১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Kanhopatra was a 15th-century Marathi saint-poet, venerated by the Varkari sect of Hinduism. Little is known about Kanhopatra. According to most traditional accounts, Kanhopatra was a courtesan and dancer. These accounts typically concentrate on her death when she chose to surrender to the Hindu god Vithoba—the patron god of the Varkaris—rather than becoming a concubine of the Badshah (king) of Bidar. She died in the central shrine of Vithoba in Pandharpur. She is the only person whose samadhi (mausoleum) is within the precincts of the temple. An article on the philosophy of Kanhopatra and a translation of some poetry by Bengali poet and philosopher Syed Tarik-Meghchil
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
সৈয়দ তারিক
কবি, ভাবুক
106

সৈয়দ তারিক
কবি, ভাবুক

106

ভাবের দেশ

কানহোপাত্রা: গণিকা যখন সন্ত

কানহোপাত্রা (Kanhopatra বা Kanhupatra) ছিলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর একজন মারাঠি ভক্তিধারার কবি এবং বারকারি সম্প্রদায়ের সদস্যা। তিনি মহারাষ্ট্রের মঙ্গলবেধায় জন্মগ্রহণ করেন। পাণ্ডরপুরে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বারকারি সম্প্রদায়ের পূজনীয় দেবতা ভিটোবা বা বিঠোবা বা বিট্ঠল বা ভিট্টল-এর প্রতি তাঁর অটুট ভক্তির জন্য তিনি সন্ত (Sant) হিসেবে সম্মানিত হন। আজও তিনি পূজিতা।

কানহোপাত্রা ভক্তি আন্দোলনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি একজন গণিকার কন্যা হয়েও আধ্যাত্মিক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর জীবনী মূলত মৌখিক কাহিনী এবং কিছু গ্রন্থ যেমন মহিপতির ‘ভক্তবিজয়’ ও ‘ভক্তলীলামৃত’ থেকে জানা যায়। তিনি কেবলমাত্র একজন ভক্ত কবি নন, তিনি একইসাথে প্রতিবাদ আর আত্মনিবেদনের প্রতীক।

কানহোপাত্রার জন্মস্থানের কাছে পাণ্ডরপুরে ভিটোবার প্রধান মন্দির অবস্থিত। তাঁর মা শ্যামা (বা শামা) ছিলেন একজন ধনী গণিকা ও নৃত্যশিল্পী। শ্যামা কানহোপাত্রার পিতার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ধারণা করা হয় যে তিনি শহরের প্রধান সদাশিব মালগুজার হতে পারেন।

শ্যামার প্রাসাদোপম বাড়িতে দাসীদের মধ্যে বেড়ে ওঠা কানহোপাত্রা মায়ের পেশার কারণে সমাজে নিচু মর্যাদা পান। শৈশব থেকেই তাঁকে নাচ ও গানে প্রশিক্ষিত করা হয়। তাঁর সৌন্দর্য অপ্সরা মেনকার সাথে তুলনীয় বলে বর্ণিত হয়। বেশিরভাগ বর্ণনায় বলা হয় যে কানহোপাত্রাকে জোর করে গণিকা পেশায় ঠেলে দেওয়া হয়, যা তিনি ঘৃণা করতেন। কথিত আছে, তিনি বলতেন যে তাঁর চেয়েও সুন্দর কাউকে পেলে তিনি বিয়ে করবেন। যদিও গণিকা হিসাবে বিয়ে করা প্রথাবিরোধী ব্যাপার।

সদাশিব মালগুজার তাঁর সৌন্দর্যের কথা শুনে নাচ দেখতে চান, কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন, ফলে তাঁকে হয়রানি করা হয়। সম্পদ কমে যাওয়ায় শ্যামা তাঁকে সদাশিবের কাছে অর্পণ করতে চান, কিন্তু কানহোপাত্রা দাসীর ছদ্মবেশে পাণ্ডরপুরে পালিয়ে যান তাঁর বৃদ্ধা দাসী হৌসার সাহায্যে।

বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া বারকারি তীর্থযাত্রীরা তাঁকে প্রভাবিত করেছিলেন। একজন পথিক তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে ভিটোবা পতিতদেরও গ্রহণ করেন, যেমন কুবজা, পাপী রাজা অজামিল বা অস্পৃশ্য সন্ত চোখামেলা। পাণ্ডরপুরে ভিটোবার মূর্তি দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে একটি অভঙ্গ বা গীতিকবিতা রচনা করেন, যাতে বলেন যে তাঁর আধ্যাত্মিক যোগ্যতা পূর্ণ হয়েছে ভিটোবার পায়ে। তিনি নিজেকে ভিটোবার সাথে ‘বিবাহিত’ ঘোষণা করেন। তাঁর পূর্বাশ্রমের যে ঘোষণা, তাঁর চেয়ে সুন্দর কাউকে পেলে তিনি বিয়ে করবেন, সেই ইচ্ছা পূরণ হলো অবশেষে।

সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হৌসার সাথে একটি কুটিরে বাস করতে শুরু করলেন। সন্ন্যাসিনীর জীবন যাপন করতে লাগলেন তিনি। মন্দিরে গান গেয়ে নাচতেন, দিনে দু’বার পরিষ্কার করতেন মন্দির এবং ভিটোবাকে উৎসর্গিত কবিতা রচনা করতেন।

সদাশিব অপমানিত হয়ে বিদরের বাদশাহের সাহায্য চান। রাজা তাঁর সৌন্দর্যের কথা শুনে তাঁকে উপপত্নী করতে চান। কানহোপাত্রা প্রত্যাখ্যান করেন। রাজার সৈন্যরা মন্দির অবরোধ করে। তিনি ভিটোবার সাথে শেষ সাক্ষাতের অনুরোধ করেন। বর্ণনা অনুসারে, তিনি মূর্তির পায়ে মৃত্যুবরণ করেন— সম্ভবত আত্মহত্যা তথা আত্মনিবেদন করেন।

Kanhopatra, as imagined by the artist.An article on the philosophy of Kanhopatra and a translation of some poetry by Bengali poet and philosopher Syed Tarik-Meghchil
Kanhopatra, as imagined by the artist. Image source: Internet.

তাঁর দেহ ভিটোবার পায়ে রাখা হয় এবং মন্দিরের দক্ষিণ অংশে সমাহিত করা হয়। সেখানে একটি গাছ ওঠে, যা তীর্থযাত্রীরা আজও পূজা করেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, ভিটোবা মন্দির প্রাঙ্গণে যাঁর সমাধি রয়েছে।

কানহোপাত্রার দর্শন কোনো তাত্ত্বিক কাঠামো নয়। এটি বেঁচে থাকা শরীরের দর্শন। তাঁর ভক্তির তিনটি মূল স্তম্ভ হলো:

এক. ঈশ্বরই একমাত্র আশ্রয়। সমাজ তাঁকে গ্রহণ করেনি। পরিবার, জাত, রাষ্ট্র—সব ব্যর্থ হয়েছে। তাই ঈশ্বর তাঁর কাছে শেষ নয়, একমাত্র বাস্তবতা।
দুই. দেহের কলঙ্ক বনাম আত্মার পবিত্রতা। কানহোপাত্রা স্পষ্ট করে বলেন—আমার দেহ অপবিত্র বলেই কি আমার আরাধনা মিথ্যা? এই প্রশ্ন ভক্তিবাদী সাহিত্যে বিরল সাহসের উদাহরণ।
তিন. ভক্তি মানে দরকষাকষি নয়। তিনি মুক্তি চান না, স্বর্গ চান না, সম্মানও চান না। শুধু চান—ভিটোবার পায়ের কাছে লীন হয়ে যেতে।

কানহোপাত্রার দর্শন বারকারি ভক্তিবাদের উপর কেন্দ্রীভূত, যেখানে ভিটোবা (বিষ্ণু বা কৃষ্ণের রূপ) পতিত ও নিপীড়িতদের উদ্ধারকর্তা। তিনি ভিটোবাকে লক্ষ্মীর চেয়ে সুন্দর ও নিখুঁত হিসেবে বর্ণনা করেন, এমনকি মাতৃস্বরূপে সম্বোধন করেন (“বিঠাবাই” বা “কৃষ্ণাই”)। মারাঠি ভাষায় ‘আই’ অর্থ ‘মা’। এটি তাঁর ভক্তির একটি অন্তরঙ্গ ও ব্যক্তিগত দিক।

তাঁর দর্শনে ভক্তি জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য উন্মুক্ত। তিনি জাতির অপ্রাসঙ্গিকতা এবং ঈশ্বরের নাম জপের মাধ্যমে শুদ্ধি ও মোক্ষের উপর জোর দেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি পাপী রাজা অজামিল, ডাকাত বাল্মীকি ও গণিকা পিঙ্গলার কথা উল্লেখ করেন, যাঁরা ঈশ্বরের নাম নিয়ে উন্নীত হন।

