রাজনীতি
শুনেছি, রাজনীতি একটা ক্ল্যাসিক ফিল্ম
হিরো: বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী
যে প্রতিদিন নিজের নাম বদলে ফেলে।
হিরোইন: সে তো ক্ষমতার কুর্সি— সবসময় একই থাকে।
এক্সট্রা: রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য
ফাইন্যান্সার: দিনমজুর, সাধারণ প্রজা, ক্ষেতি, কৃষক
(এরা নিজ থেকে ফাইন্যান্স করে না, ওদেরকে দিয়ে করানো হয়)
সংসদ: ইনডোর শ্যুটিংয়ের সদন
সংবাদপত্র: আউটডোর শ্যুটিংয়ের মাধ্যম।
অবশ্য এই ফিল্ম আমার দেখা হয়নি,
শুধু শুনেছি মাত্র। কেননা ফিল্মটা সম্পর্কে সেন্সর বলে দিয়েছে—
‘নট ফর এ্যডাল্টস্।’
আদমী
অনেক আয় করেছি
ব্যয় করেছি তারও বেশি।
যা-টুকু আছে বাকি
সে আমার মূলধন:
এক-চতুর্থাংশ হিটলার,
এক-চতুর্থাংশ যীশুখ্রিস্ট,
এক-চতুর্থাংশ মনু ¹,
এক-চতুর্থাংশ মজনু ²।
১. মনু- প্রাচীন ভারতীয় আইনপ্রনেতা; মনু-সংহিতা’র রচয়িতা।
২. মজনু- আরব সাহিত্যের জনপ্রিয় প্রেমিক চরিত্র।
আত্মমিলন
আমার বিছানা তোমার জন্য তৈরি;
তবে, আগে তোমার শরীরটাকে খুলে রেখে এসো—
যেমনটা তোমার জামা-জুতো খুলে ফেলেছো,
তেমনি— শরীরটাকে খুলে, ওখানে— ঐ টুলের ওপর রেখে দাও।
এটা আসলে কোনো ব্যাপারই না;
প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু রীতি তো থাকেই!
অমৃতা প্রীতম
একটা যন্ত্রণাকে
শ্বাসে টেনে নিয়েছি—
নীরবে, নিঃশব্দে,
সিগারেটের ধোঁয়ার মতো।
আর হাতে গোনা কিছু গান
আঙ্গুলের তুবড়িতে ফেলে দিয়েছি;
যেমনটা পোড়া ছাই
জ্বলন্ত সিগারেট থেকে ঝরে যায়।
দৃষ্টিভঙ্গি
প্রতিটা বয়সের একটা টুকরো
প্রতিদিন জবাই হয়ে যায়।
মানুষের এখতিয়ারে শুধু এতটুকুই থাকে যে,
জবাই হয়ে যাওয়া টুকরোগুলোকে
সে ঘাবড়ে গিয়ে ফেলে দেয়— আর ভীত হয়ে ওঠে।
অথবা ওগুলোকে কাবাবের মতো পুড়িয়ে বা ভুনা করে খায়,
আর শ্বাসের মদিরা পান করতে করতে
পরের টুকরোর জন্য অপেক্ষা করে।
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!
হয়তো, তোমার কল্পনার প্রেরণা হয়ে
তোমারি ক্যানভাসে ছবি হয়ে নেমে আসবো;
অথবা তোমার ক্যানভাসে
রহস্যময় একটা ধোঁয়ার মতো
নীরবে তোমাকে দেখতে থাকবো, অপলক।
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!
হয়তো সূর্যের এক কণা আলো হয়ে
তোমার রঙের সাথে মিলেমিশে যাবো;
কিংবা রঙের সাথে আলিঙ্গনে মিলেমিশে
ছড়িয়ে পড়বো তোমার ক্যানভাসে।
জানি না, কোথায়, কিভাবে!
কিন্তু, তোমার সাথে আমার ঠিকই দেখা হবে ।
না হয় অন্য কোনো দৃশ্য হয়ে
ঝর্ণা থেকে যেমন পানি বাতাসে ওড়ে,
বিন্দু বিন্দু পানি হয়ে আমি তোমার শরীরে জড়াবো।
অথবা শীতল এক অনুভব হয়ে
তোমার আলিঙ্গনাবদ্ধ হবো।
আমি আর কিছু জানি না;
শুধু এতটুকু জানি যে,
অনাগত সময় যা-ই করুক না কেন,
এই জন্মে সে আমার সাথেই পথ চলবে।
এই নশ্বর দেহ ক্ষয়ে গেলে
সবকিছুই তো আসলে শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু স্মৃতির সূত্রগুলো
মহাজাগতিক মুহুর্তের মতো হয়;
আমি সেই মুহুর্তগুলো বেছে নিয়ে
স্মৃতির সুতো গুটিয়ে নেবো।
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার।


















































