২৭ এপ্রিল ২০২৬
হারলেম রেনেসাঁ: সাদাদের আধিপত্যে কালোদের পুনর্জাগরণ
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
সজীব সেন
দৃশ্য শিল্পী ও লেখক
21

সজীব সেন
দৃশ্য শিল্পী ও লেখক

21

হারলেম রেনেসাঁ

সাদাদের আধিপত্যে কালোদের পুনর্জাগরণ

ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে খুঁজে পাওয়া যায় নিপীড়িত, শোষিত মানুষের উত্থান-পতনের গল্প। যা অনেক সময় আলোচিত হয়, অনেক সময় হয় না। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা ধরণের টানাপোড়েনের মাঝেই অনেক ইতিহাস চাপা পড়ে যায়। যে কারণে সময়ে-অসময়ে ইতিহাসের পুনর্পাঠ অনেক ঘটনাকেই সামনে নিয়ে আসে।

শোষিত মানুষকে তখনই প্রাণবন্ত মনে হয় যখন সে তার উপর চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। তাই জেগে ওঠা মানুষের প্রতিটি গল্পই অনুপ্রেরণাদায়ক। বর্ণবৈষম্য, শ্রেণি ভেদাভেদ বিভিন্ন সময়ে জীবনের প্রতিটি বিষয়ের মতো শিল্পকলারও অসংখ্য অর্জনকে ইতিহাসের মধ্যে চাপা দিয়ে রেখেছে, রাখছে, হয়তো ভবিষ্যতেও রাখবে। তবে আশার বিষয়, সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু মানুষ তাদের পূর্ববর্তীদের করে আসা ভুলকে প্রশ্ন করে এবং নিজেদের শুধরে নিতে চায়। নানা ধরনের দোলাচলে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নানাবিধ কারণে কম আলোচিত এবং প্রচারিত ইতিহাস ‘হারলেম রেনেসাঁ’। যা হলো মার্কিন মুলুকে শ্বেতবর্ণের মানুষের বর্বর আধিপত্যবাদ ও শোষণের মাঝে কৃষ্ণবর্ণের মানুষের পুনর্জাগরণ। তবে পুনর্জাগরণ থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বলাটা মনে হয় বেশি যৌক্তিক। এই ঐক্যবদ্ধ শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মূলত নিউ নিগ্রো মুভমেন্টর একটি অংশ।

হারলেম রেনেসাঁ ছিল আফ্রিকান আমেরিকানদের মধ্যে এক সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক শিল্প ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সময়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ (১৯১৭) থেকে শুরু হয়ে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’-এর সূচনা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ (১৯৩০-এর দশক) পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির হারলেম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত। শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, কবিতা, নাটক ও রাজনীতি নিয়ে আমেরিকার কৃষ্ণবর্ণের মানুষদের হারলেম অঞ্চলে ঐক্যবদ্ধ চর্চা, যা পৃথিবীব্যাপী নতুন বার্তা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে তৎকালীন শ্বেতবর্ণের মানুষদের আধিপত্যবাদী আচরণ ও বাধার কারণে হারলেম রেনেসাঁ খুব বেশি প্রচারণা পায়নি।

হারলেম রেনেসাঁকে বুঝতে হলে তৎকালীন ও পূর্ববর্তী সময়ে আমেরিকার কালো মানুষদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। কারণ, হুট করে তো হারলেম রেনেসাঁ শুরু হয়নি। এই রেনেসাঁ শুরুর কারণ বুঝতে হলে পেছনে ফিরে দেখতে হবে।

১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর মানবজাতির ইতিহাস বদলে দেওয়া একটা দিন বলা যেতে পারে। ওইদিন ভারতের মাটিতে পৌঁছেছেন মনে করে আমেরিকা মহাদেশের মাটিতে পা রাখেন নাবিক কলম্বাস ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা। এরপর থেকেই, ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের মতো ইউরোপীয়রা ছুটে আসতে শুরু করল সদ্য আবিষ্কৃত এই মহাদেশে। শুরু হয় স্থানীয় আদিবাসীদের সরিয়ে দিয়ে তাদের জমি দখল। ইউরোপে অভাব ছিল প্রচুর পরিমাণে আবাদযোগ্য জমির। তাই, বিপুল পরিমাণে ফাঁকা চাষের জমি পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেয়ে গেল তারা। ব্যাপক হারে বাড়লো কৃষিকাজ, পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার। অপরদিকে উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো বিশাল দুটি মহাদেশের হাজার হাজার মাইল জমিতে চাষ করার মতো জনবল তাদের ছিল না। সেই সমস্যা সমাধানে আফ্রিকা থেকে লাখ লাখ কালো মানুষ ধরে আনা হলো কৃষি জমিতে কাজ করানোর জন্য। আফ্রিকা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে আমেরিকায় দাস ধরে আনা হতো বলে ইতিহাসে তা পরিচিত ‘ট্রান্স আটলান্টিক স্লেভ ট্রেড’ হিসাবে।

On Board a Slave-ShipHarlem Renaissance
দাসদের পায়ে শিকল পরিয়ে দাসবাহী জাহাজের হোল্ডে পাঠানো হচ্ছে, আনুমানিক ১৮৮০ সালে শিল্পী জোসেফ সোয়াইন-এর করা উড এনগ্রেভিং
Image Sourse: Public Domain, https://commons.wikimedia.org/w/index.php?curid=92386081

মূলত দাস ব্যবসার কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চল যেটা বিস্তৃত ছিল সেনেগাল থেকে অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত। দাস ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো ছিল বেনিন, টোগো এবং নাইজেরিয়ার পশ্চিম উপকূলে। তাই এলাকাগুলো স্লেভকোস্ট বা দাসের উপকূল হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধবন্দী, অপরাধী, ঋণগ্রস্থ ও বিদ্রোহীদের স্থানীয় আফ্রিকানদের কাছ থেকে দাস হিসেবে কিনে নিত ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ীরা। অনেক সাধারণ মানুষকেও দাস ব্যবসায়ীরা অপহরণ করে দাস হিসেবে বেচে দিত। আনুমানিক ৪৫টি ছোট বড় জাতিগোষ্ঠী থেকে দাস ধরে আনা হতো।

দাসদের উপর চলমান অবর্ণনীয় অত্যাচার এখন আর কারো অজানা নয়। দাসেরা বিবেচিত হয়েছে প্রভুর সম্পত্তি হিসাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দাসপ্রথা চলে আসছে, তবে কোথাও এর অমানবিকতা আমেরিকান দাসপ্রথাকে অতিক্রম করতে পারেনি। আমেরিকান ভূমি মালিকদের কাছে দাসেরা ছিল কৃষি কাজের মাংসল যন্ত্র। তবে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে দাস ব্যবসার লাভ কমে যায়। তাই ঊনবিংশ শতক থেকে বিভিন্ন জায়গায় দাবি উঠতে থাকে দাস প্রথা বিলোপ করার।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ১৮০৭ সালে দাস প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে। তারপর একে একে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও বিলুপ্ত হতে থাকে দাস ব্যবসা। তবে অবৈধ দাস ব্যবসা বন্ধ হতে ১৮৬০ এর দশক পর্যন্ত সময় লাগে। কারণ আমেরিকার গৃহযুদ্ধ ও দাসপ্রথা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। ১৮৬১ সালে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার কিছুদিন পরই আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। মোটাদাগে বলা যায়, দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলমান বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল এই গৃহযুদ্ধ। লিংকনের সামনে তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা। ১৮৬৫ সালে লিংকনের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়। এরপর দক্ষিণাঞ্চলের আফ্রো-আমেরিকানরা রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে দাসপ্রথা থেকে মুক্তি পায় বটে তবে তা অনেকটাই কাগজপত্রে আটকে থাকা লিখিত সুন্দর মার্জিত নীতি-নৈতিকতার মতো। তবুও এই কাগুজে মুক্তি কৃষ্ণাঙ্গদের স্বপ্ন দেখায় শেতাঙ্গ আধিপত্যের বিপরীতে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমঅধিকার নামক সোনার হরিণ পাওয়ার।

এই পুনর্জাগরণকে আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এই পরিবর্তনের জাগরণের মনোজাগতিক ও দার্শনিক অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল বিশিষ্ট আফ্রো-আমেরকিান দার্শনিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ অ্যালাইন লকের (১৮৮৫-১৯৫৪) মাধ্যমে। যার কারণে লককে হারলেম রেনেসাঁর ‘ডিন’ বলা হয়

কিন্তু সে আশা মরুভূমিতে মরীচিকার মতো। আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ১৮৭০ দশকের শেষার্ধে সাদা মানুষের আধিপত্য আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সে সময় বর্ণ বৈষম্যকে ভিত্তি করে প্রণীত হওয়া “জিম ক্রো আইন” আফ্রো-আমেরিকানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করে। এই আইনের কারণে কালো মানুষেরা শিক্ষা, চাকরি, ভোটাধিকারের মত নানান নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। যারা “জিম ক্রো আইন” মানতে চায়নি তাদের প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার, জরিমানা, সহিংসতাসহ মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। সে সময় বেশকিছু শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পক্ষে প্রচারণা ও সহিংসতা শুরু করে। যার মধ্যে উগ্র ডানপন্থি সংগঠন কু ক্লাক্স ক্লান (কে কে কে) অন্যতম। যারা বিশুদ্ধ মার্কিনবাদের নামে আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানসহ ক্যাথলিক, ইহুদি, ল্যাটিন আমেরিকান, এশীয় আমেরিকান, সমকামী তথা সকলপ্রকার সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, হত্যা, গুম, ধর্ষণসহ বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগের মত নেক্কারজনক কর্মকাণ্ড শুরু করে।

দক্ষিণের এই অস্থিরতার মাঝে উত্তর ও মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিকাশ সকল নাগরিকের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করে। যার কারণে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ১৯১৫ সালের দিকে অসংখ্য কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ উন্নত ও সহনশীল জীবনের আশায় আমেরিকার উত্তর ও মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলের দিকে যাওয়া শুরু করে। লক্ষ লক্ষ মানুষের এই অবস্থান পরিবর্তনকে ‘গ্রেট মাইগ্রেশন’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, ডেট্রয়েট, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউইয়র্কে আশ্রয় নেয়। আনুমানিক তিন লক্ষের মতো কৃষ্ণাঙ্গ স্থানান্তরিত হয়। যার মধ্যে প্রায় একলক্ষ পঁচাত্তর হাজার কৃষ্ণাঙ্গ ম্যানহাটনের হারলেম অঞ্চলের মাত্র তিন বর্গকিলোমিটারে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ কালের দাসত্ব, শোষণ, বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্য নিপীড়িত সকল কালো মানুষের গন্তব্য হয়ে ওঠে হারলেম।

The Great Migration, Harlem Renaissance
১৯১৬ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত— গ্রেট মইগ্রেশনের সময়ে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা যে সমস্ত শহরে স্থানান্তরিত হয়েছে তার ম্যাপ
Image Sourse: Encyclopædia Britannica, Inc. (n.d.). The Great Migration [Image The Great Migration]. In Encyclopædia Britannica, Inc. (Ed.), Encyclopædia Britannica. Retrieved April 19, 2026, from https://www.britannica.com/event/Great-Migration#/media/1/973069/308048
এই মাইগ্রেশনে যেসকল প্রতিভাবান কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিবর্গ ও শিল্পী-সাহিত্যিকবৃন্দ হারলেমে আশ্রয় নেন, তারা সংঘবদ্ধভাবে নিজেদের সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে চর্চা শুরু করে। আমেরিকার ওয়াশিংটন, বাল্টিমোর, ফিলাডেলফিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অন্যান্য শহরে যে সকল বুদ্ধিজীবী, শিল্পী সাহিত্যিক ছিলেন তারাও শিল্প-সাহিত্য চর্চায় নিয়মিত হারলেমে আসতেন। কারণ— নিউইর্য়কের বৈচিত্র্যময় ও উদারপন্থী পরিবেশ। অর্থাৎ অন্যান্য শহরগুলোতে জাতিগত বৈষম্যের বিপরীতে নিউ ইয়র্কে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের জাতি, গোষ্ঠীর পারস্পরিক সহাবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। সাংস্কৃতিক চর্চার ভিন্ন ভিন্ন ধারার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমেরিকা কালচারাল প্লুরালিজমের ধারণার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। এই কালচারাল প্লুরালিজমের ধারণাটি ১৯১৫ সালের দিকে নিয়ে আসেন আমেরিকান দার্শনিক হোরেস ক্যালেন। এই ধারণার উপর ভিত্তি করে আমেরিকানরা চেয়েছিল বিশ্বব্যাপী ইউরোপীয় শিল্প-সাহিত্যের যে আধিপত্য তার বিপরীতে নিজস্ব আইডেন্টিটি দাঁড় করাতে। যে আইডেন্টিটি গঠিত হবে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের মাধ্যমে। যেখানে শুধুমাত্র একধরনের চিন্তা-চেতনা, মতাদর্শ গনহারে সকল জাতিগোষ্ঠির উপর চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। যদিও বাস্তবতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তবে এই সুযোগটি নিগ্রো আমেরিকানদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে উপস্থাপন ও নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে তোলে। যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হারলেম রেনেসাঁ।

তবে প্রথম দিকে হারলেম রেনেসাঁ আফ্রো-আমেরিকান সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল। অর্থাৎ যা ইউরোপিয়ান ও শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান শিল্পীদের দৃষ্টিতে দেখা ‘প্রিমিটিভিজম’, ‘মর্ডানিজম’ এবং ফ্রয়েডিয়ান মনস্তত্ব দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ লেখক, সাহিত্যিক, শিল্পীরা তাদের ফেলে আসা নিজস্ব স্মৃতি, সংগ্রাম, প্রাণ-প্রকৃতি, শিল্পকে যেভাবে অনুভব করেছে তা ‘ওভার সিভিলাইজড’ সমাজ থেকে উঠে আসা আমেরিকান লেখক, সাহিত্যিক শিল্পীদের থেকে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও নেটিভ। দৃশ্যশিল্পের ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান শিল্পীদের শিল্পকর্মে আফ্রিকান চিত্র, ভাস্কর্যের প্রভাব ১৯ শতকের শেষার্ধে ও ২০ শতকের শুরুর দিকে শিল্পকলার গতিপথ বদলে দেয়। এই বিষয়টি কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের প্রতি চলমান শোষণ, বঞ্চনা, হীনমন্যতার বিপরীতে নিজস্ব কৃষ্টি, কালচার, শিল্পকে নতুন ভাবে চর্চার অনুপ্রেরণা এবং নিজস্ব পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করার সাহস যোগায়। এই পুনর্জাগরণকে আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের শ্রেণি বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এই পরিবর্তনের জাগরণের মনোজাগতিক ও দার্শনিক অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল বিশিষ্ট আফ্রো-আমেরকিান দার্শনিক, লেখক ও শিক্ষাবিদ অ্যালাইন লকের (১৮৮৫-১৯৫৪) মাধ্যমে। যার কারণে লককে হারলেম রেনেসাঁর ‘ডিন’ বলা হয়। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের পুনর্জাগরণের এই সময়কে তিনি “Spiritual coming of age” বা আত্মিক জাগরণের সময় হিসেবে দেখেছেন। লকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ধারণা ‘নিউ নিগ্রো’, অর্থাৎ এমন আফ্রিকান-আমেরিকান যারা দীর্ঘ সময়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার বিপরীতে নীরব বা প্রতিক্রিয়াশীল নন বরং অনেক বেশি সচেতন, আত্মমর্যাদাশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে দৃঢ়। যার মাধ্যমে ব্ল্যাক আইডেন্টিটি গঠিত হচ্ছিল। লকের সম্পাদনায় ‘দ্যা নিউ নিগ্রো: এন ইন্টারপ্রিটেশন’ (১৯২৫) সংকলন গ্রন্থ ও আট খণ্ডের ‘ব্রোঞ্জ বুকলেট’ (১৯৩০) সিরিজটি বেশ সমাদৃত হয়। লকের লক্ষ ছিল স্বীকৃত ও দক্ষ লেখকদের মাধ্যমে আফ্রিকান-আমেরিকান জীবনের ইতিহাস, সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পাঠ্যক্রম করে সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং তা স্বল্প মূল্যে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

হারলেম রেনেসাঁয় আমেরিকার গৃহযুদ্ধপরবর্তী বেশকিছু আফ্রো-আমেরিকান বুদ্ধিজীবীর একক ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টা এবং প্রকাশনা বেশ উল্লেখযোগ্য। যেমন হারলেম রেনেসাঁর শিল্পীদের উপর উইলিয়াম এডওয়ার্ড বার্গহার্ট ডিউ বয়েসের ‘দ্যা সোলস অব ব্ল্যাক ফোক’ (১৯০৩) বইটির বেশ প্রভাব দেখা যায়। বইটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের জীবন ও জাতিগত সর্ম্পক বিষয়ক প্রবন্ধের একটি সংকলন। তাছাড়াও বিংশ শতাব্দির শুরুতে কৃষ্ণাঙ্গদের জাতিগত ঐতিহ্য ও সৃজনশীল প্রচেষ্টার ইতিহাস ও তথ্য প্রচারে দুইটি ম্যাগাজিন বেশ পরিচিতি পায়, যার একটি হলো ‘দ্যা ক্রাইসিস’ এবং অপরটি ‘দ্যা মেসেঞ্জার’। মার্কাস গার্ভে, একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব যিনি ইউনিভার্সাল নিগ্রো ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইউ এন আই এ) প্রতিষ্ঠা করেন। ইউ এন আই এ থেকে গার্ভে ‘নিগ্রো ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ব্ল্যাক স্টার লাইন’ শিরোনামে দুটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতেন। এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে আফ্রিকান ডায়াস্পোরা জুড়ে কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষমতায়ন, পারস্পরিক সংযোগ ও ঐক্য স্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। যার কারণে গার্ভে নিগৃহীত হয়েছেন বারবার এবং কারাভোগও করেছেন।

The Crisis Cover, Harlem Renaissance
দ্যা ক্রাইসিস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, ১৯১৪ সালের অক্টোবর সংখ্যাটি শিশুদের উৎসর্গ করা হয়
Image Sourse: Encyclopædia Britannica. (n.d.). The Crisis [Image The Crisis]. In Encyclopædia Britannica (Ed.), The New York Public Library. Retrieved April 19, 2026, from https://www.britannica.com/topic/The-Crisis-American-magazine#/media/1/143240/232714
কৃষ্ণাঙ্গদের এই পুনর্জাগরণে শিল্প সাহিত্যর ক্ষেত্রে নেতৃত্বে ছিলেন নিগ্রো আমেরিকান কবি-সাহিত্যিক ল্যাংস্টন হিউজ, কাউন্টি কালেন, চিত্রশিল্পী জ্যাকব লরেন্স, রোমারে বেয়ার্ডেন, জ্যাজ শিল্পী ও কম্পোজার ডিউক এলিংটন, সংগীত শিল্পী বেসি স্মিথের মতো ব্যক্তিত্ব।

তবে জোরা নিল হার্সটন, ডিউক এলিংটন এবং রেইনির মতো খ্যাতিমান ভাস্কর, চিত্রশিল্পী ও মুদ্রণশিল্পীরা হারলেম আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি নির্মাণ করেন। তাঁদের সৃজনশীল প্রচেষ্টা আধুনিক আফ্রোসেন্ট্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করে এবং দৃশ্যকলায় একটি স্বতন্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ আভঁ-গার্দ ধারার বিকাশ ঘটায়।

শিল্পী অ্যারন ডগলাস (১৮৯৯-১৯৭৯), যাকে আফ্রো-আমেরিকান শিল্পের জনক বলা হয়। শুরুর দিকে তিনি প্রথাগত ল্যান্ডস্কেপ আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিতি পেলেও, পরবর্তীতে কিউবিজম ও আর্ট ডেকো দ্বারা প্রভাবিত হন। তাঁর কাজে সমসাময়িক ছাপচিত্রের উজ্জ্বল রং ও জ্যামিতিক ফর্মের মাধ্যমে ‘নিগ্রো’ বিষয়বস্তুকে উপস্থাপনের নিজস্বতা দেখা যায়। চিত্রপটে ব্যবহৃত দ্বিমাত্রিক সিলুয়েট ফিগারের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের যে গভীর আবেগ ও আত্মপরিচয় উঠে আসে তা হারলেম রেনেসাঁর প্রতীক হয়ে ওঠে। এই সময়টায় অ্যারন ডগলাস ও অন্যান্য কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীরা পশ্চিম আফ্রিকার বেনিন, কঙ্গো, সেনেগালের ভাস্কর্য ও মুখোশকে নিজেদের শিল্পকর্মে সিম্বলিক বা রূপক হিসেবে ব্যবহার করেন। যার মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের সাথে তাদের আফ্রিকান ঐতিহ্যের আত্মিক সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯২২ সালে মিশরে তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের কারণে বিশ্বব্যাপী মিশরীয় রিলিফ ভাস্কর্য ও দ্বিমাত্রিক চিত্রকলার যে প্রভাব তা হারলেম রেনেসাঁর শিল্পীদের কাজেও লক্ষণীয়।

বিশিষ্ট লেখক জেমস ওয়েলডন জনসনের বই ‘গডস ট্রেম্বোনস’ (১৯২৭)-এর অলংকরণে অ্যারন ডগলাস এক ভিন্ন উপস্থাপনা নিয়ে আসেন। খ্রিস্টান ধর্মীয় চিত্রে প্রচলিত যে শ্বেতাঙ্গ উপস্থাপনা সেখানে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখান। যিশুর কষ্টের সাথে কালো মানুষদের কষ্টকর জীবনের মিল তুলে ধরেন।

The Crucifixion, Harlem Renaissance
ক্রুশবিদ্ধকরণ, জেমস ওয়েলডন জনসনের বই ‘গডস ট্রেম্বোনস’(১৯২৭)-এ শিল্পী অ্যারন ডগলাসের করা অলংকরণ
Image Sourse: Douglas, A., & The Viking Press, New York. (1927b). The crucifixion, Page 38 [Illustration]. In J. W. Johnson (Ed.), Documenting the American South (DocSouth). Retrieved April 19, 2026 from https://docsouth.unc.edu/southlit/johnson/johnson.html
১৯৩০-এর দশকে ডগলাস অনেক বেশি আফ্রিকান-আমেরিকানদের ইতিহাস ও বাস্তবতাকে চিত্রকর্মে তুলে ধরেন। এই সময়ে তার কাজে কিছুটা মার্কসবাদী চিন্তার প্রভাব দেখা যায়। তার কিছু উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে— আসপেক্টস অব নিগ্রো লাইফ: ফ্রম সে­ভারি টু রিকনস্ট্রাকশন (১৯৩৪), ইনটু বন্ডেজ (১৯৩৬), দ্যা নিগ্রো ইন আফ্রিকান সেটিং (১৯৩৪)।

The Negro in an African Setting, Harlem Renaissance
দ্যা নিগ্রো ইন আফ্রিকান সেটিং (১৯৩৪), শিল্পী অ্যারন ডগলাস, গোয়াশ, ১৮২.৯/১৯৯.৪ সে.মি.
Image Sourse: Schomburg Center for Research in Black Culture, Art and Artifacts Division, The New York Public Library. (1934). Aspects of Negro Life: The Negro in an African Setting, Retrieved April 19, 2026 from https://digitalcollections.nypl.org/items/23d77020-c6f4-012f-e359-58d385a7bc34

এই সময় দুজন ছাপচিত্র শিল্পী বেশ উলে­খযোগ্য— জেমস লেসেন ওয়েলস (১৯০২-১৯৯৩) এবং হেল উডরাফ (১৯০০-১৯৮০)। এ দুজন শিল্পী আফ্রিকান ও ইউরোপীয় ধারার সংমিশ্রণের মাধ্যমে সরল কিন্তু শক্তিশালী শিল্পভাষা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে হেল উডরাফের দ্য কার্ড প্লেয়ার্স (১৯৩০) শিরোনামের ক্যানভাসে তেল রঙে আঁকা চিত্রকর্মটি উল্লেখ করা যেতে পারে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আফ্রিকান ভাস্কর্যের মতো করে ফিগারেটিভ কম্পোজিশন করা হয়েছে। ছবির কেন্দ্রে দুজন পুরুষ ফিগার দেখা যায়, যাদের মুখ আফ্রিকান মুখোশের মতো এবং তারা একটি ঘরের ভেতরে বসে তাস খেলছে। রঙের প্রয়োগে একটি বিমর্ষ আবহ গড়ে উঠেছে।

The Card Players by Hale Woodruff, Harlem Renaissance-
দ্যা কার্ড প্লে­য়ার্স (১৯৩০), শিল্পী হেল উডরাফ, ক্যানভাসে তেল রং, ৫৯.৭/৭৪.৬ সে.মি.
Image Sourse: The Metropoliton Museum of Art, New York, George A. Hearn Fund, 2015, 2015.223, Artwork © 2026 Estate of Hale Woodruff / Licensed by VAGA at Artists Rights Society (ARS), NY, Retrieved April 19, 2026 from https://www.metmuseum.org/art/collection/search/675873

১৯২০-এর দশকের শেষ দিকে এবং ১৯৩০-এর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের বেশ উৎসাহিত করে। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য চিত্রশিল্পী পামার সি. হেডেন, যিনি কৃষ্ণাঙ্গ লোকজ সংস্কৃতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন তুলে এনেছেন তার চিত্রকর্মে। অপরদিকে শিল্পী আর্চিবাল্ড জন মোটলি, যিনি প্রথম শহুরে কৃষ্ণাঙ্গ সামাজিক জীবন এবং পরিশীলিত “নিউ নিগ্রো”-দের বাস্তবধর্মী প্রতিকৃতির জন্য পরিচিত।

ভাস্কর রিচমন্ড বার্থে (১৯০১-১৯৮৯), যিনি বাস্তবধর্মী ভাস্কর্য নির্মাণ করতেন। তার নির্মিত ভাস্কর্যে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রতিকৃতি এমনভাবে উপস্থাপিত হতো যা অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং ক্লাসিক্যাল। যদিও রিচমন্ড বার্থে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ অবয়ব নির্মাণেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। হারলেম রেনেসাঁর আগে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বিষয়বস্তু করে খুব একটা ভাস্কর্য নির্মিত হয়নি। এই সময়ে দুজন নারী ভাস্কর বেশ উলে­খযোগ্য— মেটা ভক্স ওয়ারিক ফুলার (১৮৭৭-১৯৬৮) ও অগাস্টা স্যাভেজ (১৮৯২-১৯৬২)। ফুলার তার ভাস্কর্যে হারলেম রেনেসাঁর ভাবধারাকে নিয়ে এসেছেন ফিগারেটিভ মেটাফোরের মাধ্যমে। যেখানে তৎকালীন আমেরিকায় কালো মানুষের জাতিগত আভিজ্ঞতা ও সমাজিক সমস্যা বিষয় হয়ে ওঠে।

Portrait of a Boy, Harlem Renaissance
পোর্টেট অব এ বয় (১৯৩০), ভাস্কর রিচমন্ড বার্থে, পেইন্টেড প্লাস্টার, ১৬/১৪.৩/১২.৭ সে.মি. (বেস সহ)
Image Sourse: National Gallery of Art, Corcoran Collection (The Evans-Tibbs Collection, Gift of Thurlow Evans Tibbs, Jr.), 2014.136.295, Retrieved April 19, 2026 from https://www.nga.gov/artworks/178265-head-boy

আলোকচিত্রী জেমস ভ্যান ডার জি (১৮৮৬-১৯৮৩), যার ফটোগ্রাফির মাধ্যমে হারলেমে আফ্রো আমেরিকানদের জীবনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে। তার স্টুডিওতে সাজানো পরিবেশে আফ্রো-আমেরিকান পরিবারের ছবি কিংবা হারলেমের জনজীবন, রেস্তোরাঁ, ক্যাবারে, গীর্জার অসংখ্য ছবি সে সময়কার একটি বেড়ে ওঠা, বৈচিত্র্যময় এবং প্রাণবন্ত কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের জীবনকে তুলে ধরে।

Garveyite Family, Harlem Renaissance
Garveyite Family, Harlem, (ফটোগ্রাফ ১৯১৪, প্রিন্ট ১৯৭৪), আলোকচিত্রশিল্পী: জেমস ভ্যান ডার জি, সাদা-কালো প্রিন্ট, ২৪.৪/১৯.৯ সে.মি.
Image Sourse: Eighteen Photographs, The Metropoliton Museum of Art, New York, Corcoran Collection (Gift of Eric R. Fox), 2015.19.4388, © James Van Der Zee Archive, The Metropolitan Museum of Art, Retrieved April 19, 2026 from https://www.nga.gov/artworks/198268-garveyite-family-harlem

১৯২৯ সালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’-এর সময়ে অমেরিকায় অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত হয়ে যায়, ফলে সেই সময়ের শিল্পচর্চার গতি কিছুটা কমে যায়। তবে নিজস্ব ভিত্তি গড়ে ওঠায় হারলেম রেনেসাঁ এই সময়ও নিজস্বতা নিয়ে টিকে থাকে। বিশেষ করে অনেক কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিনের ওয়ার্কার্স প্রোগ্রেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ফেডারেল আর্ট প্রজেক্টে (১৯৩৫-১৯৪৩) কাজের সুযোগ পান। ফেডারেল আর্ট প্রজেক্টের কারণে নিউইর্য়কে ১৯৩৭ সালে ‘হারলেম কমিউনিটি আর্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন শিল্পীরা পেশাদার শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ওয়ার্কশপে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ পেতেন। হারলেম কমিউনিটি আর্ট সেন্টারের পরিচালক ছিলেন নারী ভাস্কর অগাস্টা স্যাভেজ। স্যাভেজের সাংগঠনিক দক্ষতায় এই কেন্দ্রটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে যা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যার ধারাবাহিকতায় হারলেম রেনেসাঁ নতুন নতুন শিল্প আন্দোলনগুলোকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকে। ফলে ব্ল্যাক আর্টস মুভমেন্টের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

পরিশেষে ১৯২৫ সালের দ্যা ন্যাশন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘দ্যা নিগ্রো আর্টিস্ট এন্ড রেশিয়াল মাউন্টেন’ প্রবন্ধে বিশিষ্ট কবি, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার ল্যাংস্টন হিউজ-এর একটি উক্তি বেশ প্রাসঙ্গিক—

“বর্তমান সময়ে আমরা কৃষ্ণাঙ্গ তরুণেরা যেকোনো লজ্জা বা ভয় ছাড়াই নিজস্ব সত্তাকে প্রকাশ করতে চাই। এতে যদি শ্বেতাঙ্গরা খুশি হয় তাতে আমরা আনন্দিত, আর না হলেও আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা জানি আমরা সুন্দর এবং কুৎসিতও।”

 

তথ্যসূত্র:

  1. Cohen, J. I. (2020). The “Black art” renaissance African sculpture and modernism across continents. Oakland, California University Of California Press.
  2.  A New African American Identity: The Harlem Renaissance. (2014, July 31). National Museum of African American History & Culture; Smithsonian. https://nmaahc.si.edu/explore/stories/new-african-american-identity-harlem-renaissance
  3. National Gallery of Art. (2015). Harlem Renaissance | National Gallery of Art. National Gallery of Art. https://www.nga.gov/educational-resources/uncovering-america/harlem-renaissance
  4. Hutchinson, G. (2018). Harlem Renaissance – Visual art. In Encyclopædia Britannica. https://www.britannica.com/event/Harlem-Renaissance-American-literature-and-art/Visual-art
  5. Khan Academy. (2023). Khanacademy.org. https://www.khanacademy.org/humanities/us-history/rise-to-world-power/x71a94f19:culture-in-the-1920s/a/the-harlem-renaissance
  6. The Meta Vaux Warrick Fuller Collection – Danforth. (n.d.). Danforth.framingham.edu. https://danforth.framingham.edu/exhibition/meta-fuller/
  7. Barta. (2026). দাসপ্রথার বিস্তার ও বিলোপের ইতিহাস. Barta 24. https://barta24.com/details/feature/50650

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত