সাচাল সারমাস্ত (Sachal Sarmast) ছিলেন আঠারো-উনিশ শতকের একজন সুফি কবি এবং মহান সাধক। তিনি তাঁর প্রগাঢ় মরমি দর্শন, প্রেম ও ঐক্যের বাণী এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি ‘সাচাল’ (সত্য বক্তা) এবং ‘সারমাস্ত’ (‘প্রেমের নেশায় বিভোর’ বা ‘ঐশ্বরিক উন্মাদ’) এই দুই অংশ নিয়ে তাঁর উপনাম গ্রহণ করেছিলেন—যা মিলিয়ে দাঁড়ায় ‘সত্যের মাতাল’।
এই উপাধিটি তাঁর জীবন ও কাব্যের মূল সুরকে ধারণ করে।
তিনি সাতটি ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন, যার জন্য তাঁকে ‘শায়ের-ই-হাফত-জুবান’ (সাত ভাষার কবি) উপাধি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কবিতা ছিল সিন্ধি, সিরাইকি, উর্দু, বালুচি, পাঞ্জাবি, ফার্সি ও আরবি ভাষায় রচিত। তাঁর জীবন, দর্শন, কার্যক্রম ও কবিতা সুফি ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ, যা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা অতিক্রম করে মানবতা ও ঐশ্বরিক একত্বের বার্তা প্রচার করে।
সাচাল সারমাস্ত ১৭৩৯ সালে বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের খৈরপুরের নিকটবর্তী দারাজা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খোয়াজা সালাহুদ্দিন ফারুকি এবং দাদা খোয়াজা মুহাম্মদ হাফিজ ফারুকি ছিলেন সুফি সাধক। ছয় বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর দাদার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। তাঁর চাচা খোয়াজা আবদুল হক ফারুকি ছিলেন তাঁর মুরশিদ বা গুরু এবং পিতৃস্থানীয়। সাত বছর বয়সে বিখ্যাত সুফি কবি শাহ আবদুল লতিফ ভিটাই দারাজায় এসে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, সাচাল সুফি রহস্য উন্মোচন করবেন। বারো বছর বয়সে তিনি ধর্মতত্ত্বে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন এবং চাচার শিষ্য হাফিজ আবদুল্লাহর কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
তাঁর বিয়ে হয় চাচার কন্যার সাথে। কিন্তু দু’বছর পর স্ত্রী মারা যান। তিনি আর বিয়ে করেননি। সাচালের জীবন ছিল সরল ও ধর্মানুরাগী। তিনি নীরবে সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছিল নির্জনতা।
তিনি এতই সাধু ও নম্র জীবন যাপন করেছিলেন যে, খুবই সাধারণ খাদ্য—ডাল ও দই খেতেন। প্রায়ই খালি পায়ে হাঁটতেন। জীবনের একেবারেই সাধারণ রূপে তিনি শান্তি খুঁজতেন। তিনি শিকার এবং মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকতেন, বলতেন যে আল্লাহর প্রেমই সবচেয়ে বড় মাদক।

সাচাল সারমাস্তের কার্যক্রম মূলত সুফি অনুশীলন, কবিতা রচনা এবং ধর্মীয় সৌহার্দ্য প্রচারে নিবদ্ধ ছিল। তিনি কাদিরিয়া তরিকার শাহ দারাজি শাখার অনুসারী ছিলেন। তাঁর গুরু খোয়াজা আবদুল হক ফারুকিকে তিনি কবিতায় প্রশংসা করেছেন। তিনি সুফি কবিতা শুনে বা রচনা করে ‘ওয়াজ্দ’ (আধ্যাত্মিক দশা) অবস্থায় চলে যেতেন, নাচতেন এবং কাঁদতেন। দু’জন শিষ্যকে নিয়োগ করেছিলেন, যারা এই অবস্থায় তাঁর কবিতা লিখে রাখতেন। তিনি বলতেন, “আমি গাইনি, তিনি নিজেই গেয়েছেন।”
সাচাল সারমাস্ত তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় সিন্ধু প্রদেশের দারাজায় কাটিয়েছেন। তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর আধ্যাত্মিক বাণী প্রচার করতেন। তিনি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং প্রচলিত দরবারি জীবন থেকে দূরে থাকতেন। তাঁর মুক্তচিন্তা ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সিন্ধু অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। হিন্দু, মুসলিম, শিখ— সব ধর্মের মানুষই তাঁর ভক্ত ছিল।
তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত সমাজ সংস্কারক। তিনি শ্রেণিবৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর গান ও কবিতা সিন্ধু অঞ্চলের লোকসংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে এবং আজও বিভিন্ন সুফি মাজারে ও লোক অনুষ্ঠানে গীত হয়। তাঁর জীবন ও কাব্য পরবর্তী অনেক সুফি সাধক ও কবিকে প্রভাবিত করেছে।
তাঁর জীবনকাল কালহোরা ও তালপুর যুগে পড়ে, যা সিন্ধুর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়। ১৮২৭ সালের ১৪ রমজানে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিন দিন নির্জনে থাকেন। তাঁর সমাধি দারাজা শরিফে অবস্থিত। প্রতি বছর রমজানের ১৩ তারিখ থেকে তিন দিনের উরস উৎসব হয়। যেখানে সাহিত্য সম্মেলন এবং তাঁর কবিতার সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়।
সাচাল সারমাস্তের দর্শন সুফি ঐতিহ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রেম, মিলন ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তাঁর কাব্যে প্রেম ছিল ঈশ্বরের প্রতি শর্তহীন অনুরাগ। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রেমই হলো স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সেতুবন্ধন।
সাচাল সারমাস্ত ছিলেন একজন এমন কবি ও সাধক, যিনি প্রেম ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন এক বিভাজিত সমাজে। তিনি শিখিয়ে গেছেন যে, সত্য ধর্ম কোনো বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রেম ও করুণায় নিহিত
তাঁর দর্শনে ওয়াহদাতুল ওজুদ তথা সত্তার একত্ববাদ একটি প্রধান স্থান দখল করে আছে। এই মতবাদ অনুসারে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, সবকিছুই এক পরম সত্তার অংশ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এবং মানুষের আত্মা ঐশ্বরিকতার সাথে একাত্ম হতে পারে। তিনি মনসুর হাল্লাজের মতো ‘আনাল হক’ (আমি সত্য) ধারণাকে অনুসরণ করেন, যার জন্য তাঁকে ‘মানসুর-ই-সানি’ বলা হয়।
তাঁর দর্শন হিন্দু-মুসলিম-সুফি চিন্তার মিশ্রণ, যা সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য প্রচার করে। তাঁর দর্শনে জীবনের উত্থান-পতন, অস্তিত্বভাবনা, সামাজিক ন্যায় ও মানবীয় অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলতেন, “তুমি নেই, শুধু তিনি আছেন; নিজেকে হারিয়ে দাও এবং একত্বের সমুদ্রে ডুবে যাও।”
তিনি প্রচলিত গোঁড়ামি, বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় ভেদাভেদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাঁর মতে, ধর্মীয় বিভাজন মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি মানবতাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে দেখতেন এবং সকল মানুষকে এক পরিবারের সদস্য মনে করতেন।
সাচাল সারমাস্তের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল ঐশ্বরিক প্রেম, মরমি জ্ঞান এবং সামাজিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সহজ, সরল ও শক্তিশালী, যা সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারত। তাঁর কবিতায় লোককাহিনী ব্যবহার করে গভীর দর্শন ব্যক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ’দিওয়ান-ই-আশেকান’, ‘দীওয়ান-ই-সারমাস্ত’, ‘সাচাল জো কালাম’, ‘দিওয়ান-ই-খুদি’, ‘নুকতা-ই-তাসাউফ’ ইত্যাদি।
তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতার চরণ হলো: ”প্রেমের আগুনে হও জ্বলে পুড়ে ছারখার, তবেই পাবে সেই পরমাত্মার দ্বার।” এই লাইনগুলো তাঁর দর্শনের মূল নির্যাসকে তুলে ধরে। তাঁর কবিতায় তিনি প্রায়শই রূপক ও প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করতেন, যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা, ফুল-পাখি, নদী-সাগর ইত্যাদি প্রতীকগুলো আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করত।
সাচাল সারমাস্তের জীবন, দর্শন, কার্যক্রম ও কবিতা দক্ষিণ এশিয়ার সুফি ঐতিহ্যের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁর উত্তরাধিকার সিন্ধুর সংস্কৃতিতে জীবন্ত, এবং তাঁর কবিতা বিশ্বব্যাপী অনুপ্রাণিত করে। তাঁর বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক, যা ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, প্রেম ও আত্মোপলব্ধির উপর জোর দেয়।
সাচাল সারমাস্ত ছিলেন একজন এমন কবি ও সাধক, যিনি প্রেম ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন এক বিভাজিত সমাজে। তিনি শিখিয়ে গেছেন যে, সত্য ধর্ম কোনো বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রেম ও করুণায় নিহিত। তিনি প্রমাণ করেছেন যে সত্যিকারের সাধনা সীমানা অতিক্রম করে মানুষকে এক করে। তাঁর কবিতা এক স্থায়ী অনুপ্রেরণা, যা আমাদের ভেদাভেদ ভুলে এক মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।

সা র মা স্তে র কি ছু ক বি তা
১.
ধর্মে আমার বিশ্বাস নাই,
বাস করি আমি প্রেমে;
‘আমিন, আমিন’ বলে উঠো তুমি
প্রেম যদি আসে নেমে।
২.
তসবি জপিনি, মাতিনি তো মোনাজাতে,
যাইনি তো কোনো মসজিদে-মন্দিরে,
করি নাই কারো উপাসনা আমি,
তবুও ভাগ্যবান!
প্রেম শুধু প্রেম রেখেছে নিত্য ঘিরে।
৩.
আপনাকে জানো, কী আছে তোমার মাঝে;
আল্লা আল্লা জিকির তুলছ কেন?
তোমার ভিতরে আল্লা আছেন বের কর তাঁকে খুঁজে।
শুনে দেখো, চেয়ে দেখো:
খোদার কালাম সাক্ষী রয়েছে,
সন্দেহ নাই কোনো,
ও সাচাল শোনো, আল্লা একক,
আল্লাই শুধু আছে।
৪.
আমরা হচ্ছি, আমরা হচ্ছি কী?
আমরা জানি না, আমরা হচ্ছি কী।
এই তো আমরা রয়েছি আশীর্বাদে,
এই তো আমরা অভিশাপে বরবাদে;
কখনও আমরা মগ্ন নামাজ-রোজায়,
কখনও আমরা তা করি যা মনে চায়;
এই বলে উঠি, ‘কেবল আমরা আছি।’
এই বলে উঠি, ‘আমরা আদতে নাই।’
ক্ষণে আমাদের চিত্ত শান্ত যদি,
ক্ষণে কেঁদে গড়ি অশ্রুর ভরানদী;
এই বলে উঠি, ‘আমরা আত্মজ্ঞানী।’
এই বলে উঠি, ‘আমরা আসলে কে?’
সাচাল, আমরা আসলে
অনাদি চিরকালীন:
বলো তবে, আর কিছু কি করতে পারি?
৫.
আমি বসেছিলাম রাস্তার ধারে,
হঠাৎই পথ আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল;
প্রাসাদের ভেতরে প্রিয়তমকে দেখলাম,
সৌন্দর্যের এক ঝলক সে দিল আমাকে;
জানালার মধ্য দিয়ে এই দর্শন পেলাম,
এক ঝলক সেই সৌন্দর্যের দেখা পেলাম;
আমি সত্যিই প্রভুকে চিনলাম,
তিনি-ই হলেন আমার সাথি,
নিশ্চয়ই তিনিই;
সব পথচলা, সব প্রকাশভঙ্গি—
সবই তো প্রিয়তমের;
প্রেম অবিশ্বাসীর সাথেও থাকে না,
বিশ্বাসীর সাথেও না।
৬.
বন্ধু, এটাই একমাত্র পথ
গোপন সেই রহস্যের পথ জানবার:
অন্যদের পথ উপেক্ষা করো,
যদি-বা তা সাধুদের খাড়া পথও হয়।
অনুসরণ কোরো না।
যাত্রায় বেরিয়ো না মোটেই।
মুখ থেকে পর্দা সরিয়ে ফেলো।
৭.
প্রেমের পেয়ালা আস্বাদ যদি নাই করলে
তবে সুফি হয়েই বা কী হল?
যোগের সাধনাই যদি না কর
তবে যোগী হয়েই বা কী হল?
হৃদয়ের রঙে রঞ্জিত হয়নি যদি
শুধু কাপড় রাঙিয়েই বা কী হল?
কাজি বই খুলে ফতোয়া শোনাক যতই
হৃদয়ের কুফর কাটতে না পারলে,
কাজি হয়েই বা কী হল?
৮.
নিঃশ্বাসে যদি সত্য না থাকে, তবে পথ বোঝে না মূর্খ।
অহংকারের দুর্গ বানায়, তার মিনার ভরে মিথ্যায়।
সত্যের পথ কেবল সেই পায়, যে গভীরে ডুবে যায়।
৯.
তিনি আছেন, তুমি নও—
নিজেকে হারিয়ে ফেল,
আর ঝাঁপ দাও ঐক্যের সমুদ্রে।
১০.
প্রেমিকরা মরে তবেই বাঁচে,
তাদের বাসস্থান প্রেমের ঘরেই।
পাগলেরা দরিয়ার মতো
ভরে তোলে ভালোবাসার পেয়ালা।
১১.
বল তো কাজি, তোমার কাজ কেমন?
তোমার কাছে কিতাব পড়ায় আনন্দ,
কিন্তু আমার কাছে তা শোক-বেদনা।
প্রেমিক তো কিতাবের সব পৃষ্ঠা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়,
শুধু একটি নাম মনে রাখে—
প্রেমিক বন্ধুর বার্তা এটুকুই।
আমাকে হত্যা করেছে বিরহ,
আর তুমি বলছ—এসো কিতাব পড়ো!
আজ আমার ঘর সাজছে সেই প্রিয়তমের আগমনে।
ভুল করে সেজদা করবে কেন?
যার ইমাম হচ্ছে প্রেম—
সে এক মুহূর্তও বন্ধুকে ভোলে না,
এটাই তো প্রেমিকের ধর্ম।
তুমি অহংকার করছো কীসের?
প্রেমে তোমার এই নাম কেবল ফাঁকা খ্যাতি।
তোমার জামাতে তোমার বিরহ
ভীষণ কুখ্যাত হয়ে গেছে।
অবশেষে আমি বুঝলাম মুর্শিদ যা শিখিয়েছিলেন:
প্রেম ছাড়া প্রিয়তমের—
‘সচল’ বলে, ইসলাম আর কুফরের
কোনোই ফারাক নেই।
১২.
এই প্রেমের পেয়ালা একবার পান করো,
তাহলে তুমি সত্যিই মাতাল হয়ে যাবে।
লোকজন হাসবে–কান্না করবে, বলবে নানা কথা,
কিন্তু তারা কি জানে আসল মত্ততার রহস্য?
যারা প্রেমের আস্বাদ পেয়েছে,
তাদের হৃদয় ভরে উঠেছে,
তারা-ই আসল সত্যসন্ধানী,
প্রিয়জনের সঙ্গী হয়ে গেছে।
১৩.
মাওলা, মাওলা, জি মাওলা, জি মাওলা
(প্রভু, প্রভু, হে প্রভু, হে প্রভু)
হে মুসা, তোমার সঙ্গে আমাকেও সেই লীলা-সদন পর্যন্ত নিয়ে চলো।
হে মুসা, আমাকেও নিয়ে চলো সেই স্থানে—যেখানে সৌন্দর্য নিজেকে প্রকাশ করে।
তুমি তো মূর্ছিত হয়ে গেলে, তবে কে দেখবে সেই প্রেমাস্পদের সৌন্দর্য?
তাঁর সাথে মিলনের কথা আর কী-ই বা বলব, হে বন্ধু!
শুধু নিজের সাথে মিলিত হতেও তো লাগে যুগের পর যুগ।
এই রূপ দেখে আমি তো হতবাক,
হতবাক, হতবাক, হতবাক, হতবাক।
হতবাক, হতবাক!
শুনেছি হাশরের দিনে তোমার সাথে দেখা হবে,
তোমার প্রেমিকরা তো এখনই এক কেয়ামতের দিবস সৃষ্টি করে ফেলেছে।
তোমার কটাক্ষ ও লাস্যের এই কৌশল,
ওগো প্রিয়, তোমার এই বিশেষ ভঙ্গিমা!
তোমার এই প্রেমে কি চমৎকারভাবেই না,
এই দীন-হীন আমি সুলতান হয়ে গেলাম।
হতবাক, হতবাক!
কাঠ পুড়ে কয়লা হয়ে যায়,
কয়লা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আমি এই পাপী এমনভাবে পুড়লাম যে,
না হলাম কয়লা, না হলাম ছাই।
মনসুর হোক, কিংবা সারমাদ হোক
অথবা শামসুল হক তাবরিজ হোক—
যখন তারা এলো তোমার গলিতে, হে প্রিয়,
প্রত্যেকে জীবন দিলো তোমার প্রেমে।
হায়, বিস্মিত আমি!
যে হৃদয় পান করে প্রেমের পেয়ালা
সে হৃদয় থাকে সদা আনন্দে, উল্লাসে।
আল্লাহ সত্য, সর্বত্র বিদ্যমান, সদা বিরাজমান।
যে হৃদয়… ওগো মাওলা, যে হৃদয়…
ওগো সাঁই, যে হৃদয়…
হে মাওলা, যে হৃদয় পান করে প্রেমের পেয়ালা,
সে হৃদয় থাকে সদা আনন্দে, উল্লাসে।
সত্য সর্বদা উপস্থিত, সর্বত্র উপস্থিত।
হে মাওলা, সত্য সর্বদা বিরাজমান।
মনসুরকে শূলে চড়ানো হলো,
“আনাল হক” ছিল তার বাণী।
ওগো মাওলা, “আমিই সত্য” ছিল তার বাণী।
যে হৃদয়… ওগো মাওলা, যে হৃদয়…
ওগো সাঁই, যে হৃদয়…
যে হৃদয় পান করে প্রেমের পেয়ালা,
সে হৃদয় থাকে সদা আনন্দে উল্লাসে।
সত্য বিরাজমান, সর্বদা বিরাজমান!
আলিই সত্য, সব সময় বিদ্যমান।
হক হক, ও হক হক, হক হক, জি মাওলা!
সত্য, সত্য, ও সত্য, হে প্রভু!





































































































































































