একদিন রাস্তায় হাঁটছি। দেখলাম রাস্তার উপর দেয়াল ঘেঁষে বানানো ছাপড়ার দোকানে রিকশাওয়ালারা বুটের ডাল আর পরোটা দিয়ে নাস্তা করছে। দেয়ালের ওপাশেই মন্ত্রীর বাসভবন। বাসা থেকে বেরিয়েছিলাম আম্রপালি আম কিনতে। ছোটো ছেলের জন্য।
এখন যে কথাগুলো লিপিবদ্ধ করলাম, সবমিলিয়ে একটা আখ্যান তৈরি হলো। তাই না?
আমাদের সময়ে কবিতার পালাবদল ঘটেছে। কবিতায় এখন আখ্যানের জয়জয়কার। কেতাবি ও প্রচলিত ছন্দোবদ্ধ কবিতার পাশাপাশি একটা অর্গানিক ছন্দ কবিতার শরীরে লতিয়ে উঠেছে।
শুধু বর্ণনা করলেই যেমন কবিতা হয় না, কল্পনার আতিশয্যও যেমন কবিতা না হয়ে ফ্যান্টাসি তৈরি করে, তেমনি আখ্যানের ভিন্নতা কবিতাকে অন্যলোকে নিয়ে যায়। যেখানে গল্প করতে করতে, কথা বলতে বলতে একটা যাদুকরী বাস্তবতার দেখা পাওয়া যায়। সেটা আকাটা বাস্তব নয়। এই ধাঁচের কবিতায় নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্র থাকে না। বিষয়ের সীমানা ভেঙে যায়। তাই আখ্যানের ছন্দকে কবিতার শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে দিয়ে শেষমেশ তা কবিতা করে তুলতে পারাও একটা বিশেষ ব্যাপার। আর এ জাতীয় প্রকরণ আয়ত্ত করাও অবর্ণনীয় আনন্দ বটে। এই পদ্ধতিতে কবিতা চর্চা জারি থাকলে, আপনি যখন-তখন কবিতার জনন প্রক্রিয়া চালু রাখতে পারবেন। হ্যাঁ, রাগ সংগীতের মতো কবিতা বিশেষ মাধ্যম হলেও, বৈঠকি চারিত্র্য কবিতা থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। কবিতা এখন আপন মনের ব্যাপার। হাঁটতে হাঁটতেই কবিতার দিশা পাওয়া যায়। আপনার চোখ তখন কান হয়ে ওঠে আর কান তখন হাতে রূপান্তরিত হয়! কবিতার হাত-পা আছে। কলিজা আছে। আছে মাথা-ও। কবিতা অনেকাংশেই শরীরী!
এখন আসি আখ্যান কিভাবে কবিতায় বিবর্তিত হয়।
এই যে বললাম, রিকশাওয়ালারা বুটের ডাল দিয়ে পরোটা খাচ্ছে, দেওয়ালের ওপাশে মন্ত্রীর বাড়ি। আর আম্রপালি আম। এখানে কবিতা কোথায় এবং কিভাবে সংঘটিত হচ্ছে?
তাহলে বলি: তার আগে ঘটাংঘট একটা গেট দিয়ে বের হতে হয়, সামনে পড়ে একগাছা ঘাস, রিকশাওয়ালাদের পরোটা আর বুট দিয়ে খাওয়া, মন্ত্রীর বাড়ির দেয়াল, আরেকজন রিকশাওয়ালার সাথে আবাহনী মাঠে যাওয়ার বনিবনা না হলে, তার নির্লিপ্ত ভাব, আর একটা মেয়েকে চকিতে দেখতে গিয়ে কুকুরের ঘেউ শব্দে ভীতি জাগলে, লাফ দিয়ে সরে আসা, হঠাৎ আম্রপালি আম কেটে কেটে খাওয়ার ইচ্ছে, আর ছেলেকে আম্রপালি আমের ভেতরে যে কমলা কালার, সেটি আঁকতে বলা।
ভালোভাবে বোঝার জন্য পরের প্যারাটা আলাদা করে নিলাম।
এখানে আখ্যান দানা বাঁধতে না বাঁধতেই, নেরেশন ভেঙে দিয়ে যখন বলা হলো ‘আম্রপালি আমের ভেতরে যে কমলা কালার ওই রঙটা আঁকো তো দেখি’! এই যে সত্য, অথচ প্রতিষ্ঠিত কোন একক সত্য নয়, সত্য ও মিথ্যার বিচারিক অর্থকে লোপ করে দিয়ে, একটা অর্গানিক ছন্দের গোড়াপত্তন হলো, আমরা অবশ্যই কবিতার এই ঐকতানকে স্বাগত জানাতে পারি।
মুহূর্তের মধ্যেই আপনার ভাবনা থেকে সৃষ্ট অভিব্যক্তিগুলোকে খোলামেলাভাবে সাজিয়ে নিতে হবে। স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিমায়। তবে কবিতার এই বিন্যাসরীতিকে স্বতসিদ্ধ কোনো সূত্র হিসেবে ধরে নেয়া যাবে না। শেষমেশ কবিতা কোনো ফর্মুলায় আটকে থাকে না।
শুরু করলাম: গেট খুললে যে ধ্বনি তৈরি হয়, ঘটাংঘট, সেই ধ্বনি শব্দে রূপান্তরিত হলো। এইতো আপনি কবিতায় শব্দ বৈচিত্র তৈরি করলেন। ভিন্নতর আবহ গমগম করে উঠলো। তারপর একগাছা ঘাস চোখে পড়লো। ফুলগাছ নয়, ঘাস। দেখলাম একটা ছাপড়া হোটেল, দোকান নয়। আর মন্ত্রীর বাড়ি, চৌধুরিদের বাড়ি নয়। কখন, কোথায়, কিভাবে এই ঘটনাপ্রবাহ একে একে ইমেজ আর গতির রসনায় জমাট বাঁধলো আর সেটি একটা সয়ংক্রিয় ধারণায় আবর্তিত হলো, তা অনেকটাই ব্যাখ্যাতীত। এগুলো কবিতার জন্য পূর্বনির্ধারিত কোনো বিধিবদ্ধ কানুন নয়। আপনি আপনার মতোই ভাবুন। এখানে কথাগুলো উস্কানিমূলকভাবেই বললাম। উস্কানি অনেক সময় কবিতা সৃষ্টি করার বাসনাকে জাগিয়ে দিতে পারে। পারে না?
হাঁটতে হাঁটতেই কবিতার দেখা পাওয়া যায়! কবিতা বিদগ্ধ কিছু নয়। খুব সাধারণ অথচ গভীর থেকে গভীরতর। দেখার ভেতর দিয়েই কবিতার চোখ ফুটতে থাকে। যেমন একটা শিশু পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হওয়ার পর দিনের আলোয় চোখ মেলতে থাকে, কবিতাও তেমন ইনোসেন্ট। পিটপিট চোখে তাকায়। কবিতা শুধুমাত্র বুদ্ধি’র খেলা নয়। বুদ্ধি’র মারপ্যাঁচ দিয়ে কবিতাকে বেঁধে ফেলার অর্থই হচ্ছে কবিতার অকাল মৃত্যু!
অনেকেই বলেন, কবিতা দুর্বোধ্য। কবিতার প্রতি অবিচার এখান থেকেই শুরু হয়। পাঠক এবং কবি তখন একে অন্যের দিকে তির্যক চোখে তাকায়।
কবিতা বিদগ্ধ কিছু নয়। খুব সাধারণ অথচ গভীর থেকে গভীরতর। দেখার ভেতর দিয়েই কবিতার চোখ ফুটতে থাকে
অন্যভাবে যদি বলি, কবিতা হচ্ছে আলো-ছায়ার অন্তরালে চুপচাপ ঘন-ঝোপটার মতো। বৃহদাকায় বৃক্ষ সতত দৃশ্যমান আর তার উল্টো পাশেই অবিন্যস্ত ঝোপঝাড়। সেভাবেই কবিতা আপাত তুচ্ছ ও অস্ফুট প্রকৃতিকে আলোয় নিয়ে আসে। বড়’র পেছনে চাপা পড়ে থাকা ক্ষুদ্র প্রাণসত্তার সৌন্দর্যকে সামনে নিয়ে আসাই কবিতার প্রকৃত শক্তি। আমরা দেখতে পাই কবিতা কিভাবে প্রকৃতির রহস্য বারবার উন্মোচন করছে। একমাত্র কবিতাই পারে বস্তুজগৎকে প্রাণদান করতে। সব মিলিয়ে এটি অমূর্তকে এমনভাবে মূর্ত করে তোলে যে, একসময় সেই ভাষ্য আমাদেরকে স্পর্শ করার মতো ইন্দ্রিয়জ অনুভূতি দেয়।
কবিতা সবসময়ই নিশ্চিত হওয়াকে অগ্রাহ্য করে। মাধ্যম হিসেবে এটি দার্শনিক বিষয়বস্তুকে ধারণ করলেও কবিতা কখনো ব্যাখ্যা’র দিকে ধাবিত হয় না। যা অনিশ্চিত হঠাৎ-ই কবিতায় সেই অবস্থাটা সামনে চলে আসে। যেহেতু আখ্যানের কাব্যিক শক্তিকে আপনি কবিতায় জুড়ে দিতে চাচ্ছেন, তখনই গদ্যের যুক্তির পরম্পরা কিংবা শৃংখল ভেঙে যায়। যাকিছু বর্তমান, কবিতা তাকেই ভবিষ্যতের হাতে তুলে দেয়।
চলুন এখন ভিন্ন একটা বাস্তবতায় ঘুরে আসি। একদিন আম্মার জন্য মেরি বিস্কুট কিনতে যাচ্ছি! যখনই বিস্কিটের প্যাকেটটা হাতে নিলাম হঠাৎই নীল রঙের জ্যোতি প্যাকেটটা থেকে ছড়াতে লাগলো। আর যীশু খ্রিষ্টের আম্মা মেরির কথা মনে পড়ে গেলো। এই যে চিরকালীন মাতৃত্ব আর তার মিথ, এধরণের আর্কিটাইপ কবিতাকে আলাদা ডাইমেনশনে নিয়ে যায়। তখন পার্থিব জগতের সাথে অপার্থিব জগতের মধ্যে ভিন্ন এক লয় তৈরি হয় ।
গুস্তাভ ইয়ুং যৌথ অবচেতন মন নিয়ে যে তত্ত্ব হাজির করেছিলেন, যেমন আমরা আদিম অবস্থায় বনে বসবাস করতাম, দল বেঁধে শিকারে যেতাম, এই যৌথ অবচেতন মনের কারণেই আমরা বনে কিংবা অরণ্যে বনভোজনে দল বেঁধে যাই। আধুনিক সমাজে সেই আদিম অবচেতন মন আমরা এখনো বহন করে চলছি। কিংবা কোনো উৎসবে আমরা একসাথে বসে আহার করি, মাংস ছিঁড়ে খাই, সেটাও আদিম অবচেতন মনেরই অবশেষ। কবিতায় অবচেতন কিংবা যৌথ অবচেতন মনের প্রভাব বিস্তর:
আমার আদি-পুরুষের মধ্যে যে
লোকটা কিছুটা লম্বা আর
শ্যামলা রঙের ছিলো, অন্যান্য
শিকারিদের সাথে গোল হয়ে বসে
খাওয়ার সময় সেও হয়তো
হাড্ডি কমঅলা মাংস পছন্দ করতো
আর পোড়া মাছ ছিঁড়ে খেতে খেতে
১০ হাজার বছর আগে এরকম একটা
শীতের রাতে তার চোখও আনন্দে
চকচক ক’রে উঠেছিলো নাকি?
আমার চোখের সাথে সেই
চোখের মিল কতটা ছিলো,
যদি একবার জানতে পারতাম
তো এই যে বলছিলাম, মেরি বিস্কিট থেকে মাতা মেরি’র দর্শন পাওয়া, তা আমাদের সাব-কনশাস মনেরই প্রতিফলন। যীশু যদি চিরন্তন এক শিশু হয়, মাতা মেরি যদি চিরন্তন এক আম্মা হোন, আর আপনি-আমি তখন যীশু হয়ে উঠি আর মেরিও তেমনি আর্কিটাইপ আম্মা কিংবা মাদার হিসেবে আবির্ভূত হোন। মেরি বিস্কিটের কথা বলতে বলতে মাতা মেরি যেভাবে যাদুমন্ত্রে বিরাজিত হলেন, এই রিফ্লেক্স একমাত্র কবিতাতেই সম্ভব হতে পারে?
কবিতা শুধুমাত্র বুদ্ধি’র খেলা নয়। বুদ্ধির মারপ্যাঁচ দিয়ে কবিতাকে বেঁধে ফেলার অর্থই হচ্ছে কবিতার অকাল মৃত্যু!
এখন আসি রাজনৈতিক কিংবা সামাজ ঘনিষ্ঠ স্বর কবিতায় কিভাবে মূর্তমান হয়ে ওঠে। রিয়েলিটি’র ধর্ম আর কবিতার ধর্ম এক নয়। কবিতা রিয়েলিটি’র মর্মকে উপলব্ধি করতে পারে, কিন্তু তাকে সাজিয়ে তোলা কবিতার কাজ নয়। এমনকি কোনো ঘটনাকেও চিহ্নিত করা নয়।
আমরা চোখ তুলি আবার ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমিয়ে পড়লেই যেনো আর কিছু ঘটে না। উটপাখি যেমন মরুঝড়ের মধ্যে পড়ে মরুভূমির বালুতে মুখ লুকায়, আর ভাবতে থাকে কোথাও কোনো ঝড় হচ্ছে না। আমজনতার ঘুমও তেমন। দীর্ঘ দীর্ঘ ঘুম। একবার জেগে উঠছে আবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। আমাদের সংকটও এভাবেই ঘনীভূত হয়:
ঝড় আসলে উটপাখি
বালির মধ্যে মুখ
গুঁজে রাখে যেমন
আমরাও বালিশে মুখ
গুঁজি আর ভাবি
কোথাও হয়না তো
তেমন উপদ্রব
মুখ তুলি আর পরক্ষণেই
ঘুমিয়ে পড়ি আমরা
এরকম দীর্ঘ দীর্ঘ
ঘুম আমজনতার
ফরাসি কবি আঁরি মিশোর কবিতায় প্লুম নামে একটা ক্যারেক্টর আছে। প্লুম বারবার ঘুমিয়ে পড়ে। একসময় পিঁপড়েরা তার বাসার ছাদ খেয়ে ফেলে, উপরে দেখা যাচ্ছে আদিগন্ত খোলা আকাশ। প্লুম জেগে উঠেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে। একবার তার বাসার মাঝখান দিয়ে ট্রেন চলে যায়। প্লুম এবার ভেজা-ভেজা অনুভব করে। জেগে উঠে দেখে তার স্ত্রী খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে রেললাইনের দুপাশে পড়ে আছে। এতোসব দেখেও প্লুম আবার ঘুমিয়ে পড়ে৷ তাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। বিচারের কাঠগড়াতেও সে ঘুমিয়ে পড়ে। তো এই হচ্ছে দগদগে বাস্তবতা। শুধু উপস্থাপনার জন্যই তা বিশিষ্ট হয়ে উঠছে। আখ্যানের বর্ণনার জন্য নয়।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের আশা ও নিরাশাকে যেভাবে বিচার করা হয়, সেভাবে কোনো সংকটকে সরাসরি বিচার করা কবিতার কাজ নয়। কবিতা ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু তার দুর্দশাকে পুঁজি করে নয়। কবিতাই স্বয়ং উদ্বাস্তু হয়ে কথা বলে ওঠে। নিরাশ্রয়ের হৃদয়ে কবিতা বাসা বাঁধে। নিরাশ্রয়ের কণ্ঠস্বরই কবিতা। কবিতা ও শ্লোগান দুটি ভিন্ন রূপ। কবিতার ভাষা আর শ্লোগানের ভাষা এক নয়। শ্লোগান কখোনই কবিতা নয়, তবে কবিতা কখনো কখনো শ্লোগানের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের আশা ও নিরাশা যেভাবে বিচার করা হয়, সেভাবে কোনো সংকটকে সরাসরি বিচার করা কবিতার কাজ নয়
যখন খবর আসে কেউ মারা গেছে, খালি খালি লাগে, আবার ভুলে যাই। বেধড়ক পিটিয়ে খুন করলে, খবর শুনে, ছবি দেখে, কিভাবে পারে, কিভাবে পারে বলতে বলতে এই হা-হুতাশ; ঘুমিয়ে পড়ি একসময়।
সমসাময়িক ঘটনাকে কবিতায় আনতে পারা একটা বড় পরীক্ষা। কখনো কখনো কবিতা আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষের মতোই অনেক বেশি জান্তব। একবার একটা অফিস আগুনে পুড়ে গেলো। অতীত থেকে ফিরে এসে এক জ্বলন্ত মানুষ বিল্ডিং বেয়ে উঠে আসে, অফিস রুমে তার পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার দেখার জন্য। কম্পিউটারের সার্কিটের মতোই আমাদের হৃদয় পুড়ে গেছে৷ কিংবা প্রতিহিংসায় উন্মত্ত মানুষ কাউকে আগুনে পুড়িয়ে যতো বেশি মারতে চাইছে, সে ততোই জ্যান্ত হয়ে উঠছে। নরকের আগুনও যেনো কেঁপে উঠছে। কবিতা সেরকমই, হিম-ঠাণ্ডা। শীতল। জ্যান্ত।
যতোই মরছিলো
ততোই বাঁচছিলো
লোকটা হাসছিলো
এমন পোড়া এক
মানুষ দেখে আজ
নরক কাঁপছিলো?
আমরা অপেক্ষা করি সেই কবিতার জন্য, লক্ষ লক্ষ মানুষেকে যে কবিতা আন্দোলিত করতে পারে! যে কবিতা উচ্চারণের সাথে সাথেই কবির চোখ থেকে আগুন ঝরে পড়ে। এক মর্মভেদী উচ্চারণে তিনি দুনিয়ার দানবরূপী তথাকথিত বিশ্ব-মোড়লদের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। শ্রোতা-মণ্ডলী আবিষ্ট হয়ে সেই কবিতার তালে তালে দুলে উঠছে আর একই সাথে মুষ্টি উত্তোলিত করছে। সেই শব্দ, সেই সুর, সেই সম্মোহন যেনো সমগ্র দুনিয়ার মানুষকে অঙ্গুলি হেলনে একত্রিত করতে পারছে নিমিষেই।
কবিতায় মাঝামাঝি বলে কোনো জায়গা নেই। একটা এস্পার-ওস্পার ব্যাপার আছে। হয় ব্যক্তির আত্মার পরিপূর্ণ উন্মোচন কিংবা যুগের বেদনাকে সামগ্রিকভাবে ধারণ। শুধু কবিতার দায় নয়, একটা সামাজিক দায় চিকন রেখায় এঁকে যাওয়ার জন্য কবিতার তুলি হাতে কখনো কখনো প্রস্তুত থাকতে হয়। আপনারা কি প্রস্তুত?





























































































































