মাছশিকার
রক্তিম আলোর নিচে ফেটে যাচ্ছে ডালিম
নৌকার গলুইয়ে জেলের পৃথিবী কাঁপে—
মাছের গতির কাছে জাল আদিম ফাঁদ
জলের পৃথিবীতে জেলে আধুনিক বুদ্ধিজীবী
অন্ধকারেও জেলের চোখ ছলছল আলো দেয়
নদীর তলে। বাতাসে নড়ে ওঠে জেলের বয়স
তবু সুতার মিলনের ফাঁক দিয়ে মাছ পায় না মুক্তি।
গানকমলী
নমঃ নমঃ সুন্দরী
তোমার চরণে প্রেমের পূজা
মানত করেছি নিজের জান
তোমার মোকামেই আমার নাশ-বিনাশ
সূরের মূলে দাঁড়িয়ে আছি সৃষ্টির লক্ষ্যে
যে গান বাঁধিনি আজও তাহাই তোমার অবয়ব।
হারিয়ে যাবে যেই গ্রাম
গোধূলির আঁচলে জন্ম নিয়েছে এক রক্তের গ্রাম—
বালির শরবতে বাতাসের নাভিতে ফুটেছে কচুগাছ
এখানে কেউ কাউকে গ্রহণ করছে না, ঝেরে ফেলে দিচ্ছে শরীর বাঁকিয়ে।
শতাব্দীর গতিপথ বেঁকে গেছে বিংশ শতকে এসে—
মনোরম ভাবটা সাপের ছোবলে ধীরে গেল অস্তালয়ে।
এখন এখানে অস্ত্রের বাজার, রাত্রির কাঁটাছেড়া
রঙমাখা অপরাধ রাজ্য ও দীর্ঘ মামলার গোল্লাছুট আমলনামা।
এখন এখানে মুখোশ ও মুখের চেইঞ্জিং রুমে অভিনেতাদের আসর
বিভিন্ন টাইটেলের নিচে বেপরোয়া শাসনে এখন ঘাগটিয়া গ্রামের জীবন।
আব্বা, আমাদের মেরুন সূর্য
রৌদ্রলাঠির শব্দে ভাঙে ঘুম—
জড়িয়ে ধরে সে আলতো আগুনে।
গ্রিল কেটে আসা রোদে
ইস্পাতের ছায়া আরও আরও
শুকনো পাতার মাটিতে পড়ার দৃশ্য
সেই দৃশ্য আম্মা বুনে রাখলেন
গোধূলির মেরুন সূর্যের বুকে—
সূর্যটি ডুবে গেলে আম্মার মুখটি
গভীরভাবে অন্ধকার হয়ে এলো।
অস্থির উজান
মন আমার অস্থির
রাত্রির রোদে দোদুল্যমান হয়ে আছে জীবন
করাতের গতির নিচে বাজে শঙ্খের ধ্বনি—
আকাশে উড়ছে প্রজাপতি
মৌমাছি মধু তৈরি করে—
রাখছে চোখে মানুষের গতিবিধি।
ভেঙে যায় ভাটিয়ালি
ভেঙে যায় মন
অস্থির উজানে আমার পদচারণ
নাম নাই কবিতা
শব্দ বন্ধনে নাই গতি
তবু নিজের হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে বুঝি;
আমিই ব্যথার কবি।























































