সন্ত তুকারাম (১৬০৮-১৬৫০) ছিলেন ভারতের মহারাষ্ট্রের একজন বিখ্যাত সন্ত-কবি, ভক্তিবাদী সাধক এবং মারাঠি ভাষার সাহিত্যে ভক্তিমূলক কবিতার একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি। তিনি ভক্তিমূলক সাহিত্য ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে একটি অমূল্য রত্ন হিসেবে বিবেচিত হন। তাঁর জীবন, দর্শন, সাধনা ও কবিতা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চিন্তাধারার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সন্ত তুকারামের জন্ম বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলার দেহু গ্রামে একটি কৃষক পরিবারে। তাঁর পিতার নাম ছিল বলবন্ত রাও, মাতার নাম কাঙ্কাই। তুকারামের পারিবারিক জীবন ছিল সাধারণ। তিনি পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী। দুইবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী রাখুমাবাই ছিলেন অসুস্থ, দ্বিতীয় স্ত্রী আবলাবাই ছিলেন তাঁর জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী।
তাঁর জীবনে বহু দুঃখ ও সংগ্রাম ছিল, যেমন— দারিদ্র্য, পারিবারিক ক্ষতি ও সামাজিক প্রতিকূলতা। তাঁর জীবনের দুটি প্রধান ট্র্যাজেডি—একদিকে দারিদ্র্য ও ব্যবসায়িক ব্যর্থতা, অন্যদিকে মহামারীতে স্ত্রী ও সন্তানদের মৃত্যু—তাঁকে মানসিকভাবে পরিবর্তিত করে তোলে। এরপর তিনি সংসার ত্যাগ না করেই আত্মিক সাধনায় লিপ্ত হন। তাঁর পরিবার ভিটোবা (বিঠ্ঠল বা পাণ্ডুরঙ্গ: বিষ্ণুর অবতার) ভক্ত ছিল। তিনি দেহু গ্রামে বসে দীর্ঘ সময় ভগবান ভিটোবার নামস্মরণে নিমগ্ন থাকতেন।
তুকারাম ভক্তিবাদী ওয়ারকারি (বারকারি / ভারকারি) সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ছিলেন। ওয়ারকারি সম্প্রদায় মহারাষ্ট্রের একটি ভক্তিমূলক ধর্মীয় সম্প্রদায়, যা ভগবান বিষ্ণুর একটি রূপ শ্রীবিঠ্ঠল বা ভিটোবা বা পান্ডুরঙ্গ এবং তাঁর সঙ্গিনী রুক্মিণীর উপাসনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সম্প্রদায় ভক্তিমার্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এটি মারাঠি সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সন্ত তুকারাম এই সম্প্রদায়ের একজন প্রধান সন্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
তুকারামের আধ্যাত্মিক চিন্তাধারায় পূর্ববর্তী সন্ত জ্ঞানেশ্বর, নামদেব, একনাথ ও কবীর-এর গভীর প্রভাব ছিল। তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনে গুরুর গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সন্ত নামদেবকে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে বিবেচনা করতেন।
তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল তাঁর আধ্যাত্মিক জাগরণ। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি স্বপ্নে ভগবান বিঠ্ঠলের দর্শন পেয়েছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে কবিতা রচনার প্রেরণা লাভ করেছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো নিয়ে অনেক কিংবদন্তি রয়েছে।
তুকারামের দর্শন ভক্তিমার্গের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। তুকারামের দর্শনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ‘নামভক্তি’—ভগবানের নাম স্মরণ ও গানে লীন থাকা। তাঁর ঈশ্বর একান্তভাবে ব্যক্তিগত, দয়ালু, প্রেমময় ও সর্বসাধারণের জন্য উপলব্ধ। তাঁর প্রধান সাধনা ছিল ভিটোবার নামস্মরণ। তিনি দেহু নদীর ধারে বসে একাগ্রচিত্তে কীর্তন করতেন। সেখানে তাঁর ভক্তরা জড়ো হতেন। তাঁর সাধনার কেন্দ্র ছিল নামসংকীর্তন, প্রেম, দয়া ও আত্মবিশ্বাস।
তুকারাম হিন্দু সমাজের বর্ণপ্রথা, ব্রাহ্মণ্যবাদ, বাহ্যিক আচার-বিচার-অনুষ্ঠান ও ঠকবাজি পূজারীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভগবান হৃদয়ে বাস করেন, মন্দিরে নয়।” তাঁর ভাষ্য: ভগবানের নামগানই প্রকৃত ধর্ম। তিনি সহজ-সরল পথে মুক্তির কথা বলেন। তাঁর মতে, ভক্তিই হলো ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের সবচেয়ে সহজ ও প্রকৃত পথ।
তুকারাম আজও মহারাষ্ট্রের গ্রামে-গঞ্জে ভিটোবা ভক্তদের জীবনের অংশ। তার অভঙ্গগুলি মহারাষ্ট্রের স্কুল-কলেজে পড়ানো হয় এবং বাড়িতে-মন্দিরে গাওয়া হয়। তাঁর কবিতা শুধু কীর্তন নয়—চিন্তার উৎস
তুকারামের দর্শনে জাতিভেদ, শ্রেণিভেদ বা ধর্মীয় বিভেদের কোনো স্থান ছিল না। তিনি সকল মানুষকে সমান বলে বিবেচনা করতেন এবং ঈশ্বরের সামনে সকলেই সমান বলে প্রচার করতেন। তিনি ভক্তির সর্বজনীনতায় বিশ্বাস করতেন। তিনি বলতেন যে, জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই ভগবানের নাম নেওয়ার অধিকারী। তিনি নারী ভক্তদেরকেও গ্রহণ করতেন। বহিনাবাঈ নামে এক ব্রাহ্মণ মহিলা তাঁর বিশিষ্ট শিষ্যা ছিলেন।
তুকারাম জীবনের সততা, সাধুতা ও নৈতিকতার উপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন যে, সৎকর্ম এবং নিঃস্বার্থ ভক্তিই ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর পথ।
তুকারাম সন্ন্যাসী জীবনের পরিবর্তে গৃহস্থ জীবনে থেকেই ঈশ্বরের উপাসনার পক্ষে ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সংসারের দায়িত্ব পালন করেও ভক্তি ও সাধনা সম্ভব।
তুকারামের কবিতায় দারিদ্র্য, দুঃখ, ঈশ্বর বিচ্ছেদ, আত্মসমালোচনা ও ঈশ্বরানুরাগ এক অপূর্ব সমন্বয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর দার্শনিকতা কোনো বিমূর্ত গূঢ়তাতে আবদ্ধ নয়, বরং জীবনের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট।
তুকারাম মারাঠি ভাষায় অভঙ্গ নামক বিশেষ ধাঁচের ভক্তিমূলক কবিতা রচনা করেন। ‘অভঙ্গ’ মানে ‘অভাঙা’, অর্থাৎ অখণ্ড বা বিশুদ্ধ। তাঁর রচিত অভঙ্গের সংখ্যা প্রায় ৪,৫০০। এই কবিতাগুলোতে তিনি আধ্যাত্মিকতা, সামাজিক ন্যায়, মানবিক আবেগ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা সরল ও হৃদয়গ্রাহীভাবে ব্যক্ত করেছেন।
তুকারামের অভঙ্গ সাধারণ মানুষের বোধগম্য ভাষায় লেখা। তিনি জটিল সংস্কৃত শব্দ বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করেননি। তাঁর কবিতা গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে সকলের কাছে জনপ্রিয় ছিল। ব্রাহ্মণ সমাজ তাঁকে বিদ্রূপ করত, তাঁর কবিতা নদীতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল, কিন্তু লোককণ্ঠে তা আবার ভেসে ওঠে—এটি একটি প্রবাদপ্রতিম ঘটনা।
তুকারামের প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ-এর মতো মহান জাতীয় নেতাও তুকারামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা লাভ করেছিলেন। তাঁর চিন্তা গান্ধীজির উপরও প্রভাব ফেলেছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকর কারাবন্দি অবস্থায় তুকারামের অভঙ্গ আবৃত্তি করে প্রেরণা পেতেন।
তুকারাম ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে দেহু গ্রামেই দেহত্যাগ করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেহুতে একটি শিলা মন্দির নির্মিত হয়েছে।
তুকারাম আজও মহারাষ্ট্রের গ্রামে-গঞ্জে ভিটোবা ভক্তদের জীবনের অংশ। তার অভঙ্গগুলি মহারাষ্ট্রের স্কুল-কলেজে পড়ানো হয় এবং বাড়িতে-মন্দিরে গাওয়া হয়। তাঁর কবিতা শুধু কীর্তন নয়—চিন্তার উৎস। মারাঠি কীর্তনের চর্চায় তিনি আজও সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি। তাঁর কবিতা আজও জীবন্ত, কারণ তা হৃদয়ের কথা, সমাজের কথা ও ঈশ্বরচেতনার কথা বলে।
সন্ত তুকারাম একাধারে একজন কবি, সমাজচিন্তক, মরমি সাধক ও ঐতিহাসিক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তাঁর জীবন দেখায়—ঈশ্বরপ্রেম মানে কেবল ঈশ্বরের উপাসনা নয়, বরং জীবনের গভীর সত্য উপলব্ধি করা এবং সেই সত্যের পথে এগিয়ে চলা। তুকারামের জীবন ও কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঈশ্বরের পথে যাওয়ার জন্য জটিলতার প্রয়োজন নেই, শুধু প্রয়োজন একটি বিশুদ্ধ হৃদয় ও অটল ভক্তি।

তু কা রা মে র ক বি তা
১.
আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন নামদেব ও বিঠ্ঠল আমার স্বপ্নে এলেন।
“তোমার কাজ কবিতা লেখা—সময় নষ্ট করো না,” বললেন নামদেব।
বিঠ্ঠল আমাকে ছন্দের মাপজোখ শিখিয়ে দিলেন, কোমলভাবে জাগিয়ে তুললেন
এক স্বপ্নের ভিতর আরেক স্বপ্ন থেকে।
নামদেব একশো কোটি কবিতা লেখার সংকল্প করেছিলেন।
“তুকা, অবশিষ্ট সব অলিখিত কবিতার দায়িত্ব তোমার।”
[রবীন্দ্রনাথ তুকারামের কিছু অভঙ্গের পদ্যানুবাদ করেছেন। উদাহরণ হিসাবে উপরের অভঙ্গটির রবীন্দ্রকৃত অনুবাদটি দিচ্ছি নিচে।]
নামদেব পাণ্ডুরঙ্গে লয়ে সঙ্গে ক’রে
একদা দিলেন দেখা স্বপ্নে তিনি মোরে।
আদেশ করিলা মোরে কবিতারচনে
মিছা দিন না যাপিয়া প্রলাপবচনে।
ছন্দ কহি দিলা মোরে, আদেশিলা পিছু,
বিঠলেরে লক্ষ্য কোরো লিখিবে যা-কিছু।
কহিলেন পিঠ মোর চাপড়িয়া হাতে
এক শত কোটি শ্লোক হইবে পুরাতে।
২.
মানুষ যদি ঈশ্বরের অধিষ্ঠান হয়,
আমরা প্রণতি জানাব তার পায়ে,
কিন্তু তার অভ্যাস ও উদ্দেশ্য দেব বাদ।
ঠান্ডা তাড়ানোর জন্য আগুন ভালো,
কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই একে তুলে নেবে না,
কাপড়ের ভিতরে একে নিয়ে ঘুরবে না।
তুকা বলে, “বৃশ্চিক আর সাপও
নারায়ণের অধিষ্ঠানের স্থান,
দূর হতে তুমি তাকে ভক্তি জানাতে পার,
তবে অবশ্যই তাকে স্পর্শ করবে না।”
৩.
যেমন নববধূ মায়ের বাড়ির দিকে ফিরে চায়,
কিন্তু বিদায় নেয় ভারাক্রান্ত পদে—
তেমনি আমার আত্মা তোমার দিকে চেয়ে কাঁদে,
যেন তুমি আর আমি একত্র হই।
যেমন শিশু মাকে না দেখে কান্না করে,
যেমন জলছাড়া মাছ ব্যথায় কাতর—
তেমনি আমি, তুকারাম বলছি।
৪.
আমার চোখে সকল মানুষই ঈশ্বর সদৃশ!
দোষ বা পাপ আর দেখি না আমি।
এই কষ্টময় পৃথিবী এখন আনন্দময় স্বর্গ,
হৃদয় শান্ত, পূর্ণ, উপচানো।
আয়নার মুখ ও তার প্রতিবিম্ব — তারা একে অন্যকে চায়,
আলাদা হলেও, মূলত এক।
আর যখন নদী সাগরে মেশে… আর নদী থাকে না!
৫.
ভক্ত ছাড়া ঈশ্বর কীভাবে রূপ ধারণ করে আর সেবা গ্রহণ করেন?
যেমন সোনার গাঁথুনি রত্নকে প্রকাশ করে,
একজন আরেকজনকে করে তোলে সুন্দর।
কে আর পারে ভক্তকে কামনা থেকে মুক্ত করতে?
তুকা বলে, “তারা পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট, যেমন মা ও সন্তান।”
৬.
মানুষের ভিড়ে ঈশ্বরকে খুঁজে ফেরে মন,
শেষে বুঝি—তিনি তো নিজের ভেতরেই ছিলেন।
৭.
হৃদয়ে প্রেম থাকলে পূজা নিজেই ঘটে—
ফুল, ধূপ, প্রদীপের দরকার হয় না।
৮.
অন্যের দোষ খুঁজতে খুঁজতে নিজেকেই হারালাম;
দোষহীন চোখ পেলাম ভক্তদের সঙ্গেই।
৯.
জপে নয়, সুরে নয়—
বেদনায় উচ্চারিত নামই দ্রুত ঈশ্বরকে ডাকে।
১০.
যে ক্ষুধা দেহের, তা খাদ্যে মেটে;
যে ক্ষুধা আত্মার, তা শুধু প্রেমে মেটে।
১১.
পাপীরা ঈশ্বরকে ভয় পায়,
ভক্তরা তাঁকে ভালোবাসে।
১২.
অহংকার ভক্তির শত্রু;
নরম হও, তবেই হরি কাছে আসে।
১৩.
যে হৃদয়ে দয়া নেই,
সেখানে ঈশ্বর অস্থায়ী অতিথি।
১৪.
দুঃখকে ঠেলে দিও না—
ওটাই তোমাকে ঈশ্বরের দিকে ঠেলে নেয়।
১৫.
মনের কাদা সরালে,
আলো নিজেই দেখা দেয়।
১৬.
সবাই ঈশ্বর চায়;
কিন্তু খুবই কম মানুষ নিজেকে বদলায়।
১৭.
হৃদয় নরম হলে সব তর্ক থেমে যায়।
১৮.
হরিনাম একমাত্র শব্দ,
যা বারবার বলা যায় তবু ক্লান্তি আসে না।
১৯.
সূর্য ওঠার মতো নিশ্চিত হলো হরির কৃপা—
ডাকলেই আসে।
২০.
আত্মা আলোয় ভরা;
দেহই শুধু ছায়া তোলে।
২১.
ঈশ্বর কাছে এসেছেন কিনা—
তা তোমার শান্তি দেখে বোঝা যায়।
২২.
ভক্তের ঘরে দরজা থাকে খোলা;
সন্দেহ সেই দরজা বন্ধ করে দেয়।
২৩.
ঈশ্বরকে না খুঁজে সুখ চাওয়া—
অন্ধকারে আলো খোঁজার মতো।
২৪.
যে যত সরল,
ভগবান তত তার সঙ্গী।
২৫.
ধনকে ভয় কোরো;
এটা মানুষকে নিজের প্রভু বানিয়ে ফেলে।
২৬.
রাগ আগুন;
প্রেম বৃষ্টি।
২৭.
যে পরের দুঃখে কাঁদে,
গোপাল তাকে নিজের মানুষ ভাবেন।
২৮.
প্রার্থনা মানে চাওয়া নয়—
প্রাণ খুলে দেওয়া।
২৯.
ভালো কাজ করেও ঘোষণা কোরো না—
ঘোষণাই তার পুরস্কার কেড়ে নেয়।
৩০.
দেহ ভেঙে যায়,
মনও ভেঙে যায়—
নাম কখনো ভাঙে না।
৩১.
যে নিজের কথা বলে না,
সেই হৃদয় ঈশ্বরের জন্য ফাঁকা জায়গা রাখে।
৩২.
দুঃখ নিজের হাতে বানাই—
যা ছাড়তে পারি না, সেটাই যন্ত্রণা।
৩৩.
ধর্ম যার কাছে ভয়,
তার কাছে প্রেম এখনো পৌঁছোয়নি।
৩৪.
যা দিই ঈশ্বরকে—
তিনি তা ফিরিয়ে দেন দ্বিগুণ শান্তি হয়ে।
৩৫.
মানুষ কাঁদলে ভগবান থেমে শোনেন।
৩৬.
নামজপে মন যদি বশ না হয়—
তা হলে জানবে জপ শুধু মুখে হয়েছে।
৩৭.
যে নিজের ভুল দেখে,
সেই সত্যিকার ভক্ত।
৩৮.
যে মন প্রেমে ভিজে,
তার শাস্ত্র লাগে না।
৩৯.
ক্ষুধা দেহে উঠে আসলে বোঝা যায়—
এ শরীরই তো পরের দান।
৪০.
জপের শব্দ ক্ষুদ্র;
তার ফল বিশাল।
৪১.
সংসারের হাসি অল্পক্ষণ;
হরির আনন্দ স্থায়ী।
৪২.
লাভ-লোকসান যতক্ষণ মাথায়,
ততক্ষণ ভক্তি জমে না।
৪৩.
নিজেকে জানলে ঈশ্বরকে চেনা যায়।
৪৪.
নীরবতায় ঈশ্বরের পাশের আসনটা খালি থাকে—
বসো, তিনি অপেক্ষা করছেন।
৪৫.
যে পরের উপর দয়া করে,
সে ঈশ্বরের হৃদয়ে জায়গা পায়।
৪৬.
অহংকার যত কমে,
তত ভক্তির আলো বাড়ে।
৪৭.
রাগের আগুনে নিজেকেই পোড়াই;
ক্ষমার জলে নিজেকেই ধুই।
৪৮.
যে মানুষকে ভালোবাসে,
ঈশ্বর তার মাধ্যমে কথা বলেন।
৪৯.
বুঝলে দেখা যায়—
সমস্ত পথই শেষমেশ তাঁর কাছে যায়।
৫০.
সন্দেহ মনকে শুকিয়ে ফেলে;
বিশ্বাস তাকে সবুজ করে।
৫১.
তর্ক যত বাড়ে,
ভক্তি তত কমে।
৫২.
পরের দোষ দেখার আগে
নিজের হৃদয়টা পালটে নাও।
৫৩.
লোক কী বলবে—
এই চিন্তাই মানুষকে বেঁধে রাখে।
৫৪.
ভক্তির পথে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই—
সবাই হরির সন্তান।
৫৫.
যে সব হারিয়েছে,
তাকেই ঈশ্বর নতুন পথ দেন।
৫৬.
ভালোবাসা ছাড়া ঈশ্বর ধরা দেয় না।
৫৭.
প্রার্থনা মানে শুধু বলা নয়—
শোনা।
৫৮.
নিজেকে অর্পণ করো,
আর সব তাঁকে করতে দাও।
৫৯.
শান্ত মনই ঈশ্বরের আবাস।























































































































