ব্রাইটার সামার ডে
এমন গরমে
এখানে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি
তুমিও নিশ্চয়ই শেষ হচ্ছো
অন্য কোনও তল্লাটে
আমরা তো প্রেমছিন্ন
শুধু শেষ হওয়াতে যৌথ
বুদ্ধপূর্ণিমা ঘনিয়ে এলে
চেনা আকাশ তবু অচেনা পূর্ণিমা। বৃষ্টিভেজা বৈশাখ। লুম্বিনীর নির্জন পথরেখা ধরে জন্মাতে জন্মাতে একজন দেখছে রিলসে ছাওয়া মৃত্যুময় চরাচর। ফেসবুকসাপেক্ষ মনন। সেরা কবিতা, সেরা উপন্যাস, সেরা সিনেমার মহড়ায় মত্ত মানুষের মতো বহু সামাজিক যোগাযোগ-ব্যাধিময় জীবকে দেখা যাচ্ছে। তারা তোমাকে বিশ্বাস করিয়েই ছাড়বে জীবন মানে ন্যারেটিভ আর পাল্টা ন্যারেটিভের সুখ।
তবে আজ তারা সংঘটিত অসুখের আরাধক, আজ তারা গৃহত্যাগী জোছনার সাধক। শত শত পোস্টের নজিরবিহীন প্রতিযোগিতায় এদের মধ্যে কে তোমাকে সফলভাবে ধরল গৌতম? সিদ্ধান্ত না দিয়ে চললে কোথায় সিদ্ধার্থ! লক্ষকোটি হিংসাজাতকে ছাওয়া বুদ্ধনিশীথ ছেড়ে তুমি কোন অসাড় অহিংস দিনের দিকে ধাবিত হচ্ছো, বুদ্ধ?
দ্যাটস ইট
কোথায় ছিলাম-আছি-যাব’র খেলায়
আমি ০১টা অতিরিক্ত খেলোয়াড়।
সব ভিনট্যাজ মজুত আছে,
শুধু স্পষ্ট করে নিলে পা আর চোখের ভূমিকা,
কোনো গল্পে অনুষঙ্গ হওয়ার সময় নেই আর!
তৈরি করে ফেলতে পারি সব লাউড-মিউট;
যখন নদী আর পাহাড় আমাকে প্রসঙ্গ করেই
ঝিরিঝিরি বইছে, অটল দাঁড়িয়ে আছে!
সন্ত ও শয়তান
শয়তানের সহযাত্রী হয়ে আমি খুঁজছিলাম একজন সন্তের বাড়ি। পথে পথে ছড়ানো-ছিটানো মেটে আলু, বনফুল, পায়রার মাংস। দোকানপাটে ফলের বদলে বিক্রি হচ্ছে শাঁস। অর্থাৎ খোসাটা কে যেন খেয়ে গেছে। আর এই ব্যাপারটার বিষাদ আমাকে একরকম অন্ধ করে দিলো। অন্ধ না। চোখটাকে একেবারে উলটে দিলো। তখন আমার সামনে সারাটা শহর যেন মৃত্যুতরু কিংবা ক্যাকটাসের কবর। সহযাত্রী শয়তান বহু কষ্টে সন্তের বাড়ি খুঁজে বের করল। আমি দেখি বাড়িটার কার্নিশ খানিক পুষ্পল, খানিক জান্তব। সন্তকে শয়তান এবং শয়তানকে সন্ত মনে হতে লাগল।
এমুন বৃষ্টিবাদলা
এখন হইতাছে
কিন্তু এই বৃষ্টি এখনেরই না
যেন কোন অচিনকালের
ওমানো গন্ধের ওপর
টিপটিপ বৃষ্টি পড়তাছে
স্মৃতিরে ছেড়াবেড়া কইরা দিতেছে
তুমি বাইরে দাঁড়াইয়া ছিলা কোন ভাদুর মাসে
এখন তোমার ভিতরের ঘরে ঢুইকা
বৃষ্টি তোমার ঝাঁপটাইতাছে
এমুন ময়লা দুনিয়া
আদিকাল থাইকা বৃষ্টি আইসা
এই এখন তার সব ধোয়াপাকলা সারতাছে
আব্বা কখন বাজারে গেছে
ছাতা নিয়া যায় নাই
বেবাক মাছ আর শাকপাতা চুবা
কবরের মইধ্যে আব্বাও চুবাচুবা
এমন মুর্দাভিজা বৃষ্টির দিনে
আমি জিন্দেগিভর আর ইশকুলে যামু না
আমগো সব সিলেবাস ভিইজ্যা গেছে
আগুনেরও ১২টা বাইজ্যা গেল বইলা
তবু জারি আছে ঘরে ঘরে আম্মার চুলা
এমুন গাদলার দিনে
তোমার প্রেমেরে আমি
কোলে কইরা ঘুম পাড়ামু
জাইগা ওইঠা সে দেখুক
কয়শ বছর আগের আমার বৃষ্টিভিজা লাশ
ভাইস্যা উঠতাছে পিরিতির নতুন পানিতে।



























































1 Comment. Leave new
চলতি শব্দগুলোকে যেভাবে আপনি কবিতায় ধরেন তা বরাবরই মুগ্ধ করত। দারুণ পিয়াস ভাই!