রাস্তার প্রকাশ্য কোলাহল; বাস কাউন্টারে অপেক্ষারত যাত্রীদের ভাবলেশহীন দৃষ্টি – ভবিষ্যৎমুখী উদ্বেগে বর্তমানকে শত্রুজ্ঞান করা; পাশের রেস্টুরেন্টে মুখস্থ ফর্মুলায় রেস্টুরেন্ট বয়ের একের পর এক পরোটা ভেজে চলা, ট্রাফিক পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে অটোরিকশার দিকে দৌড়ে চলে গেলো— হয়তো বা দিবসের শেষ প্রান্তে বখরা কম পড়ে গেছে; ফার্মেসী থেকে কন্ডমের প্যাকেট কিনে ইতি উতি তাকিয়ে অনভ্যস্ত তরুণ নিকটবর্তী সস্তাদরের হোটেলে সুড়সুড় করে ঢুকে পড়লো – টিভির শো রুমে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের লাইভ খেলা চলছে; উৎসুকেরা বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে; যারা এক রাতে পকেট গরম করার স্বপ্নে বিভোর, মিনিটে মিনিটে পকেট থেকে ফোন বের করে ম্যাচের প্রেডিকশন মুহুর্মুহু বদলাচ্ছে; কিঞ্চিৎ দূরবর্তী নিম গাছের পাতা অল্প অল্প দোলে, অন্তর্গত অনুচ্চ স্বরের অনমনীয় অবস্থান—রহমানের দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করা ও নিউরনে গেঁথে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ছকটা পুরনো; অনুরণিত হয় এমন কোনো উপাদান নেই – কিন্তু সৃষ্টির সম্ভাব্য আশায় চোখ দুটো বাঁচিয়ে রেখেছে, কৌতূহল নিয়ে তাই দেখে সবকিছু।
রহমানের অনুভূতির সারসংক্ষেপ: না দেখাটা যেহেতু কোনো অপশন নয়, তাই দেখে যাবে। সৃষ্টিবিন্দুর গতিমুখ কোথায় কীভাবে থাকে, ঠাহর করা কঠিন। তাছাড়া জীবনের শিল্প অনেক রকম, নতমুখী দিনযাপনের কৌশলে যদি মাথাটা কখনো জনসমক্ষে উঁচু করে তোলা যায়— অনেকেই এভাবে ভাবে, বৃহৎ শিল্পের অনুপস্থিতিতে কিংবা যা কিছু আছে খাবলেখুবলে জৈব সত্তাকে প্রণোদনা জোগানোর কুটির শিল্প – হাতছানি দিয়ে ডাকা বহুমুখী আর্টের প্রস্তাবনা!
মুদিদোকানের পাশ দিয়ে এগোলে ছন্দপতনের সমূহ সম্ভাবনা; নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার সামান্য সুযোগটুকু তিরোহিত হয়। কয়েকদিন আগে মুন্সি মিয়ার ছোট ছেলেটাকে একটা উন্মত্ত ট্রাক অকস্মাৎ পিষে ফেলেছে। স্পট ডেড। কে জানে, হয়তো বা তার জুতোর তলাতে রাস্তায় মিশে যাওয়া খুলির টুকরাটাকরা এখনো লেগে আছে। বাসায় ফিরে অনেকবার ধুয়েছে; কিন্তু রহমান এখনো সন্দিহান।
অজ্ঞাত পাপ সুবিশাল যেই ফাঁদ নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে; কখনো চকিত সুযোগে সুদে-আসলে পাওনাটুকু বুঝে নেবে—ভয়টুকু রহমানকে দুঃসহ স্মৃতির চেয়েও বেশি তীব্রতায় তাড়া করে।
নামখানি তার এতো সাদামাটা – প্রায়ই ভাবনাটা তাকে আঘাত করে। নিজেকে গড়পড়তা ভেবে যেই গ্লানিতে ডুবে যায়, এর পেছনে কি সম্বোধনের গ্ল্যামারহীনতারও সংযোগ নেই? বহুবার ভেবেছে, সামান্য পরিবর্তনে রহমানকে রেহমান বানিয়ে দেখবে, কী ঘটে! হচ্ছে না, কোথাও কিছু হচ্ছে না, নামের পরিবর্তনে যদি অনুবর্তন প্রক্রিয়ায় আত্মবিশ্বাস জেগে ওঠে – বলা যায় না, শহরে নাকি যুগের পর যুগ ধরে টাকা উড়ছে; কোন গাড়লে না জানে যে, আত্মবিশ্বাস হলো সেই ছাই যা দিয়ে ভাগ্যলক্ষীকে চেপে ধরে নিজের কাছে এনে বসিয়ে রাখা যায়? তখন মহাকাব্য পাতার পর পাতায় ধরা দেবে, একটি শব্দ নিয়ে না ভাবলেও আখ্যানের কমতি হবে না, সৌভাগ্যের বরপুত্রদের যেমনটা হয়ে থাকে! নিত্যনতুন ন্যারেটিভের জন্ম হবে, বাদবাকি যা কিছু তা দৈবই ঘটিয়ে দেবে। সময়টা ন্যারেটিভের, সময়টা সম্পর্কহীন যুক্ত থাকার — দৈবের চাওয়া মোটাদাগে একটাই, বেপরোয়া হয়ে তাকে কামনা করা হোক—ধরা দেওয়ার জন্যে সে প্রস্তুত!
বাসার কাছে বিড়ালটা গুটিশুটি মেরে পড়ে আছে। একবার তাকে দেখে জানালাটা বন্ধ করে দিলো। সহকর্মী শামস গবেষণার কাজে কুড়িগ্রাম ঘুরে এসেছে। কুড়িগ্রামের মানুষ খাদ্যে কতোটুকু পরিমাণে আলু কনজিউম করে তার বিস্তৃত হিসেব নিয়েছে। অভ্যস্ত চোখে ডেটাগুলোর ওপরে একবার চোখ বুলিয়ে রহমান হাই তুললো। বাচ্চারা বিকেলে যেই পটেটো চিপসগুলো খায় সেগুলোর সম্ভাব্য হিসেব যুক্ত করলে সমন্বিত ডেটা গোছানোটা সহজতর হবে। শামস দুই মাস হলো গবেষণার কাজে যুক্ত হয়েছে। সর্বদা সৃজনীর আনন্দে উত্তেজিত। গলিঘুপচিগুলো চেনাটা তার ঢের বাকি আছে। ধীরে ধীরে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে।
অনামিকার আংটি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণহীনতায় লাগাতার ধূসর।
তনিমার ঘুম ক্রমশ গাঢ়তর হচ্ছে। তিশারও। নিঃশ্বাসের শব্দ ভারী হয়ে শোনা যাচ্ছে। অন্তর্লোকের ছাপ কতখানি গভীর? স্বপ্ন দেখছে কি? মনে পড়লো তিশাকে কখনো তার স্বপ্ন নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখে দুই তিন দিন নীরব হয়ে যায়। পারতপক্ষে কথা বলে না। আট বছরের মেয়ে অচেতনে এতসব কী দেখে? চিন্তাটা রহমানকে শঙ্কিত করল। তার অলক্ষে তিশার মধ্যে ক্রমশ আত্মবিনাশী সত্তার উন্মেষ হচ্ছে কি? তেমনটা হয়ে উঠলে সমাজ, কিংবা বাবা হিসেবে তার কী করণীয়? একেবারে তলে পৌঁছালে দেখা যায় ভাতের হাঁড়িতে পানি জমে আছে। হাঁড়িটা কোন ভবিতব্যের প্রতীক্ষায়? বাপ-মেয়ের সম্পর্ক – রাষ্ট্রের দাবিদাওয়া ও সমাজের প্রত্যাশা যেখানে অঙ্গীভূত। মিডিয়া বা সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠার প্রতি প্রশ্নাতীত থাকার মূল্যবোধসমূহের দূতিয়ালি করে যায় অবিরত। দাতা-গ্রহীতার একমুখী শর্তযুক্ত সম্পর্কে অন্তঃকরণের স্থান কতখানি অবশিষ্ট থাকে? আনহেলদি সেন্টিমেন্ট ওভারহোয়েলমিংলি সুপারসিডস কোশ্চেনস, কোশ্চেনস দ্যাট কোশচেন স্ট্যাটাস কো! কর্মব্যস্ততার নামে দিনের আলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া আমলাতন্ত্র, বিনোদনমুখী চাহিদার কথা বলে পুলিশের প্রশ্ন কিংবা সন্ত্রাসীর অতর্কিত আক্রমণের অজুহাতে রাতের প্রাতিস্বিক স্বরকে চিহ্নিত করতে না দেওয়ার তৎপরতাকে কনস্পিরেসি ছাড়া ভিন্ন কী বলা যায়? শিশুমনে প্রশ্ন উঠতে না দেওয়ার ফলে যেই প্রশ্নগুলোর প্রেক্ষিত অনিবার্যভাবে তৈরি হয়, কোন একাডেমিয়া তার মোকাবেলা করবে? তনিমার পেটে আসার পর থেকে তিশাকে নিয়ে অপেক্ষার অন্ত ছিলো না। বিবিধ প্রশ্ন মনে এলেও রহমান প্রশ্রয় দেয়নি। এই ভেবে যে, আসন্ন সময়ে উদ্ভূত বিভিন্ন পরিস্থিতি কার্যকারণের গতিমুখ জানিয়ে দেবে।
কোমরের কাছ থেকে ছুরিটা বের করে দেখলো। ঝকঝক করছে। পিলারের পেছনে ব্যাপক জঞ্জাল জমেছে। মনে হলো, কারো পরিষ্কার করা দরকার। পিলারের রাস্তাটি এড়িয়ে গেলো। পাশের গলি দিয়ে ঘুরে আসবে। সময় একটু বেশি লাগবে, লাগুক। তার হাতে অনেক সময়, অনেক!
বাড়ির কাছের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের পাশের বোগেনভিলিয়া গাছটা কেবল ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। কাছে গিয়ে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে কারা?
রহমান মদের আড্ডায় যোগ দেয় না, কিন্তু মদ খায়। একা। মাসে দুই তিনবার। রাতের চাইতে সন্ধ্যায় বেশি যায়। সৌন্দর্য অনুধাবনে রাতের তুলনা নেই। সন্ধ্যাটা দৈনন্দিনের বিবিধ রূপককে শনাক্ত করার; রাত হলো যতখানি সম্ভব পরিপার্শ্বের প্রভাবমুক্ত হয়ে চারপাশ দেখে কিছু অর্জন করা— যেন পরদিন সকালে প্রস্তুত থাকতে পারে। বাতাসটা কম চাপ দেয়। হইহুল্লোড় থেকে শুরু করে যানজট হয়ে সংবাদপত্রের ঝঞ্ঝাট পর্যন্ত যতখানি সাবলীলতায় সম্ভব সামলে নেয়।
“আই এম দা প্ল্যানার অব মাল্টিটিউডস। আই শ্যাল ইভেনচুয়ালী ফরগিভ দা ওয়ার্লড।”
“এসব বাতেলা ছাড়। অন্যদের মিথ্যা বলছিস তো বলছিস, নিজেকে বলছিস কেন?”
রহমান দেখলো, আশেপাশে কেউ নেই। প্রশ্নের গুঞ্জরণটা তবু মিথ্যা নয়।
কোমরের কাছ থেকে ছুরিটা বের করে দেখলো। ঝকঝক করছে। পিলারের পেছনে ব্যাপক জঞ্জাল জমেছে। মনে হলো, কারো পরিষ্কার করা দরকার। পিলারের রাস্তাটি এড়িয়ে গেলো। পাশের গলি দিয়ে ঘুরে আসবে। সময় একটু বেশি লাগবে, লাগুক। তার হাতে অনেক সময়, অনেক! বস্তিতে হইহল্লা নেই। বারোদিন আগে মজু সর্দার খুন হলো। পুলিশ প্রথম চার – পাঁচদিন পেদানি দিয়ে দিয়ে বস্তিবাসীকে অস্থির করে তুললো। আটজনকে জিপে তুলে নিল। গাঁজার সাপ্লাইয়ার কালাম গা ঢাকা দিয়েছে। শরীরের যেই হাল, দশ দিনের জন্য থানায় যেতে হলে আর সামলাতে পারবে না। মরেই যাবে। রাহাতটা আসতে অনেক দেরি করছে। রহমান তাকে বারবার বলে দিয়েছিল। যেন দেরি না করে। দাঁতে দাঁত চেপে বললো, শুয়োরের বাচ্চা। ছয় মাসে এলাকায় ছিনতাই বেশ কমেছে। সরকারের নতুন প্রকল্প, ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’। নামটা মন্দ হয়নি, সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আপামর জনগণের হার্ট ক্লিন হয়ে গেলে ক্ষতি কী! নিজের রসিকতায় অল্প একচোট হাসলো।
ওই তো, কাশেমটা অন্যমনস্ক হয়ে কী যেনো ভাবতে ভাবতে হেলে দুলে আসছে।
“সোনার চান, তাড়াতাড়ি আইসা পড়ো। বাপধন, টেনশন নিয়ো না। মরবা তো আর না। শরীরে খালি কয়েকটা পোচ পড়বে। তামাম জিন্দেগী মনে থাকবে।”
ছুরির অগ্রভাগ জিভে স্পর্শ করলো। কেমন একটা স্বাদহীন স্বাদ।
নয় মাস দেশের বাড়িতে গিয়ে পালিয়ে থাকলো। প্রচুর হুজ্জোত হয়েছিলো। দুই সপ্তাহ পরপর বাড়িতে পুলিশের হানা। মা আর ছোটবোনকে হেনস্থা। কে জানে, বোনটার গায়েও হয়তো হাতটাত দিতো। রহমান পরবর্তীতে সে নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। কাশেমের ভাগ্য খুলে গেলো। ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে ভিসা-পাসপোর্ট পেয়ে চলে গেলো ইটালী। রহমান অনেক বছর পরে তার খবর পেয়েছিলো। টাকাপয়সা কামিয়ে সেখানে দিব্যি রসেবসে আছে। কী কারণে কেউ জানে না, বউটা পালিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলো।
মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে রহমানের মনে পড়ে, তার দ্বিতীয় সেলফোনটা সেই যে হারিয়েছিলো, কখনো তার সিম তোলার প্রয়োজনই অনুভব করেনি। অথচ, অনেক জরুরি কনটাক্ট ছিলো সেই সিমে।
বিচিত্র এসকল অনুভূতি—গুমোট বাতাসে মাথায় চাপ লেগে কতোশতো স্মৃতি মনে পড়ে যায়। বাতাসের অবদমিত নিঃশ্বাসের ফলাফল – নাকি অন্তর্গত অনুদঘাটিত প্রশ্নাবলীর মীমাংসাহীন অবয়ব, কোনটা নির্ধারক বুঝতে পারা কঠিন।
হতে পারে, নিজের সাথে বোঝাপড়ায় সে অপারগ। খণ্ডিত বিশ্বাসের আশ্রয়াকাঙ্ক্ষী হয়ে বেঁচেবর্তে আছে, তার চাওয়া এতোটুকুই হতে পারে। রহমান জানে, কখনো সৎভাবে নিজেকে প্রশ্নগুলো করে দেখেনি। সত্যের অনেক ধরণ, এটা বোঝে। রহমানের উপলব্ধি: সত্যের ধরণ পাল্টানোর সাথে সাথে নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসে। তৃষ্ণাগুলো নিয়ে শুধু বেঁচে আছে তাই না, কখনো কখনো বিশুদ্ধ আবেগে সেগুলো অসুস্থভাবে চারপাশে ছড়িয়ে দেওয়ার বাসনা তীব্র হয়ে ওঠে।
তনিমা ঘুমাতে ঘুমাতে পাশ ফিরে দেখলো, জানালা দিয়ে রহমান বাইরে কী যেনো দেখছে। তিশার শরীর থেকে কাঁথা সরে গেছে। চোখ বন্ধ করে কাঁথায় আত্মজার শরীর ঢেকে দিলো।
রহমানের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করা—এসবে বহু আগেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কোনো কৌতূহল জাগে না। রহমানের বিষয়ে তনিমার ভাবনার সারাৎসার: নিজের যেসকল বিষয়ের সাথে সে ইচ্ছাকৃতভাবে ফয়সালা করে না, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আকাশপাতাল ভেবে ভেবে রহমান অবিরাম ফাঁকি দেয়। প্রথমত, খোদ নিজেকে; দ্বিতীয়ত, তাকে। রহমানের ক্লান্তিহীন রূপকের সন্ধান শৈল্পিক কোনো তাড়না থেকে নয়, অন্তঃস্থ পারিবারিক কাঠামোর ব্যবধানগুলোকে ভুলে থাকার ইচ্ছা উৎসারিত।
যেই অনাগত দাবিদাওয়াগুলো রহমান ও তনিমাকে পরস্পর জুড়ে রাখে — বিস্ময়বোধকে অতিক্রম করে পার্থিব দেনাপাওনার সুলুকসন্ধানে ব্যাপৃত থাকাটা তার একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প। রহমান বিশ্বাস করে, এক্ষেত্রে তার বিস্তৃতির সুযোগ নেই।
যদি না আপাত ঔজ্জ্বল্যকে ছাপিয়ে মর্মন্তুদ কোনো চেতনা নিজের প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়।




























































