দেখে যাই
গোলাপ বাগানে রোদ পড়ে আছে।
সমস্ত বাড়ি ফাল্গুনের থরথর,
আমার বিষণ্ণতা তবু গেলো না কোথাও।
রোজ সংবাদ দেখে ঘুম যাই, স্বপ্নের মধ্যে নিজেকে রক্তাক্ত দেখি,
চুরমার হয়ে যাই মূহুর্তে মূহুর্তে;
তবু এরই মধ্যে একটি শিশুর পায়ের থপথপ আমাকে চমকে দেয়,
ঘুম থেকে জেগে দেখি পুরোনো করুণ কচ্ছপ আয়ু টেনে নিতে নিতে ক্লান্তিতে সাঁতরায় একুরিয়ামে;
গ্লাসে জল ঢেলে আবার ঘুমিয়ে পড়ি, না-কি বসে বসে দেখি জলের গভীরে ডুবে যাচ্ছে শ্যাওলা রঙের বিষাদ,
কর্পূরের মতো প্রতিদিন কমে আসি, গোলাপ বাগানে দেখি: ফুল ফোটে —
বুড়ো হয়ে ঝরে যায়;
আর আমি বিষণ্ণতার চোখ নিয়ে চুপচাপ দেখে যাই।
১৯ ফেব্রুয়ারি ’২৬
যেতে যেতে ফিরে ফিরে দেখি
আমি যখন বাড়ি ছেড়ে যাই, দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকে মা।
আমি বারবার পেছন ফিরে তাকাই আর দেখি — দূউউ..রে দাঁড়িয়ে আছে মা!
আমি যেতে যেতে বারবার ফিরে ফিরে দেখি: মা ক্রমে ছোট হয়ে আসছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে!
একটা সময় আমি আর কিচ্ছু দেখতে পাই না; মা তখন চোখ মুছে ঘরে পা বাড়ায়।
একবার হুড়মুড় করে বাড়ি ফিরে দেখি — মা তার নতুন বাড়িতে যাচ্ছে! আমরা সবাই মা-কে কাঁধে করে কাঁদতে কাঁদতে সেই বাড়ি যাই!
তারপর থেকে আর কেউ দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকে না, আমার যাবার সময় হলে।
আমি শুধু তার মাটিতে মিলিয়ে যাওয়া গা ছুঁয়ে বলি — আমারে রাইখে তুই ক্যান গেলি মা?
ফিরতে ফিরতে আমি বারবার তার দিকে দেখি!
একটা ঢেউয়ের মতো মা আমার মাটির সমুদ্রে সংসার নিয়ে ঘুমিয়ে আছে।
আমাদের বাড়ির দুয়ার আগলে এখন মণিকাঞ্চন গাছটা একা হয়ে গেছে।
১১ মার্চ ’২৬
এই যে যাচ্ছি, বিদায়
এই যে যাচ্ছি, যেতে যেতে শুধু মনে হয়: আর দেখা হবে না কখনো!
সেই শোক বুকে নিয়ে যে যার বারামঘরে ফিরে যায়!
আমি থাকি একলা কবরে!
অনেক আগরবাতি জ্বলে নিভে গেলে, একদিন কেউ কেউ আলাপে বিলাপে বলে ওঠে নাম!
এই আমি ছিলাম যাদের কেউ একদিন আজ শুধু কবরের নামলিপি হয়ে সবুজ ঘাসের নিচে মিশে গেছি ইতিহাসে যেরকম মিশে যায় মানুষের হাড়।
ভালোবাসা, কিছু ব্যথা, স্মৃতি ইহকালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে আমি ঐ নদীর জলের মতো একজন প্রিয় চেনা মানুষের আয়ু ধরে টিকে থাকি!
এই যে যাচ্ছি, তুমি ভালো থেকো; ভালো রেখো কিছুটা নিজেকে! আমরা তো জেনেছিলাম বেঁচে থাকাটাই ধ্রুব!
নিজেকে এবার কিছু আদর দিও।
ভালোবাসা একদিন বেদনার রাস্তায় হেঁটে চলে যায় কিছু দাগ রেখে! তারপর ভালো থাকা, না-থাকা বিষাদ মিলেমিশে তালগোল পাকিয়ে কেবল জল নোনা হয়ে যায়!
যদি পারো নিজেকে আদর দিও! ভালো রেখো তোমাকে নিজের হাতে!
২০ মার্চ ’২৬













































