তৃষ্ণার্ত জলজ শৈবাল
তৃষ্ণার্ত জলজ শৈবাল আমি
বয়ে যাব মায়া নদীর স্রোতে
আর যদি ডুবে যাই—
ভেসে উঠে আবার ডুবে যাব
এই নদী-স্রোত-জল আমার তৃষ্ণা না।
ক্লান্ত ফড়িংয়ের বেশে সে
এসে বসে যদি আমার বুকে
কোন নির্জন হলুদ দুপুরে,
ও নদী ডুবাও তোমার প্রেম ঢেউয়ে
আমি তার বিরহ দেখতে চাই।
অথবা হয় যদি সে অনন্ত জলধি
ঘ্রাণতরী আমি, দিশাহীন উদাসী—
পরিযায়ী পাখিদের ডানার সুবাসে
বিগত বিষাদ ভুলে—যাবজ্জীবন
চিরবধির ছুটে চলা মৃত্যুর প্রতিক্ষা।
বুনো হিজলের ফুল
আমিতো অসুখী নই—
ভেষজ গুণী তুমি ঝুলে থাকো দূরে
পাকা টকটকে ঔষধি তেলাকুচা।
লুট হয় প্রতিক্ষণে কত মধুময়—
পাতার সবুজে যতই আড়াল হও,
কোকিলের আহার তুমি
খুুঁটে খাবে বউ কথা কও।
বয়ঃসন্ধির অলৌকিক অন্ধকার,
যার রাঙা ঠোঁটে প্রতিদিন
হুটহাট ঘটে যেত কত কত প্রেম—
গভীর নাভিকুণ্ডে অনন্ত নির্বান
ছেলেবেলার সেই রূপসী স্কুল শিক্ষিকা
তাঁর স্মৃতিও স্থায়ী হবে হয়তো মনে।
আমি অচেনা জলের পানকৌড়ি—
প্রেমের অতলে ভাসি আর ডুবি
ক্ষণে ক্ষণে গায়ে মাখি
জলে ভাসা বুনো হিজলের ফুল
অভিসার
আমি শামুকের মতো সমস্ত শরীর নিয়ে খোলসের বাইরে বেরিয়ে আসব তোমার অভিসারে। অসম্ভব লকলকে জিভ হয়ে ঢুকে পড়ব তোমার ভেতর। তোমার বুকের ভেতরের শীতল অন্ধকারের কপাট খুলে জ্বলে উঠব ভরা পূর্ণিমার চাঁদ। অবহেলা অনাদরে আমার চলাচলের যেসব পথ আগাছায় ঢাকা পড়ে আছে, আরেকবার হেঁটে আসব মৃগনাভি কস্তুরি। মুছে যাবে অবসন্ন বিকেলের ক্লেদ, জমে থাকা ধূসর শীতের রাতের সকল অবশাদ। প্রবল প্রেমে লীন হওয়ার আগে একসাথে, ভেতরে ভেতরে তুমিও বিষ হও। দুজনে জড়াজড়ি করে মরে পড়ে থাকব, তলিয়ে যাব সৈকতের কোন এক বিষণ্ণ বালিয়াড়িতে। পৃথিবীর অগণিত সূর্যেরা সমুদ্রের নোনা জলে লুপ্ত হবার পর— ক্লান্ত নাবিকের সাথে যদি দেখা হয় ফের, ফসিলের বেশে। নৃবিজ্ঞানীর গবেষণা টেবিল আমাদের অস্থি ব্যবচ্ছেদ করে জানবে—
আমরা বেঁচে ছিলাম পৃথিবীতে
খোলসের সাথে শরীরের সম্বন্ধ যেমন
অন্য কারো বাতিঘর
আর কোনো দিন মাছরাঙাটি
বুকের ওম থেকে তোমার ছুটে গিয়ে
মিশে যায় বিকেলের রংধনুতে,
সুরভিত আকাশে গোধূলির আগুন
কতোরকম বর্ণিল আলোয় তোমার আরাধনা
ফেরারি কারা যেন দূরে গাঢ় কালচে নীলে
ঘরে ফেরার চতুর প্রলোভন।
লেলিহান বিষের বাতাস আমার শ্বাস—
অথচ আমিতো দূরের বালিহাঁস।
একঝাঁক সহচর ডানা মেলে দিগন্তরেখায়,
গ্লানি নিয়ে চলে যাব অন্য কোনো অন্ধকারে
পেছনে পথে পথে মুছে যাবে পথের আলো
তোমার চোখের ভেতর যে নক্ষত্র জ্বলে
ঠিক জানি, সে অন্য কারো বাতিঘর।
দিনের দিশা হতে চায়
অমানিশার জঞ্জাল তাড়িয়ে
আজকের যে সুবেহ সাদিক
সে তোমার দিনের দিশা হতে চায়।
সকল উৎসবে তঞ্চকের সমাধি শোধ,
শবযাত্রায় যে হরিধ্বনি শোনা যাচ্ছে—
প্রার্থনার সুর নেই তাতে, নেই শোকও।
কারো কারো স্বপ্নে জুড়ির তালে বাজে
শ্মশানের পথের জাগ্রত লেলিহান সুখ।
দুয়ারে নির্মোহ ব্যথার সুরতহাল,
নানাবিধ বিন্যাসে বিগত ক্ষত মুছে
শরীর যেন ফের ফলবতী তরু-তমাল
নিষ্প্রভ স্মৃতিরা নির্জন গন্ধ বকুল।
নব রূপে প্রকাশিত স্নিগ্ধ কিরণধারা—
তুমি তারে স্থান দিও নিবিড় নীলিমায়
খুলে দিও হৃদয়ের সকল দুয়ার
দিক ভুল করবে না ভোরের সূর্যমুখী।























































1 Comment. Leave new
অসাধারণ।