আড়ষ্টতার জল
কার অভিসম্পাতে যুগে যুগে তলিয়ে গেছি—
বুঝে ওঠেনি পর্বতের সুমিষ্ট জল।
ঘড়ির ভিতরে সারি সারি বহিরাগত বাধ্যবাধকতা
তোলপাড় করে মুড়িয়ে নিচ্ছে পূর্ব দিকের আয়ু; নেহাতই কুয়াশার নানাবিধ অনুবাদ শেষে
আমি প্রাগৈতিহাসিক—
এবং শব্দের ভিতরে বসে ডি-কোড করি লেলিয়ে দেওয়া কিছু মোলায়েম বাতাস…
কেন্দ্র বরাবর সুড়ঙ্গটির নাম পৃথিবী
আঁতগুলো খনন শেষে পেয়েছিলাম ভূতল জুড়ে অন্ধকার। ডোপামিনরা বোতামবদ্ধ গলায় গাইছে বেগুনি বিড়ালের কয়েকটি কর্কশ গান। দৃশ্যত সেসব কি মাতৃত্বের সমাধি? যেখানে পৌঁছে চিরকালের জন্য আটকে আছি ধোঁয়াশাভরা অসুখ নিয়ে— আর কতদূর, বলতে বলতে ব্যান্ডেজে মোড়ানো সুটকেস থেকে বেরিয়ে এলো হাজারো ঘুমন্ত আলো। উল্লাসের ঢেউয়ে ঢেউয়ে বদলে যাচ্ছে গত জন্মের লিপিমালা। গুল্মবিষয়ক কনফারেন্সে বলি এই তো সেই হীরা-জহরত; যাদের ষড়যন্ত্রে পূর্বমায়েরা আপলোড করে গেছেন গুপ্ত গ্রহে বসবাসের গোপন ভাষা ও সংগীত।
প্রত্ন-রত্ন
ডিএনএ পরীক্ষা শেষে আমরা পেয়েছিলাম একটি উপবন
সেখানে মাছেরা কুণ্ডলিনীর আলোয় হাঁটছে নো’য়ের একেকটি মসৃণ মুদ্রায়
আমাদের বাম হাতের তালুতে ঋতুমতীর জল আর ডান হস্তে
মুষ্টিবদ্ধ উর্বর দর্শন যেন উদীয়মান সূর্যের মতো তারা বীর্যবান,
যাদের লাঙলে পানীয় শিল্পেরা গজিয়েছে টলমলে জোছনায়;
ক্ষণে ক্ষণে আয়ুর্বেদের উল্লাস— শেকড়বাকড়ের তালে
তবু মাতামহীর সঞ্চিত মোহরের দিকে তাকালে
কেন জানি বুক সমান অন্ধকার খাঁচারা ভেসে ওঠে।
ঘুমদেশ কিংবা জঠরের ধ্যান
পাহাড়ি খুলির নিচে বিপজ্জনক ঢেউরা অতীত ও ভবিষ্যৎকে
নাচাচ্ছে গুপ্তমুদ্রায়
এই কম্পমান সময়ে— অরাল কিংবা মেটাভার্সের জঠরে
ক্রমাগত বিস্ফোরক হয়ে উঠি জুমশিশুর রোদনে…
হে ঘুমিয়ে পড়া ইন্দ্রিয়
তোমার টেলিপ্যাথি কি ব্যথার সম্প্রচার করবে না?
সকালের ডাক—বিকালের ডাক আরো কী কী যেন ডাকে
আমি অবশেষে ফিরে এলাম এবং শেষদৃশ্য জেনে
ঘড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখি
আমার আঠারো গ্লাস অবধি ঘুম খাওয়া হয়ে গেছে…
প্রভাতীর ধারাপাত
শৈশবের ধারাপাত খুলে দেখুন কিছুই ঠিক নেই জানেন তো মহাশয়
বুননে ফাঁক থাকলে— ঢুকে পড়ে ভূস্বামীর যত খুলি
তবু বিনম্র গলায় টেরাকোটার ছায়া’রা বলে ওঠে আসুন, বসুন; চাবুকিদের আতিথেয়তা গ্রহণ করুন।
পাহাড় প্রায় বলতেন— মৃত্তিকার চোখ, জলের প্রবাদ কখনো বদলায় না
এমনই আন্তরিকতা মুখর সকালে—বারবার স্মৃতিচারণ করি মাতামহীর স্বরূপকে
যিনি আমাকে বিস্ফোরণের প্রথম মন্ত্র শিখিয়েছিলেন…
সে সকল পরম্পরায়— মেগালোপলিসে
মেঘের দর্শন লিখে রাখি নিজস্ব অঝাপাতে।



















