তিনি যৌন প্রলোভনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন, রাবণ, ভস্মাসুর, ইন্দ্র এবং চন্দ্রের মতো পৌরাণিক চরিত্রের উদাহরণ দিয়ে। তাঁর কবিতায় পেশাগত অপমান এবং ধার্মিকতার সংঘর্ষ প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন যে ভক্তিই সন্তত্ব প্রদান করে। গুরু বা পুরুষ সহায়তা বা বংশপরম্পরা অপরিহার্য নয়। এটি বারকারি ঐতিহ্যে লিঙ্গসমতা ও সামাজিক গতিশীলতার প্রতীক।

কানহোপাত্রার দর্শন ও কবিতা আধুনিক সমাজকেও অনুপ্রাণিত করে। তিনি দেখান ভক্তি কীভাবে সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আশ্রয় হতে পারে। মীরা, আক্কা মহাদেবী, লাল দেদ-এর পাশে কানহোপাত্রা দাঁড়ান একই সাহসী উত্তরাধিকার নিয়ে

কানহোপাত্রার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আশ্রম ছিল না। তাঁর সাধনা ছিল গানের মধ্যেই। তিনি অভঙ্গ রচনা করতেন যা ছিল বারকারি ধারার সহজ, সোজাসাপ্টা ভক্তিগীতি। কীর্তন, একান্ত প্রার্থনা, কান্না, অভিযোগ—এইসব মিলিয়ে তাঁর সাধনা। তিনি কোনো গুরু-শিষ্য পরম্পরার দাবি করেননি। প্রায় সকল নারী বারকারি সাধুই কোনো পুরুষ সাধু বা গুরু-পরম্পরার সাথে যুক্ত। কিন্তু কানহোপাত্রাই একমাত্র নারী সাধু যিনি এককভাবে, শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত ভক্তির জোরে স্বীকৃতি লাভ করেন। মন্দির তাঁর আশ্রয়, ঈশ্বর তাঁর একমাত্র সঙ্গী। তাঁর জীবনই ছিল তাঁর সাধনা-পদ্ধতি।

কানহোপাত্রা মারাঠি ভাষায় ওভি ও অভঙ্গ কবিতা রচনা করেন, যাতে ভিটোবার প্রতি ভক্তি ও পেশাগত দুঃসহতা প্রকাশিত। তাঁর প্রায় ত্রিশটি অভঙ্গ টিকে আছে, সকল সন্ত-গাথায় সংকলিত তেইশটি শ্লোকের সমাহার। এগুলো সরল, আত্মজীবনীমূলক ও আবেগপূর্ণ, যা নিপীড়িতদের জাগরণ ও নারী অভিব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।

তাঁর কবিতায় আছে সরাসরি সম্বোধন। তিনি ঈশ্বরকে ডাকেন প্রেমিক, আশ্রয়দাতা, কখনো-বা অভিযুক্ত হিসেবে। তাঁর কবিতায় আছে আত্মস্বীকারের সাহস। তিনি নিজের পরিচয় লুকান না।

তিনি তাঁর পেশার বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে এবং ভিটোবাকে তাঁর ত্রাণকর্তা হতে বারবার অনুরোধ করেন। তিনি লেখেন, “হে নারায়ণ, তুমি যদি নিজেকে পতিতের ত্রাণকর্তা বলে দাবি করো, তবে আমাকে কেন এত কষ্ট ভোগ করতে হবে?”

একজন ‘অরক্ষিত’ নারী হিসেবে তাঁর শারীরিক নিরাপত্তার গভীর আশঙ্কা তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে। তিনি ভিটোবাকে চ্যালেঞ্জ জানান: “আমি আমার দেহ তোমার চরণে অর্পণ করলাম, অন্তত তোমার ‘ত্রাণকর্তা’ উপাধিটির জন্য এটিকে রক্ষা করো।”

ঈশ্বরের প্রতি গভীর আকুতি ও আত্মসমর্পণ তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একটি বিখ্যাত অভঙ্গে তিনি বলেন: “হে দেবরায়, এখন আমাকে শেষ পরীক্ষায় ফেলো না…তুমি ছাড়া এই ত্রিভুবনে আমার কোনো ঠাঁই নেই…কানহোপাত্রাকে তোমার হৃদয়ে স্থান দাও।”

কানহোপাত্রার জীবন ভক্তি আন্দোলনের একটি অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়, যা সামাজিক বাধা অতিক্রম করে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথ দেখায়। পঞ্চদশ শতাব্দীর মহারাষ্ট্রে, যখন ভক্তি আন্দোলন সমতার দর্শন প্রচার করছিল, তিনি গণিকার পটভূমি থেকে সন্তত্বে উন্নীত হন। তাঁর কাহিনী তুকারামের মতো সন্তদের দ্বারা উল্লেখিত এবং মিডিয়ায় চিত্রিত হয়েছে, যেমন ১৯৩৭ সালের মারাঠি চলচ্চিত্র ‘কানহোপাত্রা’। মঙ্গলবেধায় তাঁর মন্দির এবং পাণ্ডরপুরে সমাধি গাছ আজও পূজিত।

কানহোপাত্রার দর্শন ও কবিতা আধুনিক সমাজকেও অনুপ্রাণিত করে। তিনি দেখান ভক্তি কীভাবে সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আশ্রয় হতে পারে। মীরা, আক্কা মহাদেবী, লাল দেদ-এর পাশে কানহোপাত্রা দাঁড়ান একই সাহসী উত্তরাধিকার নিয়ে। তাঁর জীবন ও সাহিত্য সমাজকে শিক্ষা দেয় যে যন্ত্রণাকেও ভক্তির আনন্দে রূপান্তরিত করা যায়।

Bhaber Desh-Special Sufi Series by Poet Syed Tarik-Meghchil

কা ন হো পা ত্রা র  কি ছু  ক বি তা

১.
লোকে বলে, আমি অপবিত্র।
আমার জন্মই নাকি কলঙ্ক।

হে ভিট্ঠল,
যদি একথা সত্য হয়
তবে তুমি কেন আমার দিকে তাকালে?

আমি তো তোমার ডাকেই এসেছি,
নিজে আসিনি।
এখন আমাকে ত্যাগ করলে
দোষ কি আমার?

২.
আমার দেহ নিয়ে
সবাই দর কষাকষি করে—
রাজা, সমাজ, লোকের চোখ।

কিন্তু আমার প্রাণ
শুধু তোমারই।

হে পাণ্ডুরঙ্গ,
যদি তুমিও আমাকে অস্বীকার করো
তবে এই দেহের আর প্রয়োজন কী?

৩.
আমি জানি
আমি শুদ্ধ নই,
আমি জানি
আমি মর্যাদার যোগ্য নই।

তবু তোমার নাম
আমার মুখে আসে—
এই অপরাধের শাস্তি
তুমিই দাও।

কিন্তু আমাকে
মানুষের হাতে
ফিরিয়ে দিও না।

৪.
লোকে বলে—
ভক্ত হতে হলে শুচি হতে হয়।

আমি বলি—
ভক্ত হতে হলে ভেঙে যেতে হয়।

হে ভিট্ঠল, আমি সম্পূর্ণ ভেঙেছি।
এবার তুমি বলো, এটা কি কম?

৫.
তুমি যদি আমাকে
তোমার পায়ের ধুলোও দাও—

আমি তাই নিয়েই
সমস্ত জীবন কাটিয়ে দেব।

আমার আর কিছু চাইবার নেই।
লজ্জা, ভয়, সমাজ—
সব তোমার কাছে রেখে এলাম।

৬.
হে ভিট্ঠল,
তুমি জানো আমি কেমন।

লোকে যা বলে
তার চেয়েও বেশি আমি নিজেই জানি।

তবু তুমি আমার নাম শুনলে
কেন নীরব থাকো?

এই নীরবতাই
আমার অপরাধ বাড়িয়ে দেয়।

৭.
আমি তোমার দরজায় দাঁড়ালে
ভেতরে কেউ শুদ্ধ, কেউ পবিত্র।

আমি দাঁড়িয়ে থাকি
সবচেয়ে শেষে।

কিন্তু আমার কান্না
কারো মতো পরিমিত নয়।

তুমি কি এই অতিরিক্ত কান্নাটুকু
সহ্য করতে পারো?

৮.
আমি চাইনি এই শরীর।
আমি চাইনি এই পরিচয়।

তবু এই শরীরেই
তোমার নাম বসবাস করে।

হে পাণ্ডুরঙ্গ,
তুমি কি বলবে,
“এই দেহটা ফেলে দাও?”
না কি এই দেহ নিয়েই
তোমার কাছে আসি?

৯.
লোকে বলে,
আমার ভক্তি নাটক।
তারা বলে,
আমার চোখের জল অভ্যাস।

তুমি বলো, ভিট্ঠল
যদি এগুলো মিথ্যা হয়
তবে এত রাত জেগে
আমি কার জন্য কাঁদি?

১০.
আমি জানি
তুমি পবিত্রতার দেবতা।

কিন্তু যদি পবিত্রতাই তোমার শর্ত হয়
তবে আমার মতো মানুষকে
ডেকেছিলে কেন?

আমাকে ডেকে
এখন নিয়ম দেখিও না।

১১.
হে ভিট্ঠল,
আমি তোমার সামনে
নিজেকে নগ্ন করেছি।

এই নগ্নতা শরীরের নয়,
আত্মার।

এখন যদি তুমি
চোখ ফিরিয়ে নাও—
তবে আমার আর
লুকানোর জায়গা নেই।

১২.
আমি মুক্তি চাই না।
আমি স্বর্গ চাই না।

আমি শুধু চাই—
এই পৃথিবীতে
আমার জন্য
একটুখানি জায়গা
তোমার পায়ের কাছে।

এতটুকু কি
বেশি চাওয়া?

১৩.
আমার নাম উচ্চারণ করলে
তোমার মন্দির নাকি অপবিত্র হয়।

তবে বলো, ভিট্ঠল—
আমার নিঃশ্বাস
তোমার নাম ছাড়া
যাবে কোথায়?

১৪.
যদি তুমি আমায় বাঁচাও
তবে আমি অপবাদ বাঁচাব।

যদি তুমি আমায় ত্যাগ করো
তবে আমি কারও থাকব না।

এই শেষ কথাটুকু
ভেবে দেখো।

আমি তো
শুধু তোমারই।

১৫.
হে ভিট্ঠল,
আজ আর নিজেকে বাঁচাব না।

যদি তুমি গ্রহণ করো—
ভালো।
না করলে—
আমার আর কিছু বলার নেই।

আমি আর
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকব না।

১৬.
এই দেহ নিয়ে
অনেক কথা হয়েছে।

আজ আমি এই দেহটাই
তোমার সামনে ফেলে দিলাম।

এখন বলো—
এটা কি এখনো অপবিত্র?

১৭.
আমি পালাইনি।
আমি লুকাইনি।

আমি সোজা তোমার ঘরের ভেতর
এসে দাঁড়িয়েছি।

এখন যদি আমাকে
টেনে বের করো—
তবে সেটা তোমার কাজ।

১৮.
তোমার মন্দিরে
আমি ঢুকলেই অশান্তি।

তবে জেনে রেখো—
এই অশান্তিটাই
আমার শেষ প্রার্থনা।

শান্ত হয়ে বাঁচার
আর কোনো জায়গা আমার নেই।

১৯.
হে পাণ্ডুরঙ্গ,
আমাকে আর পরীক্ষা কোরো না।

আমি সব হারিয়েছি।

এখন যদি আর কিছু চাও—
তবে শুধু আমার নিঃশ্বাসটা নাও।

২০.
আমি জানি
এই ভালোবাসা অসম্মানজনক।

আমি জানি এতে নিয়ম ভাঙে।
তবু আমি এটা ছাড়তে পারি না।

এই অপরাধ নিয়েই
আমি তোমার সামনে মরতে চাই।

২১.
লোকে বলে,
আমি মন্দির নষ্ট করেছি।

আমি বলি,
আমি নিজেকেই নষ্ট করেছি।

এখন যদি তোমারও ক্ষতি হয়
তবে আমায় শাস্তি দাও।

কিন্তু ফেরত পাঠিও না।

২২.
হে ভিট্ঠল,
আজ আর কান্না নেই।

আজ শুধু নীরবতা।

এই নীরবতার ভেতরেই
আমি তোমার নাম রেখে গেলাম।

যদি খুঁজে পাও—
আমার মুক্তি।

২৩.
আমি চাইনি
মৃত্যু।

কিন্তু জীবনের
সব দরজা বন্ধ।

তোমার ঘর ছাড়া
আর কোথাও যাব না।

এটাই
শেষ।

২৪.
আমি আজ
তোমার পায়ে পড়ে নেই।

আমি দাঁড়িয়ে আছি—
সম্পূর্ণ একা।

যদি এই অবস্থাতেও
তুমি আমায় গ্রহণ করো—
তবে ঈশ্বর এইখানেই সত্য।

২৫.
হে পাণ্ডুরঙ্গ,
আজ আর গান নেই।

আজ শুধু আমি।

যদি এই আমি তোমার কাছে অসহ্য হই—
তবে এইখানেই শেষ করে দাও।

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত