২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
Tomar sathe fer dekha hobe amar-Amrita Pritam's poetry Tr by Javed Iqbal-Meghchil
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
জাভেদ ইকবাল
অনুবাদক
121

জাভেদ ইকবাল
অনুবাদক

121

অমৃতা প্রীতম-এর কবিতাগুচ্ছ

তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার ও অন্যান্য

কুইন অব পাঞ্জাবি লিটারেচার খ্যাত অমৃতা প্রীতমকে আধুনিক পাঞ্জাবি সাহিত্যের প্রথম সার্থক কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও ঔপন্যাসিক হিসেকে গণ্য করা হয়। তার জন্মনাম অমৃতা কৌর, জন্ম ১৯১৯ সালের ৩১ আগস্ট, ব্রিটিশ-শাসিত অবিভক্ত ভারতবর্ষের পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা’র মান্ডি বাহাউদ্দিন এলাকায়। লেখালেখির প্রতি ভালোবাসাটা তিনি পেয়েছিলেন বাবা কর্তার সিং হিতকরী’র কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকে ধমনীতে এক বিদ্রোহী সত্তা ধারণ করেছিলেন অমৃতা। প্রথাগত নিয়ম-কানুনকে প্রশ্ন করা আর জরাজীর্ণকে ভেঙে সরিয়ে দিয়ে নতুনকে গড়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার স্বভাবজাত। মাত্র ষোল বছর বয়সে; ১৯৩৬ সালে তার প্রথম কবিতা সংকলন অমৃত লেহরে প্রকাশিত হয়। সে বছরই তার বিয়ে হয় বাল্যকালে পরিবারের ঠিক করা বাগদত্তা প্রীতম সিংয়ের সাথে। তখন থেকে অমৃতা কৌর হয়ে ওঠেন অমৃতা প্রীতম। বিয়ের সাত বছরের মধ্যে তিনি ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

চল্লিশের দশকে প্রগতিশীল লেখক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪৪ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি নিয়ে তার সমালোচনা ও শ্লেষপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ লোক পীড় (গণরোষ) প্রকাশিত হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের বিপর্যয়ে তিনি ও তার পরিবার পাঞ্জাবি শরণার্থী হিসেবে লাহোর হয়ে দিল্লীতে চলে আসেন। অল ইন্ডিয়া রেডিও’র পাঞ্জাবি সার্ভিসে চাকরির সুবাদে তার উদ্বাস্তু জীবনের সংগ্রাম কিছুটা সহজ হয়। ১৯৫৬ সালে তার দীর্ঘ কবিতা সুনেহ্রে (সংবেদন)-এর জন্য প্রথম নারী হিসেবে পাঞ্জাব সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬০ সালে এক পুত্র ও এক কন্যাসহ তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তবে, সব পিছুটান ফেলে অমৃতা প্রীতম প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও লেখক ইমরোজের সাথে নিজের মতো, নিজের শর্তে নতুন জীবন শুরু করেন। জীবনের পরবর্তী চল্লিশ বছর, অর্থাৎ আমৃত্যু তিনি ইমরোজের সাথেই বসবাস করেন।

সুদীর্ঘ সাত দশকের সাহিত্যজীবনে পাঞ্জাবি সাহিত্যে নারীদের মুখপাত্র অমৃতা প্রীতম ২৮টি উপন্যাস, ২৩টি কাব্যগ্রন্থ, ১৫টি গল্প সংকলন এবং ৩টি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন। কালা গুলাব, রাশিদে টিকেট, আক্ষোরো কি ছায় তার আত্মজীবনীমূলক লেখা। পিঞ্জর, ডাঃ দেব, যাত্রী, দিল্লী কা গলিয়া, কোরে কাগজ, উনচাঁশ দিন এবং রঙ কা পাত্তা তার জনপ্রিয় উপন্যাস। এক বাত, কাগজ তে ক্যানভাস, কস্তুরী, এক সি অনীতা, নাগমানি এবং পাঞ্জাব দি আওয়াজ তার কবিতা সংকলন। কাহানি যো কাহানিয়া নেহি, কাহানিও কি আঙ্গান মে তার ছোটগল্প সংকলন। কাগজ তে ক্যানভাস কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৮২ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৪ সালে পদ্মবিভূষণ এবং সাহিত্য আকাদেমি ফেলোশিপ লাভ করেন। ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর, ৮৬ বছর বয়সী অমৃতা প্রীতম ইহলোক ত্যাগ করেন।

• ভূমিকা ও অনুবাদ: জাভেদ ইকবাল

The doyenne of Punjabi literature, Amrita Pritam's poetry Tr by Javed Iqbal-Meghchil. Image Source: Gettyimages
Amrita Pritam. Photography: Ulf Andersen/Getty Images

রাজনীতি

শুনেছি, রাজনীতি একটা ক্ল্যাসিক ফিল্ম
হিরো: বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী
যে প্রতিদিন নিজের নাম বদলে ফেলে।
হিরোইন: সে তো ক্ষমতার কুর্সি— সবসময় একই থাকে।
এক্সট্রা: রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য
ফাইন্যান্সার: দিনমজুর, সাধারণ প্রজা, ক্ষেতি, কৃষক
(এরা নিজ থেকে ফাইন্যান্স করে না, ওদেরকে দিয়ে করানো হয়)
সংসদ: ইনডোর শ্যুটিংয়ের সদন
সংবাদপত্র: আউটডোর শ্যুটিংয়ের মাধ্যম।
অবশ্য এই ফিল্ম আমার দেখা হয়নি,
শুধু শুনেছি মাত্র। কেননা ফিল্মটা সম্পর্কে সেন্সর বলে দিয়েছে—
‘নট ফর এ্যডাল্টস্।’

 

আদমী

অনেক আয় করেছি
ব্যয় করেছি তারও বেশি।
যা-টুকু আছে বাকি
সে আমার মূলধন:

এক-চতুর্থাংশ হিটলার,
এক-চতুর্থাংশ যীশুখ্রিস্ট,
এক-চতুর্থাংশ মনু ¹,
এক-চতুর্থাংশ মজনু ²

১. মনু- প্রাচীন ভারতীয় আইনপ্রনেতা; মনু-সংহিতা’র রচয়িতা।
২. মজনু- আরব সাহিত্যের জনপ্রিয় প্রেমিক চরিত্র।

 

আত্মমিলন

আমার বিছানা তোমার জন্য তৈরি;
তবে, আগে তোমার শরীরটাকে খুলে রেখে এসো—
যেমনটা তোমার জামা-জুতো খুলে ফেলেছো,
তেমনি— শরীরটাকে খুলে, ওখানে— ঐ টুলের ওপর রেখে দাও।

এটা আসলে কোনো ব্যাপারই না;
প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু রীতি তো থাকেই!

 

অমৃতা প্রীতম

একটা যন্ত্রণাকে
শ্বাসে টেনে নিয়েছি—
নীরবে, নিঃশব্দে,
সিগারেটের ধোঁয়ার মতো।

আর হাতে গোনা কিছু গান
আঙ্গুলের তুবড়িতে ফেলে দিয়েছি;
যেমনটা পোড়া ছাই
জ্বলন্ত সিগারেট থেকে ঝরে যায়।

 

দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিটা বয়সের একটা টুকরো
প্রতিদিন জবাই হয়ে যায়।
মানুষের এখতিয়ারে শুধু এতটুকুই থাকে যে,
জবাই হয়ে যাওয়া টুকরোগুলোকে
সে ঘাবড়ে গিয়ে ফেলে দেয়— আর ভীত হয়ে ওঠে।
অথবা ওগুলোকে কাবাবের মতো পুড়িয়ে বা ভুনা করে খায়,
আর শ্বাসের মদিরা পান করতে করতে
পরের টুকরোর জন্য অপেক্ষা করে।

 

তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার

তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!
হয়তো, তোমার কল্পনার প্রেরণা হয়ে
তোমারি ক্যানভাসে ছবি হয়ে নেমে আসবো;
অথবা তোমার ক্যানভাসে
রহস্যময় একটা ধোঁয়ার মতো
নীরবে তোমাকে দেখতে থাকবো, অপলক।

তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!
হয়তো সূর্যের এক কণা আলো হয়ে
তোমার রঙের সাথে মিলেমিশে যাবো;
কিংবা রঙের সাথে আলিঙ্গনে মিলেমিশে
ছড়িয়ে পড়বো তোমার ক্যানভাসে।
জানি না, কোথায়, কিভাবে!
কিন্তু, তোমার সাথে আমার ঠিকই দেখা হবে ।

না হয় অন্য কোনো দৃশ্য হয়ে
ঝর্ণা থেকে যেমন পানি বাতাসে ওড়ে,
বিন্দু বিন্দু পানি হয়ে আমি তোমার শরীরে জড়াবো।
অথবা শীতল এক অনুভব হয়ে
তোমার আলিঙ্গনাবদ্ধ হবো।

আমি আর কিছু জানি না;
শুধু এতটুকু জানি যে,
অনাগত সময় যা-ই করুক না কেন,
এই জন্মে সে আমার সাথেই পথ চলবে।
এই নশ্বর দেহ ক্ষয়ে গেলে
সবকিছুই তো আসলে শেষ হয়ে যায়।
কিন্তু স্মৃতির সূত্রগুলো
মহাজাগতিক মুহুর্তের মতো হয়;
আমি সেই মুহুর্তগুলো বেছে নিয়ে
স্মৃতির সুতো গুটিয়ে নেবো।
তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার
কোথায়, কিভাবে— জানি না!

তোমার সাথে আবার দেখা হবে আমার।

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত