Poet from India, Rahul Purkayastha, Meghchil Biography

রাহুল পুরকায়স্থ

কবি

খুব কম বয়স থেকেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু, তারপর সাংবাদিকতায় প্রবেশ। আটের দশক থেকেই তার লেখা কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর প্রথম কবিতার বই অন্ধকার, প্রিয় স্বরলিপি প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা বিশ। যার মধ্যে— ‘অন্ধকার, প্রিয় স্বরলিপি’, ‘আমার সামাজিক ভূমিকা’, ‘নেশা এক প্রিয় ফল’-এর মতো অসংখ্য কাব্যগ্রন্থে তিনি বাংলা কবিতার দুনিয়ায় নিজস্ব অভিজ্ঞান রচনা করেছেন। লেখালেখির জন্য পেয়েছিলেন ‘পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্মাননা’। বহু কবিতার অনুবাদ হয়েছে ইংরেজি ও হিন্দিতে।

তাঁর লেখা কবিতায় উঠে এসেছে কলোনি জীবনের কথা, প্রেমের প্রকৃতি, সাতের দশকের জীবনচর্যা, সমসাময়িক রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট। সম্পাদনা করেছেন ভূমেন্দ্র গুহর কবিতা সংগ্রহ। প্রবল আগ্রহ ছিল দেশ-বিদেশের সাহিত্য ও চিত্রকলায়।

বাঙালিরা তাঁর চোখে মহাকাব্যের সন্তান। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ সারাজীবন আগুন হাতে প্রেমের গান গেয়েই চলেন। এক কথায় প্রান্তিক মানুষের কথাকার রাহুল পুরকায়স্থ।

আলোকচিত্র: সন্দীপ কুমার

একনজরে

কবি, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র পরিচালক

জন্ম
৬ ডিসেম্বর ১৯৬৪, কলকাতা, ভারত

মৃত্যু
২৫ জুলাই ২০২, কলকাতা

ভাষা বাংলা
পেশা সাংবাদিকতা

প্রথম বই
অন্ধকার, প্রিয় স্বরলিপি

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
আমার সামাজিক ভূমিকা
ও তরঙ্গ লাফাও
নেশা এক প্রিয় ফল

সম্মাননা
পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্মাননা


বিস্তারিত তথ্যের জন্য
বইয়ের নামে ক্লিক করুন

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

১৯৬৪ সালের ৬ ডিসেম্বর, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন কবি রাহুল পুরকায়স্থ। বাবার নাম রবীন্দ্রনাথ পুরকায়স্থ, মা বীণা পুরকায়স্থ।

পৈতৃক ভিটে শ্রীহট্ট হলেও আশৈশব বেলঘরিয়ার বাসিন্দা রাহুলের বড় হয়ে ওঠা উত্তাল সাতের দশকে। শহরতলির সংগ্রামী জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। নকশালদের আগুন ঝরানো দিনে, কলোনির সংগ্রামী রোজনামচায় বড় হওয়া তরুণ, হাতে তুলে নিয়েছিলেন ক্ষুরধার কলম! সেখান থেকেই জন্ম নিল ‘কলোনির কবিতা’। শব্দের আলোয় তিনি চেনালেন ‘অন্ধকার’কে। সত্তরের দশকের জীবন্ত দলিল তাঁর ‘বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা’।

কর্মজীবন

তিনি পেশাগতভাবে ছিলেন একজন সাংবাদিক। কর্মজীবনে একাধিক গণমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। পেশাদারি সাংবাদিকতার শুরু আলোকপাত পত্রিকার মাধ্যমে। কাজ করেছেন দূরদর্শন দর্পণ, খাস খবর, জি ২৪ ঘন্টা  এবং পরবর্তী সময়ে টিভি নাইন বাংলার কনসাল্টিং এডিটর ছিলেন তিনি। তবে পেশায় সাংবাদিক হলেও মনে প্রাণে তিনি একজন কবির জীবন ধারণ করতেন।

লেখালেখি

আটের দশক থেকেই নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করেন। তাঁর কবিতার বইয়ের সংখ্যা বিশের অধিক। তাঁর প্রথম বই ‘অন্ধকার প্রিয় স্বরলিপি’। এ ছাড়াও ‘নেশা এক প্রিয় ফল’, ‘আমার সামাজিক ভূমিকা’, ‘ও তরঙ্গ লাফাও’, ‘সামান্য এলিজি’র মতো উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা তিনি। তাঁর বেশ কিছু কবিতা ইংরেজি এবং হিন্দিতেও অনুবাদ হয়েছে। তাঁর লেখা কবিতায় উঠে এসেছে কলোনি জীবনের কথা, প্রেমের প্রকৃতি, সাতের দশকের জীবনচর্যা, সমসাময়িক রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট। সম্পাদনা করেছেন ভূমেন্দ্র গুহর কবিতা সংগ্রহ। প্রবল আগ্রহ ছিল দেশ-বিদেশের সাহিত্য ও চিত্রকলায়। পাঠক মহলে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের পরেই উচ্চারিত হয় রাহুল পুরকায়স্থর নাম।

প্রকাশিত বই

কবিতা

অন্ধকার, প্রিয় স্বরলিপি  [১৯৮৮]
৯ই ভাদ্র ৯৫  [১৯৯১]
শ্বাসাঘাত তাঁতকল ও পুরনো হরফ  [১৯৯২]
একটি জটিল আয়ুরেখা  [১৯৯৫]
গোরস্থান রোড  [১৯৯৩]
আমার সামাজিক ভূমিকা  [২০০০]
রাহুল পুরকায়স্থর কবিতা  [২০০১]
আটটি জ্বলন্ত মুদ্রা  [২০০৪]
শ্রেষ্ঠ কবিতা  [২০০৫]
কলোনির কবিতা  [২০০৯]
নেশা এক প্রিয় ফল  [২০০৯]
নির্বাচিত কবিতা  [২০১২]
ও তরঙ্গ লাফাও  [২০১৪]
শূন্যের কবিতা খানি  [২০১৫]
সামান্য এলিজি  [২০১৬]
নিদ্রিত দর্পনে ঘা দেখি  [২০১৪]
অন্ধের বর্ণনা মতো  [২০১৮]

গদ্য

ভস্ম মাখি মাটিতে শুই  [২০১৮]
ময়দান ও পানশালা  [২০১৮]

সম্পাদনা

বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা [২০১৭]

সম্মাননা

কবিতায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ‘পশ্চিমবঙ্গ কবিতা একাডেমি সুভাষ মুখোপাধ্যায় সম্মাননা’।
পেয়েছেন বাংলা অ্যাকাডেমি, কবিতা অ্যাকাডেমি, মাইকেল মধুসুদন দত্ত পুরস্কার, গৌতম বসু সম্মাননা, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্মাননা, শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্মাননা, ভাষানগর সম্মাননা ও ঐহিক সম্মাননা।

প্রয়াণ

২৫ জুলাই ২০২৫, শুক্রবার দুপুর ২:২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৬১ বছর বয়সে মারা যান কবি রাহুল পুরকায়স্থ। দীর্ঘ দিন ধরেই দুরারোগ্য রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।

পাঠকের ভালোবাসাই মেঘচিলের শক্তি।
এক কাপ চায়ের দামে আমাদের পাশে থাকতে পারেন