২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Bharay Chalito-Play by Romel Rahman-Meghchil
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
রোমেল রহমান
কবি ও গল্পকার
136

রোমেল রহমান
কবি ও গল্পকার

136

ভাড়ায় চালিত

কুশীলব
~
ড্রাইভার
না
বল্টু
লোক

ফাঁদ পেতেছি এমন করে
আটকে গেছে সব,
যাচ্ছে না তাই হচ্ছে তুমুল
চলছে পুরো ঢপ;
সত্য দিয়ে মিথ্যে দিয়ে
মাখিয়ে ঝালমুড়ি
কথার আগে খই ফুটে যায়
বয়স উনিশ কুঁড়ি!
খোলস খুলে সাঁতার দিয়ে
সেজেছি পায়রা
বাঘের ঘরে বিড়াল দেখি
মুকুটে টায়রা।
কে যে বলি কে যে পাঁঠা
কে যে ভয়ঙ্কর
কার জালে কে ইলিশ হবে
ফাঁদের শুভঙ্কর।

[ছড়া নৃত্যের পর, ড্রাইভার প্রবেশ করে সঙ্গে দুজন মানুষ! ড্রাইভার ফেরিওয়ালার মতন করে আহ্বান করে যায়!]

ড্রাইভার: লাগবে ভাড়ায় মান উ ষ…! ভাঙ্গাচোরা… লুটপাট… গিরেগাট্টা খোলা… মব সন্ত্রাস… ভালো ভালো দঙ্গলবাজ আছেএএএএ…। জুয়ান আধাজুয়ান শক্তিমান ফর্সা কালা মাসেলওয়ালা মানুষ! ভাড়ায় নিতে পারেন, চুক্তিতে রাখতে পারেন… হাঁটুর বাটি খুলে হাতে ধরায় দেওয়া, বুকের পাঁজর খুব্লে কলিজা দিয়ে লায়লাপ্পা খেলা… বত্রিশপাটি দুই থাপ্পড়ে ফেলা জুয়ান জুয়ান টাইট টাইট মাসেলওয়ালা মানুষ আছে! লাগবে মানুষ…?

নাট: বস, আইজকে দিন কি খারাপ? একটা ডাক নেই?
বল্টু: সকাল থ্যে ডাকতি ডাকতি জবান শুকোয় গেলো, কিন্তু একটা কাস্টমার নেই।
ড্রাইভার: রোজ রোজ তো আর ঈদ লাগে না! ঈদ যেদিন লাগে সেদিন বচ্ছরের সেলামি একবারে তুইলে নিতি হয়।
বল্টু: বুঝলাম না বস!
নাট: আমি কিন্তু বুঝতি পারিছি! বছ বলতিছে ঈদের দিন কোরমা পুলাউ মাংস রোষ্ট সেমাই জর্দা দই-ফই সব জম্মের খাওয়া খাইয়ে কাইত হয়ে যাতি হয়!
ড্রাইভার: এই জন্যেই তোমারে আমার বেশি পছন্দ! কেন জানো?
নাট: কেন বছ?
ড্রাইভার: তুমি বেশির চাইয়ে বেশি বোঝো! মানে আমি যা বলি নাই তুমি সেইটেও বোঝো! মার্হাবা! তোমাগের মতন বুঝমান ছেলেপেলে আছে বলেই আমরা চাইরটে কইরে টইরে খাই!
বল্টু: কোন চিন্তা নাই বছ, আপনি খালি ডাক দেবেন, আমরা যাবো ঘচাঘচ!
ড্রাইভার: শান্তি শান্তি শান্তি! বেশি উত্তেজনা নিও না! পকেটে পয়সা আছে ৫০ টাকা মাত্র! এই দিয়ে দুপুরের খাবার খাতি হবে! এখন কল্পনা করো তিনটি প্রাণির পেটের সাইজ সমান ৫০ টাকা! ফলাফল কী?
বল্টু: বছ, বাদাম!
নাট: উহু! মুড়ি!
বল্টু: গাজর?
নাট: পুরি কিনে ফেলেন তাই খেয়ে পানি!
ড্রাইভার: উহু! ধরো সেই টাকা হারায় গেলো! তখন? তিনজন ক্ষুধার্ত মানুষ সমান হারায় যাওয়া ৫০টাকা!
বল্টু: পকেট মারা? ধরেন বাজারের ভিড়ে মিশে গিয়ে আমরা পকেট মালাম?
ড্রাইভার: সে বিদ্যা তো আমাদের জানা নাই!
নাট: সব থেকে সস্তা বুদ্ধি বছ, রাস্তায় গিয়া করুণ মুখ করে বলব, ভাই আমার বাড়ি দক্ষিণে, এদিকে আইলাম, পকেট মারিং হয়ে সব গেছে! এখন বাড়ি যাতি পারতিছি না, যদি ৫০ টাকা দেতেন…!
বল্টু: খয়রাত?
নাট: বিপদে পড়লি সব থেকে সস্তায় বিনা পুঁজির বাণিজ্য পথ!
ড্রাইভার: উঁহু! হাতপা যদ্দিন তাজা আছে তদ্দিন খয়রাতের লাইনে যাওয়া যাবে না! বজ্জাদ হলিও সোসাইটিতে আমাগের একটা ইজ্জত আছে না?
বল্টু: সোসাইটি? সেডা কোনডা বছ?
ড্রাইভার: আরে সমাজ! এই চারপাশের লোকজন! শহরের লোকজনের কাছে আমাগের একটা ইজ্জত আছে না?
নাট: পেটে ভাত না থাক্লি ইজ্জতের খিলি পান দিয়ে করবেন কি বছ?
ড্রাইভার: আচ্ছা বুঝলাম! তোমাগে দিয়ে পিছেলিও আগাবে না খুব একটা! তারচেয়ে একটা কাজ করো, এই পঞ্চাশ টাকা একজন ভিখেরিরে দিয়ে ভার মুক্ত হয়ে যাই, তারপর খাবারের ব্যবস্থা কিভাবে করতি হয় সেডা বের হয়ে যাবেনে!
নাট: দেন আমারে।

[৫০ টাকা নাট হাতে দেয়। নাট সেটা পকেটে রাখে]
ড্রাইভার: এডা কি হলো?
নাট: আপনি খয়রাত দেলেন, আমি ভিক্ষুক হিসেবে নিলাম!
বল্টু: তালি তো আমিও ২৫ টাকা পাই! মানে তোর আর আমার সামাজিক ইস্টাটাস তো এক!

আমাগের শ্রমটা হচ্ছে, সমাজের ভার মুক্ত করা! মানে ধরেন আপনি একটা জায়গা দখল করবেন! তো সে ক্ষেত্রে আমি লোক ভাড়া দিতি পারি! সে যাইয়ে দখল নেবে!

[একজন লোক ঢুকে জিজ্ঞেস করে]
লোক: এই যে আপনারা মেথর?
বল্টু: কি বললেন?
লোক: যারা সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করে!
নাট: ওয়াক থু! কি সব হাবিজাবি বলেন? সোসাইটিতে আমাগের অবস্থান জানেন?
লোক: কেন বুদ্ধিজীবী নাকি?
ড্রাইভার: গালি দেবেন্না… ভাই, গালি দেবেন্না! আমি বুঝোয় বলতিছি! আমরা হলাম ভাড়া খাটি, মানে লোকজন আমাগের ভাড়া করে!
লোক: কি জন্য বলুন তো? শ্রমিক?
ড্রাইভার: তা বলতি পারেন! আগামি বচ্ছর মে দিবসে আমরা একটা প্রোগ্রাম থ্রো করবো ঠিক করিছি! কিন্তু আমাগের শ্রমটা হচ্ছে, সমাজের ভার মুক্ত করা! মানে ধরেন আপনি একটা জায়গা দখল করবেন! তো সে ক্ষেত্রে আমি লোক ভাড়া দিতি পারি! সে যাইয়ে দখল নেবে! দরকার হলি ঘর তুইলে থাকপে! চুক্তি হবে হাতাহাতি হলি কত, আর যদি খুনখুনি হয় তাতে কত! আবার খুন করতি, মব দিতি ভাড়া নিতি পারেন আলাদা আলাদা!
লোক: ওয়াহ! কী সুন্দর! কী সুন্দর! এরকম একদল লোকই আমার চাই!
নাট: আপনি না মেথর খুঁজতিছিলেন?
লোক: সেটাও দরকার, তবে আপাতত আপনাদেরকে চাই!
ড্রাইভার: শিকার
নাট: পাইছি শিকার…
বল্টু: তাজা শিকার…
ড্রাইভার: বলেন্না কি করতি হবে?
লোক: ডাকাতি!
ড্রাইভার: অহ! বুঝছি, যদিও এই বিষয়ে আমাদের সরাসরি দক্ষতা নাই! তবে হয়ে যাবে! ধরেন হাঁটিতে শেখে না শিশু না খেয়ে আছাড়! মানে আপনার কেস দিয়েই ডাকাতি শুরু হোক! তা কার বাসায় ডাকাতি করতি হবে?
লোক: আমার নিজের বাসায়!
নাট: মানে?
বল্টু: পাগল নাকি?
ড্রাইভার: আপনার বউ বাচ্চা নাই?
লোক: বাচ্চা হবার কাজই তো হচ্ছে না!
বল্টু: মানে কী?
লোক: ওসব পরে হবে! আগে বলেন, রাজি কিনা?
ড্রাইভার: বলেন কী? রাজি মানে কী? প্রয়োজনে কাজি ডাকেন! চলেন একটা হোটেলে যাইয়ে বসি। ভাত খাওয়ান আমাদের তিনজনরে। খাতি খাতি বিস্তারিত শুনি! বিলটা কিন্তু আপনি দেবেন!
লোক: মানে কী?
নাট: মানেফানে পরে, লাগ্লি আপনার কাজ শেষে খবারের দাম কাইটে নিয়েন পেমেন্ট থে! আপাতত চলেন!
ড্রাইভার: চলেন্না! কনসেশন দিবানি!
বল্টু: নরম হাতে ডাকাতি করবো স্যার চোখ ছুঁইয়ে কচ্ছি!
লোক: তাইলে আমার বাড়িতেই চলেন। প্রচুর ভাত আছে! কাজটাও সেরে ফেলা যাবে নগদে!
ড্রাইভার: ওরে আল্লারে! তুমি এ কি দিলে! এতো তো আশা করি নি!
বল্টু: তা স্যার ডাকাতিডা করতি হবে কোথায়?
লোক: বললাম তো আমার বাসায়!
নাট: ভাবি কিছু মনে করবে না তো?
লোক: তাকেই তো ঘায়েল করতে হবে!
ড্রাইভার: বুঝিছি! সম্পত্তি কেস নালি পরকীয়া! তাই না? মাইরে এক্কেবারে ফ্যানের সাথে ঝুলোয় দেবো!
লোক: না না খবরদার! ওকে মারা যাবে না! আমাকে কয়েকটা ঘুসিফুসি দিয়ে… টাকা পয়সা যা পাবেন সব লুটে নেবেন!
নাট: বুঝিছি স্যার! আর বলা লাগবে না! ঢুইকেই আপনারে বাইন্ধে কয়েকটা ঘুষি দিয়ে অজ্ঞান কইরে ফেলায়ে ভাবিরে বালিসচাপা দিয়ে মাইরে দেবো! ক্লিয়ার?
লোক: সর্বনাশ! না।
ড্রাইভার: তালি কী? নালি সম্পদ আপনার হবে না তো?
লোক: আরে ধুরো, সম্পদ দিয়ে আমি করবো কী? একি আমার শ্বশুরের টাকা-পয়সা? না আমি লোভী?
বল্টু: ফেরেশতা আপনি না স্যার! তবে মানুষ হলিউ মানুষ না! মানে গেঞ্জাম আছে!
লোক: মানে কী?
নাট: সাধু মানুষ কি নিজের বাড়ি ডাকাতি করায়?
লোক: সেটাই তো বলতে চাচ্ছি!
ড্রাইভার: ও বলা লাগবে না, ঘরে ঢুইকে গামছা দিয়ে বাইন্ধে বাথরুমে আটকায় থোবো! ভাবিরে কয়ডা চড়-থাপ্পড় আর আপনারে কয়ডা ঘুষি? এই তো? লুটের মালপত্র আমাগের আর টোটাল সার্ভিস চার্জ দেড় লাখ নগদে দেবেন!
লোক: মানে কী?
ড্রাইভার: আচ্ছা ৫০ হাজার এডভান্স দেন। বাকি এক লাখ কাজের পর! তবে ফ্লাট নাম্বার আর ডিরেকশনটা ঠিকঠাক মতন দেবেন! খুব ভালো হয় ভাবির একটা ছবি দিলি, রিসেন্ট ছবি! নালি ভুলভাল ছবি হলি উনার ট্রিটমেন্ট অন্য কারো উপর চালায় দিলে মুশকিল!
নাট: হে হে হে! বোঝলেন স্যার, কয়দিন আগে একটা পরকীয়া কেসে মহিলারে তুলে আনার খেলা দেখাতে যাইয়ে ক্লায়েন্টের অরিজিনাল বউকে মুখবেন্ধে তুলে এনে একটা ব্যারাছ্যারা ব্যাপার ঘটায় ফেলিছিলাম!
লোক: বলেন কী? যমজ বোন ছিলো না-কি?
ড্রাইভার: তা তো ভাবিনি স্যার! তবে আপনার কেসে কোন ভুলভাল হবে না!
লোক: চলুন না আমার বাসায়, একটু রেকি করে আসবেন? আমার স্ত্রীর সঙ্গেও পরিচয় হবে! মুল শয়তানটাকেও দেখে নেবেন!
বল্টু: অ… আপনারও একই কেস?
লোক: একই কেস মানে?

