৬ নভেম্বর ২০২৬
সোনালি ওয়াটলের দেশে
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
ফারিহা নূর
কবি, গল্পকার
46

ফারিহা নূর
কবি, গল্পকার

46

কবিতাগুচ্ছ

সোনালি ওয়াটলের দেশে

জলসম জলস্ফীতি

সমুদ্র পাড়ি দিতেই
পেরিয়ে যাই অনর্থক বেদনা বৈভব
চুপ করে বসে আছে চিত্রকর
চারপাশে চতুস্তলক
সাদা রঙে ডুবে আছে বৈতরণী।

পথের দৈর্ঘ্য দীর্ঘ হলে ভালো হয়
ভাবা যায় অনেক কিছু
গতিময় শরীরে সঞ্চারিত স্বপ্ন
ভুলে যায় সময়ের হিসেব
সময় বৃদ্ধ হয় শান্ত থাকা হয় না।

রাস্তায় সাজানো গাছের সারি
সাথেই সমুদ্র সহেলী,
শিকড়বর্ষণ গভীর অতলে
পাহাড় পা ডুবিয়ে রাখে সমুদ্রজলে
জলসম জলস্ফীতি জীবন বলয়ে।

 

সোনালি ওয়াটলের দেশে

ওয়াটলের সাথে দেখা সেপ্টেম্বরের দুপুরে
সমুখে সোনালি প্রস্ফুটন
নৈঃশব্দ্যের বুকে আলোর অধিষ্ঠান
প্রখরতা নাকি অপেক্ষার প্রাচীন দাহ!
রমণীয় দিনের কাছে ঝলমলে ইতিহাস
হলুদের আঁচল আবৃত সবুজ মহাদেশ।

বিস্তৃত শাখায় গলে পড়ছে অসংখ্য ছোট সূর্য
মানুষ পরিচিত এ আকাশমণির সাথে।
তাকিয়ে থাকি। দেখি সবুজের ভিতর থেকে
উঁকি দেয় বসন্তের স্বরলিপি।
বৈরী হাওয়ার মহাদেশে, দাবানল শেষে
জাতীয় প্রতীক চির জাগ্রত নমনীয় বেশে।

অরণ্যের মানচিত্রে হলুদের অনন্ত বিস্ময়।
দুঃখফুল জঞ্জালে মোড়া, বাতাসে বৃদ্ধ বসন্ত
ওয়াটলের সাথে পায়চারি করি—
এ তো বহু পুরনো যাপনের সাথী!
শাখায় শাখায় অনাবিষ্কৃত আনন্দের প্রতিলিপি
সহনশীলতা এখানে ফুলের নাম, বিস্ময়ে দেখি।

আলাদা ভূখণ্ড, আলাদা মানুষ, আলাদা স্বপ্ন
আলোর অনুকূলে আলোচিত ওয়াটলের পুনর্জন্ম
যতবার সোনালি আকাশমণি দেখি
ততবার দেখি মারিয়া হিচকক;
তাঁর স্বপ্ন আজ বসন্ত হয়ে ফোটে
বাতাসে দোলে পরিচয়ের অভিন্ন প্রতীক।

 

সম্বল

অনেকে কিছু হারিয়ে যাওয়ার পর
যা কিছু বাঁচিয়ে রাখে তাই সম্বল।
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের লাল
বাহিত সময় জানে কে আপন-পর
কতটুকু কথা হয় ব্যাধির মতন।

ক্লেশে জর্জরিত রাতে কে ছিল সাথে?
দুঃখের প্রাতে সূর্য ওঠে ধীরে,
অবিশ্রান্ত আদরে যে রেখেছে মুড়িয়ে
সে পৌঁছে যায় সর্বময়,
মনের মই ধরে মহত্ত্বের শিখরে।

আকাশের বিশালতা পুঁজি করে
প্রসারিত হৃদয় শিখেছে বিসর্জন
মৃতপ্রায় ঘরে এখনো ঘুমায় মানব
পিপাসার বাসর উজ্জীবিত করে।
বেঁচে থাকে তৃষ্ণানিবারক তন্দ্রা ধরে।

 

অধর রঞ্জনী

সদ্য জন্মানো গোলাপের মিষ্টি রঙ
তাম্বুলের তীব্র নেশা
সবকিছু কেমন লেপ্টে আছে অধরে।
বাড়তি কোনো রঙ নয়
কিছু অভিমান গলে পড়ছে ঠোঁটে।

গোধূলির শেষ আলো দিয়ে
তিরিশটি বছর যে রাঙিয়েছে অধর
সে অধরে প্রেমের প্রথম বিকেল
পলাশের তপ্ত রঙ।
সে অধরে সময় গড়িয়ে যায়
বোকাপাখি জানে না মিথ্যে ঢঙ।

প্রাণমন ঢেলে জিরিয়ে নাও অধরে
আবহাওয়া বদলে যায় অনেক কথার পরে
জানালার ওপারে বৃষ্টি
আরও স্বচ্ছ হয় গোলাপের পাপড়িগুলো
রাখো মেকি সাজ, প্রেমের শ্রাদ্ধ হলো।

অচেনা শহর সন্ধ্যার সীমারেখা টেনে
অব্যক্ত কথার স্বাক্ষর জমালো অধরে
কিছু উজ্জ্বল হলো কৃষ্ণচূড়ার দহন
লাল ঠোঁটে ঘুমন্ত ভোরের পাখি
লুকিয়ে রেখেছে নিষিদ্ধ স্বপ্নসারথি
কোমল পাপড়ি ভাঁজে উতলা সরুপথ
অবাধ্য পথিক হেঁটে যায় রঞ্জিত লালিমায়।

 

সেই তো একাই

সেই তো একাই হাঁটতে হয়
যে যার মতো জীবনের স্বাদ নেয়
আমি লতাপাতায় জড়িয়ে থাকি
জানি জড়িয়ে থাকাও সহজ নয়।

যতটুকু দিন আমাদের ছিল
ততটুকু ঋণ জমা হলো আমার
হৃদয় পুড়িয়ে চলে যায় সমস্ত পুণ্য
আমি তো শুরু থেকেই শূন্য।

অচেনা পাখিদের সাথে বসে থাকি
প্রিয় হতে হলে কতটা পরিচিত হতে হয়
অন্ধকারে কতটা অবুঝ হতে হয়!
সেসব জানা নেই, জানার সময়ও নেই।

স্তব্ধ হয়ে নিজের হাতটা ধরে বসে আছি
কী আশ্চর্য কাপছে কেন মন, কান্নার মতন
আশেপাশে কেউ আছে নাকি দাঁড়ায়ে
থাকলেই কি, সেই তো একাই হাঁটতে হয়!

সময়ের সন্তানেরা
সময়ের সন্তানেরা-২
After-Article Banner 2
After-Article Banner 2 mob

মন্তব্য লিখুন

ধন্যবাদ। নাম ও মতামত লিখুন। পর্যালোচনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মন্তব্যটি প্রকাশিত হবে।

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত