১ নভেম্বর ২০২৬
বিপন্ন সারিন্দা
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
রোমেল রহমান
কবি ও গল্পকার
34

রোমেল রহমান
কবি ও গল্পকার

34

কবিতাগুচ্ছ

বিপন্ন সারিন্দা

কোজাগরী

রাত জেগে বসে আছি পেঁচা!
মৃত ইঁদুরদের স্মৃতি তর্পণ করে।
সারা বাড়ি ঘুমিয়ে গিয়েছে অনেক আগেই, সমস্ত সন্ধ্যা পায়ের ছাপ এঁকে… আলপনা দেয়া হুজ্জৎ ফুরিয়েছে এইবার!
আমি কেন বসে আছি তবু? কোন দুঃখের দড়ি ধরে ঝুলে আছি চুপচাপ?
সমস্ত দেশ চুরমার হচ্ছে রোজ, আর উল্টেপাল্টে দিচ্ছে ইতিহাস নদী, শেয়াল শকুন আর বর্বরের কণ্ঠ শুনি মাইকে এখন!
এইসব দেখি আর বিপন্ন সারিন্দা বাজাই!
সেই সুর টেনে বসে আছি লক্ষ্মী দেখার লোভে?
টুপটাপ শিউলি ঝরছে টের পাই, যখন নিহত মানুষের গোঙানি উপচে সেই ফুলের গন্ধ মধুময় লাগে, তাই মামলার সাক্ষী হতে নারাজ হৃদয় নিয়ে বসে থাকি — এই দুর্দিনে কয়েকটা শিকার ধরার লোভ কোলে টেনে!
পদলেহী হতে হতে জিরাফের ঘাড় আজ নিচু, সমস্ত ময়দানে ঘুরে বেড়াচ্ছে নতজানু, আমি সেইসব মুখ দেখে হতভম্ব হচ্ছি! এরা কেন বিদ্রোহের নাম বেচে নিজেকে জিরাফ সাজাচ্ছে? এরচেয়ে সার্কাসেই ভালো ছিলো এইসব মানুষের মুখ।

লক্ষ্মী ধরার ছলে রাত জেগে টের পাই: বুদ্ধের চাঁদ আমাকে অনেক আগেই করুণা করে চলে গেছে। তাই শুধু দেখি — মুখোশের আবডালে আরেক মুখোশ। এইসব বেচাকেনা শেষে — একেকটা মৃত বিকৃত মানুষ।

২৬ অক্টোবর ২৬

 

আপেল

আপেল কাটতে গিয়ে আঙুল কাটলো আমার আর আঁতকে উঠলো এক শিশু!
আমার রক্তের থেকে তার অশ্রুর নুন আমাকে ভীষণ বেদনার্ত করে।
তাই — দাঁতে দাঁত চেপে ভুলে যাই ক্ষয়।
এই দেশ তো এখন বিশুদ্ধ হত্যাপুরী,
যে যাকে যখন যেখানে যেকোনোভাবে পিটিয়ে অথবা গুলি করে কিংবা জবাই করে খুন করার সাহস রাখে।
আমি তাই নিজের বিলুপ্তি চাই।
টের পেয়ে গেছি:
মানুষ তো দুর্বোধ্য সংকেত মাত্র, তারচেয়ে সহজ: অরণ্য কিংবা নদী অথবা একটি লেবেঞ্চুস!
এক্টা জীবন যদি নষ্ট হয় এই মানুষের পিছনে, তারচেয়ে দুর্ভাগ্য আর নেই।
তাই দেখি:
হন্তারক
লুটেরা
বলাৎকারকারী
কিংবা
ধর্মবণিকেরা আজ সিংহাসন দখলের ময়দানে নেমে নিজেকেই একেকজন সম্রাট ভেবে ডিগবাজি খাচ্ছে তুমুল।
আমি আঙুলে ব্যান্ডেজ বেঁধে আয়নায় খুঁজে পাই —
ঝাঁকে ঝাঁকে লম্পট মিথ্যুক খুনি আর দ্বিচারি মানুষ উটে চেপে, গাধায় চড়ে, কিংবা ষাঁড়ে বসে বেরিয়ে আসছে তীর্থ থেকে।
সামান্য গাঁজা খাবার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া একটি কিশোর এই দৃশ্য দেখে নিজেকে বাঁচাতে যাবজ্জীবন সাজা প্রার্থনা করে কাঁদতে লাগ্লো। আর আমি একজন আদমকে খুঁজলাম কয়েক মিনিট ধরে যিনি একটি আপেল চারা লাগাতে একটু জায়গা খুঁজতে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন কিছুদিন আগে!

রাষ্ট্র আমার কাছে আজকাল: অন্ডকোষবিহীন গুচ্ছ গুচ্ছ পুলিশের চারণভূমি।

২৭ অক্টোবর ২৬

 

দৌলতপুর স্টেশন

দৌলতপুর স্টেশন যেন এক পুরানা পাকুড় গাছ, ঝিরিঝিরি ছায়া তার নরম মধুর।
বয়সের ভারে জুবুথুবু, কিছুটা শ্যাওলা জমা প্রবীণের গন্ধের মতো।
তবু ভালো লাগে তার মৌন হয়ে এই পড়ে থাকা।
আমরা কি তার কাছে এসে বসি দুঃখের আজিফা পড়তে?
বহুদিন হয়ে যায়, দীর্ঘ দীর্ঘ মাস বয়ে যায়, আজকাল… আমরা এখন আর পৌঁছাতে পারি না দৌলতপুর স্টেশনে।
কিছুটা শুশ্রূষা পেতে আমরা যেমন গিয়ে বসি প্রিয় মুর্শিদের মাজারে।
এ-ও যেন সেই উপশম। তবু তার থেকে দূরে বসে আজকাল স্মৃতি তর্পণ করি: একদিন আমাদের কান্না ভিজিয়েছে যেই প্লাটফর্ম।

২৭ অক্টোবর ২৬

সময়ের সন্তানেরা
সময়ের সন্তানেরা-২
After-Article Banner 2
After-Article Banner 2 mob

মন্তব্য লিখুন

ধন্যবাদ। নাম ও মতামত লিখুন। পর্যালোচনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মন্তব্যটি প্রকাশিত হবে।

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত