আল্পনা
ঝরঝরে মাটির ওপর দিয়ে
ফুল তোলা নকশা কেটে চলে যায়
একদল পরিযায়ী হাওয়া,
এমন করে পৃথিবী বুঁদ হয়ে গেল―
কোনো চিহ্ন রইলো না আর ডোরাকাটা জ্যোৎস্নায়।
শুধু কয়েকটা পাতা মাটিতে ছিঁড়ে পড়ে,
ভেঙে যাওয়া সময়ের টুকরো মুখে নিয়ে
অদৃশ্য হতে গেলে
মৃত্যুর গায়ে অসংখ্য আল্পনা ফুটে ওঠে।
স্পেস
যেনো কিছুই লিখবে না এমন একটা দুপুর এসে
স্পেস চেপে বসে আছে ডেস্কের মনিটরে
এই যে একঘরে হয়ে বসে আছি―
কিবোর্ডে লিখে একটা সরলবাক্য
রি-স্টার্টে ফসকে গেলেও কোনো ক্ষতি নেই;
বরং পুনুরুদ্ধার করি মাটির সংকলন থেকে বীজের কণ্ঠস্বর
কুঁড়ির বেদনা থেকে যেভাবে প্রস্ফুটিত হয়
নীরবতার ভাষা, আমিও তেমন পরিমিত ও
স্বাস্থ্যকর বেদনার পাশে দাঁড়িয়ে
অনূদিত হই সামান্যের কাছে।
বিষায়িত জলে অন্ধকার
(ম্যাগডিলিনা মৃ’কে)
আমার শুধুই তোমাকে পাওয়ার চেষ্টা
এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়
এক শরীর থেকে অন্য শরীরে
যে দিকে চোখের তারা সরে যায়,
বুকের সুতো ছিঁড়ে যায়,
ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে
বিষায়িত জলের অন্ধকার।
কখনো বিকেলের হাওয়ার যেন
কী রকম গুনগুন করে কাঠচেড়াইয়ের শব্দ
অথচ কী পাবো এমন নির্বিবাদে
কয়েকটি শতাব্দী কেবল তাকিয়ে দেখছে
আমার শুধুই তোমাকে পাওয়ার চেষ্টা
পথ
যেনো আমারই শরীরে বিছানো
ইটের গাঁথুনি থেকে এইমাত্র উড়াল দিল
একটা শালিক,
তার পায়ের ছাপে পিঠের ভাঁজ খুলে
যেদিকে সেজদা দিয়ে দাঁড়াই
আমাকে পাখি হতে বলে
পড়শিবেলার তাড়া খাওয়া মাছ,
সাপুড়ে দুলালকানাই।
আমি বেফিকর দিলের কাছে হাত পাতি
একটা জলঢোড়ার সমস্ত মগ্নতায়
নত হয়ে বাতাসে ডুব দিই—
রূহ এর বন্ধক রেখে আসমানে
সিধ কাঁটা মাটির-শরীরে বাজে ‘আল-বাছীর’
কে জানে?
জীবন আর মৃত্যুর কাসিদা লিখে যে মিহির
তার সামান্য ইশারায় পুলসেরাত হতে পারে
একটা দাগকাটা শামুকের নামলিপি।
বোধিচিত্ত
এক মুঠো ধূলিকণা হয়ে বালিঘড়ির মতো চুইয়ে পড়ছে আমার ‘আমি’ কোনো এক সুরঙ্গ পথে। বিবশ পিঁপড়ে চিনির দানা মাথায় নিয়ে জপ করছি তোমার নাম। এত শব্দহীন তরঙ্গের স্পর্শ গলে পড়ছে টেবিলে— ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সে ধূলিকণা। তোমার নামে ক্ষয়ে যাচ্ছে হাওয়া, জল, বায়ু আর বৃহদ্রথের আত্মতত্ত্ব। আমি এখন নাবালক! দুঃখরোধী জ্যাকেট পরে ভাসছি জগতের ঘর-দোরে। আমার দু-পাশে পা গলিয়ে ডুবে যাচ্ছে মাটির পুতুল, পৌষের নদী। অথচ এক ভঙ্গুর ভালোবাসার শহরে কয়েক শত অনিশ্চয়তা ঠেলে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি বোধিচিত্তের।
যাত্রা
আমার এখন যাওয়া বলে কিছু নেই
বাড়ি ফেরার কথা মনে হলে,
মায়ের গরদের শাড়ি থেকে ছেড়া সুতো
কিছু উঁকি দেয়!
সুতো এত পুরানো আর রংচটা যে
ছিঁড়ে যেতে যেতে সন্তানের আয়ুর কাছে
বন্ধক রাখে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো
কিছু মায়াফুল!
ফুলগুলো ঝরে গেলে শাড়ির জমিনে
এক আশ্চর্য রিফু ভেসে ওঠে!
ফার্স্ট ডেটিং
তোমার
কার্ডিগানের বোতাম খুলে
সযত্নে রাখা একটা ছায়া
বিস্তৃত হচ্ছে আমার দিকে
কোথাও ক্রমাগত বিষাদ,
শব্দের ভেতরে থাকা
এক-একটা ভাঙ্গা ডানা
উড়ন্ত মানুষের স্মৃতিকে আবছা
করে রাখে উচ্ছল নক্ষত্রে
তবুও
মৃত মানুষের চোখের মতো ঠান্ডা
পৃথিবীর ভেতর এমন মৃদু
সব গতির দৃশ্য
গায়ে গায়ে মাংসের অনুভূতি নিয়ে
কেউ এখানে রেখে যাবে
পরস্পর!






































