হে নৈঃশব্দ্য
ঘুম ছাড়া অবলারাত্রির ভিন্ন কোনো চোখ নেই
আছে হৃৎপিণ্ড ছিঁড়ে আজন্ম না ফেরার অনুভব
আছে ঘোর স্বপ্ন থেকে পালিয়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস
যেভাবে গেলেই কেউবা বলবে আহ্ বড় শান্তি!
ভাবি—যদি শিরা কেটে একা একা মরে যাই
যদি মরে গিয়ে বেঁচে যাই চিরায়ত অন্ধকারে
হয়তো মায়াকান্নায় নাক ডুবিয়ে বলবে কেউ—
বেচারার সব দোষ জীবনানন্দ দাশের ট্রামের
যে শব্দ আমাকে অর্থহীন করেছে সে নির্বাক
আঙুলের ফাঁক গলে অসময়ে কাঁপছে একাকী
তাড়া নেই কোনো, তারা শুধু বেহালার তারে
মৃত্যু আমাকে ডাকছে নিঃসঙ্গ সাগর পাড়ে।
ঢাকা, ‘২৫
নতুন অন্তঃসত্ত্বার গান
বসন্তের শেষ বাতাসে যদি তুমি আসো লগ্ন
যদি ভালোবাসো তুলতুলে কোমল জোসনা
তবে তুমি স্বপ্নে গিলে খাবে হারানোর ভয়।
বোশেখের দহন খরায় যদি মেলে ধরো পথ
যদি পদচ্ছাপ থেকে তুলে রাখো ক্ষতের চিহ্ন
তবে তুমি তীর্থযাত্রী বেশে সমর্পন করো মন।
বর্ষার প্রথম জলে যদি ডুবিয়ে ফেলো দুচোখ
যদি দৃষ্টির বিমূর্ত রেখায় জ্বলে ওঠে পল্কাসূর্য
তবে তুমি আলোর ভেতর খুঁজে পাবে ভোর।
শরতের রাতে যদি তুমি হাঁটো অবলা ছায়ায়
যদি ডাহুকের কণ্ঠস্বর থেকে জন্ম নেয় ব্যথা
তবে সুখেরও একধাপ নিচে রেখেছো জীবন।
হেমন্তের বীজে যদি থাকে গুপ্ত মুখের আকার
যদি অবয়ব ভেদ করে জাগে জন্মের আকুতি
তবে তুমি শুনতে পাবেই বাঁক ফেরানোর ডাক।
শীতের সশস্ত্র হিমে যদি মেলে সঙ্গমের ওম
যদি অষ্টম প্রহরে ঢেউ তোলে ঘুঘুর কম্পন
তবে তুমি ছিলে সুপ্ত পৃথিবীর অব্যক্ত সন্তান।
আলিঙ্গন মাত্র ভাষার মিলন—বিরতির টান
ঋতু যদি দেহ হয় সুপ্তরিপু তার অনঙ্গসন্তান
প্রেমের আরেক নাম নতুন অন্তঃসত্ত্বার গান।
ঢাকা, ‘২৫
উদ্যত সঙ্গীত
আমাকে ফেরাবে কে—গুপ্ত ঘাতক চেয়ার
যার চারপায়ে ঘাঁ, দু’হাতে করাত পোকা
আমাকে ফেরাবে কে—তিন পায়ের টেবিল
যার ভাঙা পা নিয়ে গেছে প্রাচীন হার্মাদ
আমাকে ফেরাবে কে—ক্ষুধার্ত মানুষের মুখ
যার শত্রুরা বোবা মূর্তির মতোন অবিচল
আমাকে ফেরাবে কে—বুলেটের তীক্ষ্ণ দাঁত
যার কপালে আঁকা প্রিয়তমার শেষ চুম্বন
আমাকে ফেরাবে কে—দলিতের নিঃস্ব ভাষা
যার বর্ণমালা খেয়েছিল বাঙালি জাতীয়বাদ
আমাকে ফেরাবে কে—হাইডেগারের চশমা
বলবে: মানুষ দেখে, দেখাও মানুষ দেখে
আমাকে ফেরাবে কে—কথা বলার মেশিন
যার বাক-স্বাধীনতা মিশেছিল টিয়ার-শেলে
আমাকে ফেরাবে কে—দিনপঞ্জির ৩৬ জুলাই
যার রক্তাক্ত শরীর এখনো দুঃস্বপ্নে জাগায়
ঢাকা, ‘২৬























































































