১৭ মে ২০২৬
অনন্তলীন ইচক দুয়েন্দে
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
সৈয়দ তারিক
কবি, ভাবুক
103

সৈয়দ তারিক
কবি, ভাবুক

103

অনন্তলীন ইচক দুয়েন্দে

নিচের লেখাটি আট বছর আগের।
লোকান্তরিত হলেন তিনি।
আদিউ, কচি ভাই।

ইচক দুয়েন্দে, সৈয়দ তারিক ও শফিক আজিজ
মহান ইচক অর্থাৎ সাহিত্যিক শামসুল কবীর। যার অপরূপকথা টিয়াদুর ধীর লয়ে কিন্তু গভীরভাবে বাংলা সাহিত্যে অবস্থান নিশ্চিত করছে ক্রমে ক্রমে। আর আছেন কবি শফিক আজিজ। ১৮ জুন ’১৮—রাজশাহী

মহান ইচক।
এই নামেই আমাদের কবি-লেখক বন্ধুদের মাঝে তার পরিব্যাপ্তি।
কথাশিল্পী।
কথকও।
পুরো নাম শামসুল কবীর।
শুধু কবীর নামে লেখেন।
(পরে ইচক দুয়েন্দে নামে লিখেছেন।)
ডাকনাম কচি।
ওটাই উল্টোরথে ইচক
এইরকম উল্টো রথযাত্রায় নামকরণ তার রচনায় বহুল।
সেইসব নাম এক অদ্ভুত ও অচেনা জগতের ব্যঞ্জনা জাগায়।
আমার নামকরণ করেছিলেন দৈয়স কাতির
একবার কাতির নামে একটি বেয়ারার চেকও দিয়েছিলেন ব্যাংকের।
তার নির্মিত একটি কল্পলোক আছে: সুসান জিফ্রো।
তার পেঁচক সাম্রাজ্যের দার্শনিক হলেন অসীম কুমার দাস, রাজা হলেন অপি, যুবরাজ হলেন সবুতর মানে সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ।
লিটল ম্যাগাজিন প্যাঁচা ও একই নামের প্রকাশনালয়ের অধিকর্তা।

আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে শাহবাগে আবির্ভূত হন তিনি।
কিছু মানুষের আকর্ষণীয় ও সাংগঠনিক প্রতিভা থাকে, নিজের চারপাশে মানুষ জড়ো করতে পারেন তারা।
তিনিও ছিলেন তেমন।
তার রচনায় যেমন জাদুমদির আখ্যান পাওয়া যায়, তার অবয়ব, বচন ও কর্মকাণ্ডেও তেমনি সম্মোহক কিছু ব্যাপার ছিল।
পিজি হাসপাতালের প্রাঙ্গণে প্রতি সন্ধ্যায় আশি ও নব্বইয়ের তরুণ কবি-লেখক-সহযোগীদের সমাবেশ ঘটত।
যৌগিক ধূম্রের সহযোগ থাকত।
তুমুল আড্ডা চলত।
গলা ছেড়ে গান ধরতেন ইচক।
সেটা সুরেলা না বেসুরো তা নির্ণয়ের সাধ্য আমাদের ছিল না।
রবীন্দ্রসঙ্গীতই গাইতেন প্রধানত।
নিরীক্ষামূলক বলা যেতে পারে।
কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত।
দীর্ঘদিন ছিলেন ফকিরাপুলের হোটেল গ্রিন লিফে।
সেটাও একটা রঁদেভু ছিল আমাদের।
কেউ-কেউ কোনো কাজে, আড্ডা দিতে বা চৈতন্যপ্রবাহী বস্তু গ্রহণের নিমিত্তে যেতাম সেখানে।
একবার তার পাশের হোটেল ভাড়া নিয়েছিলাম আমি ঘুমের বড়ি খেয়ে আত্মহননের কুটিল অভিপ্রায়ে।
উদ্দেশ্যটি সফল হয় নাই।
ভোর বেলায় তার হোটেলে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম।
আর একবার তার হোটেলকক্ষে শিরায় পেথিডিন নিয়ে অতল ঘুমে ঢলে পড়েছিলাম।
কেউ-কেউ ভাবছিলেন আমি মরে যাচ্ছি বুঝি-বা।

পরে হোটেল ছেড়ে তিনি মালিবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নেন।
সেটাও একটা আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে।
তাকে নিয়ে নানা জনের নানা অভিজ্ঞতা ও কাহিনি আছে।
সেইসব সংগ্রথিত হলে মজার এক সমাবেশ হয়।
কিন্তু তার চেয়ে জরুরি তার রচনাসকল একত্রে প্রকাশ।
তিনি আমাদের সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ কথাকার।
অনেক কাল হলো ঢাকা ছেড়ে নিজভূমি রাজশাহীতে বসবাস করছেন।
অসুখ ইত্যাদিতে ভুগেছেন, ভুগছেন।
তার সেই গোলগাল নাদুস-নুদুস অবয়বের স্মৃতি সম্বল করে যারা আছেন, তাকে হঠাৎ দেখলে চমকে যাবেন।
গত গ্রীষ্মে রাজশাহীতে গিয়েছিলাম।
তার সাথে দেখা করাটা আবশ্যিকতার তালিকায় ছিল।
আমি যাব জেনে তিনি বাজারে গিয়ে লিচু কিনে এনে রেখেছিলেন।
কবি শফিক আজিজ ও জান্নাতুল ফেরদৌসকে নিয়ে তার গৃহে গিয়েছিলাম।
কিছু সময় আড্ডা দিয়েছিলাম।
আবার কবে দেখা হবে কি হবে না জানি না।
ভালো থাকুন, মহান ইচক।

১০ ডিসেম্বর ’১৮

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত