২৩ এপ্রিল ২০২৬
How to Read a Book
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
আহমাদ মাযহার
প্রাবন্ধিক, গবেষক ও অনুবাদক
113

আহমাদ মাযহার
প্রাবন্ধিক, গবেষক ও অনুবাদক

113

বিশ্ব বই দিবস

হাউ টু রিড আ বুক

আমেরিকায় বসবাস করতে এসেছিলাম ২০১৭ সালে। যে বাড়িতে উঠেছিলাম সে বাড়ির আগের মালিক জার্মান বংশোদ্ভূত ইনগেবর্গ লাসটিং ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। তিনি স্থাবর অস্থাবর বেশ কিছু জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন যার মধ্য ছিল কিছু বই। তাঁর বইসংগ্রহ রুচির কিছু পরিচয় পেয়েছিলাম। তাঁর সংগ্রহ সম্পর্কে বিস্তারিত হয়ত অন্য কখনো লিখব। আজ ‘বিশ্ব বই দিবস’ বলে তাঁর সংগ্রহের একটা বই আজকের জন্য প্রাসঙ্গিক মনে করে সেটা নিয়েই লিখছি।

বইটির নাম ‘হাউ টু রিড আ বুক’। এর লেখক মর্টিমার জে. অ্যাডলার। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। পুনর্লিখিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। ইনগেবর্গ লাসটিংয়ের সংগ্রহের কপিটি ছিল প্রথম সংস্করণের বোর্ড বাঁধাই। পরে অবশ্য এক বন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য অ্যামাজন থেকে সংগ্রহ করেছি এর আগে ব্যবহৃত পেপারব্যাক সংস্করণ। সেটা পেয়ে দেখলাম এটি মর্টিমার জে. অ্যাডলার এবং চার্লস ভ্যান ডরেনের পুনর্লিখিত যৌথ রচনা। ব্লার্বে বলা আছে পঠনশিল্প নিয়ে এটি ‘একটি প্রভাবশালী বই’। প্রথম সংস্করণের উদ্দেশ্য ছিল মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের পঠনশিল্প শেখানোর জন্য; বিশেষ করে ‘গ্রেট বুকস’ পড়ার উপযুক্ত পদ্ধতি বোঝাতে।

পরে, ১৯৭২ সালে, চার্লস ভ্যান ডরেনের সহ-লেখকতায় বইটির একটি সম্পূর্ণভাবে পুনর্লিখিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়। বন্ধুর জন্য কিনতে গিয়ে সেটাই পেয়েছিলাম। বন্ধুকে দেয়ার আগে উল্টেপাল্টে দেখতে গিয়ে মনে হলো এখন আবারও কিনতে হবে নিজের জন্য। কারণ দ্বিতীয় সংস্করণটি বেশি প্রাঞ্জল ও উপযোগী। এই সংস্করণে পঠন স্তরগুলোর ব্যাখ্যা আরও উন্নত করা হয়েছে, নতুন অধ্যায় যোগ করা হয়েছে এবং যোগ হয়েছে কিছু ব্যুৎপত্তিগত ও দার্শনিক বিশ্লেষণ। এটা নতুন যুক্ত হওয়া লেখক চার্লস ভ্যান ডরেনের অবদান।

এই বইটি যেকোনো ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো সমালোচনামূলকভাবে পড়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেয়। বইটি পঠনকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেছে:

পর্যবেক্ষণমূলক (inspectional)
বিশ্লেষণমূলক (analytical)

পর্যবেক্ষণমূলক পাঠে অন্তর্ভুক্ত আছে ভূমিকা, সূচিপত্র ও সূচিকে দ্রুত স্ক্যান করা—যার মাধ্যমে মূল ধারণাগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো চিহ্নিত করা যায়। বিশ্লেষণমূলক পাঠে পাঠককে বইটি শ্রেণিবদ্ধ করতে হয়, এর কাঠামো নির্ধারণ করতে হয় এবং লেখকের যুক্তি ও প্রধান শব্দগুলো ব্যাখ্যা করতে হয়।

How to Read a Book & Charles Van Doren
১৯৪০ সালে প্রকাশিত হাউ টু রিড আ বুক ও লেখক মর্টিমার জে. অ্যাডলার

গুগল করে দেখলাম বইটি পাঁচ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। সাধারণ পাঠকের পাঠবোধ্যতা বৃদ্ধির জন্য ৮০ বছর ধরে বইটি যে সফল ও নির্ভরযোগ্য একটি গাইড তা বললে হয়তো অতিকথন হবে না। বইটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে লেখা হয়েছে এবং এতে নতুন অনেক কিছু যোগ করা হয়েছে।

বইটি পাঠকদের চারটি স্তরে পাঠপদ্ধতি আয়ত্ত করতে শেখায়। “বই পড়া”কে উপস্থাপন করে একটি সক্রিয় ও বিশ্লেষণমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপ হিসেবে।

বইয়ের প্রথমভাগের শিরোনাম: The Dimensions of Reading
এই ভাগের প্রথম অধ্যায়ে বলা হয়েছে The Activity and Art of Reading। এখানে বলা হয়েছে, বই পড়া একটি সক্রিয় কাজ, কেবল চোখ বুলিয়ে যাওয়া নয়। একটি ভালো বই পড়া মানে লেখকের চিন্তার স্তরে পৌঁছানো। দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম: The Levels of Reading। এখানে আবার পাঠকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।

এক. প্রাথমিক পঠন
দুই. পর্যবেক্ষণমূলক পঠন
তিন. বিশ্লেষণমূলক পঠন এবং
চার. সিনটপিক্যাল বা তুলনামূলক পঠন

দ্বিতীয় ভাগের শিরোনাম: The Third Level of Reading: Analytical Reading
এর অধ্যায়গুলোতে বিশ্লেষণমূলক পাঠ কীভাবে করতে হয়, তা শেখায়। এতে বলা হয়: বইয়ের মূল গঠন (Structure) বোঝা। লেখকের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা তথা মূল ধারণা ও যুক্তি শনাক্ত করা এবং লেখকের সঙ্গে যুক্তিবহ বিতর্কে প্রবেশ করা (Critically Agree or Disagree)।

তৃতীয় ভাগের শিরোনাম: Approaches to Different Kinds of Reading Matter
পাঠ্যবস্তুর ধরনভেদে পাঠপদ্ধতির রূপ কেমন হওয়া উচিত, তা আলোচনা করা হয়েছে এখানে। ইতিহাসের বই, বিজ্ঞানের বই পড়বার কী পদ্ধতি তা আলোচনা করা হয়েছে। আর আছে ভালো পাঠক হতে হলে ক্ল্যাসিক হিসেবে পড়া থাকা জরুরি এমন একটা বইয়ের তালিকা। বাঙালি পাঠকের কাছে হয়তো তালিকাটি সম্পূরক হয়ে উঠতে চাইবে!

২৩ এপ্রিল ’২৫

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত