১২ এপ্রিল ২০২৬
নাহিদ ধ্রুব'র কবিতাগুচ্ছ
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
নাহিদ ধ্রুব
কবি ও কথাশিল্পী
104

নাহিদ ধ্রুব
কবি ও কথাশিল্পী

104

কবিতাগুচ্ছ

আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে দেখি, কোথাও জীবন নেই

প্রকাশিত

সময় বদলে দেয় সাময়িক ক্ষত,
আদতে সময় বলতে কিছুই নাই —
ভুলের হিসেব শেষে অঙ্কের মতো
শূন‍্যের ঘরে ফিরছে শূন‍্যতাই …

ঝড়ের রাত্রি লিখে যায় খতিয়ান —
কোন পাখি মরে গেল, কোন গাছ দায়ী
বিষাদের থাকে তবু বৃষ্টির গান,
আশ্রয়দাতা কেন হয় আততায়ী?

সন্ধি করেছি শত্রুর সাথে শেষে
ভাগাভাগি করে করেছি যে বিষ পান,
বিনিময় হলো ছদ্মবেশীর বেশে —
যন্ত্রণাহীন জীবনের জয়গান

জলের বিদ্যা ভাসিয়ে দিয়েছি জলে
উড়ে চলে গেছে কত জলচর পাখি —
এখনও তোমার অশরীরী কোলাহলে,
এখনও তোমাকে চেনা নাম ধরে ডাকি

সময় ধারণামাত্র বুঝেছি আজ —
কিছু পরাজয় মাঝে মাঝে বীরোচিত,
সময়ে সাঙ্গ হলো সমস্ত কাজ,
অসময়ে তুমি আরও বেশি প্রকাশিত

 

হন্তারক

আমারে হনন করে মরণ তোমার,
প্রতিহত তারাদের দেখি অবসরে —
শোকাকুল বাতাসের মাঝে বারবার
অজানা সঙ্কেত আসে ভূমিহীন ঘরে

স্খলিত পাখির মতো গলে যাই আমি
দূর শালবনে ওঠে প্রার্থনার চাঁদ —
কুয়াশাবিধুর আলো কী যে দ্রুতগামী,
শূন‍্যচোখে তবু যেন আঁধার অগাধ

কোথাও অপেক্ষা আছে তন্দ্রাহীনতায়,
লতানো পাথর যদি ভেসে ওঠে জলে —
কত হলো চ্ছেদ আর কত পরিখায়,
আমাদের মন গেছে ভেসে অবতলে …

গলায় পরেছি দড়ি যেন মণিহার,
আমারে হনন করে মরণ তোমার …

 

বায়োগ্রাফি

আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে দেখি, কোথাও জীবন নেই। মাতৃহৃদয়ের খুব কাছে বপন করেছি পূর্ণতার বীজ। মূকূল এসেছে, যদিও হয়নি ফল। সুর কেটে গেলে যন্ত্র যেমন অচল, সেইভাবে — মণিহীন চোখ মেলে আমি দেখেছি জীবন।

পেরিয়ে এসেছি সম্পর্কের সমস্ত ভূগোল। জেনেছি, দায়বদ্ধতা মূলত বোকাদের কারসাজি। চিরন্তন নক্ষত্রের কাছে ধরেছি নিজেরে বাজি।

তবু আমি, আমি নই, কল্পনার সৃষ্টি — গোপনে নিজের দিকে রাখি, সুগভীর দৃষ্টি। যেন এইসব দ্বিতীয় সত্তার ষড়যন্ত্র! পৃথিবীতে এসে আমি শিখেছি যে মন্ত্র, সেইসব জপি একমনে।

প্রকৃতি হইনি আমি কোনদিন — তবু অহেতুক পড়ে আছি বনে।

 

যোগাযোগ

অন্ধ পাখির গান শোনা যায়,
অপূর্ব সুর, বেদনাবিধুর —
নদীর নিকটে দুপুরবেলায়,
ফুটবার আগে ঝরে অঙ্কুর
আরও ঝরে যায়, বসন্ত মন
কেউ না জানুক, কাপালিক জানে
নদীর নিকটে জেগে ওঠে বন,
অন্ধ পাখির বিষণ্ণ গানে …

বহুদূর থেকে, বহুলোক আসে
আরও আসে হাওয়া, রহস‍্যময়
তাঁবু গেড়ে বসে, নদীটির পাশে
যেন এ মাজার, জাগতিক নয়
মৃত‍্যুকালীন শিয়রের কাছে
বসে থাকা কোন মানুষের মতো
এইখানে এসে সময় রয়েছে —
সময়ের তরে, অপেক্ষারত …

যোগাযোগ নেই, তবু মনে হয়
হয়তো কোথাও যোগাযোগ আছে
অন্ধ পাখির সুর ভেসে যায়,
ধ্যানরত কোন বধিরের কাছে …

 

মনস্তাপে

অচেনা ফুল হাওয়ায় দিলো তান —
নদীর বুক কেন এমন কাঁপে?
ফেরার পথে হারিয়ে ফেলা গান,
গাইছে পাখি, আহা মনস্তাপে …
পথ ভোলালো, এই বেহায়া পাখি,
শুকনো পথে চোরাবালির টান —
গাছের দিকে একটু হেলে থাকি,
আর কী হবে, পথের অবসান?

অতল চোখে মেঘের করাঘাত
বৃষ্টি হবে, বৃষ্টি হতে পারে —
অতলান্তে ডুবতে থাকা চাঁদ,
মাতাল স্বরে কড়া নাড়ছে দ্বারে।
সবাই ঘুমে, সাড়া দেয়নি কেউ
নির্জনতা, আছে ভূতের মতো —
জাল ফেলেছে চোখের মাঝে, ঢেউ,
শূন্যতার, সবই ব‍্যক্তিগত …

বরফযুগে ফিরছি যেন একা —
সঙ্গে মরু, সঙ্গে বালুঝড়
নিজের সাথে নিজের হলো দেখা,
পথ বলেছে, আমি, আমার ঘর …

1 Comment. Leave new

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত