১৯ এপ্রিল ২০২৬
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
অলাত এহ্‌সান
কথাসাহিত্যিক
12

অলাত এহ্‌সান
কথাসাহিত্যিক

12

কবিতাগুচ্ছ

ডুবে গেলে মাছ ভেসে ওঠে জীবন

জলের ধর্ম

নেমে আসো, কত উপরে গিয়েছিলে
তার হৃদয়ের চৌহদ্দি-বারান্দায়
নেমে এসো ধাপে ধাপে সিঁড়ির পিচ্ছিলে
ডুবে যাও পুকুরের মতো জলের কান্নায়।

সাজানো আঙিনার প্রাচীর ঘেরা প্রশাসন
স্মৃতির-প্রাসাদে শ্বাস ফেলে শাসক
বিছানো ইটের সবটা জুড়ে শ্যাওলার আস্তরণ
পেরিয়ে যাও রাস্তার মতো দীর্ঘায়িত শোক।

কিছুই আনা হয়নি, তবু ফেরানোর দায় বলে
পার করে দাও নিকটতম সুদূরের সেতু
নিরুদ্দেশ যাত্রার হুইসেল বাজে রেলে
নিরন্তর ছুটে চলার সমান্তরাল হেতু।

খুব প্রকাশেই খুলে গেছে হৃদয়ের অন্তঃ তার
শুধুই জলের রং বদল, শুধু তরল অঙ্গীকার।

১৯ এপ্রিল ’১৮

 

ডুবে গেলে মাছ ভেসে ওঠে জীবন

বিভুরঞ্জন একটি মাছ, মেঘনায় ভেসে ওঠা
যে নদীতে এখন আর পানি-পোক্ও হাঁটে না
সেখানেই কাটিয়ে দিলেন অনেকটা কাল
বিভুরঞ্জন ডুবে গেলে ভেসে ওঠে নিরোগ দেহ,
আগের চেয়েও সারবান

বিভুরঞ্জনের লেখারা মাছের মতো রঙ্গরঙিন
মানুষের মতো ডুব দিয়ে থাকা একটা ‘খোলা চিঠি’
মৃত‍্যু না হলে যার হদিস মিলে না কোনো দিন
ভেসে উঠলে এক খোলা চিঠি হয়ে যায় মাপকাঠি!
সব মুখ বন্ধ করে দেয়া খোলা চিঠিটাই ছিল ঠিকানাহীন,
এ দেশে কীসেরই বা ঠিকানা আছে—
হেঁটে যাওয়া যাবে যার খোঁজে

একবার ঘাই মেরে ডুবে যেতে পারলেই আসল মাছ
ডুবে গিয়ে কখনো না উঠলে মানুষের জীবন
পচা জলে কতক্ষণই ডুবে থাকা! সাঁতার কাটা-ই দায়
নিথর ভেসে উঠলে স্বচ্ছ হয়ে যায় পানি, যেন আয়না
দেহ তুলে নিতে নিতে দেখা যায় সবার মুখ!

বিভুরঞ্জন একটা বৃদ্ধ মাছ,
সাঁতারের চেয়ে যার অভিমান বেশি
আকূল ভেসে থাকতে থাকতেই তিনি পরবাসী!

একটা সিদেল পড়া মাছ বিভুরঞ্জন
চৌবাচ্চায় আটকে যাওয়া ভ‍্যাদার মতো
তুমুল বৃষ্টির দিনে সঙ্গী মাছেরা যখন কাঁতরে কাঁতরে
পৌঁছে গেছে অদূরের নতুন ডোবায়
তিনি সেখানেই আটকে থাকেন জল-শ‍্যাওলায়
সুদিনের আশায়।
সুদিন! সে তো সুদূর পরাহত
তাই যখন সামনে এসে যায় অচল মেঘনা
নদীর ইতিহাস মনে করে নেমে যান বিভুরঞ্জন মাছ
অথচ ভেসে ওঠেন সেই চৌবাচ্চায়
অভুক্ত নাগরিকেরা দেখে—
এমন একটা মাছ এত দিন ঘাপটি মেরে
টিকে ছিল কাছের চৌবাচ্চায়!
চাইলেই ঢিল দিয়ে মেরে খাওয়া যেত আমোদে
এবার স্বোৎসাহে ঢিল ছুড়ে তাঁর কাঁটা খসায়
অথচ বিভুরঞ্জন আসলেই একটা মাছ
ডুবে যায়ও মাছ, ভেসে উঠেছে তাঁর জীবন।

২২ আগস্ট ’২৫, ঢাকা

 

ভয়ের দিনে ভালোবাসা

প্রিয়তমা—
তোমার ভালোবাসা সরকারি প্রেস নোটের মতো মিথ্যে,
তোমার কথাগু‌লো সরকারের সংবাদ সম্মেলন মনে হয়,
দয়া করে গোপন বা‌হিনীর চাপে পড়ার মতো
প‌রিবারের কথায় তুমি কিছু বলো না
তু‌মি তো শিরদাঁড়াওয়ালা, প্র‌তিবাদ স্পৃহ জনগ‌ণ ছিলে

এই হুজুগের দিনে, এই ভয়ের দিনে
গড্ডলিকা প্রবাহে সবাই সরকারদলীয় হ‌য়ে যাক,
তু‌মি অন্তত সরকার হ‌ইয়ো না।

৫ আগস্ট ’১৮

 

সীমান্ত

যত বেশি সীমান্তের কাছাকাছি যাই
ততই দূরত্ব অনুভব করি
যত বেশি দেশের ভেতরে আসি
সীমান্তে বাড়ে দেয়াল, কাঁটাতারের ছড়াছড়ি
তাহলে উদয় হয় বোঝার উপযোগ—
রাষ্ট্র মানেই তো রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ।

১৪ অক্টোবর ’১৬

 

কেমন কাঁপছে মনে হয়

একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলে
হাতের আঙুলগুলো কেমন
থির থির করে কাঁপছে মনে হয়…
প্রিয়তমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে
এতবার তার চোখ কেঁপে উঠলো,
তারপর সব স্থির হয়ে গেল, যেমন হয়…
নদীর উপরের চেয়ে গভীরে
স্রোত বেশি বয়ে যায়,
এই যে বিধ্বংসী মানুষ, ভয়ে-সংহারে,
নিজের কাছেই বেশি অসহায়!

১২ মার্চ ’২১

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত