কিছু একটা
[মূল: Something]
ম্যাচের কাঠি ফুরিয়ে গ্যাছে
সোফার গদিটা গ্যাছে বসে
কেউ আমার ট্রাংকটা মেরে দিয়েছে
কেউ মেরে দিয়েছে আমার চোখ ওঠার
অয়েল পেইন্টিং
গাড়িটা অচল
পাঁকাল মাছ বাথরুমের দেয়াল বেয়ে
উঠছে
ভেঙে চুরমার আমার প্রেম
অথচ পুঁজিবাজার দিব্যি চাঙ্গা
আজ।
সুন্দর চোখের লোকটা
[মূল: the man with the beautiful eyes]
আমরা যখন বাচ্চা ছিলাম
তখন পাড়ায় একটা আজব বাড়ি ছিল
সব পর্দা
টানা থাকত
সবসময়
কোনদিন কারো গলা শুনতাম না
সেখান থেকে।
বাড়ির আঙিনা ভরা ছিল
বাঁশঝাড়ে
আমরা খেলতাম
সেই বাঁশঝাড়ে
ভান করতাম যেন
টারজান
(যদিও কোনো
জেন ছিল না)
আর একটা মাছের পুকুর ছিল
বেশ বড়
ভর্তি ছিল আমাদের দেখা সবচে
মোটাসোটা সব গোল্ডফিশে,
ওগুলো ছিল পোষা।
পানিতে মাথা জাগিয়ে ওরা
আমাদের হাত থেকে
রুটির টুকরো
খেয়ে যেত।
আমাদের বাপ মায়েরা
বলে দিয়েছিল:
“ও বাড়ির কাছে কখনো
ঘেঁষবি না।”
তাই, অবশ্যই আমরা আরো
বেশি করে যেতাম।
ভাবতাম কেউ কি আদৌ
থাকত সেখানে।
সপ্তা’র পর সপ্তা চলে যেত অথচ আমরা
কাউকেই কোনোদিন
দেখিনি।
অবশেষে একদিন
ও বাড়ি থেকে
একটা কণ্ঠ
শুনতে পেলাম
“হতচ্ছাড়া মাগী
কোথাকার!”
একটা পুরুষ কণ্ঠ ছিল
সেটা।
তারপর বাইরের দরজা
সজোরে খুলে গেলো
আর লোকটা বেরিয়ে
এলো।
লোকটার ডানহাতে ছিল
একটা হুইস্কির বোতল
পাঁচ ভাগের এক ভাগ ভরা।
বয়স হবে ৩০-এর
মতো।
মুখে ছিল
একটা সিগার,
না কামানো দাড়ি।
চুল ছিল
উস্কোখুস্কো আর
না আঁচড়ানো।
খালি পা
পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি
আর প্যান্ট।
কিন্তু তার চোখ
ছিল
জ্বলজ্বলে।
জ্বলছিল
উজ্জ্বল হয়ে।
এবং সে বলল,
“এই যে ছোট
সাহেব, মনে হচ্ছে
ভালোই চলছে?”
তারপর একটু
হাসল সে
আর হেঁটে ফের বাড়িতে
ঢুকে গেলো।
আমরা চলে এলাম,
ফিরে এলাম আমার বাপ মায়ের
বাড়ির উঠানে
আর ভাবতে লাগলাম
কি হলো তা নিয়ে।
বুঝে ফেললাম,
আমাদের বাপ-মায়েরা
ও বাড়ি থেকে আমাদের
দূরে রাখতে চেয়েছে
কারণ তারা চায়নি
অমন একটা লোককে
আমরা
দেখে ফেলি,
একজন শক্তসমর্থ সহজ
মানুষ
যার
আছে
সুন্দর
দুটো চোখ।
আমাদের বাপ-মা’দের
লজ্জা ছিল
যে তারা ঐ মানুষটার
মতো নয়,
আর তাই তারা চাইতো
আমরা
দূরে থাকি।
কিন্তু
আমরা ফিরে যাই
বাড়িটার কাছে
বাঁশঝাড় আর
পোষা গোল্ডফিশের কাছে।
আমরা ফিরে যাই বহুবার,
সপ্তার পর সপ্তা
কিন্তু মানুষটাকে
দেখি না বা
শুনতে পাই না আর।
পর্দা টানা থাকত
সবসময়ের মতোই,
একেবারে
শুনশান।
এরপর একদিন
ইশকুল
থেকে ফেরার পথে
বাড়িটাকে দেখি।
আগুনে পুড়ে
ভেঙে পড়েছে,
কিছু বাকি নেই
আর,
শুধু ধোঁয়া ওঠা
ধ্বসে পড়া পুড়ে কালো
ভিটা
আর মাছের পুকুরের
কাছে গেলে দেখি
কোন পানি নেই
মোটাতাজা কমলা গোল্ডফিশগুলো
মরে পড়ে আছে,
শুটকি হচ্ছে।
আমরা ফিরে যাই
আমার বাপ-মায়ের উঠোনে
আর এই নিয়ে কথা বলি।
একমত হই যে
আমাদের বাপ-মায়েরাই
ওদের বাড়িতে
আগুন দিয়েছে,
ওদেরকে মেরেছে,
গোল্ডফিশগুলোকেও মেরেছে
কারণ ওদের
সবকিছু ছিল বড়ই সুন্দর,
এমনকি বাঁশঝাড়টাও
যেটা পুড়ে গেছে।
তারা ঐ
সুন্দর চোখের
লোকটাকে যে
ভয় পেত।
আর
আমরাও ভয় পেলাম
তখন
এই ভেবে যে
সারাজীবন আমাদের সাথেও
এমনটা হবে—
কেউ কাউকে
অমন তেজী আর সুন্দর হ’তে
দেখে সইতে পারবে না,
অন্যরা কেউ ওরকম
হ’তেই দেবে না,
এর ফলে অনেকগুলো
মানুষকে তাই
মরে যেতে হবে।
সকলের মাঝে একা
[মূল: Alone with Everybody]
মাংস হাড় ঢেকে রাখে
ওরা বসিয়ে দ্যায় তাতে মন
এমনকি কখনো কখনো আত্মাও,
দেয়ালে আছড়ে
নারীরা ভাঙে ফুলদানি
আর পুরুষেরা মদ খায়
খুব বেশি
অথচ কেউ খুঁজে পায় না
সেটা।
কিন্তু খুঁজতেই থাকে
বিছানায় হাঁচড়ে পাচড়ে
উঠানামা ক’রে।
মাংস ঢাকে হাড় আর
মাংস খোঁজে
মাংসের চেয়ে বেশি কিছু।
কোন সম্ভাবনাই নেই:
আমরা সকলে এক
অমোঘ নিয়তির ফাঁদে বন্দী।
কেউ কখনোই খুঁজে পায় না
তা।
শহরের আবর্জনার স্তূপ ভরে ওঠে
ভাগাড়গুলো ভরে ওঠে
পাগলাগারদ ভরে ওঠে
হাসপাতাল ভরে ওঠে
গোরস্তান ভরে ওঠে
আর কোন কিছুই
ভরে ওঠে না।
তারা কী চায়
[মূল: What they want]
বাইয়েহোর না খেতে পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে
একাকিত্ব নিয়ে লিখে
যাওয়া;
ভ্যান গগের সে মাগীটার কান
ফিরিয়ে দেওয়া;
র্যাঁবোর সোনা খুঁজতে আফ্রিকায়
ছুটে যাওয়া আর চিকিৎসার অতীত
এক সিফিলিস বাধিয়ে ফেলা;
বিথোভেনের কালা হয়ে যাওয়া;
পাউন্ডকে রাস্তা ধরে খাঁচায় ভরে
টেনেহিঁচড়ে নেওয়া;
চ্যাটারটনের ইঁদুর মারা বিষ গেলা;
হেমিংওয়ের ঘিলু গিয়ে পড়া
কমলার রসে;
প্যাস্কেলের কবজি চিরে ফেলা
চৌবাচ্চায় বসে;
আর্তোর আটকে থাকা পাগলাগারদে;
দস্তইয়েফস্কির দাঁড়িয়ে থাকা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে;
ক্রেনের নৌকার প্রপেলারে ঝাঁপ দেওয়া;
লোরকার গুলি খাওয়া
রাস্তায় স্প্যানিশ সৈনিকের;
বেরিম্যানের সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া;
বারোজের বউকে গুলি করা;
মেইলারের ছুরি মারা;
— এগুলোই তারা চেয়েছিল:
জাহান্নামের মাঝে
খোদার অভিশপ্ত এক নাটক
কোনো চকচকে বিজ্ঞাপন।
এগুলোই চেয়েছিল
আনন্দোৎসবের এইসব
একঝাঁক
নীরস
মুখচোরা
নিরীহ
বিষাদগ্রস্ত
ভক্তেরা।
ভিনগ্রহের বাসিন্দারা
[মূল: the aliens]
আপনারা হয়ত বিশ্বাস করবেন না
কিন্তু কিছু মানুষ আছে
এমন জীবন কাটায় যাতে
থাকে না তেমন
বাধা কিংবা
দূর্ভোগ।
তারা পরে ভালো,
খায় ভালো, আরামে ঘুমায়।
তারা তৃপ্ত
তাদের পারিবারিক
জীবনে।
তাদের আছে কিছু মুহূর্তের
শোক
কিন্তু মোটের উপর
নির্ঝঞ্ঝাট
আর বেশির ভাগ সময় আনন্দেই
কাটে দিন।
আর যখন তারা মারা যায়
সেটাও হয় সহজ
মৃত্যু, সাধারণত ঘুমের
ঘোরে।
আপনারা হয়ত বিশ্বাস করবেন না
অথচ এমন মানুষের অস্তিত্ব
আছে।
কিন্তু আমি ওদের একজন
নই।
আরে না, আমি তাদের একজন
নই,
এমনকি আমি ওদের মত
হওয়ার
ত্রিসীমানায়ও নেই
কিন্তু ওরা
আছে
আর এই যে দেখুন
আমার হাল।
আঁধারের দিকে ক্রমশ
[মূল: Moving Toward the Dark]
যদি সামনে চলার সাহস খুঁজে না পাই,
তাহলে আমরা কী করবো?
আমাদের কী করা উচিত?
তুমি হ’লে কী করতে?
যদি সামনে চলার সাহস খুঁজে না পাই,
তাহলে ঠিক
কোন সেই দিন
কোন সেই মুহূর্ত
কিংবা কোন সে বছর
আমরা
ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম?
কিংবা এটা কি ছিল বছরের পর বছর ধরে জমে ওঠা ভুলের ফসল?
আমার কাছে কয়েকটা সমাধান আছে।
মরে যাওয়া, হ্যাঁ।
কিংবা পাগল হয়ে যাওয়া, হয়তো।
অথবা হয়তো
জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে পড়া?
যদি সামনে চলার সাহস খুঁজে না পাই,
আমাদের কী করা উচিত?
আর সকলে কী করেছিল?
তারা চালিয়ে গেছে
জীবন কাটিয়ে দিয়েছে,
বিশ্রিভাবে।
আমরাও তাই-ই করব, হয়তোবা।
বেশি দিন বাঁচতে যে
সময় কাটানোর চেয়েও ঢের বেশি কিছু
লাগে।

































































































