সহজ কবিতা শিক্ষা
বিলি কলিন্স
[মূল: ইন্ট্রোডাকশন টু পোয়েট্রি]
ওদেরকে বলি একটা কবিতা নাও হাতে
আর তুলে ধরে দ্যাখো আলোর বিপরীতে
রঙিন স্লাইডের মতো।
কিংবা কান পাতো কবিতার মৌচাকে।
বলি একটা ইঁদুর ছেড়ে দাও কবিতার মাঝে
দ্যাখো কিভাবে সে নেয় পথটাকে খুঁজে,
অথবা কবিতার ঘরে আঁধারে ঢুকে গেলে
খুঁজে নাও বাতির সুইচ হাতড়ে দেয়ালে।
আমি চাই ওরা জলের মাঝে স্কি করে
কবিতার উপরিতল কেটে ছুটে ফিরে
তীরে থাকা কবির নামের দিকে হাত নাড়ুক।
কিন্তু ওরা চায় কবিতাকে
দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে চেয়ারের গায়
নির্যাতনে করবে স্বীকারোক্তি আদায়।
এরপর কবিতাকে লাঠি দিয়ে ওরা শুরু করে মার
শুধু জানতে প্রকৃত অর্থ কী সেই কবিতার।

বিলি কলিন্স (১৯৪১—) যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন পোয়েট লরিয়েট, যিনি সহজ ভাষায় জটিল অনুভূতি প্রকাশের জন্য সুপরিচিত। তাঁর কবিতায় স্মৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের মৃদু হাস্যরস এক ধরনের স্নিগ্ধরূপ নিয়ে হাজির হয়
নিকুচি করি এলার্ম ঘড়ির
চার্লস বুকাওস্কি
[মূল: থ্রোয়িং এওয়ে দ্য এলার্ম ক্লক]
আমার বাপ সবসময় বলতেন, ‘তাড়াতাড়ি ঘুম এবং
সকাল সকাল ওঠা মানুষকে করে তোলে স্বাস্থ্যবান, ধনী
এবং জ্ঞানী।’
সব আলো নিভে যেত রাত আটটায় আমাদের বাড়িতে
আর খুব ভোরে ঘুম ভাঙত কফি,
বেকন আর অমলেটের ঘ্রাণে।
আমার বাপ প্রতিদিনকার এই রুটিন
গোটা জীবন মেনে চলেছেন আর মরেছেন কম বয়সে নিঃস্ব অবস্থায়
মনে হয় না খুব একটা জ্ঞানীও হতে পেরেছিলেন।
সব দেখেশুনে, সেই উপদেশ উড়িয়ে দিলাম, তাই আমার জন্য
বিষয়টা দাঁড়ালো দেরিতে ঘুম, দেরিতে ওঠা।
এখন, আমি বলছিনা আমি দুনিয়া উদ্ধার
করে ফেলেছি, কিন্তু এড়াতে পেরেছি
অসংখ্যবার সাত সকালের যানজট, পাশ কাটিয়েছি
খুব সাধারণ কিছু ভুলের
আর দেখা পেয়েছি কিছু অদ্ভুত অথচ চমৎকার
মানুষের।
এদের মাঝে তেমন একজন ছিল
এই আমি নিজেই— এমন একজন
যাকে আমার বাপ কোনদিন
চিনতেই পারেননি।

চার্লস বুকাওস্কি (১৯২০—১৯৯৪) মার্কিন কবি ও কথাসাহিত্যিক, যিনি শহুরে একাকীত্ব, প্রেম, মদ্যপান ও হতাশাকে ভণিতাহীন ভাষায় প্রকাশ করেছেন
গুহার রূপক
স্টিফেন ডান
[মূল: এলিগরি অফ দ্য কেভ]
দৃষ্টি-ধাঁধানো আলোর দিকে বেয়ে বেয়ে উঠে গেলো সে
আর যখন সেই আলো চোখে সয়ে এলো
নিচে তাকিয়ে দেখতে পেলো
সহবন্দিরা সব মুগ্ধ বিবশ
ছায়ার নিগড়ে; যা কিছু বিশ্বাস ছিল তার
সব মিথ্যে, আচমকা সে এখন
বিংশ শতকে, সূর্যের আলো
আর ইতিহাসের নৃশংসতার মাঝে, জ্ঞানের ভারে
ভারাক্রান্ত। প্রকৃত বীরই কেবল
সত্য সাথে নিয়ে ফেরার সাহস রাখে।
তাই ঝুঁকির বাইরে গুহার উঁচু প্রান্ত
থেকে, চিৎকার করে সে জানায়
অস্বস্তিদায়ক এই সমাচার।
কী দারুণ প্রতিধ্বনি, বন্দীরা শুনে বলাবলি করে,
কী মনোরম সুরের জগতে আমাদের বসবাস।
স্পষ্ট ব্যাখ্যা করে, তারপর, পরিষ্কার গদ্যে সব
কাগজে লিখে সে নিচে ভাসিয়ে দ্যায়।
কিন্তু আধো-অন্ধকারে সেই লেখা ওরা পড়ে
অনভ্যস্ত পাঠকের আত্মতুষ্টি নিয়েঃ
এখানে বুঝি আমার বাবার মৃত্যুর কথা লেখা, কেউ বলে ওঠে।
আরেকজন বলে, নাহ, এ তো স্রেফ কৌতুক।
ততক্ষণে আর নিশ্চিত নয় সে
ঠিক কী দেখেছে সে বিষয়ে। সূর্যের আলোও কি ছায়া নয়?
উৎসের পিছেও কি সদাই থাকে না
উৎস আরেক? সেখানেই থমকে থাকে সে,
বিভ্রান্ত হয়ে, মানুষটা এগিয়েছে যে
আরো বড় ভুলের অভিমুখে, প্রার্থনা বাদ দিয়ে।

স্টিফেন ডান (১৯৩৯—২০২১) আমেরিকান কবি স্টিফেন ডানের কবিতাগুলো সরল অথচ অন্তর্মুখী ভাবনায় ভরপুর। তিনি ২০০১ সালে পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করেন
গ্যালেরিয়া শপিং মলে
টনি হোগল্যান্ড
[মূল: এট দ্য গ্যালেরিয়া শপিং মল]
প্যাস্টেল রঙের বাচ্চাদের মোজা আর অন্তর্বাসের ঝুড়ির ঠিক পাশেই
চায়নাতে তৈরি ঊনপঞ্চাশ ডলারের কিছু টিভি রাখা আছে;
একটাতে তার দূরদেশের কোন যুদ্ধের খবর বাজছে,
আরেকটাতে হলিউডের কোন অভিনেত্রীর স্তনের আকার
বলিউডের কোন অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
এদিকে সাথে আছে ভাগনি আমার লুসিন্ডা,
তার বয়স নয়, সত্যিকারের টেক্সাসের মেয়ে,
যার চলনে-বলনে এসেছে অভিজাত স্বর্ণকেশীর ঢং,
ঘোষণা করেছে সে, তার প্রিয় খেলা হলো কেনাকাটা।
আজ সে এই খেলার জগতে যাত্রা শুরু করছে,
একটি ক্রেডিট কার্ড কাস্তের মতো দোলাতে দোলাতে
সোনালি পণ্যের মাঠ ভেদ করে এগিয়ে যাবে সে।
আজ থেকেই মানুষের মুখের দিকে তাকানো বন্ধ করবে,
আর পার্সের লেবেল খুটিয়ে দেখা শুরু করবে;
তাহলে হোক শুরু। ঝলমলে প্রাচুর্যের ভেতর ডুবে যাক ও,
বারবার তুলে নিংড়িয়ে বারবার ডুবে যেতে দাও ওকে।
আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি।
পুরাণের দেবতাদের মতো
যারা মানুষকে লরেল গাছ বা কাক বানিয়ে দিত
কোনো শিক্ষা দেওয়ার জন্য,
যেমন আমাদের বানানো হয়েছে আমেরিকান,
নিঃসঙ্গতা কী তা বুঝে ওঠার জন্য।

টনি হোগল্যান্ড (১৯৫৩—২০১৮) ছিলেন একজন আমেরিকান কবি, যিনি কথোপকথনধর্মী ভাষা, তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ এবং সমকালীন আমেরিকান জীবনের অস্বস্তিকর সত্য লেখায় তুলে ধরার জন্য পরিচিত
কিভাবে ঘুমাতে হয়
ফিলিপ লারকিন
[মূল: হাউ টু স্লিপ]
শিশু যেমন জরায়ুতে,
কিংবা সাধু তার সমাধিতে—
কার মতো করে শোবো
যদি সত্যিই ঘুমোতে চাই?
তীক্ষ্ণ চাঁদ ঐ চেয়ে থাকে
আকাশের ওপার থেকে
মেঘেরা ফিরেছে ঘরে
মেষের পালের মতো।
সময়ের চকচকে ফোঁটা,
এক দুই তিন ছন্দে ঝরে,
পাশ ফিরে চিত হয়ে শুই
হাতদুটো ভাঁজ করে;
আশ্রমের শিশু বা পোপের
বেছে নেওয়া ভঙ্গিতে,
যেভাবে তাদের সমাহিত হয় মন
যেভাবে সমুদ্র সমতল করে বালু।
ভাবনা আমারও শান্ত হয়ঃ
কিন্তু ঘুম রয়ে যায় দূরে,
ভ্রূণের মত পাশ ফিরে
শরীর কুঁকড়ে না শুলে।
কেননা মৃত্যুর মত ঘুমও,
পেতে হয় অহম ভুলে গিয়ে,
প্রকৃতির সায় যদি মেলে,
জবরদস্তি বাদ দিয়ে,
টানটান ভাব ছেড়ে।

ফিলিপ লারকিন (১৯২২—১৯৮৫) ছিলেন একজন খ্যাতনামা ইংরেজ কবি, ঔপন্যাসিক এবং গ্রন্থাগারিক। দৈনন্দিন জীবনের মাঝে গভীর অনুসন্ধান ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ তাঁর কবিতায় বিষণ্ণ রূপ নিয়ে ধরা দেয়। মৃত্যু চিন্তা, প্রেম, এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তার লেখার অন্যতম বিষয়
●















































