১১ মার্চ ২০২৬
অর্থ দ্বারা শিল্পের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। যে মাধ্যমে তা উপস্থাপিত হয়, কেবল সেই মাধ্যমের মূল্য প্রদান করা সম্ভব। এই কথা সত্য শিল্পের প্রায় সব ধারার ক্ষেত্রে—সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা, অভিনয়, কথন।
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
মাহমুদুর রহমান
কথাসাহিত্যিক
38

মাহমুদুর রহমান
কথাসাহিত্যিক

38

শিল্পের মূল্য না দিলে বাজার টিকে থাকে না

অর্থ দ্বারা শিল্পের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। যে মাধ্যমে তা উপস্থাপিত হয়, কেবল সেই মাধ্যমের মূল্য প্রদান করা সম্ভব। এই কথা সত্য শিল্পের প্রায় সব ধারার ক্ষেত্রে—সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা, অভিনয়, কথন। অবশ্য এর মধ্যে অভিনয়ে সম্ভবত নগদ অর্থ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। সেখানেও নানা রকম পর্যায়, ধাপ আছে। তবে আমাদের আজকের আলাপ সাহিত্য নিয়ে। সাহিত্যও না, সাহিত্যের মাধ্যম বই নিয়ে।

বই নিয়ে কথা উঠলেই প্রথমে আসে বইয়ের দাম। আজকের দিনে বাংলাদেশে বইয়ের প্রডাকশন বেশ ভালো হচ্ছে। ভালো কাগজ, ভালো প্রচ্ছদ, ভালো ছাপাসহ দেখনসই বইই আসছে বাজারে। কিন্তু বইয়ের দাম নিয়ে অনেকের অভিযোগ। তারা বলেন, বইয়ের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলছে। এতো দামে বই কেনা যায় না বা কিনতে অনেক কষ্ট; অনেকেই বলে থাকেন। কিন্তু সবকিছুর মতো বইয়েরও একটা দাম হওয়ার কথা। সেই দামটাও দিতে হয় স্বাভাবিকভাবেই। বাস ভাড়া থেকে শুরু করে ওয়েটারের টিপস কিংবা মদের দাম থেকে বাড়িভাড়া; কোনোটা দিতেই আপত্তি কারও হয় না। কিন্তু পয়সা দিয়ে গান শোনা, সিনেমা দেখা বা বইয়ের দাম নিয়ে ঘোর আপত্তি। প্রথম দুটো যদিও দেওয়া যায়, বইয়ের দাম নিয়ে সমস্যা বেশি।

মূলত লেখালেখি এই উপমহাদেশে বহুকাল ধরে পেশা হিসেবে ধরাই হয় না। বহু লেখক তাঁদের আত্মজৈবনিক রচনায় বারবার বলেছেন যে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে তাঁদের কুণ্ঠা হতো, কেননা বহুবার লেখক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘আপনার পেশা কী?’ একই কথা হয়ত চিত্রশিল্পীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অভিনয় অবশ্য পেশা হিসেবে সমাজে পরিচিত। এর কারণ কি? প্রচারণা?

প্রচারণা প্রয়োজন, তবে একালে এসে লেখকেরা যেভাবে নিজেদের প্রচারণা করে থাকেন, তাতে আমার হৃদয়মাঝে কিছুটা হলেও পীড়া উপস্থিত হয়। প্রচার করা যাবে না, এমন (আমি) কখনও ভাবি না কিন্তু প্রচার হওয়া উচিত কাজের, ব্যক্তির নয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচার হয়, (১) প্রতিষ্ঠিত লেখকের নাম ও মুখ; (২) যে কোনো বইয়ের প্রচ্ছদ; (৩) মূল বিষয়ের চটকদার উপস্থাপন। অনেক বইয়ের বিজ্ঞাপনে কেবল ফ্ল্যাপের লেখাটুকুই ঘুরে ফিরে তিন চার মাস দেখি। অথচ, এক্ষেত্রে প্রকাশের আগেই লেখার মূল বিষয় নিয়ে নানাবিধ আলোচনা হতে পারত। বইয়ের এক একটা অংশ নিয়ে আলাপ হতে পারত। অবশ্য নিজের ক্ষেত্রে সে কাজ করতে গিয়ে, ফিডব্যাক পাই, ‘পাঠকেরা নাকি বিভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।’ প্রকাশক জানান, এক বই নিয়ে নানা কথা বললে নাকি পাঠক খেই হারায়।

ধান ভানতে শিবের গীত গাইলাম এতোক্ষণ। বলছিলাম শিল্পদ্রব্যের দামের কথা। আসলে বইকে ‘পণ্য, পণ্য’ বলতে বলতে ভুলেই গেছি যে এর সাথে শিল্পেরও খানিক যোগ আছে। অবশ্য, বই মেলা শুরুর তারিখ নিশ্চিত হয়ে যখন অনেক ‘লেখক’ কলম খোঁজে কিংবা কিবোর্ড পরিষ্কার করে লেখার কথা ভাবে—কেননা, একটা বই প্রকাশ করতে হবে—তখন বই একটা ‘পণ্য’ই হয়; তাতে সাহিত্য-শিল্প কমই থাকে। এই লেখক ও তাদের প্রকাশকরা আসলে সাহিত্য নিয়ে ভাবেন না, ব্যবসা নিয়ে ভাবেন। যদিও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসাটাও তারা বোঝেন না।

মূলত লেখালেখি এই উপমহাদেশে বহুকাল ধরে পেশা হিসেবে ধরাই হয় না। বহু লেখক তাঁদের আত্মজৈবনিক রচনায় বারবার বলেছেন যে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে তাঁদের কুণ্ঠা হতো, কেননা বহুবার লেখক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘আপনার পেশা কী?’

তবু কিছু হলেও থাকে, শিল্প না থাকলেও শ্রম থাকে। দশদিনে দুশো পৃষ্ঠার বই নামানোও পরিশ্রমের কাজ। অন্যদিকে যারা বছর ধরে ভাবনা চিন্তা, এমনকি কাজ করে, তাদের সেই কাজের মূল্য টাকায় মাপা যায় না। আর শুধু লেখক কেন, প্রকাশক বা প্রকাশের সাথে জড়িতরাও তো কম শ্রম দেয় না। অভ্র থেকে বিজয়ে কনভার্ট থেকে শুরু করে প্রচ্ছদ, মেকাপ, প্লেট, ছাপা, বাইন্ডিং করার মধ্যে কাগজ, কালি সিন্ডিকেট পার হয়ে একটা বই করা মোটেও সহজ কাজ না। বহু মানুষের মাথার ঘাম পায়ে পড়ে একটা বই তৈরি হয়। বছর সাতেক বইয়ের সঙ্গে, বছর চারেক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে থেকে জানি একটা ‘কনটেন্ট সমৃদ্ধ কাগজ’, ‘মলাটবদ্ধ টেক্সট’ (বই হোক বা ম্যাগাজিন) প্রকাশ করতে কতগুলো ধাপ পার করতে হয়, কী পরিমাণ হ্যাপা নিতে হয়। কিন্তু আমাদের নাগরিক কালচারে এই হ্যাপার আসলে তেমন কোনো দাম নেই। দৈনিক পত্রিকা, পত্রিকার সাপ্লিমেন্ট, ম্যাগাজিন বা ঈদসংখ্যার কিঞ্চিৎ থাকলেও বইয়ের ক্ষেত্রে গোটা বইটা আসলে আলাপে তেমন একটা থাকে না।

লেখক হওয়ার আগে, আমি একজন পাঠক। আস্ত একটা বই আমার কাছে এক সময় কেবল কাগজ, লেখা আর মলাটের একটা সমন্বয় বাদে জ্ঞানের আকড় মনে হতো তবে সৃষ্টির পরিশ্রমটা এতোটা ভেতর থেকে অনুভব করতাম না। কেননা, দেখে আর ঠেকে না শিখলে বোঝা যায় না। বই প্রকাশ হওয়ার পর দেখলাম এখানে মেরেকেটে নগদ পয়সা জিনিসটা দুর্লভ। এই দেশে তৈরি হওয়া ধারা, সিণ্ডিকেট, চলমান বাতাসের দিকে চলতে পারলে কিছুটা মেলে, নাহলে একদম খালি থাকতে হয়। পয়সা না হয়, না-ই হলো। বইটার সম্মান তো থাকতে পারত। কিন্তু আমাদের নাগরিক কালচারে হাইপের বাইরের বইয়ের সম্মান নাই। অবশ্য, হাইপের বই বছর দুই পর আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের প্রকাশক, এমনকি এক কালের পত্রিকার সাহিত্য পাতা, পরে ফেসবুকের বইয়ের গ্রুপ, রিভিউয়ার এমনকি হালের বুক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা হাইপকে গুরুত্ব দেন, হাইপ তৈরি করার কথা বলেন, নিজেরা তৈরি করেন কিন্তু এই হাইপ যে আসলে সাময়িক, তাদের বাজারই ছোট করে ফেলে সেটা ভাবেন না। আদতে একটা ভালো বই নিয়ে যতদিন কথা বলা যায়, হাইপের বই নিয়ে তা যায় না।

নাগরিক কালচারের কথা বললাম কেননা এখন আর ঢাকার বাইরে সাহিত্য নিয়ে তেমন কিছু হয় না। এককালে সাহিত্য পত্রিকা হতো, পাঠচক্র হতো, এখন হয় না। মোবাইলে গেম, ফ্রি ফায়ার থেকে লুডু জনপ্রিয় হওয়ার পর এসব উঠে গেছে। জেলা শহরগুলোর কিছু ছাত্রছাত্রী, আগ্রহী তরুণ, প্রৌঢ় বইপত্র পড়লেও অ্যাক্টিভিজম নেই। কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৈরি হচ্ছে, এই পর্যন্তই। তারা আসলে সাহিত্য বা বইয়ের প্রচারের বাইরে নিজেদের মুখ পরিচিত করাতেই বেশি আগ্রহী। আর এর আগেও সাহিত্য নিয়ে যা হয়েছে তাও কমবেশি নগরকেন্দ্রিক ছিল। শহুরে সাহিত্যিকদের কাছে মফঃস্বলের সাহিত্যিকরা গুরুত্ব পায়নি।

এই মুক্ত ইন্টারনেটের সময়ে বইয়ের প্রচার, কন্টেন্ট নিয়েও ভালো কাজ হতে পারত। কিন্তু এখানে প্রকাশক, লেখক ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে আদতে বোঝাপড়া নেই। সবাই নিজের মতো ভাবে, নিজের মতো কাজ করতে চায়। এক অদ্ভুত সমন্বয়হীনতা, নেপোটিজম নিয়েই চলছে এই অ্যাক্টিভিজম। আর কাজ শেষে সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত সব মানুষকে, সব অংশকে পাওয়া যায় না। তাই শিল্প আর শিল্পের মূল্য আড়ালে পড়ে।

বইয়ের কথা বললাম কেননা এখানে (আমি) কাজ করি। এর বাইরে সিনেমার কথা বলি—আরো সহজে বোঝানো যাবে। শুটিংয়ের অনেক ক্লিপ তো অনেকেই দেখেন। একটা দেড় ঘন্টার সিনেমায় শত মানুষের কয়েক মাস বা বছরের শ্রম থাকে, এটা তো জানা। বোঝাও সহজ। আমাদের সিনেমা তো প্রায় নেই বললেই চলে। এই লেখা প্রথম যখন লিখি করোনার সময়, তখন সিনেমা ছিল না। এখন কিছু হচ্ছে। যদিও দক্ষিণ ভারতের থিম ধার করে এই সিনেমা কতদিন চলবে সেটা সন্দেহের বিষয়। আর আমাদের সিনেমা হারাচ্ছিল তার অন্য অনেক কারণের পাশাপাশি ছিল সম্ভবত এই দাম দিতে না পারা। এখন সিনেমা হচ্ছে, প্রশংসা হচ্ছে কিন্তু কয়টা সিনেমার ভেতরে ‘আমাদের’ কিছু আছে সেই প্রশ্ন রইল। তাছাড়া সুমনের হাওয়া নিয়ে অনেক কথা হলেও তার সিনেমাটোগ্রাফার নিয়ে তত কথা হয়নি। আবদুল্লাহ সাদের সিনেমা কানে প্রশংসিত হলে বাঁধনের পিঠ সামনে এসেছিল কিন্তু এই সিনেমার প্রযোজকদের আলাপ আসেনি।

নাগরিক কালচারের কথা বললাম কেননা এখন আর ঢাকার বাইরে সাহিত্য নিয়ে তেমন কিছু হয় না। এককালে সাহিত্য পত্রিকা হতো, পাঠচক্র হতো, এখন হয় না। মোবাইলে গেম, ফ্রি ফায়ার থেকে লুডু জনপ্রিয় হওয়ার পর এসব উঠে গেছে

বইয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা হলো, এখন বই আমাদের অনেক আসছে। অনেক, তবে বইয়ের কন্টেন্ট নিয়ে বলতে গেলে প্রচুর কথা চলে আসবে। সহজ করে বললে, শুরুর কথার প্রতিধ্বনি করে বলতে হয়, কাগজ আছে লেখা আছে মলাটও সুন্দর, কিন্তু সারবস্তু নেই। তাই কিছু বই দামে কম বা অনেক কিছু ফ্রি মেলে। না হলে অনেক বেশি ছাড় পাওয়া যায়। জুলাই ২০২৪ পরবর্তী সময়ে আবার বইয়ের ধাঁচ বদলে গেছে। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, ২০২৭ সাল থেকে বইয়ের ধরণ আবার বদলাবে। কিন্তু যে রকমই বই হোক, কিছু বই আসবে যার মধ্যে সাহিত্য থাকবে, গবেষণা থাকবে, কনটেন্ট থাকবে কিন্তু সেসব আলোনায় আসবে না কেননা আলোচকদের চোখ সেখানে যাবে না। আমাদের আলোচকরা এখন অপেক্ষা করেন কে তার কাছে আসে। তিনি বা তারা কারো কাছে যান না।

সব বই এক রকম হয় না। লোকাল বাস আর এসি সার্ভিসে পার্থক্য আছে। অবশ্য ভালো বই বলে যা দাবী করি, তা এখনও নিখুঁত করতে আমরা পারিনি। তবুও বলব, খুঁতো হিসেবেও যে দামে ওটা পাওয়া যায়, সেটা কেবল কাগজ, কালি, বাঁধাই, মলাট প্রভৃতির দাম। হয়ত ভালো কন্টেন্টের একটা বই প্রকাশক মনোযোগ দিয়ে তৈরি করেন না। ফেসবুক, টিকটক সেলিব্রিটি নিজের পয়সায় সেটা করে।

২০২১ সালের কথা হয়ত। আমার সমসাময়িক লেখক ওয়ালিদ প্রত্যয় (আমার) একটা কথায় ভুল ধরছিল। আমি একবার বলছিলাম, ‘ভ্যান গঘ না খেয়ে মরছে।’ কিন্তু ওয়ালিদের কথা হলো, ‘গঘের ভাই থিয়ো তারে যথেষ্ট টাকা দিতো। গঘের টাকার অভাব হয় নাই।’

প্রত্যয়ের কথা সত্য। কিন্তু আমার কথার অর্থ ছিল, গঘ যখন তার ছবি থেকে নিজের শিল্পের মূল্যায়ন চাইতেন, সেখান থেকে কিছু রোজগার করতে চাইতেন, সেখানে সে ব্যর্থ হয়েছিলেন। থিওর টাকা না, গঘের দরকার ছিল সরাসরি কেউ তার ছবি কিনবে, গুপিল তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে, এই। আজকে যেখানে তার ছবি কপি হয়ে হয়ে বহুভাবে ব্যবসায়িক লাভ হয়, গঘের জীবদ্দশায় তা হয়নি।

শিল্পের বিষয়টা এই রকম। বা শিল্পীর বিষয় এই রকম। উত্তম কুমার প্রচুর সিনেমা করেছেন, প্রচুর অর্থ কামাই করেছেন। ভালো সিনেমা যেমন করেছেন, আজেবাজে সিনেমাও করেছেন। কিন্তু তার মধ্যে ভালো কিছু করার ক্ষুধা ছিল। তার সম্পর্কে নানা লেখাপত্রে এর প্রমাণ মেলে। কলকাতায় প্রসেনজিৎ এমনকি বলিউডে এক সময় অমিতাভ বচ্চন প্রচুর বাজে সিনেমা করেছেন। কেননা তখন তাদের সিনেমারই পড়তি দশা ছিল। ওই সময় তাদের সিনেমাকে তাদেরই ইন্ডাস্ট্রি শিল্পমূল্য দিতে পারেনি। বাণিজ্যের প্রতি নজর দিতে গিয়ে কন্টেন্ট নষ্ট হয়েছিল। সম্প্রতি কলকাতার সিনেমা, বলিউডের সিনেমার পতনের কারণও এ-ই। দক্ষিণ এখন বাণিজ্যে আছে। তাদেরও পতন সামনে। আর আমাদের বইয়ের, সাহিত্যের এখন সেই দশা।

জানি না আমার এই লেখা যতজন এই পর্যন্ত পড়লেন, তাদের ঠিক কতজন চাল উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া জানেন। জমি চাষ থেকে শুরু করে বীজ বপন বা রোপন, সার দেওয়া, পরিচর্যার কথা তো বাদই দিলাম, স্রেফ ধান কাটার পর মাড়াই, সেদ্ধ, শুকানোর যে পরিশ্রম তা শিল্প থেকে কম কিছু না। অথচ আমাদের কৃষকরাই সম্ভবত সবচেয়ে কম রোজগার করেন। আমি খুব ছোটবেলায় ধানের এই চাষ এবং তৎপরবর্তী কর্মযজ্ঞ দেখে বলেছিলাম, ‘এক কেজি চালের দাম এক হাজার টাকা হলেও কম হয়।’

শিল্প, সৃষ্টি বা পরিশ্রমের মূল্য কোন মূদ্রা-মানে নির্ধারণ করা যায় না। আমরা কেবল পাত্র বা আধারের বিনিময় মূল্য দেই।

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত