অ.
এক তরুণ দরবেশ একবার কয়েক দিনের জ্বরে পড়লেন। জ্বর যখন উঠত তিনি উত্তাপে মাতালের মতো হয়ে নাচতে থাকতেন। সেই নাচ, সেই ঘূর্ণি ততক্ষণ চলত যতক্ষণ তার গায়ে জ্বর থাকত। জ্বর নামলে তার নাচ ফুরিয়ে যেতো আর তিনি বেহুশ হয়ে পড়তেন। জ্ঞান ফিরলে তিনি শুধু বলতেন, দেখা যখন দিলে… নিলে না কেন সাথে?! একদিন তার জ্বর সেরে গেলো আর তিনি নাচতে পারলেন না। কিন্তু তার দেহ, পায়ের প্রতিটা শিরা নাচের জন্য অপেক্ষা করতে লাগ্লো। দিনে দিনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন জ্বরের অপেক্ষায়। তিনি প্রার্থনা করলেন যেন তার জ্বর আবার ফিরে আসে। কিন্তু জ্বর এলো না। দিনে দিনে তিনি উন্মাদ হয়ে উঠলেন জ্বরে পড়ার জন্য। চারপাশের সাধক ভক্তরা অবাক হয়ে তাকে দেখতে লাগ্লো। তারপর একদিন তিনি জ্বরকে খুঁজে ধরে-বেঁধে আনতে বেরিয়ে পড়লেন। লোকেরা বল্ল, জ্বর তাকে নিয়ে গেছে, আর তার নাচের উঠোনটা লোকেরা দেখতে আসতে লাগ্লো – যেখানে তার পা লক্ষ লক্ষ বার স্পর্শ করেছে নাচের মগ্ন মুদ্রায় বিলীন হতে হতে। কিন্তু তিনি আর ফিরে এলেন না। লোকেরা বল্ল, জ্বর তাকে নিয়ে গেছে।
আ.
এক সাধু প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে পুকুরে নামলেন আর তার দেহের উত্তাপে পুকুরের সব জল বাষ্প হয়ে উবে গেল। চারপাশের লোকেরা অবাক হয়ে দেখল। সাধুও শীতল হলেন। পরের দিন জ্বর এলে তিনি পুকুরে নামলেন এবং কিছুই ঘটল না। হতভম্ব তিনি বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কেটে ডুব দিয়ে নিজেকে শীতল করে বুঝলেন, গতকাল প্রচণ্ড জ্বরে বিভ্রম হয়েছিল তার।
ই.
জ্বরে অচেতন হয়ে যাওয়া এক যুবক টের পেল একটা হাত তার কপালে কেউ রেখে বলে যাচ্ছে, সর্বনাশ… এ-তো ডিমপোচ করা তাপ! তারপর তিনি টের পেলেন তার বুকের উপর এক্টার পর এক্টা ডিম ভেঙ্গে দিচ্ছে কেউ আর উলটে-পালটে সেই ডিম পোচ করে পিরিচে তুলে কাস্টমারদের দিচ্ছে কেউ। এইভাবে জ্বরের তাপে ডিম পোচ করতে করতে তিনি একটা তপ্ত তাওয়া হয়ে গেলেন। অনেক বছর পর তার ইচ্ছে হলো আবার মানুষ হয়ে ফিরতে। কিন্তু মানুষেরা ডিম পোচ খেতে খেতে ভুলেই গেল তপ্ত একটা তাওয়া হয়ে যাওয়া মানুষটার কথা।
ঈ.
জ্বর নিয়ে এক পথিক রাত্রিবাস করলেন এক গ্রামে। পরদিন ভোরে তিনি বেরিয়ে গেলেন আর সমস্ত গ্রামের লোকেদের জ্বর হলো। পরদিন সমস্ত গ্রামের লোকেরা পথিককে খুঁজতে পথে নেমে পড়ল জ্বর নিয়ে। কিন্তু কেউ আর গৃহে ফিরে আসতে পারল না জ্বর ফেলে! আর এভাবেই সমস্ত দুনিয়ায় জ্বর ছড়িয়ে গেল।
উ.
জ্বর থেকে বাঁচতে এক কিশোর আমলকী খেতে খেতে বুড়ো-বুড়িদের সামনে এসে হাজির হল। বুড়ো-বুড়িরা জানালো, আমলকী গাছটার গায়েই জ্বর, সে কিভাবে জ্বর তাড়াবে? হতাশ কিশোর বল্ল, তাহলে তো আমলকীদের কপালে জল ঢালবার কেউ নেই?!
ঊ.
এক চোর ধরা পড়ার পর থানায় বসে বল্ল, আমি জ্বরের ঘোরে ভুল লোকের ভুল জিনিস চুরি করে নিয়েছি। সম্ভব হলে, জিনিসটা মালিকের হাতে পৌঁছে দেবেন! পুলিশ চোরকে লকআপে ঢুকিয়ে বল্ল, আমরাও একটা ভুল চোরকে খুঁজছি যিনি সঠিক জ্বরের সন্ধান করছেন।
ঋ.
এক গাধা-মালিক তার গাধাটাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ স্বরে কাঁদতে কাঁদতে বল্ল, আমার গাধাটার জ্বর হয়েছে, তাকে কেউ বাঁচাও। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল এলাকার লোকেরা গাধা মালিককে গাধা সহ পুকুর নামিয়ে দিয়েছে। এবার লোকটা হাউমাউ স্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, আমার গাধাটার শীত লাগছে তাকে জ্বরে চুবাও! লোকেরা আবার তাদের জল থেকে তুলে ডাঙায় আনল। এবার গাধা মালিক চিৎকার দিয়ে বল্ল, গাধার জ্বর পুকুরের জলে ভেসে গেছে, সেই জ্বর তুলে এনে দাও!
এ.
থার্মোমিটারের কাঁচ ফেটে পারদ বেরিয়ে পড়ল জ্বরের উত্তাপে। মেঝেতে ছড়িয়ে যাওয়া পারদ একজায়গায় জমা করতে গিয়ে জ্বর ভুলে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন একজন লোক। এক সন্ত এই দৃশ্য দেখে আফসোস করতে করতে বললেন, আহারে জীবনটাকে যদি এইভাবে গুছিয়ে একটা থার্মোমিটারে ঢোকাতে পারতাম?! তাহলে আর থার্মোমিটার ভাঙা জ্বরের অপেক্ষায় থাকতে হতো না। পারদ জমা করা লোকটা বল্ল, আমার পারদগুলা একজায়গায় করে দিন প্লিজ! আমার জ্বর লাগবে না, থার্মোমিটারও লাগবে না।
ঐ.
তোতা পাখির জ্বর মাপতে গিয়ে নানান কসরত করতে করতে পাখিটা মরে গেল! ডাক্তার এসে মরা পাখি দেখে নেড়েচেড়ে বল্ল, পাখি মরেছে বুঝলাম, কিন্তু জ্বর গেল কই?
ও.
রাষ্ট্রপ্রধানের জ্বর হবার পর সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো! জনগণ বল্ল, তবুও সরকারকে ধন্যবাদ যে, উনারা স্বীকার করছেন দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারী আকার নিয়েছে, এবং এজন্য আমাদের শত শত ডেঙ্গুতে মৃত্যু স্বার্থক! এখন জ্বরে রাজা না মরলে হয়!
ঔ.
জ্বর নিয়ে এক প্রেমিক তার প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে চুমু খেলো! প্রেমিকা বল্ল, একটা চুমুতেই হর্নি হয়্যা গেলা?! প্রেমিক মুচকি হেসে বল্ল, প্যারাসিটামল খেয়ে এসেছি! একটু সময় দাও, নেমে যাবে!
১৩ অক্টোবর ২৬





































































































