প্রবণতা
বাতি জ্বেলে আর কতো জাগবে, রাত?
রাতকে বলি এবার একটু ঘুমাও।
চোখের নিচে কালশিটে দাগ
ওহ রাত, তোমার বংশে লিভারের অসুখ!
ঘুম যাও, একটু চোখ বোজো।
শরীর কিভাবে ভাঙছে দেখেছো?
রাত, মায়ের পেরেশানি দূর করো—
তোমার বোনটাকে নরক থেকে বাঁচাও।
তোমার স্নায়ুকে শান্ত করো, শান্ত করো…
ওহ্ রাত, সুইসাইডাল হয়ো না
একটু থামো, ফুটছে হাসনাহেনা।
লানত
দুপুর ভাঙছে যখন সন্ধ্যায়
একটা চিৎকার থামিয়ে দিলো গুমোট হাওয়া।
প্রবল বৃষ্টি আর তীব্র বাতাসের মাঝে
কানে আসছে প্রলাপ।
নতুন বউ চপল চোখে উঁকি দিয়ে দেখছে ঘটনার ঘনঘটা।
ঝড় থেমে গেছে। আলোর ফুলে ছেয়েছে উঠোন।
উলঙ্গ এক মানুষ
উপুড় হয়ে ভাসছে আধিভৌতিক পুকুরে।
প্রেমিকাকে
এই দুঃসংবাদের দেশে
একটু শান্ত হয়ে বসো আমার পাশে।
ব্যস্ততা, ভাত-কাপড়— সে তো জন্মাবধি
জীবন জ্বালানির যা যা জোগাড়যন্ত্র।
শাড়িটা কি পরে নিতে পারো চট করে?
তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাব নদীর ধারে।
জানালা দিয়ে ঢুকবে দুর্গতি
রাস্তায় হট্টগোল, ধুন্ধুমার-চেঁচামেচি
মরতে মরতে বেঁচে ফেরা এ যাত্রায়!
কোথাও একটা—
হরমোনাল ঝড়ের কবলে কপোত-কপোতী।
এই চিরনিশীথের দেশে
একটু কোমল হয়ে বসো আমার পাশে।
বধ্যভূমি
যেখানেই পা রাখি বধ্যভূমি।
মানুষের রক্ত-হাড়-ঘাম— মৃত্তিকা হয়ে গেছে।
ঠিক এখানটায় ছিলো নদী, প্রাণচঞ্চল ঘাট
নাইয়র যেত কিশোরীবউ।
এখানেই বসতো সাপ্তাহিক হাট
জীবন অকপট বয়ে যেত নদীপথে।
এখানেই একদিন মানুষেরা—
পাকা জামের মতো পড়ে গিয়েছিল নদীজলে!
এখানেই একদিন শোনা গিয়েছিল
এক অলৌকিক শব্দের যুগলবন্দি—
‘ভাইয়েরা আমার’
সেই নদী আজ অনেক দূরে—
সেই আর্তনাদ মিলিয়ে গেছে সূর্যাস্তে
সেই লাল জল মুছে গেছে পাঠ্যবই থেকে
আর ঘাতকেরা মিশে গেছে আমাদের ভেতরে।
দেশের বাড়ি
পেয়ারা গাছ, পুকুরপাড়, চওড়া উঠোন
হাঁটতে হাঁটতে মস্ত এক মাঠ—
মানুষ পড়তে শিখি নতুন নতুন।
একতলা-দোতলা ঘরের পড়শি
চোখ বন্ধ করেও পেরিয়ে যেতে পারি
পরিচিত রাস্তাঘাট।
শর্টকাট চিনে যাওয়া অলি-গলি
পিতামহের আজান শুনি প্রতিবেলা
পায়ে হাঁটা পথের মসজিদ—
গ্রীষ্মের নির্জন দুপুরবেলা
দুরুদ শেষে মুঠোভরে জিলাপি।
জুটে যায় সমবয়সী বন্ধু
একদৌড়ে বিকালের বড়োমাঠ।
ঈদের নামাজ শেষে বসে মেলা
তোমার মাতৃভূমি হারানোর কষ্ট
আমি বুঝতে পারি না ফিলিস্তিন।






