কয়দিন আগে একটা পরকীয়া কেসে মহিলারে তুলে আনার খেলা দেখাতে যাইয়ে ক্লায়েন্টের অরিজিনাল বউকে মুখবেন্ধে তুলে এনে একটা ব্যারাছ্যারা ব্যাপার ঘটায় ফেলিছিলাম!

ড্রাইভার: স্যার আপনি খুলে বলুন তো?
লোক: আরে বিড়াল! আমার বউ বিড়াল পালে, বিড়ালকে আমার থেকেও বেশি ভালোবাসে, রাতে ওকে নিয়ে ঘুমায়, সারাদিন ওদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তো আমি চাচ্ছি ডাকাতির ছলে আমাদের বেন্ধে রেখে আপনারা কিছু টাকাপয়সা আর বিড়ালটা নিয়ে ভেগে যাবেন!
নাট: বিড়াল ডাকাতি?
বল্টু: বাপের জামানায় শুনিনি!
ড্রাইভার: এতোক্ষণে আসল কথা বোঝা গেলো! এখন তো ব্যাপারটা আরও ফকফকা! মানে হাল্কা একটু ক্লোরোফোম কাপড়ে মাখিয়ে আপনাকে আর ভাবিকে বেহুঁশ করে তারপর বিড়ালটারে বেহুঁশ করে আমরা লুটপাট করে বেরোয়ে আসবো!
লোক: বিড়ালটা আনবে কে?
নাট: বিলাই নিয়া আমরা করবো কী স্যার?
লোক: তাহলে বেহুঁশ করে লাভ কী?
ড্রাইভার: আচ্ছা আচ্ছা বিলাই নিয়াসবো, তাতে ২০ হাজার বেশি দিতে হবে!
লোক: রাজি! কিন্তু আজই ঘটনা ঘটাতে হবে! আসুন্না ভাত খাবেন ক’টা!
ড্রাইভার: এডভান্সটা কি দেবেন স্যার? ৫০ হাজার!
লোক: দেবো, তবে বায়না বাবদ ২০ হাজার!
ড্রাইভার: তাইলে নিয়াসেন। বাসায় আর এই মূহুর্তে না যাই! চারদিকে সিসিটিভি। কোনটায় ঘের খেয়ে যাই!
লোক: তা ঠিক! আপনারা তাহলে দাঁড়ান। আমি টাকাটা নিয়াসি!

[কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে ফিরে এসে কাচুমাচু স্বরে বলে]
লোক: আচ্ছা আপনাদের খারাপ লাগছে না তো? এরকম একটা জঘন্য কাজের জন্য বায়না করছি আপনাদের!
বল্টু: না না স্যার। এর চেয়ে জঘন্য কাজ আমরা নিয়মিত করি! আপনি টাকাটা নিয়াসেন!

[লোকটা চলে যাবার পর]
নাট: বছ, এ লোক কি আঁতেল না-কি?
ড্রাইভার: নিগৃহীত পুরুষ! প্রতিপক্ষ বিলাই! ছি ছি!
বল্টু: এ-তো সহজে রাজি হয়ে গেলো! কোন ঘাপলা নাই তো?
ড্রাইভার: পকেটে নাই পয়সা-কড়ি, বসে বসে ঘাপলা ধরি?
বল্টু: ছরি বছ!

[লোকটা আবার ফিরে আসে]
লোক: ভাই প্লিজ আপনারা চলুন বাসায়। আমার স্ত্রী যখন শুনলো একদল লোক ভাতের জন্য ঘুরঘুর করছে সে আমাকে পাঠায় দিলো!
নাট: বছ চলেন তো, নগদে খাইয়ে দাইয়ে কাজ সাইরে আসি! এতো প্যাঁচাপেঁচি ভাল্লাগে না।
ড্রাইভার: তুই কি কইস?
বল্টু: চলেন। কাজ না হোক অন্তত পেটের চালানডা তো মাইরে আসি!

[তারা তিনজন লোকটার সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে একটা বাঘ মঞ্চের একপাশ দিয়ে অন্য পাশে হেঁটে চলে যায়! অন্য দিক থেকে ড্রাইভার আর বল্টু হাঁপাতে হাঁপাতে মঞ্চে ঢোকে। তারা পালিয়ে এসেছে!]

বল্টু: বলিছিলাম? বেশি লোভ কল্লি এরাম হয়! এর থে ভিক্ষে করা ভালো।
ড্রাইভার: আরে লোভ কি আমি একা করিছি নাকি? নাট করিনি? তাছাড়া ঘরের মধ্যি কেউ বাঘ পোষে?
বল্টু: আইজকাল পোষে, একাকীত্ব কাটাতি নানান জিনিস পোষে!
ড্রাইভার: তা বইলে বাঘ? আর এ কিরাম বাঘ এক্টা হালুম দেলো না?
বল্টু: বোবা বাঘ! এগের যারা সাপ্লাই দেয়, তারা বোবা বানায় দেয়! যাতে শহরের মধ্যি ফ্লাট বাড়িতে থাকতি ঝামেলা না হয়! হালুম দিয়ে যাতে পুলিশ না আনে! কিন্তু আমরা যে বাঁচলাম তাতে লাভ কী হলো? একজন তো শহীদ হলো! ছিলাম ১৩ জন, কুমতি কুমতি ৩ জন এহন দুইজন?
ড্রাইভার: এরকম ফান্দে জীবনে পড়বো ভাবি নাই! আরেকটু হলি তো আমাগের আটকায় ফেলতো! কল্পনা করা যায় জ্যান্ত মানুষ খাওয়ায় একটা লোক শহরের ফ্লাটে বইসে?
বল্টু: এ-তো মনের খিদে! মুখেরও না, পেটেরও না! ওর মন বাঘ হয়ে গেছে! ঘাড় মটকায় খাতি চায়, কিন্তু পারে না! তাই বাঘ পোষে, বাঘ দিয়ে ঘাড় মটকায়! ভাতের অভাব তো সবার জন্য না বছ! কারো কারো ঘেন্না, রাগের অভাব, সে-তো ফাঁদ পাতবেই।
ড্রাইভার: হিসসস! আর কথা না। চল ভাগি। বাঘ যদি নাইমে আসে বাকি দুইটেরে ধরতি তালি আর বাড়ি যাওয়া হবে নানে!

[দুইজন দুইজনার দিকে তাকায়। তারপর দুই দিকে ছুটে পালিয়ে যায়। শূন্য মঞ্চে লোকটা এসে দাঁড়ায়। একটা দূরবীন দিয়ে দূরে দেখতে থাকে! দর্শকদের দিকে বলে ওঠে…]
লোক: আমার বিড়ালটাকে দেখেছেন কেউ? খুঁজে পাচ্ছি না! ঐ যে বাঘের মতো হালুম করে ডাকে যে বিড়ালটা! দেখলে জানাবেন।

সমাপ্ত

২১ ডিসেম্বর ২৫

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত