতিবৃত্ত, শহর লক্ষ্ণৌয়ের ইতিহাস, বেদুঈনদের জীবন, কেরালার বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছু।
নন ফিকশন
ফিরাক [২০২৪, স্বরে অ]
‘ফিরাক’-এ উর্দু ভাষার সেরা কবি মীর্জা গালিব, তাঁর পূর্ববর্তী মীর তকী মীর এবং খুসরোর শের রয়েছে। সেই সঙ্গে আছে কবির দাসের দোঁহা। শের এবং দোঁহা ভাষাগত দিক হতে আলাদা। কিন্তু কবিরকে গালিব, মীরদের সঙ্গে রাখা হয়েছে মরমী বক্তব্যের জন্য। এই সংকলনে উক্ত কবিদের মরমী অর্থ ধারণকারী দ্বিপদীগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মানুষ, মানবতা, ঈশ্বর নিয়ে কথা বলেছেন এরা সকলে।
এখানে সংকলিত প্রায় প্রতিটি শের শায়েরিতে কোনো না কোনো গূঢ় বক্তব্য রয়েছে। বাংলা অনুবাদে বাংলার লালিত্য যথাসম্ভব ধরে রেখে মূলের কাছাকাছি থাকা হয়েছে। কিন্তু গালিব, মীর, খুসরো, কবিরদের দ্বিপদী এতো গভীর অর্থ বহন করে, যা কিছুটা ব্যাখ্যা না করলে অনেক ক্ষেত্রে বোঝা কঠিন। তাই লেখকের বোঝাপড়া থেকে যোগ করা হয়েছে নাতিদীর্ঘ ব্যাখ্যা ও কিছু শব্দার্থও।
উপন্যাস
রাধেয় [২০১৯, নালন্দা]
কর্ণকে নিয়ে উপন্যাস রাধেয়। সূতপুত্রের যাতনা, পীড়া ও এক সময়কার উচ্চাভিলাষের কথা এসেছে উপন্যাসে। মাহমুদুর রহমান কর্ণকে দেখেছেন গভীর করে। পাঠককে তার যাতনার সঙ্গে মেলাতেও চেয়েছেন।
শকুনি উবাচ [২০২১, নালন্দা]
মহাকাব্যে যথেষ্ট জায়গা নিয়ে শকুনিকে আঁকেননি ব্যাসদেব। কোথাও না কোথাও শকুনিও বঞ্চনার শিকার। শকুনি অবশ্যই ‘খল’ ছিলেন কিন্তু তাকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি মনে করেন লেখক। সে বঞ্চনার ইতিহাস লেখা হয়নি। তার মনে হয়েছে শকুনির কিছু বলার আছে। সে কথাই এ উপন্যাসে বলার চেষ্টা করেছেন।
দ্রৌপদী [২০২২, নালন্দা]
মহাভারতের চরিত্র দ্রৌপদীকে নিয়ে উপন্যাস। পৃথিবীর প্রধান চারটি মহাকাব্যের মধ্যে বোধ হয় দ্রৌপদীই সর্বাধিক সোচ্চার, সক্রিয় এবং প্রতিবাদী নারী চরিত্র। মহাভারতের মিথ, অলৌকিকতাকে পাশে রেখে এই উপন্যাসে রক্তমাংসের দ্রৌপদীর ছবিটি আঁকতে চেয়েছেন লেখক। এই দ্রৌপদী কন্যা, জায়া, জননী, রাজ্ঞী। তার মনোজগতের সন্ধান করতে গিয়ে ভারতবর্ষের অতীত, বর্তমান, পৌরাণিক এমনকি অনাগত নারীদের নিভৃত মানসের আখ্যান হতে চায় ‘দ্রৌপদী’।
রঙ মিলান্তি [২০২১, নালন্দা]
এই সময়ের সেই স্বপ্নবাজ তরুণদের প্রতিনিধি নাদিম, রিক্তা, বেলা, আরিফ, সজীব, শিহাব, শাহরিয়ার। তাদের চাওয়া-পাওয়া, প্রেম, জীবন-যুদ্ধ, যুদ্ধের মাঝে দর্শন, দর্শনের মাঝে স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে ছোপ ছোপ রঙ। অন্যভাবে বললে এই প্রাণগুলোই রঙিন। সেই রঙিন প্রাণের হাত ধরে একটা শান্ত, সুন্দর সময়ের খোঁজে পথ চলার নাম ‘রঙ মিলান্তি’।
রুসওয়া [২০২২, ভূমিপ্রকাশ]
এক শিল্পীর নস্টালজিয়া আর ঘোরের মধ্যে দিয়ে এ উপন্যাস, তার পাঠককে ভালোবাসার নানা রঙ আর এই শহরের বদলে যাওয়ার গল্পটা বলতে চায়। এক জীবনে শিল্পী আসলে কোনো যোদ্ধার তুলনায় কম ত্যাগ করে না। ইউলিসিসের চেয়েও দীর্ঘ তার যাত্রা। প্রেমিকার অপেক্ষায় থাকা শিল্পী হয়ত কায়েস, ফরহাদ, মীর্জার মতোই মজনু। কিন্তু সংসারে সে বদনাম— রুসওয়া।
বেলাভূমি [২০২৩, ভূমিপ্রকাশ]
কভিড-১৯ এই পৃথিবীতে নানা পরিবর্তন এনেছে। এর সবকিছু এখনও দৃশ্যমান না। তবে কভিড যে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে তাতে সন্দেহ নেই। কেউ মানিয়ে নিতে পারছে, কেউ পারছে না। কভিডের আগের জীবন আর পরের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। সেই বদলে যাওয়া জীবন নিয়েই এ বইয়ের গল্প। সে গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক নারীর জীবন। কিংবা তার জীবনের কথাই ‘বেলাভূমি’র মূল গল্প।
অবিরাম বৃষ্টির শহরে [২০২৫, অধ্যায়]
শহরে বৃষ্টি নামে, জল জমে রাস্তায়, নাগরিক অভিশাপে কবিতারা ভেসে যায়। কোনো কোনো শহর বৃষ্টির শহর। যেমন সিলেট। সেখানে সুমনার বাস। বৃষ্টির সঙ্গে তার গভীর মিতালি। এদিকে ঢাকায় বাস জারিফের। বৃষ্টি তাকে ছোঁয় না। দুই বিপরীত নারী পুরুষের গল্প নিয়ে ‘অবিরাম বৃষ্টির শহরে’। কিন্তু তারচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে শহর আর বৃষ্টি।
নভেলা
পঞ্চকন্যা [২০২৫, নালন্দা]
পুরাণে পঞ্চকন্যা বা পঞ্চসতী নামে পরিচিত অহল্যা, মন্দোদরী, তারা, কুন্তী ও দ্রৌপদী।
মাহমুদুর রহমানের পঞ্চকন্যা এদের গল্প না। বরং মহাভারতের পাঁচ নারী চরিত্রকে নিয়ে এই বই। তারা হলেন হিড়িম্বা, সত্যবতী, সুভদ্রা, অম্বা ও গান্ধারী। প্রত্যেকেই মহাভারতে নানা ঘটনার নিয়ামক। এই পাঁচ নারীকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা, তাদের গল্প বলার চেষ্টা ‘পঞ্চকন্যা’।