২০ জুলাই ২০১৮
প্রচ্ছদ :
রাজিব রায়
মুম রহমান
গল্পকার, অনুবাদক ও চলচ্চিত্র সমালোচক
2078

মুম রহমান
গল্পকার, অনুবাদক ও চলচ্চিত্র সমালোচক

2078

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নাটক

আজ শুক্রবার

ভূমিকা:

 

যিশুখ্রিষ্টকে ক্রুশে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে আর তিনজন সৈন্য রাত এগারোটায় মদ্যপান করছে। প্যারিস রিভিউ পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি ‘দ্য কিলারস’, ‘টেন ইন্ডিয়ান্স’ আর ‘টু যে ইজ ফ্রাইডে’ গল্প তিনটি এক দিনে লিখেছিলেন। তার বক্তব্য হলো, ‘যে গল্পের কথা আপনি বলছেন, তা আমি ১৬ মে মাদ্রিদে এক দিনে লিখেছিলাম, যখন বাইরে তুষারের ইসিডোরার ষাঁড়ের লড়াই বন্ধ হয়েছিল। প্রথমে আমি ‘দ্য কিলারস’ লেখি যা আমি আগেও লেখার চেষ্টা করেছিলাম ও ব্যর্থ হয়েছিলাম। তারপর দুপুরের খাওয়া সেরে আমি বিছানায় যাই নিজেকে উষ্ণ রাখতে আর ‘টু ডে ইজ ফ্রাইডে’ লেখি। আমি এত তরল নিয়েছিলাম যে মনে হচ্ছিল পাগল হয়ে যাব আর আমাকে আরো ছয়টা গল্প লিখতে হবে। তাই আমি পোশাক পরে নিলাম আর ফোর্নসের দিকে হাঁটা দিলাম, সেটা ছিল পুরোনো বুলফাইট ক্যাফে। আর কফি খেয়ে আবার ফিরে এলাম আর ‘টেন ইন্ডিয়ান্স’ গল্পটি লিখে ফেললাম। এটা আমাকে বিষণ্ন করল আর আমি ব্রান্ডি খেলাম আর শুতে গেলাম।’

 

‘টুডে ইজ ফ্রাইডে’ নাটকটি প্রথম ছাপা হয় হেমিংওয়ের ‘ম্যান উইদাউট ওম্যান’ গল্পগ্রন্থে। এটাকে কি হেমিংওয়ে গল্প বলতে চেয়েছেন। হতে পারে গল্প। কিন্তু যে কেউই বুঝবেন এটি একটি নাটক, আরো ঠিক করে বললে, বলতে হয়, অণুনাটক।

 

খুবই নাটকীয় ঘটনা দিয়ে শুরু ‘টুডে ইজ ফ্রাইডে’। যিশুখ্রিষ্টকে ক্রুশে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা তিনজন সৈন্য পানশালায় মদ্য পান করছে। এদের মধ্যে একজন স্বয়ং যিশুর বুকে বল্লম দিয়ে খুঁচিয়েছিল। আরেকজন বারবার বলছে, যিশু খুব শান্ত ব্যবহার করেছেন। ক্রুশে উঠিয়ে দুহাতে পেরেক ঠুকে দেওয়াটা তার ভালো লাগেনি। গ্রিক ট্র্যাজেডির মতো এখানেও মূল ঘটনা ঘটে গেছে আগেই। যিশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বয়ান ও ব্যাখ্যা আমরা পাই পানশালায় বসে থাকা তিন সৈন্যের জবানিতে। এখানে রেড ওয়াইন বা লাল মদ পানের কথা এসেছে বারবার। ধারণা করা যায়, এই মদ যিশুর লাল রক্তেরই প্রতীক। এমনকি একসময় একজন সৈন্য এই প্রশ্নও তোলে, যিশুর যদি অত ক্ষমতাই থাকত, তাহলে সে ক্রুশ থেকে নেমে আসেনি কেন। মদ বিক্রেতা ইহুদি ব্যবসায়ীকে অবশ্য এসব কিছুই ছোঁয় না। সে যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকেও পাত্তা দেয় না। সমালোচক নিকলের মতে, এ নাটকের নায়ক হলো তৃতীয় সৈন্য। পুরো নাটকজুড়েই সে অসুস্থ, পান করতে সমর্থ নয়। তার এই পান করতে না-পারা, অসুস্থ বোধ করাই একটি অনুতপ্ত হৃদয়ের নিশানা। সে বারবার অনুভব করে, নরকযন্ত্রণা। যেন নরকে যাওয়ার মতোই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যিশু ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে আর তিনজন সৈন্য আর একজন ইহুদির কথা বলছে পানশালায়, সব মিলিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের এক ভিন্ন গল্প নির্মিত হয়ে ‘টুডে ইজ ফ্রাইডে’ শিরোনামে। নাট্য-গল্পের শিরোনামটিও লক্ষণীয়। যিশুর প্রয়াণ ও ক্রুশে অবতরণকে উদ্‌যাপন করতেই ‘গুড ফ্রাইডে’ পালন করা হয়। এই দিনটি যিশু অনুসারীরা উপবাস করে, প্রার্থনা করে। অথচ বৈপরীত্য হিসেবে এ কথনে দেখি এরা সবাই পানে ব্যস্ত। অন্যদিকে শিরোনামে ‘টুডে’ বা আজ শব্দটি থাকায় এর একটি সর্বজনীন বর্তমান আবেদন সৃষ্টি হয়েছে। পাঠক যখনই পড়তে যাবে ‘আজ শুক্রবার’ অনুভূতিটি তাদের তাড়িত করবে।

 

এক বিবেচনায় ‘টুডে ইজ ফ্রাইডে’ হেমিংওয়ের ধাঁচের গল্প বা নাটক নয়। তিনি পেশাদার খুনি, মুষ্টিযোদ্ধা, ষাঁড়ের লড়াইয়ের মাচাদো, বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক, সেবিকা এদের কথাই বরাবর লিখেছেন। নিজের চারপাশ আর সমকালকেই তুলে ধরেছেন। যিশুর ক্রুশবিদ্ধের দিনের পরিপ্রেক্ষিতে তার এই নাট্য-গল্প যথার্থই ব্যতিক্রম। আকরে ছোট্ট, প্রকারে নাটকীয় এই ছোট্ট উপাখ্যানটি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের তাবৎ সৃষ্টিকর্মে এক ভিন্নতর সংযোজন।

তিনজন রোমান সৈন্য রাত এগারোটায় একটা পানশালায়… চারপাশের দেয়ালজুড়ে মদের পিপা। কাঠের কাউন্টারের পেছনে ইহুদি ওয়াইন বিক্রেতা। তিনজন রোমার সৈন্যেরই চোখ ঢুলুঢুলু।

১ম রোমান সৈন্য: তুমি লালটা খেয়ে দেখেছ?

২য় রোমান সৈন্য: না। দেখিনি।

১ম রোমান সৈন্য: বরং সেইটা চেষ্টা করলেই ভালো হবে।

২য় রোমান সৈন্য: আচ্ছা, ঠিক আছে, জর্জ, আমরা এক পশলা লাল মদও খেয়ে দেখব।

ইহুদি মদ বিক্রেতা: এই যে মহোদয়গণ। এইটা আপনাদের পছন্দ হবে। (সে একটা মাটির কলসির ওপর বসে, যেটাকে সে একটা পিপা থেকে পূর্ণ করেছে।) এইটা দারুণ ওয়াইন।

১ম রোমান সৈন্য: তুমি নিজে পান করো এটা থেকে। (সে তৃতীয় সৈন্যের দিকে ঘোরে যে কিনা পিপার দিকে ঝুঁকে ছিল) তোমার কী হইছে?

৩য় রোমান সৈন্য: আমার পেটে ব্যথা।

২য় রোমান সৈন্য:  তুমি তো পানি খাচ্ছিলে।

১ম রোমান সৈন্য: একটু লাল ওয়াইন খেয়ে দেখো।

৩য় রোমান সৈন্য: আমি ওই অর্বাচীন জিনিস খাব না। আমার পেট টকে যায়।

১ম রোমান সৈন্য: তুমি অনেক দিন এর বাইরে ছিলে।

৩য় রোমান সৈন্য: জ্বালা, আমি কি তা জানি না?

১ম রোমান সৈন্য: বলো, জর্জ, তুমি কি এই মহোদয়ের পেট ঠিক হওয়ার মতো কিছু দিতে পারো না?

ইহুদি মদ বিক্রেতা: এক্ষুনি দিচ্ছি।

 

(তৃতীয় সৈন্য ওয়াইন বিক্রেতার মেশানো মদের গ্লাসে চুমুক দেয়।)

৩য় সৈন্য: অই, এর মধ্যে কী মিশাইয়াছ, উটের চিপস?

মদ বিক্রেতা: এই তো মাত্র খেলেন, সৈন্য মশাই। আপনাকে এই জিনিস ঠিক করে দেবে একদম।

৩য় সৈন্য: বেশ, এর চেয়ে খারাপ আর বোধ করি নাই।

১ম সৈন্য: একটা সুযোগ হিসেবে নিয়ে দেখো। আরেক দিন জর্জ আমারে ঠিক করে দিছিল।

মদ বিক্রেতা : তোমার অবস্থা কাহিল ছিল, সৈন্য মহাশয়। আমি জানি, নষ্ট পেটকে কেমনে ঠিক করতে হয়।

 

(তৃতীয় রোমান সৈন্য পেয়ালা শেষ করে নামিয়ে রাখে।)

৩য় সৈন্য: যিশুখ্রিষ্ট। (সে একটা মুখভঙ্গি করে)

২য় সৈন্য: এইটা ভুয়া বিপদ ঘণ্টা!

১ম সৈন্য: ও, আমি জানি না। সে খুব ভালো আচরণই করেছিল সেখানে আজ।

২য় সৈন্য: সে তবে ক্রুশ থেকে নেমে এল না কেন?

১ম সৈন্য: সে ক্রুশ থেকে নেমে আসতে চায়নি। এটা তার ধরন না।

২য় সৈন্য: আমাকে একটা লোক দেখাও যে ক্রুশ থেকে নেমে আসতে চায় না।

১ম সৈন্য: আরে ধুরো, তুমি এই সবের কিছুই জানো না। জর্জকে জিজ্ঞাস করো। সে ওখানে ছিল। জর্জ, উনি কি ক্রুশ থেকে নেমে আসতে চেয়েছিলেন?

মদ বিক্রেতা : ভদ্রমহোদয়গণ, আমি বলছি, আমি ওখানে ছিলাম না। এই সব বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ নাই।

২য় সৈন্য: শোনো, আমি বহুজনকে দেখেছি এখানে আরো বহু জায়গাতেও। যেকোনো সময় তুমি যদি আমাকে এমন একটা লোকও দেখাতে পারো, যে ক্রুশ থেকে নেমে আসতে চায় না যখন তার সময় এগিয়ে আসে, আমি বোঝাতে চাচ্ছি, এমন লোক পেলে, আমিও তার সাথে গিয়ে ক্রুশে উঠব।

১ম সৈন্য: আমার মনে হয় উনি যথেষ্ট ভালো আচরণ করেছেন আজ।

৩য় সৈন্য: তিনি ঠিকঠাক ছিলেন।

২য় সৈন্য: ধুর মিয়ারা, তোমরা জানোই না আমি কী নিয়ে কথা বলছি। সে ভালো না মন্দ, সেইটা নিয়ে আমি কথা বলছি না। আমি যা বোঝাতে চাই তা হলো, যখন সময়টা এগিয়ে এল, যখন প্রথম তাকে পেরেকে গাঁথা হচ্ছিল, সেখানে কেউ ছিল না যে থামায়, কেউ পারত না।

১ম সৈন্য: তুমি ব্যাপারটা দেখো নাই, জর্জ?

মদ বিক্রেতা: না। আমার কোনোই আগ্রহ নেই, সৈন্য মশাই।

১ম সৈন্য: আমি তার আচরণ দেখে বিস্মিত হয়েছি।

৩য় সৈন্য: আমার যেটা ভাল্লাগেনি সেটা হলো, পেরেক মারাটা। তুমি জানো, এটা নিশ্চই ভয়াবহ বিশ্রী ছিল।

২য় সৈন্য: ব্যাপারটা অত খারাপ না, যখন ওরা প্রথম তাকে উঁচু করে তুলে ধরে। (সে নিজের দুই হাত একত্র করে উঁচু করে ওঠানোর ভঙ্গি করে)। যখন তার ওজনটা ওদের টানতে থাকে। তখন একটু ঝামেলা হয়েছে।

৩য় সৈন্য: কারো জন্য এটা খুবই বেদনাদায়ক।

১ম সৈন্য: আমি কি ওদের কম দেখেছি? আমি অনেককেই দেখেছি। আমি তোমাকে বলছি, উনি খুব সুন্দর আচরণ করেছেন আজ, ওখানে।

 

(দ্বিতীয় রোমার সৈনিকটি ইহুদি মদ বিক্রেতার দিকে তাকিয়ে হাসে)

২য় রোমান সৈন্য: তুমি একটা গতানুগতিক ক্রিস্টার বুড়ো খোকা।

১ম সৈন্য: নিশ্চয়ই। যাও, তার সাথে মজা লও। কিন্তু শোনো, যখন আমি বলছি, তখন শুনে রাখো। তিনি ওখানে আজ যথেষ্ট ভালো ছিলেন।

২য় রোমান সৈন্য: আরো কিছু মদ হতে পারে?

