ঘুমের বিশ মিনিট
বিশ মিনিট – অন্তত বিশ মিনিটের একটা ঘুম দরকার রাই।
তোমার সফেদ জামায়
দেয়ালে হেলান দেয়া ছবিটার দিকে
তাকিয়ে থাকতে হলেও প্রয়োজন একটা ঘুম —
অন্তত বিশ মিনিটের জন্য।
কপালের ভাঁজে ভাঁজে ক্লান্তির অবশ পা’জোড়া
টেনে নিতে নিতে অভ্যস্ত জীবন থেকে
বেরিয়ে পড়তে হলেও প্রয়োজন বিশ মিনিটের একটা ঘুম।
কথা দিচ্ছি একটা বিশ মিনিটের ঘুমের জন্য
আমি বেঁচে দিয়ে আমার কবিতা আমার জন্ম-মৃত্যু
আমার বুকপকেটহীন শার্ট,
আমার ঝুলিয়ে রাখা পোড়া হৃদয়,
আমি হয়ে যাবো ক্রীতদাস।
ঘুম প্রয়োজন – বিশ মিনিটের একটা ঘুম।
একটা বিশ মিনিটের ঘুমের জন্য আকাশে তাকিয়ে আছি রাই।
তোমার হাসিমুখ
তোমার জোছনাধোয়া রোদচশমা —
তোমার শব্দে শব্দে জড়তা ভেঙ্গে আবার
জড়ো হয়ে ওঠা আমার এ করুণ বৃক্ষের জীবন – নাকে নিয়ে
জেগে থাকা আড়াইহাজার বছরের আর্তির রঙ —
ক্যামোফ্লাজ নিঃসৃত বাক্যের দায় নিয়ে
আর কতটা পথ – টেনে টেনে পেরুতে হবে?
আর কতটা দিন —
ম্লান স্নানঘরে দুঃখিত স্নাতকোত্তর ভারাক্রান্ত হৃদয়!
আর কতটা রাত —
কেটে যাবে রক্তপাতহীন দ্বন্দমূখরতায়?
বিশ মিনিট–বিশ মিনিটের জন্য হলেও রাই
প্রয়োজন একটা ঘুম– স্বস্তিতে – কবিতার!
আমাদের ছেলেবেলা
আমাদের ছেলেবেলায় মাছ বেছে দেবার কেউ ছিলো না, কাটাসুদ্ধো খেতে গিয়ে কতশতবার কাঁটা বিঁধে গেছে গলায়, আর কাউকে কিছু না বলে সাদা ভাত হয়ে উঠতো ঔষধ তার ইয়ত্তা নেই। এভাবেই একা একা বেড়ে ওঠা আমাদের, ঠিক জঙ্গলের গাছ, লকলক করে বেড়ে উঠেছি, আঘাতে বেঁকে গিয়েছি অভিযোগ করার কাউকে পাইনি। মাটিতে আছড়ে পরে নিজেই নিজের হাত ধরে উঠে পরতে হয়েছে অথবা নীচে আরো নীচে পতিত হতে হয়েছে।
আজ বুঝি কাঁটা বেছে দেওয়ার কেউ থাকা প্রয়োজন ছিলো, তাহলে না বলতে পারা ভালোবাসায় বাষ্পরুদ্ধ বিষাদ গ্রাস করতে পারতো না আমাদের। ভো-কাট্টা ঘুড়ির মতন গোত্তা খেতে খেতে ভিজে যেতো না রক্তাক্ত হৃদয়। আচ্ছা বৃহস্পতিবার কি তোমাদের হাফ-ইশকুল হতো!
মৃত্যুর মুখোমুখি কবিতা
আচ্ছা, মৃত্যুর মুখোমুখি কি কবিতা হাতে দাঁড়ানো যায়?
দাঁড়ানো কি যায় মৃত্যু উদগীরণ করা রাইফেলের সামনে?
দাঁড়ানো কি যায় ক্ষুধায় কাতর হাড় জিরজির মানুষের সামনে?
কবিতা হাতে কি দাঁড়ানো যায় সংসদ কিংবা মন্ত্রণালয়ে?
দাঁড়ানো কি যায় মিছিলে, রাতে বৃষ্টি আর ঘামে ভিজে?
দাঁড়ানো কি যায় ব্যাংকে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে?
দাঁড়ানো কি যায় তথাকথিত ভদ্রসমাজে, যেখানে
কুকুর আর বিড়ালেরা বিছানা পায় আলাদা করে?
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে
জমে থাকা দূর্গন্ধের সরকার সমর্থকের সামনে?
কবিতা হাতে, দাঁড়ানো কি যায় সেই সব মেধাবীর সামনে
যারা দুধ থেকে সর খেয়ে নিয়ে ফটফট ইংরেজি বলে চলে সারারাত?
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় সেই মেয়েটির সামনে
যাকে রাষ্ট্রীয় কুকুরের দল ছেনালের মতন ছিড়ে খেয়েছে।
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় মা হারা বাবা হারা
সন্তানের সামনে অথবা সন্তান হারা স্বামী হারা ভাই হারা বোন হারা
স্বজনের সামনে?
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় সেইসব অতিমানবের সামনে,
যাদের জিভ ছুয়ে গেছে নিজের পশ্চাতদেশ?
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় আয়নায়
দেখা কি যায় পরাস্ত পরাজিত মুখ?
আচ্ছা কবিতা হাতে নিয়ে কি প্রেমিকার সামনে
দাঁড়িয়ে বলা যায় নীলাভ মৃত্যুর বুক চিরে
এনেছি সবুজ গাছ; নেবে?
ছুঁয়ে কি দেবে? নাকি ছুটে ছুটে যাবে
স্বপ্নের দোষে আজন্ম লালিত কবিতা,
যাকে নিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলা যায় কথা— জানোতো নিস্তব্ধতারও আছে ভাষা।
কবিতা নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় নতজানু পতাকার সামনে?
যার পাশে শুয়ে আছে রাষ্ট্রযন্ত্রের উন্নয়ন চুলায়
জ্বলে যাওয়া সারি সারি লাশ।
জানা নেই আমার, আমার ভেতর চেয়ার টেবিল
মুখে দামি সিগারেট আর হাতে দামি কলমে
লেখা কবিতা নেই আর তাই
আমি কবিতা নিয়ে দাঁড়াতে চাই একবার, অন্তত একবার।
একবার আমি কবিতা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে চাই কবিতা।














































6 Comments. Leave new
পড়লাম। ‘আমাদের ছেলেবেলা’ ভালো লাগলো।
ভালো লাগলো
আমাদের ছেলেবেলা🌻
চমৎকার কবিতা গুলো পাঠ করে মুগ্ধ।
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় আয়নায়
দেখা কি যায় পরাস্ত পরাজিত মুখ?
ভালোবাসা সোয়েব মাহমুদ ❤️
কবিতা হাতে নিয়ে কি দাঁড়ানো যায় আয়নায়
দেখা কি যায় পরাস্ত পরাজিত মুখ?