২৮ অক্টোবর ২০২৬
ফ্ল্যাওয়ার শপ
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
ঋষিণ দস্তিদার
কবি, চিত্রনাট্যকার
18

ঋষিণ দস্তিদার
কবি, চিত্রনাট্যকার

18

ফ্লাওয়ার শপ

১.

কাঁচা ও শুকনো ফুলের তফাত না জেনেই এমন সকাল। অনেকদিন পর উড়ে এল একঝাঁক মাছি। দেয়ালে দরজায় আর টেবিলে – ফুলেরা দেখছিল তাদের আনন্দ। স্বয়ংক্রিয় নতুন কোনো এয়ার-ফ্রেশনার তখন ছড়িয়ে পড়ছিল ঘরটার চার কোণায় থেমে থেমে – যেন মিষ্টি বিদেশি গন্ধে অটুট থাকে সকল আশ্বাস।

২.

পিকআপে চড়ে সতেজতা সামনে থেমেছে। নতুন চালানের দল রঙের ফিসফাস ভরে তুলেছে কাঠের তাকিয়া, মাটির বাসন আর বাটিগুলো। বাতিল মালা থেকে ঝরে পড়া দু-একটি মলিন ফুল তখন জানতে চাইল দূর মাটির খবর, চাষবাস আর মানুষের ভালোমন্দ।

৩.

পাপড়ি মেলে দিয়ে ফুল দুলছিল ফুটপাতের জারে আর দেখছিল সবকিছু। রাস্তার পাশে পর পর সব দোকান– আয়নার চশমার আর ওষুধের। আত্মমুগ্ধ পথচারী থমকে যায় কতবার, একেক দোকানে নিজেকে বারবার পরখ করেও অতৃপ্ত। পাশ কাটিয়ে চলে গেলে ফুলও বোঝে– কেউই নিখুঁত নয়।

৪.

সাদা জামার ছেলেটি কালো গোলাপ খুঁজে পেল না। রঙ চাই কালচে লাল, শুকিয়ে ওঠা রক্তের মতো। আর পাতার গোপনে যেন থাকে ছোটবড় তীক্ষ্ণ কাঁটা। সে বলেছে, স্ফুরণসম্ভব এমন যত কুঁড়ি মিলিয়ে একটা ছোটখাটো তোড়া হবে। তার কথার আবেগ ছাপিয়েও দ্রষ্টব্য যেন অই উচ্ছল চোখজোড়া! আর ডিসেম্বরের ঠান্ডা বাতাসে বারবার ডানা ঝাপটায় তার শার্টের হাতাগুলো, হাতবিহীন।

৫.

রঙের মোহে উড়ে এসেছিল। এইবেলা বিফল মাধুকরী, ফিরে যাচ্ছে মাছি। তোড়ার অসংখ্য ফটোগ্রাফি নিয়ে বিভ্রান্ত কারো বিনুনি – শখের ক্যামেরা বুঝল খুচরা ফুল কেনা তেমন সহজ কাজ নয়।

৬.

হাজার ওয়াটের আলোয় সন্ধ্যা ভেসে চলেছে। অজস্র রঙের ভেতরে এই ক্ষণ আপাতত মনোরম। সমবেত সুধীজনের চোখ ও ত্বক আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তবু মুদ্রাঘোরে অচেতন ফুলের দীপ্তি ধীরে নিভে যাচ্ছিল, কাছেই।

৭.

খুচরা পয়সা রাখা আছে কৌটায়। মাঝে মাঝে দীন তালুতে দোকান অভ্যাসবশত তুলে দেয় এক একটা। তবু একদিন, ধাতব সংকট আর যৌথ হতাশা দেখে দোকানের কেউ বেলির ছোট মালা আলতো জড়িয়ে দিয়েছে অন্ধ ভিখারি আঙুলে।

সময়ের সন্তানেরা
সময়ের সন্তানেরা-২
After-Article Banner 2
After-Article Banner 2 mob

মন্তব্য লিখুন

ধন্যবাদ। নাম ও মতামত লিখুন। পর্যালোচনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মন্তব্যটি প্রকাশিত হবে।

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত