Poet, Essayist, Translator & Editor from Bangladesh, Belal Chowdhury, Meghchil Biography

বেলাল চৌধুরী

কবি

বেলাল চৌধুরী বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভূত আধুনিক বাঙালি কবি। তাকে ষাটের দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নিজের সম্পর্কে তিনি বলতেন ‘স্বশিক্ষিত’। যুক্ত ছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। উন্মুল-বাউন্ডুলে জীবনের প্রতি ছিল অদম্য আকর্ষণ।
১৯৬৩ সালে কলকাতা গমন এবং সেখানকার সাহিত্যজগতে প্রতিষ্ঠালাভ। ১৯৭৪-এ মায়ের আদেশে স্বদেশে ফিরে আসা। এরপর সাংবাদিকতা এবং সার্বক্ষণিক লেখালেখিই ছিল তাঁর পেশা ও নেশা। ভারত বিচিত্রার সম্পাদক ও সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। কলকাতার প্রবাসজীবনে কৃত্তিবাস-এর কয়েকটি সংখ্যা সম্পাদনা করেছেন। কবিতার সমান্তরালে লিখেছেন নানা বিষয়ে বিস্তর গদ্য। অনুবাদেও ছিলেন সক্রিয়। অসাধারণ স্বাপ্নিক, সাহসী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের লেখক-সাহিত্যিকদের প্রাণময় এক সেতুবন্ধ এবং তরুণদের বন্ধুপ্রতিম।

আলোকচিত্র: নাসির আলী মামুন / ফটোজিয়াম

একনজরে

কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক

জন্ম
১২ নভেম্বর ১৯৩৮

মৃত্যু
২৪ এপ্রিল ২০১৮

উল্লেখযোগ্য বই
যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে
সেলাই করা ছায়া
জীবনের আশ্চর্য ফাল্গুন
বিদায়ী চুমুক
নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়

উল্লেখযোগ্য সম্মাননা
একুশে পদক
বাংলা একাডেমি পুরস্কার


বিস্তারিত তথ্যের জন্য
বইয়ের নামে ক্লিক করুন

জন্ম ও কর্মজীবন

ফেনী জেলার সদর উপজেলার অন্তর্গত শর্শদি গ্রামে ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর বেলাল চৌধুরীর জন্ম। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুবই দুরন্ত স্বভাবের। ছাত্রাবস্থায় তিনি জড়িয়ে পড়েন বাম ধারার রাজনীতিতে। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মহান ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন ও কারারুদ্ধ হন।

৭৯ বছরের জীবনে বিচিত্র ধরনের পেশায় ব্যাপৃত হয়েছেন। যেমন, কুমির চাষ, পেরেকের ব্যবসা, বইয়ের ব্যবসা।
ষাট ও সত্তরের দশকে বেশ কয়েক বছর কলকাতায় বসবাস করেন তিনি। সে সময় অনেক কীর্তিমান কবি-লেখকের সঙ্গে নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে তাঁর। এসময় কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা কৃত্তিবাসের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে পল্লীবার্তা সচিত্র সন্ধানীতে কাজ করেন। দীর্ঘদিন সম্পাদনা করেছেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপত্র ভারতবিচিত্রা

উন্মুল-বাউন্ডুলে জীবনের প্রতি ছিল অদম্য আকর্ষণ। স্বনামধন্য কবি কথাশিল্পী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘ছদ্মবেশী রাজকুমার’ হিসেবে।

লেখালেখি

তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সম্পাদক, কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, অনুবাদক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক এবং সংগঠক। কবিতা, প্রবন্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ, কলাম, সম্পাদনা সব মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।

বিভিন্ন ছদ্মনামেও লেখালেখি করেছেন তিনি। তাঁর ছদ্মনাম ছিল ময়ূরবাহন, বল্লাল সেন, সবুক্তগীন
অনুবাদ করেছেন বিশ্বনন্দিত অনেক বিখ্যাত লেখকের রচনা। এর মধ্যে রয়েছে হোর্হে লুই বোর্হেস, পাবলো নেরুদা, ডিলান টমাস, অক্তাভিও পাস।

কলকাতা থেকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে। তারপর থেকে স্বৈরাচারবিরোধী প্রগতিশীল সব আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ‘পদাবলী’ নামের কবিতা সংগঠনের প্রাণপুরুষ ছিলেন। আশির দশকে এই সংগঠন দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা পাঠের আসরের আয়োজন করত।

বইপত্র

কবিতা

যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে  [১৯৯৭]
প্রাণ কোকিলা
মুক্তিযুদ্ধের কবিতা
সেলাই করা ছায়া
মহূর্ত ভাষ
যে ধ্বনি চৈত্রে, শিমুলে
বিদায়ী চুমুক
বত্রিশ নম্বর
নিষাদ প্রদেশে
আত্মপ্রতিকৃতি স্থিরজীবন ও নিসর্গ
জলবিষুবের পূর্ণিমা
প্রতিনায়কের স্বগতোক্তি

বেলাল চৌধুরীর কবিতা  [সম্পাদনা- তারিক সুজাত, পিয়াস মজিদ]

গল্প

লাকসাম দাদা সহ ছোট ছোট গল্প

গদ্য/ স্মৃতিগদ্য

নবরাগে নবআনন্দে
চেতনার রঙ চন্দ্রশীলা
মিশ্রচিত্রপট
আমার কলকাতা
নিরুদ্দেশ হাওয়ায় হাওয়ায়
যাওয়ার আগে আরেক চুমুক
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে
জীবনের আশ্চর্য ফাল্গুন
প্রিয় সুনীলদা

উপন্যাস

তিন হাত ঘুরে
দ্য গ্রেট হ্যারি এস

প্রবন্ধ

মুহূর্ত ভাষ্য
একুশের স্মৃতি ও ভাবনা
একুশের ভাবনা
স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল
শামসুর রাহমান: রূপালি আঙুলের ঝর্ণাধারা

পত্র

প্রাণের পত্রাবলি  [বেলাল চৌধুরীকে লেখা দুই বাংলার কবি-লেখকদের পত্রগুচ্ছ]

অনুবাদ

মৃত্যুর কড়ানাড়া  [গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস]

কিশোর সাহিত্য

সাড়ে বত্রিশ ভাজা
সপ্তরত্নের কাণ্ডকারখানা

সম্পাদনা

শামসুর রাহমান সংবর্ধনাগ্রন্থ
পাবলো নেরুদা-শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি
লঙ্গরখানা  [দুর্ভিক্ষের গল্প সংকলন]
জলের মধ্যে চাঁদ ও অন্যান্য জাপানি গল্প
বিশ্বনাগরিক গ্যেটে
মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ
কবিতায় বঙ্গবন্ধু
পদাবলী কবিতা সংকলন

সম্মাননা

একুশে পদক
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
নীহাররঞ্জন স্বর্ণপদক
জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার
জাতীয় প্রেস ক্লাব লেখক সম্মাননা
কবিতালাপ পুরস্কার

প্রয়াণ

২০১৭ সালের আগস্টে কিডনিজনিত সমস্যার কারণে বেলাল চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর থেকেই শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হতে থাকে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
২৪ এপ্রিল ২০১৮ বেলা ১২টায় ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মারা যান তিনি।

তাকে তার গ্রামের বাড়ি ফেনীর জেলার অন্তর্গত শর্শদি গ্রামে ছায়া সুনিবিড় এক দিঘির পাড়ে অন্যান্য আপনজনদের পাশে দাফন করা হয়।

 


তথ্য সহায়তা: উইকিপিডিয়া ও বেলাল চৌধুরী’র বইপত্র
‘সাহিত্যের স্বপ্নযাত্রী কবি বেলাল চৌধুরী’—হাসান হাফিজ [খবরের কাগজ]

পাঠকের ভালোবাসাই মেঘচিলের শক্তি।
এক কাপ চায়ের দামে আমাদের পাশে থাকতে পারেন