(মদ বিক্রেতা প্রত্যাশিত চোখে তাকায়। তৃতীয় রোমান সৈন্য মাথা নিচু করে বসে আছে। তাকে খুব সুস্থ দেখায় না।)

৩য় সৈন্য: আমি আর চাই না।

২য় রোমান সৈন্য: আমাদের দুজনের জন্যে স্রেফ, জর্জ।

 

(মদ বিক্রেতা আগেরবারের চেয়ে ছোট মদের কলসি বের করে। সে কাঠের কাউন্টারের দিকে ঝুঁকে আসে)

১ম সৈন্য: ওই মেয়েটারে দেখছিলা?

২য় সৈন্য: ওনার পাশেই দাঁড়ানো ছিল না?

১ম সৈন্য: সে বড় সুন্দরী।

২য় সৈন্য: আমি ওর আগে থেকেই মেয়েটারে চিনতাম। (সে মদ বিক্রেতার দিকে চোখ মারে)

১ম সৈন্য: আমি ওকে শহরে দেখতাম।

২য় সৈন্য: মেয়েটার মধ্যে অনেক জিনিস ছিল। উনি তার জন্য কোনো সৌভাগ্যই আনতে পারেননি।

১ম সৈন্য: হু, তিনি ভাগ্যবান ছিলেন না। কিন্তু আজ ওইখানে তাকে বেশ ভালো দেখাচ্ছিল।

২য় রোমান সৈন্য: ওর সাঙ্গপাঙ্গর কী হলো?

১ম সৈন্য: ওহ্, তারা পালাইছে। কেবল নারীটি তার পাশে ছিল।

২য় রোমান সৈন্য: ওখানে অহেতুক ভিড় ছিল। ওনাকে যখন ওপরে নেওয়া হলো, তারা এটা চাচ্ছিলই না।

১ম সৈন্য: নারীটি সারা রাত ছিল।

২য় রোমান সৈন্য: নিশ্চিতই, তারা সারা রাত ছিল।

১ম সৈন্য: তুমি দেখেছিলে, আমার পুরোনো বর্শাটা তার দিকেই মেরেছিলাম প্রথম।

২য় রোমান সৈন্য: এর জন্য কোনো একদিন তোমাকে বিপদে পড়তে হবে।

১ম সৈন্য: এর চেয়ে কম কিছু আমার পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। আমি বলছি তোমাকে, সেখানে ওই সময় সে আমার প্রতি বেশ সাধু আচরণ করেছিল।

মদ বিক্রেতা : ভদ্রমহোদয়গণ, আপনারা জানেন, আমাকে দোকান বন্ধ করতে হবে।

১ম রোমান সৈন্য: আমরা আরেক প্রস্থ খেতে চাই।

২য় রোমান সৈন্য: কী হবে তাতে? এই জিনিস কোনো কাজেই আসছে না। চলো যাই।

১ম সৈন্য : স্রেফ আরেক প্রস্থ।

৩য় রোমান সৈন্য: (পিপা থেকে ওঠে) না, না। চলো যাওয়া যাক। আজ রাতে আমার মনে হচ্ছে নরক নেমে আসবে।

১ম সৈন্য: স্রেফ আরেকবার।

২য় সৈন্য: না, চলো। আমরা চলে যাচ্ছি। শুভ রাত জর্জ, ভদ্রলোমহোদয়গণ।

মদ বিক্রেতা: শুভ রাত, ভদ্রোমহোদয়গণ। (তাকে সামান্য চিন্তিত মনে হয়)। আমারে কিছু টাকাপয়সা দেবেন না আপনারা, সৈন্য মহাশয়?

২য় রোমান সৈন্য: যত্তসব, জর্জ! বুধবারে টাকা প্রদান দিবস।

মদ বিক্রেতা: ঠিক আছে। ঠিক আছে। সৈন্য মহাশয়। শুভ রাত, ভদ্রোমহোদয়গণ।

 

(তিনজন রোমান সৈন্য দরজার বাইরে রাস্তায় যায়। রাস্তার মধ্যে)

২য় রোমান সৈন্য: জর্জ শালা, বাকি ইহুদিগুলোর মতোই।

১ম সৈন্য: ওহু, জর্জ ভালো লোক।

২য় সৈন্য: তোমার কাছে সব শালাই আজ রাতে ভালো মানুষ।

৩য় সৈন্য: চলো, চলো যাই, ব্যারাকে ফিরে যাই। মনে হচ্ছে নরক নেমে আসবে আজ রাতে।

২য় সৈন্য: তুমি দীর্ঘকাল ধরে বাইরে আছ।

৩য় সৈন্য: না। স্রেফ তা নয়। আমি নরক অনুভব করছি।

২য় সৈন্য: তুমি দীর্ঘকাল ধরে বাইরে আছ। এটাই সব।

পর্দা

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত