কবিতাগুচ্ছ

আয়ুরেখা ধরে চলে গেছে যে নিরীহ জীবন

হাওয়ায় বাড়ছে মাংসের গন্ধ  ০৩

পাতাঝরার দিন শুরু হয়ে গেছে। শাখ হইতে হলুদ পাতাদের ঝরে পড়া দেখি।
মিহি বাতাসের মধ্যে, তড়িঘড়ি করে হেঁটে যাওয়া কেমন মিলায়ে যায়।
যেন, দূর হইতে ডেকে যাওয়া কারো স্বর…

নিজের শরীরের পাশে শুয়ে শুয়ে, নিজের আদলেরে ভাবি।
আরো ভাবি একটা রেললাইনের কথা, নাম না জানা ঝিড়ির পাশে ফুঁটে থাকা কাকীদানার ফুল।
ঠিকানা ভুলে যাওয়া মানুষ, দিকবিদিকশূন্য।
কেটে কেটে ছড়ায়ে গেছে।

মাংসের দোকানে গিয়ে নিজেরেই চিনে আসি এক ছটাক।
চারদিকে থইথই করে, স্তনের মসৃনের মতো ভাতঘুমের দুপুর। নির্জলা—
মিথ্যার মতো ঝলমলে!

হাওয়াকলের নিচে চাপা পরে গেছে বীতশোক।
সে অতল থেকে, কে তারে ডেকে দেবে?
নিকট দূরত্বে ঠায় দাঁড়ায়ে আছে জরাগ্রস্ত দেহের কুসুম।
হলুদের খ্রিস্টাব্দ….
মাংসের নিজের কোন ভাষা নেই
তবুও, মানুষ চিরকাল মাংসের স্বাদের কাছে ফিরে আসে।

 

নষ্ট গর্ভ

ঘনহরিৎ এ শহরে, কোনভাবেই কোন ঋতুমতী নারীকে মনে করতে পারি না।
তলপেটের মসৃন নিয়ে একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করি।
ঠিক যেন ঋতুমতীদের ভুলের মতো।
আনখ, লাল নাগালিংগম ফুল।

তাদের জঠরকল থেকে বেড়িয়ে আসা শিশুরা
পাজরের ওপর গ্যাট হয়ে বসে থাকে, ওসিরিসের সাথে করে সন্ধি।
মানুষের আদলে গড়া…
রক্ত-মাংসের ঢিপি
মানুষ দেখতে যেমন—

হে ভুল করে তুলে নেয়া বীজ
নারীর জঠর বেদনা কেমন?

আদম আপেল ছিঁড়ে ফেলে পাতালের দেবতারা।
পবিত্র প্রাণীদের জন্মলগ্ন ঘুচে যায় অন্ধকারে।
ঘুমের মধ্যে ঝরে যায়, সকল ব্যথাতুর নারীদের গর্ভফুল।

 

আফটারনুন স্যাডনেস ০১

ওশেনিয়ায় কোন বর্ষাকাল নেই। বাগানের কাঠ আলুর গাছটা কেউ চুরি করে নিতে পারে, এমনি অগুরুত্বপূর্ণ ভাবনা থেকে তারে একটা মাচা করে দিতে পারো!
দূর আলাপনে জানাবার মতো, এর অধিক কোন কথা থাকে না আমাদের।
বিগত শনিবারকে মনে হয় বিকেলের পাশে ফুটে থাকা মেরুন কার্নেশন।
পুরানো সকল ছুড়িকাঘাত হাঁটুগেড়ে বসে থাকে, অ্যাসিরিয়ান চার্চের সামনে।
আমরা রেডিও শুনতে শুনতে যে যার মতো বাড়ি ফিরি একা।
দূরবর্তী কোন শহরের খবর ভেসে আসে অস্পষ্ট উচ্চারণে—

“সাঁতার কাটতে গিয়ে এক কিশোরীর মৃত্যু। ধারণা করা যায়, কিশোরীটি হাঙ্গরকে ডলফিন মাছ ভেবে ঝাপ দিয়েছিলো।”

 

আয়ুরেখা ধরে চলে গেছে যে নিরীহ জীবন

পিঠে ডানা গজানোর ব্যথা নিয়ে পড়ে আছি। দৃশ্যের ভেতর আমার চোখেমুখে ফুটছে পানিফলের স্মৃতি। হাওয়াইমিঠাই থেকে উড়ে যাচ্ছে গোলাপি ঘ্রাণ। পুড়ে যাচ্ছে রানওয়ের পাশে নিরীহ মোনালজীবন। আমার আয়ুষ্কাল নিয়ে ফুটছে তুমুল মিলিশিয়া। ডুংরির মোতি থেকে ছুটে আসা দুপুর ঘেঁষে আমি লিখছি…
যদি ভালো নাও লাগে, “তবু শরীরে তুলে নিও এই লাল।”

 

গার্হস্থ্য অর্থনীতি

তুমি কি চাতালের নাগদামিনী?
মরমিসত্য ভীষণ?
চেয়ে আছো, ভাবছো অনেকখানি দেখো না নীলগিরি
পাহাড়ও দেখে না তোমায়।
বিলম্ব তুলে রাঁধছো খাটুয়া
ওমের বুক গুঁজে একঘেয়ে পত্রপাঠ…
তুমি পড়ছো কিশোরীবিকেল
লিখছো খিস্তিখেউড়।
শরীরজুড়ে অজস্র চোখপাশ তুমি হাঁটছো চতুর্ভুজের ন্যায়।
সন্ধ্যার কানভারী হচ্ছে ক্রমশই
নামছে বয়স
এবিভ্রমনের গড়াচ্ছে সূর
আর কতদুর?

মন্তব্য লিখুন

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত