শহীদ যেদিন প্রথম এই ফ্ল্যাটে আসে সেদিন ছিল মঙ্গলবার। সুপর্ণার গায়ের সামান্য উগ্র সুবাস তার নাকে লেগেছিল। ভেবেছিল নিজে নিজেই–শীতের দিনে এতো সেন্ট কে লাগায়! মফস্বল থেকে চার বছর আগে এসএসসি দিয়ে আসা শহীদ তখনো ঢাকার কালচারের সঙ্গে মেলাতে পারেনি নিজেকে। এর মধ্যেই সুপর্ণার মতো উচ্চ মধ্যবিত্ত মেয়ে তার প্রেমে পড়ে যাবে, বুঝতে পারেনি। এখন সুপর্ণার সঙ্গে থেকে থেকে কিছুটা শিখছে।
খুলনা থেকে ট্রেনে যেদিন উঠেছিল শহীদ, সেদিন বাতাসে ছিল হিম। এমনিতে খুলনায় শীত একটু পরেই আসে, মনে হয় তার। সেবার এসেছিল একটু দ্রুত। বড় চাচা ফরিদ আহমেদ থাকেন ঢাকার এজিবি কলোনিতে। তার সঙ্গে দেখা করা-ই ছিল সে-বারের উদ্দেশ্য। তার বড় ছেলে, সাইফুল ভাই পড়ে নটর ডেম কলেজে। তার সঙ্গে কলেজে ঢুকেছিল শহীদ, সেদিন ঢাকায় শীত তেমন ছিল না। অন্তত খুলনার মতো তো না-ই। হালকা একটা আবেশ ছিল। অনেক পরে সুপর্ণাদের ড্রইং রুমে বসে একটা ইংরেজি বইয়ের পাতা ওল্টাতে গিয়ে জেনেছিল ওই ঠান্ডাটাকে ‘চিলিং উইন্দ’ বলে চালানো যায়।
চার বছর ধরে ঢাকাবাসে শহীদ বুঝেছে এই শহরে দুটো ঋতু সহনশীল – শীত আর বসন্ত। বর্ষায় পানি জমে যায় কোনো কোনো রাস্তায়। আর গ্রীষ্মে রোদের তাপ। তার মধ্যে এমন সব খুপরিতে বাস করতে হয়েছে, সেখানে বাতাস তো দূর আলোও ঢোকে না। গরমে সেদ্ধ হতে হয়। তাই শীতের কথা ভেবে শীত আসার আগে থেকেই শহীদের ভালো লাগতে থাকে।
শহীদের পছন্দের অন্যতম জায়গা ছিল ধানমন্ডি লেক। কলেজ শেষ করার পর প্রথম সেখানে গিয়েছিল। রবীন্দ্র সরোবরে বসে থেকেছে অনেকদিন। তখন কবিতা পড়ার নেশায় পেয়েছিল তাকে। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, শামসুর রাহমান, শহীদ কাদরী থেকে শুরু করে সে পড়ত শক্তি চট্টোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার। সুপর্ণার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের দিন শহীদের হাতে ছিল জয় গোস্বামীর কবিতার একটা বই।
এখন আর কবিতা পড়া হয় না শহীদের। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের জীবনটাও মেকানিক্যাল হয়ে উঠেছে। সকালে বেরোয় অফিসে, কিংবা অফিসের কাজে কোনো সাইটে। তারপর কোনোদিন ফেরা রাতে, কোনোদিন মাঝরাতে। কবিতার বই থেকে দূরে সরে গেছে ধীরে ধীরে। তবু তার কোনো-কোনোদিন মনে হয়– শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা।
সুপর্ণা! শহীদের জীবনে সত্যিই এসেছিল সুপর্ণা। ধানমন্ডি লেকেই যার সঙ্গে পরিচয়। একটা একশো টাকার নোট খুচরা চেয়েছিল সুপর্ণা তার কাছে। মধ্য পৌষের সেই বিকালে একটা মায়াবী রোদ পড়েছিল কেন যেন। তাপও ছিল হালকা। শহীদ তার সোয়েটার খুলে ফেলে রেখেছিল পিঠের ওপর। সিঁড়িতে বসে কবিতার লাইনে চোখ বোলাচ্ছিল। তখনই সুপর্ণা এসে বলেছিল, ‘আপনার কাছে একশ টাকার নোট ভাঙতি হবে?’
চমকে উঠেছিল খানিকটা শহীদ। তাকিয়েছিল কণ্ঠের অধিকারীনির দিকে। সুপর্ণার গালে রোদ পড়েছিল। চেহারাটা সেদিন পুরোপুরি জরিপ করতে পারেনি শহীদ। কিছু নার্ভাসও ছিল হয়তো। শার্টের পকেট থেকে দশ আর বিশ টাকার নোটে ভাঙতি করে দিয়েছিল একশ টাকা। সুপর্ণা তার দিকে তাকিয়ে আবার বলেছিল, ‘শাহরুখ খান নাকি?’
নার্ভাসনেস বেড়ে গিয়েছিল আরো অনেকটা। সুপর্ণাকে সে আগেও খেয়াল করেছে। নিয়মিতই মেয়েটা আসে সরোবরে। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। অনেকক্ষণ আড্ডা দেয়। সন্ধ্যা অনেকটা বুড়ো হলে তারপর ওঠে। দেখতে আগুনের মতো সুন্দরী মেয়েটার নাম সে জানত না। বন্ধুরা তাকে পর্ণা বলে ডাকে দুই একবার শুনেছে হয়ত।
সুপর্ণার চোখের দিকে তাকিয়েছিল শহীদ। লক্ষ্য করেছিল সেখানে কৌতুকের চেয়ে আগ্রহ বেশি। নিজের প্রতি সচেতন হয়ে শহীদ খেয়াল করেছিল, সোয়েটারের হাতা গলার কাছে প্যাঁচ দিয়ে রেখেছে–মোহাব্বতে সিনেমার শাহরুখ খানের মতোই। শুধু তার চশমাটা নেই। বহুদিন পর বাহুলগ্না সুপর্ণা তাকে বলেছিল, ‘সেদিন ভাঙতি টাকার দরকার আমার ছিল না। তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছিল অনেকদিন ধরে। সেজন্যই একটা বাহানা নিয়ে গিয়েছিলাম।’
ওরা বিয়ে করেছিল সেই প্রথম কথোপকথনের ছয় বছর পর। তার আগে বহুবার এসেছিল এই ফ্ল্যাটে। কখনো একা, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে। সুপর্ণার মা ওদের স্যুপ, নুডলস, ফ্রুটকেক, চা, কফি খাওয়াতেন। ছেলেপেলে পড়ানো বাদ দিয়ে মহিলা কেন যেন মানুষকে খাওয়ানোর চাকরি নিয়েছিলেন, কারণটা শহীদ জানতে পারেনি কোনোদিন।
পরিচয়ের অষ্টম শীতে একটা মাফলার বুনতে শুরু করে সুপর্ণা। সে তখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আজিমপুরে বাসা নিয়েছিল ওরা। পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের তিন তলায়। বিল্ডিংটার পাশে অনেকটা জায়গার প্লট ফাঁকা। হাওয়া আসত পূব থেকে। দক্ষিণে খোলা না থাকলেও একটা ফাঁকা ছিল এক রকম। হাওয়া আসত সেখান থেকেও। শীতটা আজিমপুরে তখনো জাঁকিয়ে পড়ত। অক্টোবরের শেষেই রাতে ফ্যান বন্ধ। মাঝরাত থেকেই গায়ে তুলত কাঁথা। সেই অক্টোবরেই ড্রইং রুমে টিভি ছেড়ে কুরুশ কাঁটা নিয়ে বসতে শুরু করে সুপর্ণা।
প্রথম দিনই অবাক হয়েছিল শহীদ। বলেছিল, ‘বাচ্চা পেটে আসলে মায়েরা নাকি তাদের জন্য সোয়েটার বুনতে বসে। তুমি বুনতে শুরু করলা মাফলার। তাও বাচ্চার বাবার জন্য।’
মিষ্টি করে হেসেছিল সুপর্ণা। হাসলে ওর এক গালে টোল পড়ত। সেই টোলে হাসি মাখিয়ে বলেছিল, ‘তোমার সাথে সেই প্রথম যেদিন কথা, আমার মনে হয়েছিল একটা মাফলার থাকলে তোমাকে ভালো লাগত। হ্যারি পটারের মতো।’
‘আমার তো গোল গোল চশমা ছিল না। হ্যারি পটার কেমন করে লাগত?’, বলেছিল শহীদ।
‘আরে আমি অতোকিছু জানি না। ঐ সময় হ্যারি পটার দেখতে শুরু করছিলাম। তাই হয়তো মনে হচ্ছিল’, খানিকটা বিরক্ত হওয়ার ভান করেছিল সুপর্ণা।
হেসে উঠে গিয়েছিল শহীদ। চুলা অন করে বসিয়ে দিয়েছিল চায়ের পানি। শুক্রবারের সন্ধ্যা তখন জানলার বাইরে কুয়াশার মতো করে জমতে শুরু করেছিল।
চার বছর পর নভেম্বরের ঢাকায় পা রাখতে শহীদ বুঝেছিল শহরটা বদলে গেছে তার অজানিতে। যেমন বদলে গিয়েছিল সে। কিন্তু টের পায়নি। বহুদিনের অনুপস্থিতিতে শহরের বদল টের পায় সে, শহরের মানুষ পায় না। নভেম্বরেও ঠিকমতো শীত আসেনি। সন্ধ্যায় ঢাকা তাকে বরণ করেনি কুয়াশায়। তবু তার মনে হয় কোথাও তো তার পরিচিত আবহাওয়ার আবেশ মিলবে।
সেই শীতে, তার আগের শীতে, তারও আগের শীতে ওরা একসঙ্গে হেঁটেছিল ধানমন্ডি লেকের পাড় ধরে। এক সকালের কথা মনে পড়ে শহীদের। সেদিন খুব কুয়াশা পড়ছিল। ভোর আটটায়ও আকাশ দেখে মনে হচ্ছিল সেদিন হয়তো সূর্যের মুখ দেখা যাবে না। কিন্তু বুয়েটের হল ছেড়ে শহীদ বের হয়েছিল সকাল ছয়টায়। খুলনা থেকে বাবা-মা এসেছে তার। ট্রেন এসে পৌঁছানোর কথা সকাল সাতটায়। যদিও ট্রেন এসেছিল নয়টায়, শহীদ ভোরেই দৌঁড়েছিল। কতদিন? প্রায় তিন বছর পর বাবা-মায়ের সুযোগ হলো ঢাকায় আসার। সেই সকালে ঢাকাকে নতুন করে দেখেছিল শহীদ। শীতের ভোরে ঢাকায়ও কোনো-কোনোদিন দেড় হাত সামনের দৃশ্য দেখা যায় না।
রিকশা নেই। শহীদ হেঁটে গিয়েছিল গুলিস্তান পর্যন্ত। দেখেছিল শহীদ মিনারের সামনে ঘুমিয়ে থাকা ছিন্নমূল আর নেশাখোরদের একযোগে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য। মোটা ছেঁড়া কম্বলে জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলো তাকে উদ্বেলিত করেছিল। ভেবেছিল ‘রিলিফের কম্বল’ নামে একটা কবিতা লিখবে। কিন্ত লেখা হয়নি। বাবা-মাকে দেখে এতোটাই খুশি হয়েছিল, বেমালুম ভুলে গিয়েছিল কবিতার কথা।
সুপর্ণার সঙ্গে একদিন বসেছিল ধানমন্ডি লেক পাড়ের জাহাজ বাড়ির সামনে। প্রথম নভেম্বরের মায়াবী বিকালের রোদ এসে পড়েছিল সুপর্ণার গালে। শহীদের মনে পড়েছিল সেই প্রথম দেখার দিনের কথা। সুপর্ণা যেন সেই দিনের পর একদমই বদলায়নি। অথচ কেটে গিয়েছিল তিনটি বছর।
চা ওয়ালার ফ্লাস্কের গন্ধ লেগে গিয়েছিল সুপর্ণার ঠোঁটে। ধানমন্ডি লেকের পাড় ঘেঁষে বসে সন্ধ্যার অন্ধকারে তাকে চুমু খেয়েছিল শহীদ। শীত তখন সোয়েটারের ভেতরে ঢুকে পড়ছিল। কিন্তু সেই শীতের মধ্যেও আবার ঘেমে উঠেছিল শহীদের বুক, পিঠ এমনকি পাঁজর। সুপর্ণা তাকে আরো অনেক পরে বলেছিল, তার নাকি জ্বর ছাড়ার মতো ঘাম দিয়েছিল।
মাফলারটা সুপর্ণা শুরু করেছিল আজিমপুরের বাসায় বসে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন সে। সাত মাস পর চলে এসেছিল ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাটে, মায়ের কাছে। দুই মাস আগে নতুন প্রজেক্ট এসেছিল শহীদের অফিসে। শহীদের হয়েছিল প্রমোশন। সুপর্ণার মা বলেছিলেন, ‘বাচ্চাটা অনেক পয়া হবে, দেখো! আসার আগেই বাপের জন্য সুখবর দিয়ে দিল।’
কিন্তু সেই সুখবরের সঙ্গে মিশে ছিল ব্যস্ততার নাগরিক ফোঁড়। কোনো কোনো রাতে বাড়ি ফেরা হতো না শহীদের। মেনে নিয়েছিল সুপর্ণা। বুঝত সে সবই। কিন্তু একদিন যখন ঘুমের ঘোরে কেঁদে উঠল, শহীদ বুঝেছিল, এভাবে তাকে একা রেখে দেয়া যায় না। নিজে থেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল। আর দুইদিন পর সুপর্ণা এসেছিল এখানে। কথা ছিল শহীদ পৌঁছে দেবে। কিন্ত সেদিন অফিস থেকে ফিরতে পারেনি। সুপর্ণা একাই এসেছিল। মাফলারটা তার হাতেই ছিল, বেবি ট্যাক্সিতে বসেও বুনেছিল কয়েক ঘর।
প্যারাম্বুলেটরে খেলছিল মঞ্জুলা। সাইটের সামনে দাঁড়িয়ে শহীদ ও সুপর্ণা। সামনে শহীদের প্রজেক্ট। তবে অফিসের না, তার নিজের। এক বছরেই জামি কিনে ফেলেছে সে। তবে ঢাকার ভেতরে না, উত্তরায়। তার ইচ্ছা বেশ বড় পরিসর নিয়ে একটা বাগানবাড়ির মতো করবে। বারো থেকে পনেরো বছর চাকরি করে ছেড়ে দেবে। থাকবে এখানে। ছোটোখাটো কোনো ব্যবসা থাকবে। তা দিয়েই চলে যাবে জীবন। আর সেজন্য খেটে চলেছে এখনই।
সাইট বা স্বপ্নের দিকে খুব একটা নজর যেন ছিল না সুপর্ণার। সে বলেছিল, ‘শহীদ, আজ কি কুয়াশা পড়বে?’
শীত, কুয়াশা, শিশির, শীতের বিকাল যে শহীদের কতোটা পছন্দ ছিল তা হয়ত শহীদ নিজেই মনে রাখতে পারেনি। তাই সুপর্ণার প্রশ্নের উত্তরে সে কবিতার শরণ না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায় কন্যাকে নিয়ে। সে ভেবেছিল শীত নামলে মঞ্জুলা অসুস্থ হবে ভেবে ব্যস্ত হয়েছে সুপর্ণা। দ্রুত হাতে প্যারাম্বুলেটর থেকে মেয়েকে কোলে নিয়ে কোটের ভেতরে ঢুকিয়ে নিতে চায় সে। তারপর সুপর্ণার চোখে চোখ পড়লে দেখেছিল সেখানে বেদনা আর আনন্দের মিশেল। কারণটা বোঝেনি।
তারপর সংসার করেছিল ওরা আরো ছয় বছর। শহীদ আমেরিকায় চাকরি নিয়ে চলে গিয়েছিল। ততদিনে সে ভুলে গেছে শীতের সকাল, কুয়াশা, সন্ধ্যার আলো, রাতের ব্যাডমিন্টন। কোনো কোনো দিন সুপর্ণা তাকে বলার চেষ্টা করতো, ‘এখন তো ধোঁয়া ওঠা ভাঁপা পিঠাও পড়ে থাকে ল্যাপটপের পাশে। তোমার সময় হয় না।’ কিন্তু সে কথা বলা হয়নি। এমন না-বলা অনেক কথার ঝুলি নিয়েই ঢাকায় থেকে গেছে সুপর্ণা। জেদ করে শহীদও চলে গেছে একা।
মঞ্জুলাকে নিয়ে কেমন ছিল সুপর্ণা, শীতকাতুরে তার মেয়েটাও কি কুয়াশার সকালে তাকে দেখে আপ্লুত হতো–সে কথা মনে হতো শহীদের, ম্যানহাটনে বসে। কিন্তু তার অবসর ছিল না। ফুরসত ছিল না। মঞ্জুলার সঙ্গে প্রতি দুদিনে কথা হতো তার। সুপর্ণা কথা বলত না। রাগে কিংবা অভিমানে। ততদিনে শহীদের মনের ভেতরকার বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন শীতে তার হাঁড়ে কাঁপন লাগছিল। কড়া কফি হাতে নিয়ে তার মনে হতো পলাশীর মোড়ের লাল চায়ের কথা। এক রাতে ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে প্রচণ্ড পিপাসা পেলে তার ইচ্ছা হয়েছিল এক গ্লাস খেজুরের রস খাওয়ার। সেই সকালেই সিদ্ধান্ত নেয় চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরার।
চার বছর পর নভেম্বরের ঢাকায় পা রাখতে শহীদ বুঝেছিল শহরটা বদলে গেছে তার অজানিতে। যেমন বদলে গিয়েছিল সে। কিন্তু টের পায়নি। বহুদিনের অনুপস্থিতিতে শহরের বদল টের পায় সে, শহরের মানুষ পায় না। নভেম্বরেও ঠিকমতো শীত আসেনি। সন্ধ্যায় ঢাকা তাকে বরণ করেনি কুয়াশায়। তবু তার মনে হয় কোথাও তো তার পরিচিত আবহাওয়ার আবেশ মিলবে।
মিলেছিল ধানমন্ডির এই ফ্ল্যাটে এসে। মঞ্জুলা তখন স্কুলে। দরজা খুলে সুপর্ণা তাকিয়ে ছিল বোবা চোখে। সেখানে বিস্ময় নেই, অভিযোগ নেই। যেন জানত, এভাবেই একদিন ফিরবে শহীদ, কোনো শীতের বিকালে। এসে চা খেতে চাইবে সুপর্ণার কাছে।
শহীদ চায়নি। কিন্তু ১৫ মিনিট পর দুই কাপ চা এনে টি টেবিলে রাখল সুপর্ণা। তারপর না বসেই চলে গেল ভেতরে, দরজাটা শহীদের পিঠের দিকে। মিনিটখানেক পর শহীদ তার গলায় একটা স্পর্শ পেল, উলের। তাকিয়ে দেখল, সুপর্ণা তার গলায় জড়িয়ে দিয়েছে একটা মাফলার–যেটা সে বুনেছিল অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায়।
শহীদের মনে হয় শহরে এবার শীত নেমেছে। সে এখন তিন মাস ঘুমিয়ে থাকবে।



































































































1 Comment. Leave new
শীত আমার প্রিয় ঋতু, হালকা কুয়াশা ও রোদের আলিঙ্গনে চিরচেনা ধানমণ্ডি এলাকায় ফেলে যাওয়া স্মৃতিগুলো আবার রোমন্থন করতে বসলাম এই গল্পটা পড়ে। খুব সুন্দর গল্প।