২৯ এপ্রিল ২০২৬
বৃষ্টি হবে আরও, আমাকে থাকতে বলো
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য

কবিতাগুচ্ছ

বৃষ্টি হবে আরও, আমাকে থাকতে বলো

ঘুম-মানুষ

পাতা থেকে একফোঁটা শিশির নিয়েছে সঙ্গীপাতা।

মোরগ-এলার্ম বেজে যাচ্ছে, ওঠো…
মাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না ঘরে—
মা’র কাছে দানা খোঁটা শিখে মুরগীছানারা!

ঝরাপাতাগুলো রাত্রিঘামে সেরে নিল দাফন-গোসল।

ব্রিজের ওপারে এখনও খোলেনি মহসিনের দোকান।

বেঞ্চিতে হেলানো খেলনা টায়ার মাটির পেস্ট মাখা।

ভোরের নারীটি এক নাস্তার নগর—
তটস্থের কাক খুবলে খাচ্ছে তার ঘুম-মাংস।
ঘুমন্ত সুন্দর তুমি ফ্লাসে ধরো—
আমাদের কবিতায় এটা দেখা যায়।

‘বিষয়: ঘুমের ফাঁদ’ – উৎকৃষ্ট কবিতা লেখা দরকার।

সূর্যইঁদুরের ঘুমকাটা শব্দে চোখ ঝুলে পড়ে।

ভোরে— স্বিগ্ধধ্বনি: ওঠো সোনা—
এ-রকম ডাকসূত্র তুমি ভাবো!

 

লীলাবতী

লীলাবতী, এই লাল মেঠোপথ, কাঁঠাল সৌরভ
ঝুলছে গাজীপুরের পথে পথে।

নরম অভিনিবেশে কিষাণী তুলছে বর্ষাধৌত শাক।
পুকুরে, জলকলমী দুলছে ডাহুক মেয়েটির পায়ে।

আমাদের চোখ থেকে তারাগুলি কোথায় চলেছে!
লীলাবতী, এসো, ডেকে তুলি নিজেদের ভেতর-ডাহুক।

দ্যাখো, গাজীপুরে, লালমাটি থেতলে থেতলে আমি যাচ্ছি।
বৃষ্টি হবে আরও। আমাকে থাকতে বলো…

 

একটি শান্ত ঘুমের ইচ্ছে

সময়— এখানে ঘণ্টাধ্বনি খুলে ঘুমিয়ে রয়েছে। দেখি, পাখিশূন্য নিষ্ঠুরতা আর রাত্রিকুয়োর গ্যালারি। ঘুমের ভেতর আড্ডার উড্ডীন শ্বাসাঘাত ছুঁড়ে দিচ্ছি, যদি, এইঘর, ভেঙেচুরে হয়ে ওঠে মর্মের আকাশ— গৃহকে বেলুন ভেবে, তোমার বাগান ছেড়ে এখানে থমকে আছি। ফুলের গূঢ়তা, একবার, চৈতন্যের শ্বাসে ঢুকে গেলে, কে আমাকে রােখে স্বপ্নহীন! একা, একটুকরো গগন রচি— এখন, বিছানা মহাশূন্য, গল্পপ্রিয়— চিন্তার তরলগুলি এক-একটি দিগন্ত, আর, প্রতিটি দিগন্তে শুনি সৃষ্টির মন্থন।

কেঁদে যাচ্ছি আমি, আমার ভেতর!

বদ্ধতার ওপারে জলের জরায়ুতে ঢুকে সমুদ্র দেখিনি— নিজেকেই বলি, ওঠো, নুনচাষ হই। আকাশে হলদে মেঘ— চাঁদের যন্ত্রাংশ খুলে, ছায়ার গুহামেশিন নামে আঙিনায়। বৃষ্টি হোক; জলের জড়ুল থেকে তুলে নেই চর্বির চেতনা— এবং গলতে থাকি। দরোজার হাড় ভেঙে মজ্জার মৈথুনে ভেসে যাক চোখশব্দ, ভাদ্রকুকুরের শ্বাস আর নরম থুথুর জিভ। আজ, স্তনবতী চোখে, রক্তাভ হ্রদের সাথে, আমাকে মিশিয়ে দাও। মহাশূন্যের ওপারে, আমি, রক্তগুল্মের ইশারা রুয়ে-রুয়ে ঠান্ডা-ঠান্ডা ঘুম দেব—

বিড়ালের মতো, নিবিষ্ট আঁতেল…

 

পলায়ন

রোদের পেখম মেলে পড়ে আছে স্ব-শব্দ স্লুইসগেট।
তীরন্দাজ চোখে, ধ্যানে, মাছরাঙা খুঁটির চুড়ায়
আর ধানখেত অভিমুখী জলের পা। মাছ, যাও—
সৌর-রোদে জমা থাক তাপদাহ, মনস্তাপ।

উপলব্ধি, ভেজা— গাঢ় ও লীলাভ।
দৃষ্টির নিকেলে, তুমি, ভেসে ওঠো মাছ!

জলের মস্তিষ্ক ফাটিয়ে হাসছে রুপান্তরের আকাশ! উল্টে-পড়া-নীল-ডিব্বা এবং মেঘেরা
ঢাকতে চাইছে আকাশের উলঙ্গতা— মেঘ,
গ্রাম-কিশোরীর হাত— তার বোধগুলি নীল, দূরে—

তবে, কাছে এসে বসে থাকে চিরায়ত মাছরাঙা!

ঝুপ! ডানা থেকে জল পড়ে। …মাছ!
ঘড়িমুখে হৃদকম্প। টিকটক। টিকটক… এবং এখানে,
হাওয়ার হরিণ শুঁকে যাচ্ছে জলেদের বন।
আর দ্যাখো, চোখ ছেড়ে উড়ছে মেছো-ঈগল।

ভাবো। আয়ু হলো ভাবনার নীল বৈঠা।

মাছরাঙা উড়ে যাচ্ছে… তুমি দ্যাখো, তুমিই পালিয়ে যাচ্ছ!

 

পাখি

নিজের কাছেই অনন্ত ডানার উপলব্ধি!

পাখি চলে গেলে, পাখি এসে বসে ভেতর গাছের ডালে!
তাড়া দাও— দ্যাখো, পাতারা নড়ছে, আর,
ডানাগুলি টেলিপ্যাথি— ওড়ো।

ডানার ডাক্তার, তুমি, কতদূর যাবে উড্ডীন চিন্তায়!
মানুষ, সম্পূর্ণ পরিজনশূন্য— চলে যেতে চায়, শুধু,
মাঝে-মাঝে ডালে বসে বিদগ্ধ অসুখে।

ওড়ো। কিছু্ক্ষণ বসো। ওড়ো…

দ্যাখো, কয়েকটি গাছ কেউ কেউ লাগিয়ে রেখেছে।

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত