বিপণন
ঘরের বিপরীতে হেঁটে
দূরতম দ্বীপের কাছে বলি
আমাকে একটি একটি করে
ঊনত্রিশটি ঘর দাও
বদলে তোমাকে শিখিয়ে দেবো
ঝড়ের সমীকরণ
নিতান্তই অন্ধ না হলে
তুমিও দেখতে পাবে
চুমুর বিজ্ঞাপন লেখা ঠোঁটে
একশ এগারোটি গাংচিল
স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছে
আর তাদের ডানাবর্তী ঘরে
সুখ বিপণনের শরীরগুলি
ক্রমশ নেতিয়ে পড়ছে।
কানাই লাল
সব মিথ্যে গজল কানাই লাল
আকাশ ভরে গেছে দুর্বৃত্তায়নের মেঘে
বৃষ্টি যে নামে তা বৃষ্টি নয়
আবাবিলের প্রকাশ্য কান্নার একাংশ
বাকী অংশ বন্ধক দিয়ে
সৎকার করেছে জ্যান্ত প্রেমিকার
তুমি এসবের কিচ্ছু জানো না কানাই
তোমার নামের লাল নিয়ে যুদ্ধ হবে
সন্তান হারাবে মাতা-পিতা
বোনের হারানো যাবে ভাই
আঁচলের নরম গিট খুলে
নম্র কার্তিকের দিনে
অহংকারে মাথা উঁচু করে
দাঁড়িয়ে থাকবে দরিদ্র মানুষ
তাদের গায়ে জামা থাকবে না
গজলের সুগন্ধি উৎপাদন করতে গিয়ে
কেউ হারিয়ে ফেলবে সম্ভ্রম
কেউ ছিনিয়ে নেবে আরেকজনের
ভিটে মাটি হালের বলদ
মানুষ মানুষের রক্ত দেখে আনন্দ পাবে
তোমার নামের লাল রাস্তায় গড়াবে
শুধু কানাই হয়ে বাঁচতে পারবে না
গজলের ধারদেনা শোধ করে মরতে।
চাঁদপুর ভ্রমণ
আপাতত সরু
মদের শিশির পাশে দাঁড়াও
তারা গেন্দা ফুলের সাথে কোন্দলে
জড়ানোর পূর্বে ভেবে নাও
জোছনায় চাঁদপুর ভ্রমণ মোহনীয়
না-কি একটা একটা শাড়ি ছিঁড়ে
গণতন্ত্রের চোখে পট্টি বাঁধার উৎসব
আয়োজনে অংশগ্রহণ
অল্প নেশায় ট্রিগার টেনে
বজরার ছাদে বসে থাকা সারারাত
মনে মাগীবাড়ির কাঁচা খিস্তিখেউড়
আউড়ে শরীর গরম হলে ঝাঁক ঝাঁক
ইলিশের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেই
তোমারও বেড়ে যাবে বাজারদর
ধনীর ব্যাগে উঁকি দেবে লেজ বাহার।
দেখা না হলে
সাপের মন্ত্র গলায় নিয়ে
ছোবল খাবার আগ মুহূর্তে
আমিও ডেকে যাই প্রেমিকের নাম
বলি সোনার সংসার হোক তার
ফুলের অধিক ফুটফুটে ছেলে-মেয়ে
স্ত্রী অহংকারী হোক কিছুটা জেদি
বিষ ছড়িয়ে পড়া শরীরে
অপেক্ষার চারাগাছ ফুটে বেরুলে
একেকটি গাছ থেকে জন্ম নেবে
অযুত কোটি নিযুত লক্ষ গাছ
শাখা-প্রশাখায় পাতায় পাতায়
রব উঠবে- একবারও দেখা হলো না
একবার দেখা হতে পারতো
প্রেমে দেখা না হওয়া মৃত্যু সমান।
এই হ্রদ
শহর কুড়িয়ে পেলেই নিতে নেই
শালিকের ডানা থেকে
উড়ে যাক ফুরসত
খরচ হয়ে যাক
নীল হোক
যতো সাদা ভাত
ইঞ্জিন নৌকা থেকে
ফুরিয়ে যাক তেলের গন্ধ
জল আর হ্রদ একান্তে কাটাক
অন্তর্গত আলাপে বিলাপে
বুনোহাঁস বুনোফুলে
ছেয়ে যাক সব
এই যে হ্রদ
এখানে সংসদ
বসে বিকেলের দিকে
প্লাস্টিক প্লাস্টিক চিৎকার ওঠে
তারপর থেমে যায় আলোড়ন
পর্যটকের পক্ষে বিপক্ষে
যতো কথা বলা হয়
সবই সাময়িক
দু’দশ টাকার লোভ
বড়ো হয় খিদের কাছে
এই হ্রদ আর নীল জলরাশি
কাতরাতে কাতরাতে চুপ হয়ে যায়।



















































2 Comments. Leave new
অনেক সুন্দর ❤️❤️❤️
মানুষের কোনো অনুভূতিই যেন রাষ্ট্র, নগর, কৃত্রিমতার আগ্রাসনের বাইরে থাকে না। তাই প্রেম, পাখি, মাছ, ফুল, দূরের শহরের ভ্রমণের আলাপে তারা ঢুকে পড়ে অনিবার্যভাবেই!
মজার কাণ্ড হলো, কবিতার শিরোনাম তুলে দিলে সব মিলে একটা দীর্ঘ কবিতা হিসেবে পড়া যায়, বা কবিতাটি আরও দীর্ঘ করা যায় মনোলগের মতো করে। তাহলে কবিতার আলাদা শিরোনামের স্বাতন্ত্র্য কী?
কবিতার কিছু মেটাফর ও দৃশ্যায়ণ সুন্দর। শুভকামনা