জন্মের পাঁজরে
শরীরের উদ্ধত ঝিরিপথ বেয়ে,
বিবর্ণ মুখে শুয়ে আছি জন্মের পাঁজরে।
জুম পোড়া ক্যানভাসে, চোখ থেকে মুখে হামাগুড়ি দিচ্ছে ধোঁয়ার ডানারা।
বিষণ্নতা ভুলে,
জাগতিক চেতনায় বাঁচা ফিঙের
ভাঙা আয়নায়, দৃশ্যত বিভেদের পাহাড়।
বিগত শতকের অবিন্যস্ত জ্যোৎস্নারাত,
আয়ুহীন কবিদের, ভেজা বেড়ালের ক্যামোফ্লেজে
লেগে থাকা পরাবাস্তব শব্দের অভিধানে
বেড়ে ওঠে নবজাতক শিশু।
আর ভাঙা মেরুদণ্ড মাথায় নিয়ে, পাখিরা গেয়ে যায় অঙ্কুরিত ভাবনার ফিলোসোফি।
উচ্ছেদের উচ্ছিষ্ট
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, নলখাগড়ার অভুক্ত আত্মহত্যায়
জন্মের পাঁজরে সিঁদুর এঁটে দেয় মৃত মায়ের
ভূমিষ্ঠ সন্তানেরা।
দক্ষিণে মরণফাঁদের
ফুসফুস থেকে বেরিয়ে আসে পঁয়ষট্টি ভরি উচ্ছেদের উচ্ছিষ্ট খাবার।
কড়া রোদে রাষ্ট্রের প্রেমালাপে মলিন হয়ে যায় পোয়েট্রি থলি উন্নয়ন।
আর প্রতিদিন মেট্রো-বাসে চড়ে ভিড় করে বিষাক্ত হৃদয়ের এত কাক।
এসবের মাঝেও এখানে পলি জমে,
রিক্ততায় নেমে আসে বুনোফুলের ঝাঁক।
গণহত্যার চামড়া পোড়া গন্ধ মিশে যায় গহীন ম্হোরংয়ের বারুদে।
মরীচিকা সন্ধ্যা
কচ্ছপের আয়ুপথ গণনা করে দেখি
দুচোখ জুড়ে কেবল
কুয়াশার বিষাদী জোনাক,
রক্তের ছিটেফোঁটা, ঝরে পড়া আত্মার যুগল।
জন্মের ব্যথায় ঘুমন্ত শরীর হয়ে গেছে
প্রকৃতির এক মরীচিকা সন্ধ্যা।
উষ্ণ জিভ কবেই যেন ভিজে গেছে
গ্র্যাভিটির ব্ল্যাকহোলে,
বয়ে চলছে হৃদয়ের স্নিগ্ধ লিথিয়াম,
ঠোঁটভর্তি এক উনবর্ষার বয়ানে।
যেন যুগযুগ ধরে পাড়ি দিচ্ছি প্রকৃতির এক অনাদি গর্ভের কাল।
সেমিকোলন
অভ্যন্তরীণ আর্তনাদে মিশে থাকা রিরংসার সুষুপ্ত ক্ষুধা
খেয়ে নিচ্ছে মানবতার ক্ষুধিত নির্যাস।
নর্মালাইজড ভাবনাগুলো পেয়ে যাচ্ছে ৭৯ থেকে বর্তমান—
ধর্ষিত সময়ের সেমিকোলন।
যেন অপরিণত বিকেলে ভাষাহীনতার এক সায়ানাইড বিস্ফোরণ।
ইলেকট্রিক সন্ধ্যা
বেগতিক সময় থেমে গেলে ক্ষমা দিও,
দেখো— ভিতরে জমে থাকা মাকাল ফল
প্রলাপের জিভে সেঁচে যাচ্ছে বেহুঁশে।
জোনাকির ইমেজে হেঁটে যাচ্ছে ইলেকট্রিক সন্ধ্যা
ম্রিয়মাণ ঘাটের নিশীথে।
দ্বান্দ্বিক আলাপের মৃদু সুর থেমে গেলে,
শিকড়-গ্রথিত ফসিল গুনে দেখো—
বিব্রত সময়ের সাইনবোর্ডে দাঁড়িয়ে।

























































