৩০ জুলাই ২০২৬
রাত্রিকে লেখা চিঠি ১
চিত্রবিন্যাস :
বিজন অরণ্য
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
কবি ও চিত্রশিল্পী
65

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য
কবি ও চিত্রশিল্পী

65

রাত্রিকে লেখা চিঠি

বৃষ্টির বস্তুবাদ

প্রিয় রাত্রি,
একটু আগে এইখানে ঝড় হয়ে গেল। এখন বৃষ্টি হচ্ছে আমার কামিনী গাছটার পাতায়। একটু আগে যখন বারান্দার কাচের স্লাইডিং ডোরে বাতাসের রাক্ষসেরা নাক ঘষছিল, তাদের নাক ঘষার শব্দকে মনে হচ্ছিল সমুদ্রের ঢেউ ভাঙার শব্দ। মনে হচ্ছিল আমার নয় তলার বারান্দায় তোমার দিক সমুদ্র উঠে এসে আমাকে ডাকছে।

কী এক কাকতালীয় ব্যাপার জানো, এর মধ্যেই আমি একটা বই পড়ছিলাম। ঠিক বই নয়, একটা বই থেকে একটা প্রবন্ধ। সেই প্রবন্ধে বৃষ্টির কথা আছে। অবশ্য কালতালও বলা যাবে না, কেননা বর্ষাকাল শুরু না হলেও এখন তো বৃষ্টিরই সময়। জানো তো, আমি ইদানীং খুব বেছে বেছে লেখাপত্র পড়ি। ধরো, পুরো একটা বই থেকে একটা গল্প বা একটা প্রবন্ধই আমার ভালো লাগল, সেটাই পড়ি। কেননা সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। কী দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে তুমিও নিশ্চয় টের পাও। অবশ্য পুরো বই পড়বার দরকারও মনে করি না, আমি তো আর থিসিস লিখব না। যদি কিছু লিখি সিনথিসিসই লিখব। এই যেমন তোমাকে লিখছি, এটাও একার্থে সিনথিসিস ধরে নিয়ো।

এইবার বইটার কথা বলি। বইটা আলতুসেরের। তাকে তো তুমি চেনোই। তাকে পড়বার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হবার প্রথম কারণ ছিল ফুকো আর দেরিদা দুজনেই তার সরাসরি ছাত্র ছিলেন। যাইহোক, বইটার নাম ‘The Philosophy of the Encounter’ আর এই বইয়ের যেই প্রবন্ধটা পড়ে তোমাকে এই চিঠি লিখছি সেই প্রবন্ধের নাম ‘The Underground Current of the Materialism of the Encounter.’ চল্লিশ পৃষ্ঠার দীর্ঘ একটা প্রবন্ধ।

আলতুসেরকে ভালো লাগার আরেকটা কারণ। তিনি সেই মার্ক্সবাদী, যিনি মার্ক্সবাদকে অবিনির্মাণ করেছিলেন। কেমন করে? বলছি। সেটা করতে গিয়েই তিনি বৃষ্টির বস্তুবাদ লিখেছিলেন।

আলতুসের যখন এই লেখাটি লিখছেন, তখন তাঁর চারপাশের চেনা জগৎটা এক লহমায় ওলটপালট হয়ে গেছে। ১৯৮০ সালের এক কুয়াশায় মোড়ানো নভেম্বরে চরম এক ঘোরের ভেতর তিনি তাঁর প্রাণাধিক স্ত্রী হেলেনকে দমবন্ধ করে হত্যা করেছিলেন। এরপর বিচারের কাঠগড়া এড়ালেও তাঁকে কাটাতে হয়েছিল লুনেটিক অ্যাজাইমের ছয় দেয়ালের ভেতর, এক নামরহিত জড় সময়ে। বাইরে তখন ফ্রান্সের রাজনীতিতে এক নতুন বাতাস লেগেছে, বামপন্থীরা জয়ী হয়েছে, ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ প্রেসিডেন্ট, কিন্তু আলতুসেরের কাছে সেই খবর পৌঁছেছিল অনেক দেরিতে। ১৯৮২ সালের অক্টোবরে যখন তিনি হাসপাতাল থেকে একরকম সুস্থ হয়ে প্যারিসের এক শ্রমিক পাড়ায় ফিরে এলেন, তখন তাঁর চোখের সামনে চেনা দর্শন, চেনা মার্ক্সবাদ আর চেনা ইতিহাস এক নতুন আলোয় ধরা দিল। যাপিত জীবনের এই চরম ট্র্যাজেডি আর আচনকতার মিলনই তাঁকে দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল এই প্রবন্ধ।

রাত্রি, আলতুসেরেরও বাইপোলার ডিসঅর্ডার ছিল, সিজোফ্রেনিয়া ছিল। যদি নাও থাকত, আমার মনে হয় তারপরও হেলেনকে মেরে ফেলতেন এবং তা বিবাহের বছর দশেক পরেই করতেন, বুড়ো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন না। তখন হয়তো সাজা হত, নাহয় পালিয়ে বেড়াতেন। আমার মনে হয় আলতুসের মার্ক্সের শিষ্য নন, তিনি মূলত ব্রাউনিং-এর শিষ্য। মার্ক্স, অসুখ, ইন্টারপেলেশন ইত্যাদি আসলে তার ভান কিংবা অভ্যাস। অভ্যাস আর প্রবৃত্তি কিন্তু এক ব্যাপার নয়। তিনি আসলে কবি।

এই প্রবন্ধে আলতুসের দর্শনের ইতিহাসের এক গোপন, নিভৃত আর প্রায় অবদমিত ধারাকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছেন, যার মূলকথা এই পৃথিবী বা আমাদের জীবন কোনো পূর্বনির্ধারিত ছক বা অমোঘ নিয়মের দাস নয়, সবটাই আসলে বস্তুর এক চরম আচানক সঙ্গমের লীলা।

ভাবো তো, এক অন্তহীন মহাশূন্যের কথা, যেখানে কোনো আলো নেই, ছায়া নেই, কোনো চেনা পৃথিবীর সীমানা নেই। গ্রিক দার্শনিক এপিকিউরাস আর রোমান কবি লুক্রেতিয়াসের জগৎ থেকে রূপক ধার করে আলতুসের আমাদের এক অদ্ভুত দৃশ্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন। সেই অসীম শূন্যতায় কোটি কোটি পরমাণু আকাশ থেকে পাতালের দিকে ঝরে পড়ছে। ঠিক যেন অবিশ্রাম বৃষ্টিধারা। এই যে পরমাণুগুলি ঝরছে, এরা কিন্তু অদ্ভুত এক নিয়মে সোজা, সমান্তরাল লাইনে ঝরে পড়ছে। কেউ কারও পথ আটকাচ্ছে না, কেউ কারও গায়ে গা ঘষছে না। যদি বৃষ্টির ফোঁটার মতো পরমাণুগুলি চিরদিন এভাবেই সমান্তরাল ঝরে যেত, তবে এই মহাবিশ্বে কোনোদিন কোনো কিছুরই জন্ম হত না । না কোনো নক্ষত্র তৈরি হত, না কোনো নদী, আর না কোনো মানুষ আজ এই পৃথিবীর বুকে হেঁটে বেড়াতে পারত। কিন্তু অলৌকিক কাণ্ডটা ঘটল এক আকস্মিক মুহূর্তে। কোনো এক অজানা কারণে, কোনো এক নামহীন সময়ে, একটা পরমাণু তার চেনা সোজা পথ থেকে সামান্য একটু বেঁকে গেল। আর ওই একটা পরমাণু নিজের খেয়ালে একটুখানি বেঁকে যেতেই ঘটে গেল এক অভাবনীয় কাণ্ড! ওটা গিয়ে ধাক্কা মারল পাশের পরমাণুটাকে, সেই ধাক্কায় ওটা গিয়ে লাগল আরেকটাতে। ব্যস, দেখতে দেখতে একটা চেইন অব রিঅ্যাকশন শুরু হয়ে গেল। কোটি কোটি পরমাণুর মধ্যে তুমুল আলোড়ন তৈরি হল, তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরল, জমাট বাঁধতে শুরু করল। আর পরমাণুদের ঠিক এই আকস্মিক সঙ্গম থেকেই জন্ম নিল আমাদের এই চেনা পৃথিবী, মানুষের সমাজ আর আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস। আলথুসার এই প্রাচীন রূপকটি দিয়ে দর্শনের রাজ্যে এক বিরাট ঝামেলা লাগিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এই সৃষ্টির পেছনে কোনো মহান স্রষ্টার পূর্বপরিকল্পনা নেই, কোনো পরম কারণ আগে থেকে লেখা নেই। সবকিছুর মূলে রয়েছে এক পরম আচানকতা।

আমার রাত্রি, হাজার বছর ধরে প্লেটো, অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে হেগেল পর্যন্ত বিরাট সব দার্শনিকরা সবসময় সবকিছুর একটা কার্যকারণ খুঁজে গেছেন। আলতুসের এই ধারাটার উলটো পিঠে দাঁড়িয়ে বললেন, না, কারণের চেয়ে আচানকতার ক্ষমতা অনেক বেশি। যতক্ষণ না পরমাণুগুলির মধ্যে ওই ধাক্কাটা লাগছে, ততক্ষণ তাদের অস্তিত্ব আসলে এক একটা ছায়ার মতো। ধাক্কাটা লাগার পরেই তারা একে অপরকে আলিঙ্গন, শরীরসঙ্গের আগে যেমন করে কোনো নারী তার প্রিয়তম পুরুষকে আলিঙ্গন করে জমাটবদ্ধ হয়ে যায়, কিংবা যেমন করে জল জমে বরফ হয়ে যায়। এই জমাট বাঁধার পরই তৈরি হয় একটা কাঠামো, আর সেই কাঠামোর ভেতরে জন্ম নেয় আমাদের চেনা নিয়ম বা প্রয়োজনীয়তা। এই নিয়ম বা প্রয়োজন কিন্তু আগে থেকে ছিল না, তা জন্ম নিয়েছে এক চরম আকস্মিকতার গর্ভ থেকে। রাত্রি, আলতুসের বলেন, প্রয়োজন আসলে আকস্মিকতারই একটা রূপ মাত্র। যদি সেই ধাক্কাটা স্থায়ী না হত, তবে কোনো পৃথিবীই তৈরি হত না। তাই দর্শনকে কোনো পরম সত্য বা সৃষ্টির আদি কারণ খোঁজার ভান ছেড়ে দিতে হবে। দর্শন আসলে কোনো কারণের ব্যাখ্যা নয়, দর্শন হল কেবল এক স্বীকৃতি এক পর্যবেক্ষণ, এই যে একটা ঘটনা ঘটে গেছে, একটা মিলন ঘটে গেছে, এবং তার ফলে একটা জগৎ তৈরি হয়েছে, তাকে মেনে নেওয়া।

আলতুসের দেখালেন যে, এই অবদমিত বস্তুবাদের একটা গোপন সুর বা মাটির গহিনে গোপন জলস্রোত দর্শনের ইতিহাসে সবসময় বয়ে চলেছে। এপিকিউরাসের পর এই স্রোতের অন্যতম নায়ক হলেন ম্যাকিয়াভেলি। পনেরো শতকের ইতালির। তখন ইতালি নামক কোনো অখণ্ড দেশের অস্তিত্ব ছিল না। দেশটা ছোটো ছোটো সামন্ত রাজ্যে বিভক্ত, নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করছে, আর বাইরে থেকে বিদেশি শক্তি এসে সেই সুযোগে লুঠপাট চালাচ্ছে। চারিদিকে একটা গভীর হাহাকার, একটা তীব্র বাসনা যে কেউ একজন আসুক, এসে এই হযবরল ইতালিকে এক সুতোয় বাঁধুক। কিন্তু কোনো চেনা উপায় ছিল না। ঠিক যেন এক একটা পরমাণু সোজা লাইনে নিচে ঝরে পড়ছে, কেউ কারো সঙ্গে মিলতে পারছে না। সেই সময় ম্যাকিয়াভেলি বললেন, ইতালির এই মুক্তি তখনই সম্ভব, যদি একদম শূন্য থেকে, কোনো এক নামরহিত কোনা থেকে এক নতুন মানুষের উদয় হয়। এই মানুষের কোনো চেনা রাজবংশ থাকবে না, থাকবে না কোনো পূর্বনির্ধারিত ক্ষমতা। তার থাকবে কেবল দক্ষতা, সাহস ও ভাগ্য। এই নতুন মানুষটি যখন ভাগ্য আর সাহসের এক অদ্ভুত সংযোগে কোনো একটা বিন্দুতে এসে দাঁড়াবে, তখনই ঘটবে সেই আচানক মিলন। তাঁর এই চিন্তা আসলে কোনো অলীক কল্পনা ছিল না, এটা ছিল এক পরম রাজনৈতিক বস্তুবাদ। তিনি জুয়াড়ির মতো পাশা চাললেন এক শূন্য টেবিলের ওপর, যেখানে ছক আগে থেকে কাটা নেই, কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে একটা নতুন ইতিহাস তৈরি হয়ে যেতে পারে।

এই গোপন স্রোতটি এরপর স্পিনোজা আর হবসের হাত ধরে রুশোর কাছে এসে পৌঁছায়। রুশো মানুষের আদিম বন্য অবস্থার এক আশ্চর্য ছবি এঁকেছেন। সেই আদিম অরণ্যে মানুষ ঘুরে বেড়াত একদম একা একা। তাদের কোনো ভাষা ছিল না, কোনো ঘরবাড়ি ছিল না, কোনো সমাজ বা সংস্কৃতি ছিল না। প্রত্যেকে নিজের নিজের সমান্তরাল লাইনে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছিল। কোনো নিয়ম তাদের বাঁধেনি। কিন্তু তারপর কী হল? সহসা একটার পর একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এল, কোথাও দাবানল, কোথাও ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, কোথাও বা প্রবল বন্যা। এই আকস্মিক প্রাকৃতিক ধাক্কাগুলি মানুষকে বাধ্য করল এক জায়গায় এসে জড়ো হতে। তারা পরস্পর মুখোমুখি হল, তাদের মধ্যে এক অলিখিত মিলন ঘটে গেল। আর সেই মিলনের ধাক্কা থেকেই জন্ম নিল ভাষা, পরিবার, সমাজ, ধর্ম আর মানুষের তৈরি আইন। রুশোও আসলে এখানে আলতুসেরের সেই পরমাণুর বৃষ্টির রূপকটিকেই অন্যভাবে দেখাচ্ছিলেন। সমাজ কোনো প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া ব্যাপার নয়, তা একঝাঁক আচানক ঘটনার ধাক্কায় গড়ে ওঠা এক কৃত্রিম কাঠামো মাত্র।

ছোট্ট রাত্রি, আলতুসের এই মাটির তলার স্রোতকে টেনে এনে শেষমেশ মেলালেন কার্ল মার্ক্সকে অবিনির্মাণ করবার কাজে। তিনি তাঁর নিজের পুরোনো মার্ক্সবাদী বন্ধুদের এক মস্ত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। কট্টর মার্ক্সবাদীরা সবসময় মনে করতেন যে, ইতিহাসের একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, একটা অমোঘ গতিপথ আছে। সমাজ অনিবার্যভাবে আদিম সাম্যবাদ থেকে দাসপ্রথা, সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ হয়ে একদিন সমাজতন্ত্র হয়ে সাম্যবাদে পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। আলতুসের বললেন, এই ধারণা আসলে মার্ক্সবাদ নয়, এটা হল এক ছদ্মবেশী আদর্শবাদ বা হেগেলীয়তত্ত্ব, যা ইতিহাসকে একটা ট্রেনের লাইনের মতো সোজা দেখতে চায়। কিন্তু মার্ক্স যখন তাঁর ‘দাস ক্যাপিটাল’ বইয়ের শেষ অধ্যায়গুলোতে পুঁজির আদিম সঞ্চয় নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন তিনি নিজেই এই চেনা ছকটা ভেঙে ফেলছেন। পুঁজিবাদ কীভাবে জন্ম নিল? তা কি কোনো চেনা অর্থনৈতিক নিয়মের ধারাবাহিক বিবর্তন ছিল? আলতুসের বলছেন, না, পুঁজিবাদ আসলে দুটো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অচেনা ধারার এক আচমকা মিলনের শস্য। একদিকে ছিল সেইসব মানুষ, যাদের পকেটে প্রচুর টাকা জমেছিল এবং তারা সেই টাকা খাটিয়ে আরও লাভ করতে চাইছিল। আর অন্যদিকে ছিল এক বিশাল সর্বহারা গোষ্ঠী, যাদের জমি-জায়গা কেড়ে নিয়ে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, যাদের বেঁচে থাকবার জন্য নিজের শ্রম বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এই দুই দল মানুষ সম্পূর্ণ আলাদা দুটো ইতিহাসের স্রোতে ভাসতে ভাসতে একদিন হুট করে ইংল্যান্ডের বাজারে মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। এই যে দুটো স্বাধীন পরমাণুর ঐতিহাসিক ধাক্কা বা দেখা হওয়া, এ থেকেই জন্ম নিল পুঁজিবাদী সমাজ। যদি কোনো কারণে সেদিন এই দেখা না হত, তবে আজ আমাদের এই চেনা পুঁজিবাদ নামক দানবটার জন্মই হত না। ইতিহাসে কোনো অবধারিত নিয়তি বলে কিছু নেই।

রাত্রি, আলতুসেরের এই বৃষ্টির বস্তুবাদ আসলে আমাদের জীবনকে এক আশ্চর্য জানালার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। জীবনটা কোনো আগে থেকে লিখে রাখা উপন্যাস নয়, যার শেষ পাতাটা কী হবে তা লেখক আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন। জীবন আসলে এক একটা সমান্তরাল পথ, যেখানে আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের খেয়ালে হেঁটে চলেছি। তারপর হঠাৎ কোনো এক মেঘলা দিনে, এক নামহীন মোড়ে একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনার ধাক্কা আসে, একটা দুর্ঘটনা ঘটে, কিংবা চেনা পথের বাইরে এক সম্পূর্ণ অচেনা মানুষের চোখের দৃষ্টি এসে লাগে, আর আমাদের চেনা জীবনের পুরো ইতিহাসটাই এক ঝটকায় এক নতুন বাঁক নিয়ে নেয়।

যাই রাত্রি। কখনো আকাশ হতে আচানক দুর্ঘটনার মতো বৃষ্টি হয়ে নেমে এসো এই পাতালে।

ইতি
রাত্রির নৈঃশব্দ্য
২৪ / ৫ / ২০২৬

মন্তব্য লিখুন

ধন্যবাদ। নাম ও মতামত লিখুন। পর্যালোচনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মন্তব্যটি প্রকাশিত হবে।

Fill out this field
Fill out this field

সম্পর্কিত